অনুভূতির সংমিশ্রণ পর্ব ৫

0
1903

অনুভূতির সংমিশ্রণ?

তৃধা মোহিনী(মৃন্ময়ী)

পর্ব পাঁচ

?

নিধি গোসল সেরে অনেকক্ষন আগে থেকে ঘরে বসে আছে,দরজা লক করে..তার সাহস জাগছে না বাহিরে যাওয়ার..বাহিরে গেলে ওই যমরাজ তাকে আবার ধরবে..নিধি চুলে গামছা পেচিয়ে বসে আছে,ভালো লাগছে না কিছু তার..ফোনটাও নেয় যে অনলাইনে কিছু দেখবে সে।।

ইমরেত গোসল সেরে নিচে গেলো কিন্তু সবাই নিচে থাকলেও নিধি নিচে নামে নাই দেখে একটু ভ্রু কুচকালো।।

“মামুনি!!তুমি একটু উপরে যাও,গিয়ে তোমার নিধি ফুপিকে ডেকে নিয়ে আসো ত” ইমরেত বললো মাহিকে ডেকে নিয়ে নিয়ে।।

“আমি কেন যাবো??তুমি যাও?ফাইট হয়েছে তোমাদের?” মাহি এক নাগাড়ে প্রশ্ন করলো।।

“নিধির সাথে থেকে থেকে প্রশ্নের ঝুড়ি হয়ে গেছে মাহিও” ইমরেত বিড়বিড় করে বললো।।

“বলো না??” মাহি ইমরেতকে ঝাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো।।

“কিছু না রে মা!! আচ্ছা তুমি যেয়ো না আমি যাই!!” ইমরেত বললো।।

“নাহ!!ফুপি না করেছে রুমে যেন কেও না আসে!!” মুখ বেকিয়ে মাহি বললো।।

“কেন?” ইমরেত ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করলো।।

“ফুপির মাথা ব্যাথা ঘুমাবে” মাহি বললো।।

ইমরেত জানে নিধি কেন নিচে নামছে না..বেশিকিছু বললো জাস্ট তার ভাই-ভাবীকে ডেকে জানালো তার কিছু কথা আছে জরুরি ভাবে।।

মেহবুব,স্মৃতি আর ইমরেত ডিনার সেরে লিভিংরুমে যেয়ে বসলো কফির মগ নিয়ে।।

“বল তোর জরুরী কথা?” মেহবুব বললো।।

“ভাইয়া নিধি হোস্টেলের সিট খুজতে বেরিয়ে ছিলো” ইমরতে পায়ের উপর পা তুলে কফির মগে চুমুক দিয়ে বললো।।

“সেকি??কেন?” স্মৃতি একটু জোরে বললো।।

“আস্তে?” মেহবুব বলে উঠলো।।

স্মৃতি দমে গেলেও..চোখে ইশারায় নানান প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ইমরেতের সামনে।।

“আমি ওর ফোন ভেঙ্গে দিয়েছি এইজন্য..আর এর আগের দিন থাপ্পড় মেরেছিলাম ওইজন্য” ইমরেত আরামসে কথাগুলো বললো।।

“রিজন?” মেহবুব ভ্রু কুচকে বললো।।

মেহবুব আর স্মৃতি জানে..ইমরেত নিধিকে দেখার পর থেকে ভালোবাসে কিন্তু কখনো প্রকাশ করে নি সে..নিধির উপর জোর খাটানো তাকে বকা দেয়া সবকিছুই তারা বুঝতো..কিন্তু ইমরেত বিষয়টা এড়িয়ে চলছে বরাবরই।।

“ভাইয়া ওই ভুল করেছে এক হোস্টেল খুজ,আর সেটা ছেলে ফ্রেন্ডদের হাত দিয়ে আর সেদিন আমার মাথায় চাওমিন ফেলেছে,ওর ওই ছেলে ফ্রেন্ড তাকে তুলেছে..আবার সেদিন আমি ফোন দিয়ে ওয়েটিং পেয়েছি,পরে জেনেছি ওর ছেলে ফ্রেন্ড কল দিয়েছিলো আর আমি যে কল দিয়েছি ওর চোখে পরে নাই??আমি ছাড়া অন্য কোন ছেলের সাথে কথা বলতে পারবে না..এইজন্য ফোন ভেঙে দিয়েছি” রাগে চোখ মুখ শক্ত করে বললো ইমরেত।।

“সে ত ঠিক আছে!! কিন্তু তুই কি ওকে বলেছিস তোর মনের কথা?” মেহবুব জিজ্ঞেস করলো।।

“ইয়াহ!!” ইমরেত ভাবলেশহীন হয়ে উত্তর দিলো।।

“একসেপ্ট করেছে নাকি না?” মেহবুব বললো।।

“করে নাই,আসলে শকে আছে এক প্রকার..আর একসেপ্ট করলে ত ভালো আর না করলেও তাকে এইখানেই,আমারে বিয়ে করে তাকে সংসার করতে হবে” ইমরেত একটু বাকা ভাবে উত্তর দিলো

“দুই ভাই ই এক” স্মৃতি বিড়বিড় করে বললো।।

মেহবুব ঠিকি শুনতে পেয়েছে স্মৃতির কথা..স্মৃতির দিকে তাকাতে সে ভেঙচি দিলো, মেহবুব বাকা হাসি দিলো..ইশারায় বুঝালো,”ঘরে যেয়ে খবর আছে তার”

“ভাবী এইটা ফোন ওর জন্য নিয়েছি,তুমি দিয়ে দিও..আমি দিলে কাহিনী করবে” স্মৃতির হাতে ইমরেত ফোন দিয়ে উপরে চলে গেলো নিধির রুমে।।

মেহবুব স্মৃতি কে কোলে তুলে নিজের ঘরের পথে রওনা দিলো।।

“আরেহ!! আবার কোলে নিয়েছো তুমি??বাড়িতে দেখে নিলে কে কি ভাববে” স্মৃতি এইভাবে নানান কথা বলছিলো,মেহবুব নিজের ঠোট দিয়ে স্মৃতির মুখ বন্ধ করে দিলো।।

ইমরেত নিধির রুমে যেয়ে দেখে সে বারান্দাতে দাড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে স্থির দৃষ্টিতে..তার মানে সে এখনো ঘুমায় নি।।।

ইমরেত পিছন থেকে নিধিকে ধরলে,নিধি ভয় পেয়ে এক লাফে ইমরতের থেকে দুই হাত সরে গেলো।।

ইমরতে ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করলো,”এনিথিং রং?”

নিধি মুখ ঘুরিয়ে নিলো..আপাতত এখান থেকে কেটে পরতে ভালোভাবে,এই মানুষটার সাথে কথা বলতে ভাল্লাগেনা।।

“কাম?” ইমরেত হাত দিয়ে কাছে ডাকছে নিধিকে।।

নিধি মুখ উচিয়ে ভেঙচি দিলো যে সে যাবে না..ইমরেত কটমট করে তাকালেও নিধির নজর স্থির তার নিজের পায়ের দিকে।।

ইমরেত কাছে যেয়ে নিধির কোমর চেপে উপরে তুললো..নিধি হকচকিয়ে টাল৷ সামলানোর জন্য ইমরেতের টি-শার্টের গলা ধরে আছে।।

“এক কথা ত একেবারে কানে যায় না তোমার তাই না?” ইমরেত রেগে জিজ্ঞেস করলো।।

“আপনি যখন তখন এইভাবে কাছে আসেন কেন??একটু নামান আমাকে?” নিধি বললো।।

“আমি সবসমসময় নিজের মর্জি চলি,এটা হয়তো তুমি এতোদিনে বুঝে গেছো?” ইমরেত ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করলো।।

“মাহি চলে আসবে প্লিজ ভাইয়া..ওর ঘুমানোর টাইম ও হয়ে এসেছে” নিধি ভয়ে ভয়ে বললো।।

“ত?দেখবে তার চাচ্চু আর ফুপি কিভাবে রোমান্স করছে?” নিধির কানের মুখ নিয়ে কথাগুলো বললো।।

নিধি এরকম নিঃশ্বাসের সাথে লড়ায় করার ক্ষমতা নেই তার..কেমন যেন কুচকে গেলো ইমরেতের বুকের মধ্যে।।

ইমরেত আরেকটু শক্ত করে নিধির কোমরটা ধরলো।।

“নিচে আসো নাই কেন??তুমি জানো না আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করবো?” ইমরেত একটু ঘোর লাগা কন্ঠে কথাগুলো বলছে।।

“আপনি ছিলেন যে এইজন্য যাই নি” নিধি মুখ ভেঙচে কথাগুলো বললেও,ইমরেতের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলো সে বুঝতে পারলো ভুল সময়ে ভুল উত্তর দিয়ে ফেলেছে,সাথে সাথে মুখে হাত দিলো।।

ইমরেত নিধির মুখ থেকে তার হাতটা সরালো..ঠোটে হালকা স্পর্শ দিলো..নিধির মনে হচ্ছে কেও গলাটা চেপে ধরে আছে।।

“ভালোবাসি খুব বেশি তোমায়” ইমরেত ঘোর লাগানো কন্ঠে অস্ফুটস্বরে বলে উঠলো।।

“ফুপি?” মাহি চিৎকারে দুইজনে দুইদিকে ছিটকে পরলো।।

নিধি বুকে ফু দিচ্ছে নিজেএ..আর ইমরেত নিধির ধাক্কা খাওয়াতে একটু রেগে কিছু বলতে যাবে তার আগে আবারো আওয়াজ।।

“কই তুমি ফুপি?আমি ঘুমাবো,ভয় লাগে ত?”মাহি বলছে।।

নিধি তড়িৎ গতিতে মাহির কাছে গেলো..আর কোলে তুলে নিলো ওকে।।

” নিজেরে ভাতিজি দেখি চাচ্চুর প্রেমের কাবাবে হাড্ডি হচ্ছে..বিয়ে হলে দেখা যাবে, নিধি মাহিকে নিয়ে ঘুমাবে বাসরঘরে”ইমরেত নিজে নিজে বললো।।

ইমরেত যাওয়ার সময় নিধিকে শাষিয়ে গেলো,যে আরেকবার হাতের কাছে পরলে খবর আছে।।

সকালবেলা,

সবাই ডাইনিং এ নাস্তা খাচ্ছিলো এমন সময় উপস্থিত হলো নিধির বাবা মা।।

নিধি ওর বাবা মা কে দেখে জড়িয়ে তাদের ধরলো..অনেকদিন পর দেখে মনে হচ্ছে কেদে দিয়েছে,ঈদে যেতে পারে না ওই জমিদারের ছেলের জন্য।।

“কেমন আছিস?” নিধির মা জিজ্ঞেস করলো।।

“ভালো!!তোমাদের দেখে অনেক ভালো হয়ে গেছি!!” নিধি ওর মাকে বললো।।

এইভাবে নানান কথা হচ্ছিলো..ইমরেত নিধির এমন খুশিমুখ দেখতে চেয়েছিলো কিন্তু বুকের কোনে কোথাও যেন মনে হচ্ছে ব্যাথা হচ্ছে,তার চিন্তা নিধির বাবা মা এসেছে এখন নিধিকে নিয়ে চলে যায়?সে ত থাকতে পারবে না নিধিকে ছাড়া!! নিঃশ্বাসটা আটকে আসছে গলার কাছে ইমরেতের।।

নিধির বাবা মা এখানে এসেছে কারন নিধির বাবা সরকারি কাজ আটকে পরে আছে সেটা দেখতে এসেছে।।

“মা আমি বাড়ি যাবো তোমাদের সাথে” নিধি ওর মাকে বললো

ইমরেত কটমট করে তাকালে,নিধি ওর মায়ের পিছে একটু মুখ লুকালো।।

স্মৃতি ইশারায় ইমরেতকে শান্ত হতে বলে।।

“কেন আমার বোনের কি এখানে ভালো লাগছে না?” মেহবুব জিজ্ঞেস করলো নিধিকে।।

নিধি মুচকি হাসলো..ইমরেত উপরে গেলো,কিছুক্ষন পর নিধিকে ডাকলো।।

“আমার কফি কই নিধি?” ইমরেত বললো..সকালে প্রতিদিন ইমরেতকে কফি দেয়া নিধির কাজ।।

“আসলে নিধি আসার পর এখানে,নিধি ইমরেতে কে কফি দেয় আন্টি” স্মৃতি ইমরেতের রাগ সম্পর্কে অভিগত.. সে কেন ডাকছে নিধিকে এখন ভালোমতো বুঝেছে..এখন নিধি না উঠলে যে তান্ডব করবে সে এটা বুঝতে পেরেছে..তাই কথাগুলো বললো।।

“যা দিয়ে আয় কফি..ইমরেত বাবা চাইছে?” নিধির বাবা উত্তর দিলো।।

নিধি দেখলো উউপায়ন্তর নেয়, তখন ভয়ে ভয়ে কফি বানিয়ে ইমরেতের ঘরে রওনা দিলো..নিজের বুকে ফু দিলো যেন যমরাজ,তার যম গিরি না তুলে।।

স্মৃতি, মেহবুব,রফিক এবং রুবা সবাই নিচে কথা বলছে(নিধির বাবা মায়ের নাম)

মাহি বসে আছে নিধির মায়ের কোলে।।

“আসলে আঙ্কেল আপনার সাথে একটু জরূরী কথা ছিলো” মেহবুব বলে উঠলো।।

চলবে?

আপনার মন্তব্যে আমি উৎসাহ পায়..গল্প কেমন হয়েছে জানাবেন!!ভুল ত্রুটি ক্ষমার নজরে দেখবেন!!

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে