আবেগীমন প্রথম পর্ব

0
735

#গল্পপোকা_ধারাবাহিক_গল্প_প্রতিযোগিতা_২০২০
আবেগীমন প্রথম পর্ব
লেখনী: তৃষা ঘোষ

গায়ের রং শ্যামলা, দোহারা চেহারা, মেঘের মতন তার কাজল কালো চুল, চোখ দুটি দেখলে মনে হয় যেন এক হরিণী দৃষ্টি নিক্ষেপ করেছে, ঠোঁটের কোণে ওই মিষ্টি হাসি সকলের মন ভুলিয়ে দিতে পারে এমনই এক শান্ত স্বভাবের মেয়ে বিথীকা। বিথীকার বয়স ১৮ সদ্য স্কুলের পাঠ চুকিয়ে কলকাতায় এসেছে পড়াশোনার জন্য। বিথীকার বয়স যখন ৯ বছর তখন ওর মা বাবা দুজনেই একটা অ্যাকসিডেন্টে মারা যান। ওর দুঃসম্পর্কের এক দিদার কাছে বিথীকা মানুষ হয়। বিথীকা কলকাতায় এসেছে এই দুদিন হল, ইতিমধ্যেই গ্রাম থেকে চিঠি আসে তার কাছে..চিঠিটা পড়ে বিথীকার বাকরুদ্ধ হয়ে যায় শুধু তার চোখের জল গড়িয়ে পরে, চোখের জলে সবকিছু যেন অস্পষ্ট হয়ে যায় সে মনে মনে ভাবে ভগবান হয়ত এবার তার অনাথ পদবিটা সার্থক করতে পেরেছেন কারণ গতকাল রাত্রে তার সেই দুঃসম্পর্কের দিদাও হঠাৎ মারা গেছেন। খবরটা বিথীকাকে যেন দুমড়ে – মূচড়ে দিলো। শেষবারের মতন ও চিৎকার করে উঠলো দিদা আ..দিদা আ..!!

কিন্তু ওর ঐ আর্তনাদ কেউ শুনলো না, কেবল আটক থাকলো ওই চার দেয়ালের মধ্যেখানে। মা – বাবা মারা যাবার পর থেকে যে দিদা ওই ছোট্ট ৯ বছরের শিশুটিকে কোলে তুলে নিলো, তাকে পড়াশোনা শিখিয়ে এত বড় করে তুললো, যার অনুপ্রেরণায় সে কলকাতায় এলো সেই দিদাই তো দেখতে চেয়েছিলেন যে তার আদরের নাতনি অনেক বড় ডাক্তার হবে,গ্রামের অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াবে। আর সেই দিদাকে একবার শেষ দেখাও দেখতে না পারার কষ্টটা সেই অনাথ মেয়ে ছাড়া অন্য কেউ হয়ত বুঝবে না। এক অনাথ ই বোঝে অনাথ কথার অর্থ। এক মাতৃ – পিতৃ হারার শেষ সম্বল টুকুও আজ….মাটিতে লুটিয়ে পড়ে
নিঃস্ব হয়ে গেলাম আমি দিদা.. আ…
এক নিমেষে সব যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে গেলো।
হা হতভাগিনী…
রাত তখন প্রায় শেষ প্রহর। বীথিকা তখনও একইভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছে। অগোছালো চুল, চোখের জলের দাগ তার ওই শ্যামলা গাল দুটিতে যেন চিহ্ন এঁকে দিয়েছে।
শ্রাবণী এসে বসলো তার কাছে। শ্রাবণী ওর মুখটি তুলে ধরে ‘ তোকে তোর দিদার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে হবে, তোকে বড় ডাক্তার হতে হবে, অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে হবে ‘। ওঠ বীথিকা..উঠে দাড়া। বন্ধুর এই কথা গুলো শুনে বীথিকা মনে সাহস পেলো। এই দুঃসময়ে এক অসহায়ের সহায় হয়ে উঠতে পারে কেবল তার প্রকৃত বন্ধু। শ্রাবণী জোর করে ওকে নিয়ে গিয়ে শুইয়ে দিলো। বীথিকার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগল শ্রাবণী। শ্যামলা মেয়ের ওই পরিশ্রান্ত চোখ দুটি ধীরে ধীরে গভীর নিদ্রায় তলিয়ে গেল।
এই ঘটনার পর থেকেই বীথিকা ঘর থেকে বেরত না, কারুর সঙ্গে দেখা করত না, খাওয়া দাওয়া ও করত না, রাত্রে ঘুমাতও না কেবল একা একা অন্ধকার ঘরে বসে থাকত। একপ্রকার নিঃস্তব্ধ জীবন কাটাতো সে। শ্রাবণী অনেক ভাবে ওকে আনন্দ দিতে চেষ্টা করে। কিন্তু সব চেষ্টাই বিফলে যায়। কোথাও একটা দুঃখের চাদর বীথিকার মনে আস্টে – পৃষ্টে জড়িয়ে আছে। যার তল পাওয়া মোটেই সহজসাধ্য নয়।
চলবে…
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share