আত্না নাকি সে?? পার্ট ১

0
4975

আত্না নাকি সে??

writer #Riaz_hossain_imran
“প্লিজ আমার এমন সর্বনাশ করবেন না প্লিজ”
কে শুনে কার কথা, রিয়াজকে ৮ জন মেয়ে বাথরুমে আটকে রেখে জামাকাপড় খুলছে।সহজ সরল একটি ছেলে, যে কোনোদিন কোনো মেয়ে কেনো,কোনো বাচ্চা মেয়ের সাথেও কথা বলতে ভয় করতো। আজ ১ মাস হয়েছে সে কলেজে ভর্তি হয়েছে।মাত্র ইন্টার ফাস্ট ইয়ারের ছাত্র
।বয়স একটু হয়েছে, তবে ফেল হতে হতে অবশেষরূপে কলেজের মুখ দেখতে পেয়েছে। কাওকে তেমন চেনেনা যানেনা।জানবেই বা কি করে, মাথা তুলেই কলেজে আসেনি কখনো।
অনার্স এর ৮ টা মেয়ে প্রতিদিন তাকে ‘এই যে মিস্টার সেক্সি বয় ‘ বলে বিরক্ত করতো। রিয়াজ এদের কথা শুনে যেমন ভয় পেতো,ঠিক তেমন ভাবেই এড়িয়ে যেতো। তবে আজ আর রক্ষা হলোনা। এক মাস পর মেয়েগুলো তাকে ছেড়ে কথা বলেনি।হুম একটা কথা ঠিক।রিয়াজ দেখতে স্মার্ট ছিলো, চোখ ২ টি নীল রঙের, ফর্সা চেহারা,সাদা সিদে হলেও হেয়ার কাটিং ছিলো চোখজুড়ালো।যে কেও ওর চুল দেখলে ফিদা হতে বাধ্য।চুলের এক পাশ মেশিন দিয়ে কেটে ফেলে,অন্যপাশ প্রায় ৯-১০” এর মতো লম্বা,তারউপর আবার চুলেও কালার ছিলো।মোট কথা সব দিকে ফিট থাকলে,মেয়েদের থেকে এড়িয়ে চলা ওর একটা অভ্যাস ছিলো। কিন্তু এই অভ্যাসটাই আজ তাকে এখানে নিয়ে আনবে কে জানতো।
রিয়াজ কলেজের বাথরুমে এসে মুখে পানি দিতে যাবে,কিন্তু এর আগেই ওদের মধ্যে একটি মেয়ে, নাম প্রিয়া।এসে বলল)
— ছেলেদের বাথরুমে এখন কাজ চলছে,তুমি মেয়েদের বাথরুমে যাও।
— দেখুন পথ ছাড়ুন।আমি এখানেই যাবো, ওটা আপনাদের বাথরুম,সেখানে আমি কেনো যাবো।
— কারণ ছেলেদের বাথরুম মেয়েরা পরিষ্কার করতেছে,তবুও যদি তুমি যেতে চাও তবে যাও।আমি বাধা দিচ্ছিনা।
( রিয়াজ এবার একটা ঢোক খেলো।এবার যদি রিয়াজকে ৫ কোটি টাকা দিয়েও কেও বলে বাথরুমে যাবার জন্য,তবে তা অসম্ভব,রিয়াজকে আর বাথরুমে পাঠানো যাবেনা।উপায় না পেয়ে রিয়াজ বলল)
— আচ্ছা একটু উপকার করুন প্লিজ।
— জ্বী বলো?
— আপনি দরজায় একটু দাড়াবেন প্লিজ? আমি মেয়েদের বাথরুমে গিয়ে একটু ইয়েও করে আসবো।আপনি যদি একটু পাহারা দিতেন,তবে খুব উপকার হতো।
— ঠিক আছে, তুমি যাও সেক্সি বয়, আমি এদিকে সামলাচ্ছি।
( রিয়াজের এমন ভাবে ইয়ে পেয়েছে যে, মেয়েদের ওয়াশরুমে অবশেষে প্রবেশ করতেই হলো। এদিকে প্রিয়া বাকি ৭ জনকে ইশারায় ডাক দিলো। ওরা হচ্ছে, রিয়া,মায়া, জান্নাত, সুমাইয়া, তানিয়া, সামিয়া, পিংকি আর এদিকে তো প্রিয়া আছেই।
প্রিয়ার ইশারায় সবাই উপস্থিত হতেই প্রিয়া সবার উদ্দেশ্যে বললো)
— তোরা বাথরুমে গিয়ে লুকিয়ে পড়,আমি আসছি।
— ঠিক আছে, তাড়াতাড়ি।
( ওরা ৭ জন বাথরুমে প্রবেশ করতেই প্রিয়া সেই কলেজের ক্লিনার( যে কলেজ পরিস্কার করে) তাকে ডেকে বলল)
— এই ওয়াশরুমের বাহিরে তালা মেরে দাও।আমি যখন তোমাকে ফোন দিবো,তখন এসে তালা খুলবা।এর আগে কেও যদি ওয়াশরুমে আসে,তবে বলে দিও অনার্স এর লিডার প্রিয়া মেডাম , ওয়াশরুমে তালা মেরে চাবি নিয়ে গেছে। ৩ ঘন্টা পর তালা খোলা হবে।
— ঠিক আছে মেডাম,মুই হেইডাই করবানি,কিন্তু মেডাম,আমারে এইডা কন আপনে এতক্ষন এহানে কি করবেন
— যা বলেছে সেটাই করো।এতো প্রশ্ন করো কোন সাহসে তুমি হা..?
( ধমক শুনে ক্লিনার সানজিদা বেগম থমকে যায়। প্রিয়াকে এবং তার পুরো গ্যাংটাকে কলেজের সব মেয়েরাই ভয় পায়। হোস্টেলের সব মেয়ে প্রিয়ার গ্রুপকে ভয় পায়।তাই কেও তার বিরুদ্ধে প্রিন্সিপ্যাল এর কাছে কমপ্লেইন্ট ও করেনা ভয়ে।কারণ এর শাস্তি কঠিন ভয়াবহ হতে পারে।
এদিকে প্রিয়ার কথামতো সানজিদা বেগম ওয়াশরুমে তালা মেরে দেয়।প্রিয়াও বাথরুমে প্রবেশ করে ফেলেছে তালা মারর আগে। এখন এই দরজা তখনি খুলবে,যখন প্রিয়ার ফোন থেকে ক্লিনারের ফোন ফোন যাবে।
রিয়াজ প্রশ্রাব শেষ করে যেই পিছু ঘুরেছে।এমন সময় মায়া একটা সিলভারের ঝাড়ুর আগা দিয়ে,সজোরে আঘাত করে রিয়াজের মাথায়। সাথে সাথে জ্ঞ্যান হারিয়ে ফেলে রিয়াজ। মায়া আবার সবার থেকে শক্তিশালী ছিলো।ওর আঘাতে রিয়াজ শুধু অজ্ঞ্যান হয়নি,মাথা ফেটে রক্তও বের হচ্ছিলো।
রিয়াজ সেখানেই পড়ে যাওয়ার পর সবাই মিলে তাকে ধরে ফ্লোরে নিয়ে আসে।এদিকে দরজা জানালা সবই বন্ধ,শুধু ওয়াশরুমের একটি সাদা লাইট জ্বলছিলো।
১৭ মিনিট পর রিয়াজের জ্ঞান পিরে আসে।চোখ মেলেই দেখে চারদিক কেমন যেনো ঝাপসা ঝাপসা।ওর নীল নীল চোখ ২ টি অশ্রুজলে ভিজে চিক চিক করছে। ভালো করে তাকিয়ে দেখে ওর চারপাশ ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে সেই ৮জন মেয়ে।
রিয়াজ লাফদিয়ে উঠতে গিয়েও ব্যর্থ হত।ওর হাত-পা দড়ি দিয়ে বেধে রেখেছে। হাত পিছনে নিয়ে গিয়ে বাধার কারনে উঠতে পারছেনা, এদিকে পা বেধে রেখেছে একটি লোহার সাথে,যা দেওয়ালের সাথে লাগানো আছে। রিয়াজ শুয়া থেকে উঠে দাড়াবার কোনো পথই খোলা নেই।
ওর চিৎকারটাও দরজা অব্দি বিদ্যমান, এর বাহিরে যাবেনা।উপায় খুজে না পেয়ে রিয়াজ তাদের বলল)
– প্লিজ আমার এমন সর্বনাশ করবেন না প্লিজ।
( শুনলোনা কেও রিয়াজের আকুতি মিনতি। সুমাইয়া এসে একটা একটা করে রিয়াজের শার্ট এর বোতাম খোলে ফেলে।প্রিয়া রিয়াজের বেল্ট খোলার পর প্যান্ট হাটু অব্দি নামিয়ে ফেলে।এরপর পিংকি রিয়াজের শটপ্যান্টের দিকে তাকায়।রিয়াজ কান্না করেই ফেলেছে এবার।চোখ ভিজে প্রায় নদীর পানির মতো হয়ে গেছে।মাথা ফাটা দিয়ে এখনো ঝরঝর করে রক্ত পড়ছে রিয়াজের কপাল বেয়ে।ফর্সা কপালে রক্ত যেনো জবাফুলে পরিণত হয়েছে।রিয়াজের চিৎকার সহ্য করতে না পেরে প্রিয়া ওর ওড়নাটা রিয়াজের মুখে বেধে দেয়।এবার যেনো রিয়াজ আরো বেশি হারিয়ে ফেলে তার শক্তি। মায়া একটান দিয়ে রিয়াজের শর্টপ্যান্টাও খোলে ফেলে।রিয়াজ ফ্লোরে গড়াগড়ি খেতে লাগলো এবার।কিন্তু উল্টোপাশ হতে পারছেনা,কারণ ওর পা একটি লোহার সাথে বাধা।সবাই রিয়াজের লিঙ্গ এর দিকে তাকিয়ে আছে।
রিয়াজের চোখমুখ পুলে সেই ফর্সা চেহারা লাল আকার ধারণ করেছে।
এরপর ধীরে ধীরে সবার আগে প্রিয়া ওর জামাকাপড় খোলে ফেলে।দেহে ব্রা আর পেন্টি রেখে রিয়াজের সামনে এদিক ওদিক করছে।এতে রিয়াজের অনিচ্ছাকৃত ভাবেই ওর লিঙ্গ উত্তেজিত হয়ে উঠে।রিয়াজ না চেয়েও তার দেহটাও যেনো তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে লড়ছে।রিয়াজের এমন অবস্তা দেখে বাকি সাতজন রিয়াজের শরীর ফ্লোরের সাথে ভালোভাবে চেপে ধরে। এবার রিয়াজ এদিক থেকে সেদিকের নড়াচড়াটাও বন্ধ হয়ে যায়।আর অবশিষ্ট থাকেনি কিছু।প্রিয়া ওর গায়ের বাকি জামাকাপড় ( ব্রা- পেন্টি) খোলে রিয়াজের লিঙ্গ এর উপরে উঠে বসে।এরপর হামলা চালায় সে
এভাবে প্রায় ২০ মিনিট রিয়াজের উপর হামলা চালায় প্রিয়া। প্রিয়ার পর এবার মায়া আসে।মায়ার জায়গায় প্রিয়া গিয়ে রিয়াজকে চেপে ধরে।মায়াও প্রিয়ার মতো করে রিয়াজকে একইভাবে হামলা চালাতে থাকে।
এভাবে বাকি ৬ জনও রিয়াজের উপর একইভাবে কাজ চালায়।রিয়াজ অস্থির হয়ে আর নড়াচড়াও করতে পারছেনা।এখন আর রিয়াজকে চেপে ধরতে হচ্ছেনা।ওরা একজনের পর একজন এসে রিয়াজের উপর হামলা চালাচ্ছে।রিয়াজের মুখ ফুলে প্রায় দম বন্ধ হতে যাচ্ছে।তারা দেখেও না দেখার ভান করে তাদের চাহিদা মেটাচ্ছে।
রিয়াজের লিঙ্গ যখনি দূর্বল হয়ে পড়ে,তখনি আবার ওরা তাদের স্তন দেখিয়ে উত্তেজিত করে তুলে।
একসময় রিয়াজ ধড়পড় করতে শুরু করে।ওর এমন অবস্তা দেখে প্রিয়া মুখ খোলতে যাবে,তখনি পিংকি বলে উঠে)
— আরে দাড়া,আমি আর একবার করবো।এরপর ছেড়ে দিস এই সেক্সি বয়কে।
— তুই না? ঠিক আছে কর
( পিংকি রিয়াজের উপর বসার ৫ মিনিট পর রিয়াজ হটাৎ নিস্তভ হয়ে যায়।পিংকি টের পেলো রিয়াজের লিঙ্গ ও নিথর হয়ে গেছে।পিংকি বুঝতে না পেরে রিয়াজের লিঙ্গ ধরেই চমকে যায়,একি!! লিঙ্গ এতো ঠান্ডা কেনো। পিংকির কথা শুনে সবাই দেখতে আসে। বাকি ৭ জন জামাকাপড় পড়তে যাচ্ছিলো।পিংকির হয়ে গেলেই ওরা চলে যেতো।কিন্তু পিংকির কথাটা শুনে সবাই অর্ধেক জামা পড়েই আবার দেখতে আসে।সত্যিই তো ঠান্ডা হয়ে গেছে খুব।পুরো বরফের মতো।
মায়া কিছুটা আচ করতে পেরেছে।এরপর রিয়াজের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে।পুরো মুখ ফুলে লাল তো হয়েই আছে,তারউপর রক্ত আর ঘাম মিশ্রিত হয়ে মুখটা ফেঁকাসে হয়ে আছে।
জান্নাত রিয়াজের মুখ থেকে ওড়নাটা সরিয়ে গালে থাপ্পড় মারতে মারতে বলছে)
— এই শালা,উঠ.. তোর কাজ শেষ
( কিন্তু রিয়াজের সাড়া শব্দ না পেয়ে তানিয়া গেলো এবার।তানিয়া সবার আগে রিয়াজের নাকে হাত দিয়ে দেখে নিশ্বাস বন্ধ। সাথে সাথে চমকে উঠে তানিয়া।পিছনে ভয়ের চোখে তাকাতেই সবাই কিছুটা আচ করেছে।এরপর সামিয়া তাড়াহুড়ো করে রিয়াজের হাতের রগ ধরে দেখে রক্ত চলাচল বন্ধ।)
— আরে! এতো মরে গেছে.. ??
( কথাটা শুনে পিংকি চমকে যায়।পিংকি এখনো রিয়াজের উপরেই বসে আছে।ভয়ে পিংকি হোচড় মোচড় খেয়ে নেমে পড়ে ফ্লোরে।এবার সবার মুখে ঘামে ভরে যায়।ওরা মেরেই ফেলেছে? এতোটাও করতে চায়নি ওরা।কিন্তু মারা যাবে সেটাও ভাবেনি।নিষ্পাপ চেহারাটা পড়ে আছে ফ্লোরে।এদিকে ওরা ৮ জন পড়েছে মহা বিপদে।উপায় না পেয়ে প্রিয়া বললো)
— এই শালা তো মরছেই,সাথে আমাদেরকেও আটকিয়ে গেছে।চল লাশটাকে কোথাও ফুতে ফেলি।
— কিন্তু বাহির করবি কিভাবে?
— দাড়া, আমি ব্যবস্তা করতেছি।
( প্রিয়া ক্লিনারকে কল করে বলল)
— শুনুন,একটা বড় ময়লার বস্তা এনে আমাকে ফোন দিন।বস্তাটা দরজার সামনে রেখেই ফোন দিবেন।মনে থাকে যেনো।
( প্রিয়ার কথামত সানজিদা বেগম বস্তা এনে দরজার সামনে রাখে। এরপর তালা খোলে সানজিদা চলে যায়।প্রিয়া বস্তাটা ভিতরে নিয়ে গিয়ে বাহির থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়।বাকিরা রিয়াজের লাশ বস্তায় রেখে উপরে ময়লা দিয়ে ভরে দেয়। এরপর ক্লিনারকে বলে বস্তাটা গেইটের সামনে নিয়ে আসে সানজিদা বেগম।সবাই মিলে ধরাধরি করে বস্তাটা মায়ার গাড়িতে তুলে।মায়ার বাবার টাকাপয়সার অভাব নেই।আসা যাওয়া করার জন্য একটি প্রাইভেট কার কিনে দিয়েছিলো।শুধু মায়া না,প্রিয়ার বাবাও ধনী ব্যাক্তি।
যাইহোক, ওরা বস্তাটা গাড়িতে রেখে চলে যায় ঢাকা গাবতলী এলাকার শেষে।যেখানে ময়লা- আবর্জনা ফেলা হয়।এরপর তারা বস্তাটা সেখানে ফেলে দিয়ে আবার চলে আসে হোস্টেলে।
সামিয়া সানজিদা বেগমকে ১৫ হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে বলে ” আজকে যা হয়েছে সব নিজের পেটে কবর দিয়ে রাখো।যদি পাস হয়, তবে আপনার মাথার সব কয়টা চুল কেটে নাড়া করে দিবো”
সামিয়ার ধমকে সানজিদা চুপ হয়ে যায়।এরপর টাকা গুলো হাতে নিয়ে সানজিদা বেগম বাসায় চলে যায়।
পরেরদন শুরু হয় এই নিয়ে ঝামেলা।রিয়াজের বাড়ির লোক কলেজে এসে খোজ নিতে থাকে রিয়াজের।কিন্তু কেও কিছু জানেনা বলে ওদের কোনো উত্তর মেলেনা।ওরা ৮ জনও সবার সামনে নেকামি করতে করতে বলে, ” আহারে,ছেলেটা খুবই সহজ সরল,কে যানে কোথায় গিয়ে পড়ে আছে। “”
কলেজের এসে কোনো খোজ পায়নি রিয়াজের পরিবার।পাবেই বা কি করে,ওর তো কোনো বন্ধুও ছিলোনা। অবশেষে তারা পুলিশের কাছে কমপ্লেইন্ট করে।পুলিশ তদন্ত চালাতে রিয়াজকে সব জায়গায় খোজে।কিন্তু মিলেনি রিয়াজের কোনো হুদিশ। কলেজে তোলপাড় হয়ে উঠে রিয়াজের ব্যাপারটা নিয়ে।না যানে ছেলেটা কোথায় পড়ে আছে।এদিকে প্রিয়া,মায়া সামিয়া, তানিয়া,পিংকি,রিয়া,জান্নাত,সুমাইয়া তারা সবাই চিন্তিতো।যদি কোনোভাবে ধরা খায় সেই ভয়ে।কিন্তু না,এর কোনো কিছুই হয়নি।পুলিশের কাছে ধরা খাওয়ার কোনো ইস্যু রাখেনি তারা।১ মাস এই নিয়ে হৈ চৈ করে সব আবার চুপ হয়ে যায়।কেও ফেসবুকে স্টাটাস দিয়ে চুপ হয়,কেও ফেবুতে শোকাহত জানায়া, কেও ওর পিক সবার মেসেঞ্জারে দিয়ে নিখোজের বিজ্ঞপ্তি করে, সোশ্যাল মিডিয়াতে কয়দিন ভাইরাল হয় এই রিয়াজ। তবে কয়দিন, অল্প কয়দিন বাদেই সব হয়ে যায় নিশ্চুপ,থাকেনা আর রিয়াজের অস্তিত্র,দেয়না কেও স্টাটাস,মুছে যায় রিয়াজের নাম।
ওর পরিবারের সদস্যরাই শুধু মনে রেখেছে রিয়াজকে।রাখবেনাবা কেনো, সহজ সরল একমাত্র ছেলে তাদের।এর আম্মু প্রতিদিন নামাজে দোয়া করে একটাই,তাদের ছেলে যেনো ফিরে আসে। কিন্তু এইটা যে বড়ই অসম্ভব। রিয়াজ তো পাড়ি দিয়েছে সে ঠিকানায়, যেখানে সবাই একেবারের জন্যই চলে যায়।
রিয়াজের মৃত্যুর ৬ মাস পর ওরা ৮ জনও ভূলে যায় রিয়াজকে। বিন্দাস লাইফ উপভোগ করে চলছে সবাই।
হটাৎ একদিন তানিয়ার বাসা থেকে ফোন আসে,ওর আম্মু নাকি খুবই অসুস্ত।খুব শীঘ্রই যেতে বলেছে। তানিয়া গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য প্রস্থুত।বাকি ৭ জনকে বিদায় দিয়ে রওনা হয় বাড়ির উদ্দেশ্যে।
আজ ০৮/০৮/২০২৯ ,
কিছুদিন পর ঈদ।তাই তানিয়া একেবারে ঈদের ছুটিতেই বাড়ি চলে এসেছে।বাড়িতে আসতেই সবাই তানিয়াকে জড়িয়ে ধরে মাথায় চড়াচ্ছে।করবেই তো, মেয়ে ঢাকা কলেজের ছাত্রী।এলাকায় সবাই বলে জমিদার বাড়ির মেয়ে তানিয়া ঢাকার ছাত্রী, একটা নাম ডাক আছে তাদের।মেয়ে এতোদিন পর এসেছে,তো আদরের বন্যা তো বয়েই যাচ্ছে।
প্রত্যেক পরিবার তো তাদের সন্তানকেই ভালোবাসে,কারণ তাদের সম্পদ তো তাদেরই সন্তান।যেমন ছিলো রিয়াজ।
এদিকে তানিয়ার মা বলল,)
–অনেক জার্নি করে এসেছিস মা, এবার একটু ফ্রেস হয়ে খেতে আয়।রাত অনেক হয়েছে , আমরা তোর জন্যেই না খেয়ে আছি।
— ওকে মাই কিউট মম।আমি এই যাবো আর আসবো।
— ঠিক আছে
( তানিয়া ওয়াশরুমে গিয়ে জামাকাপড় খোলে ফেলে।এরপর উপরে ঝরনা ছেড়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে গোসল করছে।এমন সময় তানিয়া অনুভব করলো ওর স্তনে কেও হাত দিয়ে ধরেছে।তানিয়া চমকে উঠেই চোখ মেলে ফেলে।কিন্তু চোখের সামনে কিছুই দেখতে পায়না সে।মনের ভূল ভেবে আবার গোসল করায় মন দেয়।এবার তাকে চমকে দিয়ে ইলেক্ট্রনিক চলে যায়।তানিয়া বিরক্ত হয়ে মনে মনে ভাবে, গ্রামের এই সমস্যা যে কখন ঠিক হবে”।
এরপর অন্ধকারেই সে গোসল করতে থাকে, এবার পুরো স্পস্ট খেয়াল করে ওর পিছন থেকে কেও তকে জড়িয়ে ধরে স্তনে হাত দিয়ে রেখেছে।তানিয়া ভয়ে চিৎকার দিতে যাবে,কিন্তু ওর মুখ থেকে কোনো শব্দ বের হচ্ছিলোনা……
চলবে………..
#আত্মা_নাকি_সে..? ( পর্ব -০১)
[ গল্পে কিছু জায়গায় অশ্লীল শব্দ ব্যবহার হয়েছে, এই গল্প চটি না, একটা শিক্ষনীয় গল্প।হয়তো এই পর্ব একটু অশ্লীল হয়েছে,আশাকরি নেক্সট পর্বতে ব্যপারটা বুঝতে পারবেন।
জানাবেন, কেমন হচ্ছে ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here