আনকালচার্ড বউ পর্বঃ-০৪

0
3700

আনকালচার্ড বউ পর্বঃ-০৪

(অসামাজিক বউ)
লেখকঃ- আবু জাফর

আজ শুক্রবার মেহরিমার বিয়ে রাতে দেরিতে ঘুমাতে যাওয়ায় সকালে ওর বান্ধবীরা এসে দেখে মেহরিমা ঘুমাচ্ছে। মেহরিমার বাবা মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। তার বাবার চোখে জল।মেহরিমার বাবা জানে এই ঘুমন্ত মায়াবী মুখটা হয়তো আর সে দেখতে পারবে না।

মেহরিমার বান্ধবীরা মেহরিমা কে ঘুম থেকে উঠিয়ে নিয়ে গেলো গোসল করানোর জন্য।
গোসল করিয়ে আনার পর মেহরিমার বাবা বলতেছে আমার মাকে আজ আমি নিজে হাতে সাজিয়ে দিবো।মেহরিমা কে সুন্দর করে সাজিয়ে দিলো ওর বাবা।

আয়নার সামনে মেহরিমা বসা। মেহরিমার বাবা পিছনে দাঁড়িয়ে বলতেছে বাহ আজ কে তো আমার মাকে পরীর মতো লাগছে।মেহরিমা তার বাবাকে কিছু বলতে যাবে তখন এক বান্ধবী এসে বললো আংকেল জামাই এসে গেছে।

মেহরিমার বাবা চলে গেলো ঘর থেকে।
বিয়ে কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলো। মেয়েকে বিদায় দিয়ে কাজকর্ম গুছিয়ে এইদিকে সন্ধ্যার পর মেহরিমার বাবা এক কাফ চা বানিয়ে ব্যালকনিতে চেয়ারে গিয়ে বসলো।
ভাবতেছে আজ ২৩ টা বছর আগেও সে তার বউ কে হারিয়ে এতটা একাকীত্ব বোধ করে নাই আজকে মেয়েকে বিদায় দিয়ে যতটা বুকটা ফাকা ফাকা লাগতেছে।

এইদিকে বাসর ঘরে মেহরিমা বসে আছে তার বরের জন্য। অনেকক্ষণ পর আবু রুমে এলো। মেহরিমা গিয়ে যখনই সালাম করবে আবু পা সরিয়ে নিয়ে বললো দেখো আমার সাথে বেশি ফর্মালিটি মেইনটেইন করতে আসবে না। এসব একদম পছন্দ না আমার।

মেহরিমা বললো কেন আমাকে আপনার পছন্দ হয়নি?? আবু বললো শুধু দেখতে সুন্দর হলেই তাকে সুন্দর বলে না। একান্ত গালে আলো চাল ছিল তাই বিয়েটাতে না করতে পারি নাই।

তবে যদি ভাবো তোমার মতো একটা আনকালচার্ড মেয়ের সাথে আমি সংসার করবো সেটা ভুল।
এটা বলে আবু বেড় হয়ে গেলো রুম থেকে।
মেহরিমাও বালিশে মুখ গুজে দিয়ে কান্না শুরু করলো।
আজ কে সে তার বাবাকে খুব মিস করতেছে। কান্না করতে করতে কখন জেনো ঘুমিয়ে গেলো মেহরিমা।

সকালে ঘুম ভাঙ্গলো তাদের বাসার চাকরের ডাকে।
মেহরিমার গ্রাম থেকে একটা ছেলে এসেছে। মেহরিমা রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো। গিয়ে দেখে ছেলেটা দাঁড়িয়ে আছে।

মেহরিমাঃ- কি হয়েছে।

ছেলেটাঃ- আপনার বাবা আর বেঁচে নেই।
সকালে স্টেজ সাজানোর টাকা আনতে গিয়ে সারা বাড়ি খুঁজে দেখি নেই।
শেষে ব্যালকনিতে গিয়ে দেখি ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে।
ডাক দিলাম কোন উত্তর না পেয়ে ধাক্কা দিতেই মেঝেতে শুয়ে পড়লো।

এইটুকু শোনার পর মেহরিমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। মেহরিমা কারও কথা না শুনেই দৌড়ে চলে গেলো।
মেহরিমার শ্বশুর অফিসে চলে গেছে।
মেহরিমার শাশুড়ী আবু কে গিয়ে সব কিছু খুলে বললো আবু প্রতিত্তোরে বললো তা আমি কি করতে পারি।

আবুর মা বললো কি করতে পারিস মানে মেয়েটার আপন বলতে ওর বাবাটাই তো ছিলো মেয়েকে বিয়ে দিয়ে কষ্টটা সইতে না পেরে মারা গেছে।এখন স্বামী হিসাবে ওর পাশে দাড়ানো টা তোর দায়িত্ব।

আবু বললো দেখো মা আমি আগেই বলেছি আমাকে দিয়ে কোন দায়িত্ব পালন হবে না।
আমি স্বামী হিসাবে কিছুই করতে পারবো না।
বলেই বাসা থেকে বেড়িয়ে গেলো আবু।

রাতে মাতাল হয়ে বাসায় এলো।
এসে শুনে ওর বউ এখনো আসে নাই।
আবু শুয়ে শুয়ে ভাবতেছে যাক ভালই হলো আপদ বিদায় হয়ছে। যে ব্যবহার করেছি আর আসবে কিনা সন্দেহ আছে।
জুতা না খুলেই ঘুমিয়ে গেলো আবু।
সকালে উঠে দেখে পায়ের জুতা খোলা গায়ে কম্বল দেওয়া। আবু ভাবলো হয়তো ওর মা দিয়েছে।

তারপর ফ্রেশ হয়ে নাস্তা খেতে গেলো আবু গিয়ে নাস্তা গালে দিয়ে বলতেছে বাহ আম্মু আজকে তো নাস্তা টা খুব সুন্দর হয়েছে।
আবুর মা বললো হ্যা আজ যে তোর বউ বানিয়েছে।
কথাটা শুনেই আবু বললো লবণ অনেক বেশি তাই বলে সব ফেলে চলে গেলো।

ওপাশ থেকে মেহরিমা সব শুনলো।চোখ দুইটা ভিজে গেলো জলে।
বাবা তুমি এ কোথায় রেখে গেলে আমাকে। মনে মনে এই বলে আবার চলে গেলো রান্নাঘরে।

সারাদিন কাজকর্ম করে রাতে রুমে শুয়ে আছে মেহরিমা।
আবু রুমে এসে বললো আমি কালকে সিলেট যাচ্ছি। মেহরিমা কিছুটা খুশি হয়ে মুচকি একটা হাসি দিলো।
আবু বললো তোমার কি শুনতে ভুল হয়েছে আমি যাচ্ছি বলেছি আমরা না।মেহরিমার মুখটা কালো হয়ে গেলো।

সকালে ঘুম থেকে উঠে মেহরিমা আবুর সব কিছু গুছিয়ে দিলো। এইদিকে আবুর বাবা বললো তুমিও গেলে পারতে মা আবুর সাথে।
মেহরিমা বললো না বাবা শরীর টা তেমন ভালো না আপনার ছেলেও বললো।
আমি বললাম একা ঘুরে আসতে।

আবু নাস্তা করে বেড় হয়ে গেলো…

চলবে…..

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে