অনুভবে_তুমি পর্ব-৩৬/৩৭/৩৮

0
1168

অনুভবে_তুমি পর্ব-৩৬/৩৭/৩৮
#সাইমা_ইসলাম(প্রীতি)
.
বাস থেকে নেমে মাটিতে পা রাখলাম।বুকের বাম পাশটা পুরোই ফাঁকা ফাঁকা লাগছে।চিনচিন ব্যাথাও করছে।রাহি আর নানুও বাস থেকে নামলো একএক করে।কুমিল্লা এসে পৌঁছেছি আমরা।মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধান অথচ এখন আমার অস্তিত্ব থেকে কতো দূরে।আমার রূপ থেকে কতো দূরে।
কুমিল্লাতে আমার বড়নানু থাকেন।সেখানেই কদিনের জন্য থাকবো।তবে দেশের বাহিরে আমি যাব না কিছুতেই।নিজ দেশকে ছেড়ে থাকা যে কতটা যন্ত্রনার কেবল প্রবাসীরাই তা জানে।আমি তা পারবো না।তবে রূপের সামনে যাবো না।সিজন মামা এসে আমাদের তাদের বাড়ি নিয়ে গেলেন।যাওয়ার পথে নানু যে আড়ালে কয়েক ফোঁটা চোখের জল মুছে নিলেন শাড়ির ভাঁজে তা কিন্তু আমার চোখ এড়াতে পারলো না।
বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করতেই বেশ হতচকিত হয়ে গেলাম আমি।অস্পষ্ট স্বরে মুখ থেকে বের হয়ে এলো চিরো চেনা সেই শব্দ,
-রূপ!!!
একপা সোজা করে তার উপর আরেক পা ভাঁজ করে খুব নিশ্চিন্ত ভাবে বসে আছে রূপ।কি করে এলো এখানে?আর জানলোই বা কি করে যে আমি এখানে?
সোফা থেকে ওঠে এসে আমার হাত ধরে খুব শান্তভাবে বলল,
-চলো।
-না।
সিংহের মতো গর্জন করে ওঠলো রূপ।আমি ভয়ার্থ চোখে রূপের দিকে তাকিয়ে দেখি ওর চোখ দু’টো রক্তবর্ণ হয়ে আছে।
খুব রেগে কেমন হিংস্রভাবে চেয়ে আছেন আমার দিকে।ভয়ে আমার আত্তা সুদ্ধ কেঁপে ওঠেছে।এ কেমন রূপ ওর?
আমার চুলের মুঠি ধরে রাগে গিজগিজ করতে করতে রূপ বলল,
-সাহস কি করে হলো তোর আমাকে ছেড়ে এতদূর আসার?কি ভাবছিস আমার হাত থেকে এতো সহজে পালিয়ে যাবি?
তবে ভুলে গেছিলি বোধ হয় আমি আরিয়ান এহরাজ রূপ।আজ বুঝাবো তোকে এখানে আসার ফল।আমাকে ছেড়ে আসা না……….?
-আহ্………. রূপ ছাড়ো প্লিজ আমি ব্যাথা পাচ্ছি।
-সুখে থাকতে তো ভালোলাগে নাই।আজ দেখবি আমাকে ছেড়ে আসার ফল।এমন অবস্থা করব তোর যে আমাকে ছেড়ে এক চুল পর্যন্ত নড়ার সাহস আর পাবিনা।

প্রচন্ড রেগে আমাকে টেনে হিচরে নিয়ে গাড়িতে বসিয়ে দিল রূপ।যে রূপ আজ পর্যন্ত আমার দিকে রাগী চোখে তাকান পর্যন্তনি তার এই রূপ দেখে আমার আমার মুখ দিয়ে আর কোনো কথা বের হচ্ছে না।খুব দ্রুত বের হয়ে গেলেন কুমিল্লা শহর থেকে।ঢাকার দিকেও যাচ্ছেন না।এত দ্রুত গাড়ি চালাচ্ছেন যে ভয়ে চোখ মুখ খিচে বসে আছি আমি।
.
-কোথায় নিয়া গেলো ওরে।হায়রে খোদা আমার নানিতডার কি জীবনে আর শান্তি মিলব না?
নানু এই কান্ড দেখে মরা কান্নাই জুড়ে বসেছিলেন।বড়নানু এসে সান্তনা দেন কিছুটা।
-দেখ ছেলেটা খুব ভালোবাসে মিষ্টিকে(বড়নানু আমাকে আদর করে মিষ্টি বলে ডাকেন)।তুই হুদাই চিন্তা করস বোন।ভালোর লাইগ্গাই লইয়া গেছে।
-কি করুম কো।বয়স হইতাছে।আর কি নিতে পারি এসব?কই লইয়া গেলো পোলাটায়?এমন কেউ করেনি?
-বিয়া করবো মিষ্টিরে হেল্লাইগ্গা লইয়া গেছে।
.
খুব বাজে ভাবে গাড়ি চাল্লাচ্ছেন রূপ।হুটহাট করে সব গাড়ি গুলোকে ক্রস করে যাচ্ছেন।ভয়ে কলিজা কাঁপছে আমার।
অনেক কষ্ট করে এইটুকু সাহস জুগিয়ে বললাম,
-একটু আস্তে চালাবেন,ভয় করছে তো।
বলার সাথে স্প্রিড দ্বিগুন করে দিলেন।মনেমনে ভাবছি, “”কি রাগ’রে বাবা।আজ আমায় খুন করবেন নয়তো আস্তো গিলে খাবেন ওনি।হায়রে খোদা বাঁচাও আমায়””
-আজ হাজার কাঁদলেও কেউ বাঁচাবে না তোমাকে।আজ খুন হবে তোমার কুমারীত্ব। আমার হাতে।তোমার মনে,শরীরের প্রত্যেকটা অংশে লিখা হবে শুধু এই আরিয়ান এহরাজের নাম।
শেষ কথাটা আমার দিকে তাকিয়ে একটা শয়তানি হাসি দিয়ে বললেন রূপ।কিছু বলতে পারলাম না।কি বলব আর।আমিও যে শুধু,,শুধু এটাই চাই।
চাই নিজেকে হারাতে রূপের মাঝে।আজ ওনার চোখের মাঝে হিংস্রতা বেশি।ভালোবাসা হয়ত এর চেয়েও বেশি।মনের অন্তরালে।যা কেউ দেখার ক্ষমতা রাখেনা।
আমাকে হারানোর ভয় আর হিংস্রতায় বুদ হয়ে আছেন রূপ।
.
.
To be continue ?

#অনুভবে_তুমি
পর্ব-৩৭
#সাইমা_ইসলাম(প্রীতি)
.
Sun mere hamsafar………
keya tujhe itni se vi khabar
ki teri saans chalti jidhar
rahunga bas wahi umr vaar(x2)
kitni haasi yee mulakatein hain
unsevi peyaari teri baate hain
ayun na hoosh me main kabhi
bahoon me hain teri jindegi hay
.
গানটা অনকেক্ষন আগেই প্লে করে দিয়েছেন রূপ।আমি চুপচাপ বসে আছি, আড় চোখে দেখছি রূপকে।রাগে বুঁদ হয়ে আছেন একদম।সিলেটের দিকে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে গাড়িটা।রূপকে জিজ্ঞেস করার সাহসটাও নেই আমার।
রূপের ফোনটা বাজছে অনেক সময় ধরে।তুলছে না দেখে বললাম,
-তোমার ফোনটা…………….।
কি আজব মানুষরে বাবা।আমিই দেখি কে ফোন দিলো।আমি ফোনটা নিতেই আমার হাত থেকে রূপ একটানে নিয়ে গেলো ফোনটা।মেজাযটা আমার তখন এত পরিমানে গরম হচ্ছিল।
-সব রেডি?
-……………
-হুম।রিদ্দিকে দাও ফোনটা।
হ্যা রিদ্দি কাজি পেয়েছিস?
-…………
-হুম গুড।(আমার দিকে রাগান্বিত চোখে তাকিয়ে বললেন)আর শোন বাসর খাটটা একটু বেশিই ফুল দিয়ে সাজাবি কেমন।মিহিনের সাথে প্রথম রাত বলে কথা।
.
কল কাটতেই একটু সাহস জুগিয়ে বলে ওঠলাম,
-আপনি কি করছেন এসব?বাবার কথাটা তো একবার ভাবুন।
-সাট আপ মিহিন।
-দেখুন আমি এভাবে বিয়ে করতে পারবো না।বাড়ি চলুন।
-আই ডোন্ট গিভ ইউ অপশনস।
-এগুলো কি বাচ্চামো করছেন রূপ।গাড়ি থামান।নামবো।থামান বলছি।
রূপ প্রচন্ড ভাবে রেগে গেলেন এবার।
-কেনো করছিস এমন?তুই জানিস না তোকে ছাড়া এক সেকেন্ড চলে না আমার।দম ঘুটে আসে।নিজেকে নরকবাসী মনে হয়।এরপরও আসার আগে একটা বার ভাসেনি আমার চেহারাটা তোর চোখের সামনে?ভাগ্যিস ইশা ফোন করে সবটা জানিয়েছে আমায়।এর শাস্তি তো আমি দিবই আজ।
ওর চোখ থেকে অশ্রু কণাগুলো অঝড়ে বাহিরে চলে আসছে।খুব অসহায় লাগছিল রূপকে সেই সময়।কলিজাটা ছিড়ে যাচ্ছিল আমার ওকে এভাবে দেখতে।মনে হচ্ছিল বুক চিড়ে কেউ যেন মরিচ ঢলে দিয়েছে আমার।
সবাই সত্যিই বলে পুরুষ জাতিটা খুব দৃঢ় মনমানসিকতার।এরা খুব সহজে কাঁদে না,নিজের ফিলিংসগুলো কাউকে বুঝতে দায় না কিন্তু ভিতরে রক্তক্ষরণ ঠিকই হয় প্রিয় মানুষগুলোর জন্য।
প্রিয় মানুষগুলোর একেকটা আঘাতে দুমরে-মুচরে শেষ হয়ে যাবে কিন্তু মুখে ঠিকই হাসিয়ে নিজে নিজ পরিবারকে রক্ষা করে যাচ্ছে সব বিপদ থেকে।
এরা সত্যিই বিধাতার এক অনন্য নিখুঁত সৃষ্টি।
পৃথিবীতে একটি পুরুষের চোখের জলের থেকে বেশি মূল্যবান আর কি হতে পারে।
আর আজ রূপ কাঁদছে।আমার চোখে অসহায়ত্বের পরিচয় দিচ্ছে।সহ্য করতে পারলাম না আর আমি।চোখ সরিয়ে নিলাম।
.
বৃষ্টির পানির কণা ঝুপ করে গাছের গাঢ় সবুজ পাতাটাতে পড়তেই টুপ করে পড়ে গেল নিচে।মাত্রই ঝুম বৃষ্টি হয়েছে সিলেটে।
বাড়ির টিনের চাল থেকে টুপটুপ করে পানি ঝরে পড়ে মাটিতে গর্তের সৃষ্টি করছে।হাইওয়ে,কাঁচা রাস্তা,পাহাড়,পাহাড়ের বুকে চা গাছগুলো মনের আনন্দে খেলা করছে ভেজা শরীরে খেলা করছে আবছা আভামান সূর্যকিরণের সাথে।পরিবেশ বড়ই শান্ত।স্নিগ্ধ।ঠিক যেমনটা বড় কোনো ঝড়ের পরে হয়ে থাকে।
ঝড়!
হুম ঝড়ের একটা কালো ছায়া!
ঢাকা টু সিলেটের রাস্তাটা সাময়িকভাবে একদিনে জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
মাত্র কিছুক্ষণ আগেই বিকট আওয়াজে খুব ভয়াবহ একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে এখানে।
রূপের বেখালি ড্রাইভিং এর জন্য একটা ট্রাকের সাথে খুব বাজে ভাবে ধাক্কা খায় ওদের কার।আঞ্চলিক সবাই পাগলের মতো ছুটে আসে।ট্রাক ড্রাইবার পালিয়েছে আরো অনেক আগেই।
স্থানিয় সবাই ড্রাইভিং সিটের পাশে অজ্ঞান অবস্থায় পায় আমাকে।কিন্তু রূপ ছিলো না।
সিলেটের রাস্তাটা পাহাড়ের প্রান্ত ঘেঁষে তৈরী।
পাশেই পাহাড়ের উচ্চতার ফলে সৃষ্ট বিশাল খাদ।আমাদের গাড়িটা আর একটুর জন্য খাদে পড়েনি।কিন্তু রূপ…………….
.

.
চোখ খুলতেই দেখি নিশিতা মামি আমার পাশে বসে রাহিকে নিয়ে ফাজলামো করছেন।রাহিকে দেখেই আমার ঠোঁটে হাসি ফুটে ওঠলো।
একটি বার যে ডাক দিব সেই শক্তিটুকুও নেই।অস্থির অস্থির লাগছে শরীরটা।
বুকের মাঝখানটাও চেপে আছে অনেক।মনে হচ্ছে খুব ভারী হয়ে আছে।ধীরে ধীরে ব্যাথাও শুরু হয়েছে।
মনে হচ্ছে কি যেন একটা নেই…..কি যেন একটা নেই।কিন্তু কি নেই?
নিজেকে কেনো যেন বড্ড বেশি অসহায় লাগছে।চেয়ে আছি………….শুধু চেয়ে আছি রাহির দিকে।ওরা এখনো দেখছেনা আমাকে।
.
ধীরে ধীরে মনে পড়লো রূপ…………….?
রূপ নেই আমার পাশে।
এক লাফ দিয়ে শোয়া থেকে ওঠে বসে পড়লাম।
সব মনে পড়ে গেছে এখন আমার।রূপ!রূপ গাড়ি চালাচ্ছিলেন।আমি ওনার পাশের সিটে ছিলাম।তার পর ওই ট্রাকটা………………
কোথায় রূপ?আমিই বা কোথায়……………?
আমাকে ওঠতে দেখে নিশিতা মামি দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলেন আমায়।পাগলের মতো চিৎকার করে ডাকতে লাগলেন মামাকে।মামাও ছুটে এলেন।মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলেন আমার।
আমার মুখে শুধু একই কথা,,,,,,,,,
রূপ কোথায়……………?
আমি ওকে ছেড়ে কিভাবে এলাম এখানে…………?
.
সেদিনের এক্সিডেন্টের পর কোমায় চলে গেছিলাম আমি।পুরো এক বছর পর জ্ঞান ফিরেছে আমার।নানুও মারা গেছেন এর মাঝে।
সেদিনের জ্ঞান ফিরার পর আমি ছিলাম জাপানে আর রূপ বাংলাদেশে।কিন্তু এরা সবাই কেনো বুঝতে চাইছেনা যত দূরেই নিয়ে যাক না কেনো আমাদের আত্তা যে এক।আমাদের ভালো থাকা একে অপরের মাঝে।
মামা অনেক ভুলানো চেষ্টা করছিলেন আমায়। কিন্তু পাগলের মতো করছিলাম তখন।
.
-মা দেখ এমন করে না।বুঝার চেষ্টা কর
-মামা আমি কিছু জানি না এক্ষুনি নিয়ে চলো আমায় রূপের কাছে।আমার রূপ আমাকে ছাড়া বাঁচবে না।
-মিহিন তুই…………..
-(চিৎকার করে বললাম) বললাম না আমার রূপ বাঁচবে না আমাকে ছাড়া।এই মুহূর্তে নিয়ে চলো আমাকে।
.
মামা বাধ্য হয়ে নিয়ে এসছিলেন আমাকে।কিন্তু ততদিনে সবটা শেষ।রূপ কিন্তু ভুলেননি আমায়।ভুলে গেছে পরিস্হিতি।ভুলে গেছে রূপের ভাগ্য।
ভুলে গেছে রূপের মস্তিষ্ক………………..।
কিন্তু ওই মনটা…………..?
ওই মনটা যে শুধুই মিহিনের।
ওনার বুকের বাম পাশটা শুধুই আমার……….
ওনার মুখের প্রত্যেকটা শব্দ আমার…………
ওনার প্রত্যেকটা ধারকান(হৃদস্পন্দন) আমার…………
ওনি আজ সিংগার হলে কি হবে ওনার সেই সুরও আমার………….
শুধু আমার………….
শুধুই মিহিনের…………
.
.
To be continue ?

#অনুভবে_তুমি
পর্ব-৩৮
#সাইমা_ইসলাম(প্রীতি)
.
ডায়েরির সাদা পাতাগুলো একের পর এক উল্টে যাচ্ছে রূপ….।এরপর প্রত্যেকটা পাতাই ফাঁকা।
কেন…….?
এই মুহূর্তে খুবই শূণ্য শূণ্য লাগছে নিজেকে।ভেতরটা পুরা খালি হয়ে গেছে।মন শুধু একবার সেই মেয়েটাকে দেখতে চাচ্ছে যে তাকে এভাবে পাগলের মতো ভালোবাসে।তাহলে এখন কোথায় মিহিন।আজ কেন ওর ধরা ছোঁয়ার বাহিরে?
বুকের চিনচিন ব্যাথাটা আস্তে আস্তে বেড়ে যাচ্ছে।কষ্ট হচ্ছে,খুব কষ্ট হচ্ছে……..।
কাকে বলবে রূপ?কে শুনবে ওর আত্নচিৎকার? যে মেয়েটাকে ও ভালোবাসে তাকে ও মনে করতে পারছেনা।তার চেহারাটা বুঝতে পারছেনা,অনুভব করতে পারছেনা,ছুঁতে পারছেনা।সত্যিই মিহিন আজ ওর অনুভবে_তুমি হয়ে রয়েছে।এর চেয়ে অত্যাচার নিজের সাথে নিজের আর কিইবা হতে পারে……..?
ওর বুকের মাঝখানের হৃৎপিন্ডটা ছিড়ে যাচ্ছে।রক্তক্ষরণ হইতেছে অনবরত।মেরুদন্ড বেয়ে ঠান্ডা শীতল পদার্থ বেয়ে যাচ্ছে।পুরা শরীরটা একটা ঝাঁকুণি দিয়ে ওঠলো রূপের।চোখের জলের বাধ যে ঠেকানো যাচ্ছেনা আজ।আস্তে মস্তিষ্কটা অবশ হয়ে আসছে।ভার হয়ে গেছে বুকটা।যেন কেউ একশো কেজি ভরের পাথর দিয়ে চাঁপা দিয়ে দিছে ওর অস্তিত্বগুলোকে।অনুভূতিগুলোকে।
প্রেকটিস রুমের বড় পিয়ানোটার পা ঘেঁষে বসে আছে রূপ।
হাটু মোড়ে চুপ করে বসে আছে।হাত দুটো দিয়ে আকড়ে করে রাগছে পা।ডায়েরিটা পরে আছে পাশেই।হয়ত অবাধ্য ঠান্ডা বাতাসের ইচ্ছায় উড়ে যাচ্ছে কয়েকটা পাতা।
ঠোঁটে ঠোঁট চেঁপে কাঁদছে রূপ।নাকের ডগা আর কান দু’টো লাল হয়ে গেছে।চোখ থেকে যেন রক্ত ঝরছে।রূপের চাঁপা কাঁন্নার সাথে তাল মিলিয়ে স্তব্ধ হয়ে রয়েছে পরিবেশ।হঠাৎই নিজে হাতগুলো খামছে পাগলের মতো চিৎকার করে কান্না করতে লাগলো রূপ।
মাথায় খুব চাপ দিতে লাগলো ভালোবাসার মানুষটার অবয়ব একটা বাড়ের জন্য দেখার লোভে।কিন্তু না,কিছু যে মনে মনে করতে পারছে না ও।নিজের চুলগুলো টানতে শুরু করলো।প্রচন্ড যন্ত্রণা হচ্ছে মাথায়।মস্তিষ্কটা যেনো এখনি ছিটকে বের হয়ে যাবে।রূপের চারপাশ ধীরে ধীরে অন্ধকার হয়ে যেতে লাগলো।
ওর মন বলছে মিহিন আছে।মিহিনের ভালোবাসাগুলো আছে।মিহিনের পরশগুলো ওর বুকের মাঝখানটায় আছড়ে পরছে বারবার।
খুব করে ইচ্ছে আজ সেই স্পর্শগুলো পেতে।খুব করে ইচ্ছে করছে সেই মিষ্টি আজা নিজেকে হারাতে।
.
মিহিনের ভালোবাসা গুলো পেতে ইচ্ছা করছে।গুলিয়ে যাচ্ছে ওর সব।একটা দিন আগেও কি বিন্দাস দিন কাটাচ্ছিল ও!তিরার সাথে বিয়েও ঠিক হয়ে গেছে।আর আট দিন পর বিয়ে।কিন্তু একটা রাত,,উলোটপালোট করে দিয়েছে ওর পুরো সময়গুলোকে,ওর অনুভূতিগুলোকে।
নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসছে রূপের।এই মেয়েটাকে ওর চাই………।
যেকোন মূল্যে ওকে চাই……..।
কানগুলো গরম হয়ে গেছে এতক্ষণে।অসহায়ের মতো বসে হাত খামচে ভাবছে কোথায় পাবে ওর মিহিনকে……..?
.
ডায়েনিং এ দুপুরের খাবার রেডি করছিলে সীমান্তি এহরাজ।হঠাৎ তিরা দৌড়ে এসে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলল,
-আন্টি আন্টি আন্টি…..কেমন আছো তুমি?
কিছুটা চমকে সীমান্তি এহরাজ বলল,
-ভা…ভালো।
-ওহো আন্টি তোমরা এখন লান্চ করবে?আমি করবো তোমাদের সাথে।
সীমান্তি এহরাজ চুপ করেই রইলেন।
বিনিময়ে মুচকি হাসলেন।তিরা খুশি মনে দেখতে লাগলো কি কি রান্না হয়েছে।মিসেস সীমান্তি চলে গেলেন রান্নাঘরে।শশা,টমেটো,লেবু,পেঁয়াজ আর মরিচ কেটে সালাদ বানাচ্ছেন।আজ রূপের পছন্দের সব খাবার তৈরি হয়েছে বাড়িতে।পোলাও,একদম লাল করে ঝাল ঝাল গুরুর মাংস,দেশি মুরগির মাংস আর সাথে ছয় রকমের বর্তা।ওনি নিজে রেঁধেছেন।এতগুলো দিন ছেলেকে পায়নি বলে কথা।নিজ হাতে খাওয়াবেন।
তিরাও মিসেস সীমান্তিকে অনুসরন করে রান্নাঘরে চলে গেলো।
–আন্টি আমি হেল্প করি একটু?কেটে দিব?
–পারো তুমি এসব।তোমার দ্ধারা হবে না।তুমি বরং টেবিলে বসে হাওয়া খাও গিয়ে।
কথাটা ঠিক তীরের বেগে লাগলো তিরার বুকে।তিরা কিছুটা ভেজা কন্ঠে বলল,
–আন্টি তুমি আমাকে এভাবে কেনো বলছো?আন্টি কি হয়েছে আমায় বলো না।আমি কি কিছু ভুল করেছি যার জন্য তুমি রেগে আছো আমার উপর?তুমি তো আগে এমন ছিলেনা?
–আর আমার ছেলেটাও এমন ছিলো না।
–………….।
–তুমি আর তোমার বাবা মিলে আমার ছেলেটাকে কি বানাই দিসো দেখছো একবার?
–এতে তো আমার কোনো দোষ ছিলো না।বাবা ভুল করেছিলেন।তার শাস্তি কেনো পদে পদে তোমরা আমাকে দিচ্ছো?আমার কি দোষ?আমি তো মিহিনকে সরাতে চাইনি রূপের থেকে।
–এখন যদি আমার ছেলেটা জানতে পারে রূপের কথা,ফিরে পেতে চাইলে ওরে?সব মনে পড়ে গেলে?আমি কোথা থেকে এনে দিব মিহিনরে বলতে পারো?
–আন্টি………..।
–আমার মিহিন মার না জানি কি অবস্থা?রূপ তো তাও ভালো আছে।কিছু মনে নাই ওর।কিন্তু মিহিন?কিভাবে আছে আমার মেয়েটা?কতটা মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে আছে বলতে পারো তুমি।
সীমান্তি এহরাজের বুক চিড়ে কান্না আসছে।নিজের ভালোবাসার মানুষটিকে পাননি তো তাই ভালোবাসা হারানোর কষ্ট যে ওনার চেয়ে ভালো আর কেউ জানে না।আবার দম নিয়ে বলতে লাগলেন,
–ধর্মে সইবে না বুঝচ্ছো,সইবে না ধর্মে এতো অনাচার।এখানে দাড়ায় আছো কেন?যাও রূপের কাছে যাও।যাও।যাও।
কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলেন সীমান্তি নিজ রুমে।তিরাও মিসেস সীমান্তির শেষ কথাগুলো ভাবতে ভাবতে পা বাড়ালো রূপের রুমের দিকে।রুমে গিয়ে দেখে রূপ নেই।প্রেকটিস রুমে চলে আসলো তিরা।
এসে দেখে রূপ পিয়ানোর পায়ে ঠেস দিয়ে হাটুতে মাথা গুঁজে বসে আছে।রুমটা অন্ধকারে ছেঁয়ে আছে।
সুইচ বোর্ডের কাছে যেতে যেতে বলল,
–মি. আরিয়ান এহরাজ রূপ,প্রকেটিস করছো ভালো কথা লাইটগুলো অফ কেনো?আমি সেই কখন থেকে তোমা……………।
আর বলতে পারলো না।তার আগেই কেউ একজন এসে খুব জোরে তিরা গলা চেঁপে ধরলো দেয়ালের সাথে।
.
.
To be continue ?

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here