অন্ধকার জীবনে নতুন আলো ২

0
2268
অন্ধকার জীবনে নতুন আলো ২ সকালে আমার ঘুমের বারেটা তখনি বাঝছে যখন আমার ফোনে একটা unknown number থেকে কল আসে । কলটা বিরক্ত হয়ে কেটে দেই তারপর আবার ঘুমিয়ে পরি । তার কিছুক্ষণ পর ফোনটা আবার বেজে উঠল এবার কিছুটা রাগ আর বিরক্তি নিয়ে ফোনটা রিসিভ করলাম বলতে শুরু করলাম তাহিব: এই কে তুই দিলে তো সাঝ সকালে আমার ঘুমের বারোটা বাজিয়ে তাসফিয়া: আরে আমি তাসফিয়া।আর একটু আগে কি বললে এখন সাঝ সকালে ।সকাল ১০টা বাজে তাই ফোন দিছি আমি তাহিব: কিহহহহহহহহহ তাসফিয়া(বলে এক লাফে উঠে বেড়ের মাঝখানে বসলাম ।তাসফিয়া নাম শুনে আমার চোখ থেকে ঘুম নিমিশেই উদাওহয়ে গেল আর মনে মাঝে বসন্তর ফুল ফোটতে থাকলো )তারপর তাসফিয়া বললো তাসফিয়া:হুমমমমমমমম ।কেমন আছো আর sorry আমি জানতাম না তুমি ঘুমে থাকবে? তাহিব:আমি ভালো আছি।তুমি? আরে বাদ দাও এসব কথা এখানে সরি বলার কিছু নায় নাই।তা কি মনে করে ফোন দিলে? তাসফিয়া:হ্যাঁ ভালো আছি ।না এমনি হঠাৎ মনে হলো তোমার কথা তাই ফোন দিলাম ।আর তোমার কাছে তো আমার phone numberনেই তাই দিলাম যাতে আমার নাম্বার টা saveকরে রাখতে পারো তাই। এইভাবে আর কিছু কথা বলার পর ফোন রেখে দেই দুজনে।তারপর fresh হয়ে নাস্তা করার জন্য টেবিলে গিয়ে চোয়ারটা টেনে বসছিলাম এমন সময় মা বলে উঠলো আমাকে মা:তাহিব কাহিনীটা কি আজ একটু কী বলবে আমাকে? তাহিব:কিসের কাহিনী মা ? মা: না মানে আজ যে কোন ডাক না ছাড়াই ঘুম থেকে উঠে গেলি তার কারণ টা কি ।প্রতিদিন তো আমি তোকে ডাক দিয়েও তুলতে পারি না আর আজকে কোন ডাক ছাড়াই ভালা ছেলের মতো উঠে গেলি তাই আর কি। (তাহিব মার দিকে না তাকিয়ে মনে মনে বলছে লালা পরীর ডাকে কি না সাড়া দিয়ে তাকতে পারি মা )
তারপর মাকে বলল তাহিব:মা আমি কি ভালো ছেলে ছিলাম না কখনও? মা: ভালো ছেলে ছিলিস না কিন্তু শয়তানের ভাই ছিলি শয়তানের মতো সব কাজকর্জম সবকিছুই করতি (মা মজা করে বললো কথাগুলো) নাস্তা শেষ করে মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পরলাম তারপর প্রতিদিনের মতো আজকেও বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বাসায় আসতে রাত হয়ে যায় ডিনার শেষ করে শুয়ে তাসফিয়া কল দিলাম ।তারপর ওর সাথে অনেক ক্ষণ গল্প করছি গল্প করতে করতে কখন যে ঘুমের দেশে পারি জমিয়েছি নিজেই জানি না। তাহিন আর তাসফিয়ার বন্ধুত্ব ভালো চলছিল ।প্রতিদিন রাতে ফোনে কথা বলা হত,বিকেলে দেখা হতো সব মিলিয়ে একটা ভালো সম্পকে ছিল । কথায় আছে না একটা ছেলে আর একটা মেয়ের কখন বন্ধুত্ব করতে পারে না ।যত ভালো বন্ধুত্ব থাকোক না কেন সেটা একদিন ভালোবাসার দিকে গরাবে ।আর এখানে তো তাহিব প্রথম দেখাতেই তাসফিয়াকে নিয়ে ভাবতে শুরু করতে বলতে আর কতক্ষন একদিন না একদিন তো বলে দিবে তাসফিয়াকে তাহিবের মনের সব না বলা কথাগুলো । হ্যাঁ তাই হয়েছে ৮মাসে গিয়ে তাদের বন্ধুত্বের সমাপ্তি ঘটে । একদিন বিকেল বেলা তাহিব আর তাসফিয়া দুজনে একটা নদী পাড়ে ঘুরতে গিয়েছিল ।কিছুক্ষণ দুজন হাঁটার পর নদীর পারে বসে পরে দুজন কিছু সময় গল্প করার পর হঠাৎ তাহিব তাসফিয়াকে বলল তাহিব: তাসফিয়া আমি তোমাকে একটা কথা বলতে চাই আসলে কথাটা বলবো বলবো বলে বলা হয় না । তাসফিয়া : কি বলতে চাও বলো তাহিব: আসলে কিভাবে বলবো ভেবে পাচ্ছি না ।যদি তুমি কথাটা শুনে আমাদের friendship ভেঁঙ্গে দাও এই ভয়ে বলতে সাহস পাই না। তাসফিয়া : আরে বলো সমস্যা নাই আমি friendship ভাঙ্গবো না বলে ফেলো। তাহিব: তাসফিয়া তোমাকে যেদিন প্রথম দেখি সেদিন তোমাকে আমার খুব ভালো লাগে ।তোমার সাথে দেখা করা ফোনে কথা বলার পর আমি ধীরে ধীরে বোঝতে পারি আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি ।তাসফিয়া আমি তোমাকে ভালোবাসি হবেকি তুমি আমার সারা জীবনের পথ চলার সাথী।(কথা গুলো বলে তাসফিয়ার দিকে কাশ ফুল এগিয়ে দিলাম । আসলে propose করা কোন ফুল না পেয়ে নদীর পারে অনেক গুলো কাশ ফুলের ঝোপ ছিল সেখান থেকে একটা ফুল ছিরে নিয়ে এসে ।তাসফিয়া সামনে ছবির নায়কদের মতো হাটু গিরে বসে তাসফিয়া সামনে ফুলটা এগিয়ে দিলাম।তাসফিয়া অনেকক্ষণ কি যেন ভেবে ফুলটা আমার হাত থেকে নিল তারপর বলল) তাসফিয়া:আমিও তোমাকে খুব ভালোবাসি তাহিব। তারপর শুরু হয় তাহিব আর তাসফিয়া জীবনের নতুন অধ্যায় ।ভালোই চলছিল তাদের দুষ্ট -মিষ্টির ভালোবাসা । তারা একজনকে ছারা অন্যেজন ভাবতে পারত না । এভাবে প্রায় দুই বছর কেটে যায় ।হঠাৎ একদিন সামান্য ভুলবোঝাবোঝি হয় তাদের মাঝে।এতেই হয়ত বা তাদের সপ্নের ভালবাসার মধ্যে চির ধরে যায় যা তাদের ভালবাসাকে ভাঙ্গনের দিকে নিয়ে যায়।এতো ভাঙ্গনের মধ্যে আর শেষ রক্ষা হয় নি ।যারা একজন আরেকজনকে ছারা ভাবতে পারত না তারা আজ মনে করতে চায় না দুজন দুজনকে ।তারপর থেকে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পরে তাহিব।অবশ্য তাহিবের কোনো দোষ ছিল।অনেক চেষ্টা করেছিল তার ভালবাসার মানুষকে ধরে রাখতে কিন্তু পারে নি। কথায় বলে না যে ,যে যাওয়ার তাকে ধরে রাখা যায় না।তাসফিয়া হয়ত চলে যেতে চেয়েছিল তাই চলে গেল।তারপর থেকেই তাহিব কেমন জানি হয়ে গেল। ভালবাসা আর মেয়ে এই দুই জিনিসের প্রতি থেকে তার বিশ্বাস করতে কস্ট হতো ।মনে হতো যেন এই দুটি জিনিস হয়তো অন্য কোনো গ্রহের যদি কাছে যায় তাহলে তার প্রাণটাই চলে যাবে।কিছুদিন পর তার মা-বাবা তার বিয়ের কথা বলে কিন্তু সেতো বিয়ে করবেনা।কিন্তু ওই একটা কথা আছে না Emotionally Blackmail সেটাই আরকি হলো।
বর্তমান পরের দিন সকালে রেড়ি হয়ে নাস্তা করছি আর বার বার আড় চোখে তাহিবার দিকে তাকাচ্ছি ।তারপর নাস্তা শেষ করে অফিসে চলে গেলাম । অফিসের কাজ করছিলাম ,হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠলো ফোনের skin এ তাকিয়ে দেখি বাসা থেকে ফোন আসছে ।তারপর ফোনটা রিসিভ করে শোনলাম তাহিবা হাসপাতালে ও নাকি মাথা ঘুরে পরে গিয়ে জ্ঞান হারায় ।তারপর মা-বাবা ওকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ কথা শুনে মনে হচ্ছিল আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে ।আমার যেন মাথায় কাজ করছে না ।আমি আর এক মুহূর্ত দেরি না করে সোজা হাসপাতালে চলে গেলাম । তারপর মা বাবাকে বলে সোজা ওর রুমে চলে গেলাম ।গিয়ে ওর হাত ধরে ওর পাশের বসে আছি আর ভাবছি অতিতের মতো অামি ওকে আমার জীবন থেকে চলেযেতে দেবো না ।আমি ওঁকে আমার ভালোবাসা দিয়ে সারা জীবনের মতো আগলে রাখবো আমার এই বুকে । তারপর তাহিবার জ্ঞান ফিরে আসে।জ্ঞান ফিরে ও আমার দিকে তাকিয়ে আছে ওর চোখ দিয়ে পানি পরছে।ও হয়তো ভয় পেয়েছে,আমি ওর চোখের পানি মুছে দিয়ে বললাম ভয় পেয়ো না অামি আছি সবসময় তোমার পাশে।তাহিবা আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আর হবেই না আমি ওর সাথে তো কম খারাপ ব্যবহার করি নি ।কিছুক্ষন পর ডাক্তার এসে বলেন তেমন কিছু না ওকে বাড়ি নিয়ে যেতে পারব । Thank god সস্তির শ্বাস নিয়ে(তাহিব) তাহিবা উঠতে পারছে না তাই ওকে কোলে নিয়ে গাড়িতে আনি (তাহিব) হাসপাতাল থেকে বের হওয়াসময় আমাদের দুজনের দিকে লোকজন হা…… হয়ে চেয়ে আছে মনে হচ্ছে তারা ফ্রী টিকেটে সিনামা দেখছে আর তাহিবা তো লজ্জায় লাল টমেটো হয়ে গেছে গাড়ি চলছে তার আপন ঠিকানায় ।গাড়িতে তাহিবার হাত ধরে বললাম তাহিব:তাহিবা একটা কথা বলি তাহিবা:হুমমম বলেন তাহিব:তুমি আমাকে ছেড়ে কোথাও চলে যেও না plz আমি তোমাকে হারাতে পারবো না । আর তুমি যেতে চাইলে ও আমি কোথাও যেতে দিবো না এটাই ফাইনাল (এটা বলে তাহিবার হাত আরো শক্ত করে ধরলাম তারপর তাহিবার কিছু না বলে আমার কাঁধে তার মাথাটা রাখলো ।আমি আবার তাহিবাকে বললাম ) তাহিব: তাহিবা ভালোবাসি তোমাকে খুব খুব বেশি ভালোবাসি তাহিবা: অামিও তাহিব:আমিও কি? তাহিবা: আরে মাথা মোটা আমিও তোমাকে খুব ভালোবাসি এভাবে চলতে থাকে তাদের ভালোবাসার সংসার যেখানে নেই কোন অন্ধকার ।আছে প্রতিদিনের নতুন সূর্যের আলো ।আর সেই আলোয় আলোকিত করে রেখেছে তাহিবের জীবন ।সেই আলো আর কেউ নয় সে হচ্ছে তাহিবা ।(এরকম ভাবে আমাদের সমাজে তাহিবের মতো অনেক ছেলে মেয়েই আছে যারা তাসফিয়া মতো হঠাৎআসে আমাদের জীবনে তারপর আমাদেরকে বোকা বানিয়ে অন্যজনের হাত ধরে চলে যায় ।তাহিবের মতো অন্ধকারে রেখে চলে যায় । আর সেই সময় তাহিবার মতো মেয়েরা এসে পাশে দারায় ) ভালো থাকুক ভালোবাসা আর ভালো থাকুক ভালোবাসার মানুষগুলো সমাপ্ত {জানিনা গল্পটা কেমন হয়েছে তবুও বলবো ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন}

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে