অনুভবে_তুমি পর্ব-৪২/৪৩/৪৪

0
1189

অনুভবে_তুমি পর্ব-৪২
#সাইমা_ইসলাম(প্রীতি)
.
রাহিকে নিয়ে ইশাদের বাসাতে উঠেছে মিহিন।কক্সবাজার শহরে।
মিহিন আর রাহিকে একা ছাড়তে পারবেনা বলে ইশাদ কক্সবাজারের সরকারি কলেজে চাকরি নেয়।পদার্থবিজ্ঞানের নাম করা লেকচারার এখন সে।কলেজের কোয়াটারেই থাকে।এতদিন মিহিন আসতে রাজি হচ্ছিল না।
যতদিন পর্যন্ত মিহিনকে খুঁজে না পাওয়া যাচ্ছে রূপ এখানেই থাকবে,মিহিনের ফ্ল্যাটে।ওর স্পর্শগুলোর,ওর ভালোবাসাগুলোর কাছে।অনুভব করবে ওকে।যদি আবার আসে মিহিন কোনো ফাঁকে বেঁধে ফেলবে ওকে রুপের নেশায়।এতগুলো বছর ও যখন চোখের সামনে থাকা স্বত্তেও অপেক্ষা করেছে রূপের ভালোবাসার আজ রূপ ও করবে।নাহয় একটু অন্য ভাবেই।
রাগে রিদ্দির পিত্তি সুধ্য জ্বলে ওঠছে।কি করে একটা মানুষ হঠাৎ করে এমন স্বার্থপর হয়ে যেতে পারে?
তবে ও জানে মিহিন ইশাদের জন্য কখনোই না।ইশা যা করছে তা নিতান্তই পাগলামি।কিন্তু আর যাই হোক একজন মানুষের জীবন নিয়ে পাগলামি করার অধিকার কারো নেই।ইশাকে বুঝালেও যে বুঝবে না ও এখন।
রিদ্দির অনেক অবাক লাগছে মেয়েটা এতো অবুঝ কেনো?তবুও ভালোলাগে ওকে।ওর সব কাজের পেছনে অবুঝ,নিশ্পাপ,স্বার্থহীন,সুন্দর একটা মন খুঁজে পায় রিদ্দি।হয়ত এটাই রিদ্দির ভালোবাসা।
এক মুহূর্তের জন্য স্তম্ভিত হয়ে যায় রিদ্দি।এসব কি ভাবছিলো ও ইশার সম্পর্কে?এতটা খারাপ ও কি করে ভাবলো ইশাকে?
মেয়েটা তো যা করেছে একদম ঠিক করেছে!
.
[বি.দ্র. পেইজেটা ওপেন এবং কন্টিনিউ করার জন্য গল্পে আপনাদের লাইক প্রয়োজন।নির্দিষ্ট পরিমান লাইক না পেলে পেইজে ঠিক মতো গল্প দেয়া যাবে না।তাই সবাই পেইজে গল্প পড়ে পেইজে এবং গল্পে লাইক দিবেন প্লিজ। পেইজের লিংক আমার “”Add Work””” এ দেয়া আছে।???]
ইশা তো মিহিন,ইশাদ,রূপ সবাইকে ভালোবাসে।ও না থাকলে তো রূপ মিহিন অব্দি পৌঁছোতেই পারতো না।ভয়।
ভয় পাচ্ছে হয়ত মিহিনকে নিয়ে এখনো।
নাহ……ও সবটা বুঝাবে ইশাকে।
.
মিহিনের বেড রুমটা খুব পরিপাটি।সবকিছুতে একটা স্নিগ্ধতা আর পবিত্রতার ছোঁয়া।
তবে এই রুম কেনো পুরো বাসাটাতেও মিহিনের একটাও ছবি নেই।
তো কি হয়েছে।ওর মনে তো আছে!সামনে পেলে না হয় মনের চোখে নাহয় মেলাবে ওকে।ভালোই হলো শুধু ছবি দেখে তো আর স্বাদ মিটবার নয়,বরং মিহিনের নেশাটা চড়ে যাবে বেসামাল ভাবে।
তবে অবাক হয়েছে রূপ এটা দেখে বাসার প্রতিটা জায়গায় রূপের পছন্দের কিছু না কিছু আছেই।
ক্লান্ত থাকায় জুতো খুলে খাটের নরম ও’মে ঢুকে পরে রূপ।হারিয়ে যায় একটা অচেনা মাদকতায়।চোখ দুটো বুজে যায় একটা শীতল নেশাতুর আবেশে।হারিয়ে গেছে রূপ।
চিনচিন করে ওঠলো মাথাটা।সহ্য হচ্ছেনা! হচ্ছে না সহ্য এই ঘ্রাণ।লাফ মেরে ওঠে বসে রূপ।বালিশ,চাদর সবকিছু থেকে মিষ্টি একটা ঘ্রাণ আসছে।অদ্ভুত হলেও ওই ডায়েরি শুকেও রূপ পেয়েছে এই সুঘ্রাণ।নেশাকে হার মানাবে এই গন্ধ।
মিহিনের শরীরের ঘ্রাণ মিলিয়ে গেছে এই রুমের সবকিছুতে।বুকের ভেতরে চাপা ভারী কষ্টের জন্য সব মিলিয়ে ধরেছে মাথা।
চুপচাপ ওখান থেকে ওঠে বারান্দায় চলে এলো রূপ।মিহিনের অস্ত্র যে এতটা ভয়ানক কে জানতো!ঘাঁয়েলের আগেই নিয়ে নিবে ওর জীবন।
বুঝার সুযোগটাও দেবেনা কিভাবে মারছে ওকে!
তবে এই অস্ত্রেই মরতে চায় রূপ,একবার না দু’বার না বারবার মরতে চায় রূপ।
বেলকনিতে কতক্ষন হাটাহাটি করে বেতের চেয়ারটাতে হেলান দিয়ে বসে পড়লো রূপ।মাত্র একটা রাতের ব্যবধান অথচ ওর কি অদ্ভুতভাবে চড়ে গেছে মিহিনের নেশা।
কাল রাতেও ও জানতো না এই অস্তিত্বকে,চিনতো না এই গন্ধ।
এই নেশার মাঝেই আস্তে আস্তে চোখ দুটো লেগে আসে রূপের।ডুব দেয় ঘুমের সাগরে।
.
রাত তিনটা কি সাড়ে তিনটা হবে।ঘুম ভেঙ্গে লাফিয়ে ওঠলো মিহিন।ঠোঁটে তার হাসির ঝলক।কপালে জমে আছে বিন্দু বিন্দু ঘামের কণা।
ঘুম থেকে ওঠেই আশেপাশে খুঁজতে লাগলো কিছু।কামড়াটা ভালোভাবে খেয়াল করতেই মনটা
বিষন্নতায় ছেয়ে গেলো মিহিনের।
এই ভোরবেলাতে এই স্বপ্ন কেনো দেখলো রূপ চলে এসছে ওদের সাজানো ছোট্ট কুটিরের সামনে? তাহলে কি সত্যিই এসছে রূপ?
পরক্ষণেই আবার ভাবছে কেনোই বা আসতে যাবে রূপ এখানে?ওর তো ছয়দিন বাদে বিয়ে?হয়ত ব্যস্ত এখন তিরাতে।ওকে কেনো মনে করতে যাবে।
খুব অভিমানে কথাগুলো ভাবছে মিহিন।অনেকগুলো বছরের অভিমান জমা আছে যে রূপ নামক মানুষটার উপর।
হঠাৎ কলিজা চিড়ে কান্না আসছে মিহিনের।নিচের ঠোঁট দিয়ে কামড়ে ধরলো উপরে ঠোঁটটা।
আটকাতে চাইছে চোখের জল।কিন্তু লাভ হলো কই?
দৌড়ে ওয়াশরুমে গিয়ে শাওয়ার ছেড়ে দিলো মিহিন।প্রায় এক ঘন্টার বেশি সময় ধরে কাঁদলো শাওয়ারের নিচে।
আজ খুব করে দোয়া করছিলো আল্লাহ্_র কাছে ওর জীবনের সব পাপ যাতে এই পানিতেই ধুঁয়ে মুছে পবিত্র হয়ে যায়।ওর জানা নেই কোন পাপের ফল পাচ্ছে ও রূপকে হারিয়ে।কিন্তু আর যে চায় না ও এই অভিশপ্ত জীবন।
ওর তো জানাও নেই ওর ভালোবাসার মানুষটা কতো কাছে ওর!
হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে কিন্তু চোখ তাকে দেখছে না।
মনে ঠিক করে নিয়েছে মিহিন কাল যাবে ও সেই ফ্ল্যাটে।ওর মন যে টানছে!
.
.
To be continue ?

#অনুভবে_তুমি
পর্ব-৪৩
#সাইমা_ইসলাম(প্রীতি)
.
মিষ্টি একটা সোনালী আভা এসে পড়েছে মিহিনের কালো শাড়িটাতে।হালকা একটু নরে ওঠলো রূপ।চোখের উপর থেকে সরে গেলো মিহিনের শাড়ির আঁচলটা।
আলোর ছটা চোখে পড়তে না পড়তেই ভ্রঁ দুটো কুঁচকে যায় রূপের।ডান হাতটা প্রসারিত করে ডেকে নেয় চোখ দুটো।ডিপডিপ করে দেখে নেয় মিহিনের রুমটা।
সোজা হয়ে ওঠে বসে মিহিনের শাড়িটা থেকে সেই মিষ্টি ঘ্রাণটা আরেকবার শুকে নিলো রূপ।
রাতে কখন যে বারান্দা থেকে ওঠে এসে মিহিনের শাড়িটা জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়েছিল আবার মনেই করতে পারছে না।
রিদ্দি এসে ডেকে গেলো একটাবার।খাবার রেডি।
ডাইনিং এ ব্রেকফাস্ট করেই বের হয়ে গেলো দুজন।মিহিন যদি কক্সবাজারেই থেকে থাকে তাহলে খুঁজে বের করাটা তেমন কোনো ব্যাপার না কিন্তু যদি চলে গিয়ে থাকে তাহলে সময় লাগবে।তাই কক্সবাজারের থেকে অন্য কোনো শহরে যাওয়ার প্রত্যেকটা ট্রেশনে যোগাযোগ করে নিয়েছে রিদ্দি আর রূপ।ছবি ও দেয়া হয়েছে মিহিনের।ওকে দেখলেই সাথে সাথে ইনফর্ম করা হবে ওদের।
.
কোনো এক কারণ বশত মিহিনের ও আর যাওয়া হলো না সেই ফ্ল্যাটে।
দুটো দিন একাকি কেটে গেলো রূপের।অপেক্ষা করার যন্ত্রণা যে কি ভালোভাবেই টের পাচ্ছে রূপ।মাঝে অতিরিক্ত প্রেশারের কারণে সেন্সলেস ও হয়ে গেছে কয়েকবার।মাথার পেছনে আঘাত পাওয়ার কারণে অতিরিক্ত কিছু চিন্তা করলেই হয় এমনটা।
.
আজ নিয়ে তিনদিন হলো রূপের কক্সবাজারে।কিছুটা অবশ্য বদল এসছে ওর।মুখের মধ্যে চাকচিক্য ভাবটা আর নেই।চুলগুলো উষ্কখুষ্ক।আয়নার সামনে দাড়িয়ে নিজের চোখের ভাষাই নিজের কাছে খুব অজানা,অচেনা মনে হয় রূপের।
.
সন্ধ্যার মায়ায় সমুদ্র_নগরী ছেয়ে গেছে একটু আগেই।গিটার হাতে চুপচাপ ওয়েস্ট পয়েন্টে বসে আছে রূপ।দৃষ্টি অচেনায়!
ইদানিং আর গান লিখতে পারে না।গিটারে সুর দিতে পারে না নতুন।ভেতর থেকে আসে না,কিচ্ছু আসে না।মিহিন সর্বস্য কেড়েছে ওর।
আরিয়ান এহরাজ রূপকে এভাবে বসে থাকতে দেখে ওর কয়েকজন একটু বেশি রকমের জুরাজুরি করছিল ওকে গান শোনানোর জন্য।
এখন এসব ফ্যান_ফলোয়ারসদের ও ভালোলাগে না রূপের।কিছুই ভালোলাগে না।তাও বাধ্য হয়ে একটা গান গেয়েই নিলো রূপ।আর যাই হোক নিজের লাইফের প্রবলেমের জন্য এদের নিরাশ করার ক্ষমতা ওর নেই।
.
—রাহিটা না ইদানিং বড্ড পাজি হয়ে যাচ্ছে।কোনো কথাই শুনেনা ঠিক মতো।গত পাঁচ-ছয়দিন ধরেই খুব ঠান্ডা আর জ্বর তাও আজ বায়না ধরেছে ওকে সমুদ্রপাড়ে নিয়ে যেতেই হবে।কি ঝামেলায় পড়লাম বলতো!
.
মিহিনের কথা শুনে ইশা হেসে কুটি কুটি হয়ে যাচ্ছে।অনেক কষ্ট হাসি থামিয়ে বললো,
—তা এই সন্ধ্যায় কি তুই ওকে নিয়ে গেছিস নাকি বিচে?
—না আসলে কি আর রক্ষা আছে?এখন বিচেই দাড়িয়ে আছি।
—ভালোই করছিস।বাচ্চা মেয়ে এইটুকুনি বায়না না ধরলে কি হয়!তুকে আজ একটু বেশি খুশি খুশি লাগছে।বেপার কি হে।ইশাদ আছে নাকি আশেপাশে।
ফাজলামির সুরে কথাটা বলেই মুচকি মুচকি হাসছে ইশা।
—আরে নাহ।জানি কয়েকদিন ধরে কেমন যেনো অস্থির অস্থির লাগে।মন টিকে না কোথাও।মনে হয়………
একটা দীর্ঘশ্বাস টেনে মিহিন আবার বলতে লাগলো,
—মনে হয় ও আমার আশে-পাশে কোথাও আছে।আমিই দেখতে পাচ্ছিনা।
.
গান গাইতে গাইতে রূপ বেশ কয়েকবার খেয়াল করলো সমুদ্রের দূর কিনারায় একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে।পাশেই একটা বাচ্চা মেয়ে লাফালাফি-ঝাপাঝাপি করছে পানিতে।
মেয়েটাকে দেখার সাথে সাথে কন্ঠ স্থির হয়ে গেলো রূপের।গিটারের স্ট্রিং এ আওড়ানো হাত থেমে গেলো।
সবাই অবাক চোখে তাকিয়ে দেখছে রূপকে।থেমে গেলো কেনো?কেউ কেউ তো ব্যাস্ত ও হয়ে পড়েছে,ঠিক আছে তো ও?

মোবাইলে কথা বলাতে ব্যস্ত মেয়েটা।চোখ সরিয়ে নিলেও কেনো যেন বারবার নজর কারছে ওই মেয়েটা ওর।অনেক ছন্দময়ী মনে হচ্ছে এই মানবীকে সন্ধ্যার স্নিগ্ধতায়।মেয়েটার পড়নে সেলোয়ার-কামিজ।ওড়না দিয়ে সারা শরীর ঘেড়ে নিয়েছে।
ছাড়া চুলগুলো ওড়নার আড়ালে ডেকে রেখেছে পিঠ।

ভালোই লাগছে দেখতে।
মুচকি হেসে আবার গান ধরলো রূপ।গানের সুর আগে থেকে অনেক বেশি প্রেমময়ী।

“””বল না কেন তুমি বহুদুর
কেন আমি একা হৃদয়ে ভাঙ্গচুর।
জানো না তুমিহীনা এ আমার,স্বপ্ন
মেঘে ঢাকা,নামে না
রোদ্দুর।দেয়ালে দেয়ালে
খেয়ালে খেয়ালে,হিসেবে
বেহিসেবে তোমাকেই
খুঁজি।আরালে আরালে,
কোথায় হারালে ফিরে
তুমি আর আসবে না বুঝি?কত
রাত কেটে গেছে আধারে,
নেই তো ভোরের দেখা
বোঝাবো কিভাবে?কত ঘুম
মিশে গেছে অজানায়
জানে শুধু দু’চোখ ভুল
সে স্বাভাবে।দেয়ালে দেয়ালে
খেয়ালে খেয়ালে,হিসেবে
বেহিসেবে তোমাকেই
খুঁজি।আরালে আরালে,
কোথায় হারালে,ফিরে তুমি আর
আসবে না বুঝি?”””
.
গান শেষ হতে না হতেই সবাই অটোগ্রাফের জন্য ওর ঝাপিয়ে পড়লো রূপের উপর।কিন্তু রূপের বারবার মনে হচ্ছে কিছু আছে এই মেয়েটাতে!
ম্যাজিকের মতো কাজ কিছু এই মানবীর মায়া রূপেতে।সবাই কে সরিয়ে ওদিকে আবার চোখ রাগতেই দেখলো মেয়েটা নেই।
অনেক খুঁজেছে আশে-পাশে কিন্তু পায়নি।ব্যর্থ হয়েই ফিরতে হলো রূপকে।
.
এদিকে আফজাল রহমান বাড়ি ফিরে সবটা জানার পর মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো ওনার।রূপ এই ডায়েরিটা খুঁজে পেলো কিভাবে?
ওনার এতদিনের ইচ্ছা যে পূরণ হতে চলেছে।রূপ মিহিনকে খুঁজতে গিয়েছে এর চেয়ে খুশির আর কি হতে পারে?
রাতের ফ্লাইটে মি.আফজাল রহমান আর সীমান্তি এহরাজ ও রওনা হলো চিটাগাং এর উদ্দেশ্যে।
.
.
To be continue ?

#অনুভবে_তুমি
পর্ব-৪৪
#সাইমা_ইসলাম(প্রীতি)
.
সকাল থেকেই খুব ব্যাস্ত ইশা।একবার এই কাজ তো আরেকবার ঐ কাজ।কাজ যেনো একদন্ডের জন্য ও শান্তি দিচ্ছে না ওকে।
পুরো বাড়ি সাজিয়েছে নিজের পছন্দ মতো।খুব গর্জিয়াস করে সাজিয়েছে।না সাজালে হবে?নিজের ভাইয়া আর বেস্ট-ফ্রেন্ডের বিয়ে বলে কথা।
একটু আগেই ** এসে মিহিনের জন্য লেহেঙ্গা আর ইশাদের জন্য শেরওয়ানির ওর্ডার নিয়ে গেছে।
আজ বিকেলেই মিহিন আর ইশাদের বিয়ের শপিং করতে যাবে ইশা।কাল বাদে পরশু বিয়ে হাতে সময় তো নেই একদমই।মিহিন পরশুদিনই ঢাকা যাবে ইশাদের সাথে।
.
খুব বেশি হেজিটেশন হচ্ছে মিহিনের।যেটা করছে ঠিক করছে না ও।রূপ তো ইচ্ছা করে ভুলে যায়নি ওকে।যেকোনো সময় মনে পড়তে পারে।
আর তখন যদি মিহিনের সামনে এসে দাড়িয়ে নিজের অধিকার চায় কি করবে ও?আর তাছাড়া ইশাদের সাথে ও নিজেও খুশি থাকবে না আর না পারবে ইশাদকে খুশি রাখতে।
দুটো পবিত্র মনের মানুষকে এক সাথে কিভাবে ধোঁকা দিবে ও?পারবে না।কিছুতেই পারবেনা।বিয়ে করতে।
ইশাদ সবে মাত্র কলেজ থেকে এসে ডাইনিং টেবিলে বসেছে রাহিকে নিয়ে।দুপুরের খাবার সার্ভ করছে রাহেলা(কাজের মহিলা)।তাড়াহুড়ো করে বের হয়ে গিয়েছিল বলে সকালেও খেয়ে যেতে পারেনি।রাহিকে নিজের হাতে খাইয়ে দিচ্ছে ইশাদ।
মিহিনকে আসতে দেখে মুচকি হেসে বলল,
—বসো,এক সাথেই খাবো।
—আমি পারবো না বিয়ে করতে।যদি বাধ্য করেন আমি রাহিকে চলে যাবো এখান থেকে।
.
সীমান্তি এহরাজের সাথে কথা বলতেই নারাজ রূপ।
আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত কথা বলা তো দূর একটা বারের জন্য তাকায় পর্যন্তনি।রাতে ঘর থেকেই বের হয়নি রূপ।ডিনার ও করেনি।কিভাবে কি হবে কিছুই বুঝে পাচ্ছেনা ও।ইন্টারনেশনাললি গান আর গাইবে না রূপ।এদিকে কন্টাক সাইন করা হয়ে গিয়েছে।প্রায় তিন কোটি টাকার ডিল এটা।মিসেস সীমান্তি আর আফজাল রহমান এই বিষয়টা বুঝাতেই এসছিলেন রূপকে।
রাতের খাবার নিয়ে মিসেস সীমান্তি গেলেন রূপের রুম।
রাত এগারোটা ছুঁই ছুঁই।ঘর অন্ধকার করে বসে আছে রূপ।মাথা ঝিম ঝিম করছে।
সীমান্তি আস্তে করে ছেলের গাঁ ঘেঁষে বসে পড়লেন।
উদাসিন কন্ঠে বললেন,
—মিহিন খুব সেনসেটিভ একটা মেয়ে ছিল।সব সময় তোর ছায়া ঘেঁষে থাকতো মেয়েটা।জানিস কত পাগলামি করতি তুই ওর বেপার গুলোতে!যখন আমি রান্না করতাম রান্নাঘরে দাড়িয়ে থাকতি,শিখতি।বিয়ের পর নাকি মিহিনকে কষ্ট দিবি না।আমি তখনো চিনি না ওকে।হাসতাম!
ভাবতাম কত পাগল আমার ছেলেটা,,যে মেয়ে তোকে পাবে তার জীবনে আর কিচ্ছু লাগবে না।রাত বিরেতে চলে যেতি ওর বাসার সামনে।রাতে যখন চোরের মতো লুকিয়ে ঘরে এসে বিশ্ব জয়ি হাসি দিতি,কেউ টের পায়নি।আমি কিন্তু দেখতাম সবটা।
মেয়েটাকে যেদিন প্রথম দেখি ওর চোখ দুটো দেখে অবাক হয়ে গেছিলাম!
ওই চোখে আমি এতটা ভালোবাসা দেখেছিলাম যতোটা না তুই ও ওকে ভালোবাসিস আর না কেউ তার প্রেমিককে।
তোর খুশির জন্য,তোর স্বপ্ন পূরণের জন্য এক কথায় ছেড়ে গেছে তোকে।
বিসর্জন দিয়ে নিজের ভালোবাসা।
.
ডুকরে কেঁদে ওঠলেন সীমান্তি এহরাজ।অনুতাপে।
এতটা ভালো যদি প্রত্যেকটা ঘরের মায়েরা তার ছেলের বউকে বাসতো তাহলে হয়তো আজ পৃথিবীটা আরো……..আরো অনেক সুন্দর হতো।
কিছুটে থেমে মিসেস সীমান্তি আবার বলে ওঠলেন,
—বাপরে মেয়েটা আমরা অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলছি।অন্যায় না পাপ করছি আমরা।না জানি কোথায় আছে আমার মা টা……….
.
আর কিছু বলার আগেই রূপ ঝাপটে জড়িয়ে ধরলো সীমান্তিকে।কেঁদে একাকার করে দিয়েছে মা ছেলেতে।
সত্যিই কি একটা সামান্য ভূলের ভবিষ্যৎ এতোটা ভয়াবহ…………।
নাকি রাত শেষে দিনের আলো ফুটবে এদের জীবনে,নতুন করে সেজে ওঠবে সব কিছু?
.
.
To be continue ?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here