8.2 C
New York
Friday, November 22, 2019
Home অজানা অনুভূতি অজান_অনুভূতি পার্ট: ১২

অজান_অনুভূতি পার্ট: ১২

অজান_অনুভূতি

পার্ট: ১২

#Rabeya Sultana Nipa

 

আজ দুই দিন প্রাপ্তির মা হাসপাতালে ভর্তি আছে।ডাক্তার বলেছে তিনি এমন কোনোshock পেয়েছেন যার কারনে স্ট্রোক করেছে।ডাক্তার কথাটা বলে যাওয়ার পরথেকে সবার মনে একটাই ভাবনা সেইদিন কি এমন হয়েছিলো প্রাপ্তির রুমে যার কারণে তার মা স্ট্রোক করেছে।
বড় মার কথা শুনে নীরা, মৃদুল,ফারহান সবাই এই বাড়ীতে। প্রাপ্তির মাকে হাসপাতাল থেকে আজ সন্ধ্যায় বাসায় আনা হবে।সবার মনে প্রশ্ন থাকলেই প্রাপ্তিকে কেউ কিছু জিজ্ঞাস করলোনা।
প্রাপ্তি নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয়।কিভাবে যাবে তার মায়ের সামনে।তার কারনেই তো তার মার আজ এই অবস্থা। একদিকে আয়ান আর অন্য দিকে মা।সে বুজে গেছে যে কোনো একটা তাকে বেঁচে নিতে হবে।প্রাপ্তি বারান্দায় দাঁড়িয়ে কথা গুলো ভাবছে।নীরা সারা বাড়ী খুঁজে প্রাপ্তিকে না পেয়ে বারান্দায় এসে দেখে প্রাপ্তি আকাশের দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবছে।

নীরা -তুই এইখানে আর আমি সারা বাড়ী তোকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। আকাশের দিকে তাকিয়ে কি ভাবচ্ছিস।সব দোষ তোর?

নীরার কথা শুনে প্রাপ্তি নীরার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে।আজ কিছু বলার সাহস নেই তার।নিজেকে সত্যি অনেক দোষী মনে হয়।

নীরা-নিজেকে দোষ দিয়ে কি লাভ বল? সবার মনে হয়তো একটাই প্রশ্ন সেই দিন তোর রুমে কি এমন ঘটে ছিলো যার কারনে বড় মা ইষ্টক করেছে। আমি কিছুটা বুজতে পারছি,যে কি হয়েছিলো।আয়ানের কথা বলেছিলি বড় মাকে তাই না?

নীরার কথা শুনে প্রাপ্তি বড় একটা দীর্ঘ নিশ্বাস পেলে আবার আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো ঠিক বলেছিস তুই।তবে বিশ্বাস কর আমি ইচ্ছা করে কিছুই বলতে চাইনি।তারপর সেই দিন কি হয়েছিলো প্রাপ্তি সব নীরাকে বললো।
নীরা সব শুনে কি বলবে বুজতে পারছেনা।
মৃদুল নীরাকে ডাকতে এসে দেখে দুজনে দাঁড়িয়ে কথা বলছে।

মৃদুল -তোমরা এইখানে? বড় মাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে এসেছে। চলো দেখতে যাবেনা।

নীরা -তুমি যাও আমরা আসছি।প্রাপ্তি! চল বড় মাকে দেখবি না?

প্রাপ্তি -তুই যা। কিভাবে আমি আম্মুর সামনে গিয়ে দাঁড়াবো?আমি পারবোনা। কতো বিশ্বাস করেছিলো আমাকে। আর আমি!!!

নীরা-তুই এখন না গেলে সবার সন্দেহ আরো বেড়ে যাবে।আর সবচেয়ে বড় কথা বড় মা কষ্ট পাবে।প্লিজ চল।

প্রাপ্তি ভাবলো নীরা ঠিকি বলেছে।আচ্ছা চল!

নীরা আর প্রাপ্তি রুমে গিয়ে দেখে সবাই প্রাপ্তির আম্মুর সেবা করছে।

মেজো কাকী -কিরে প্রাপ্তি তুই এতোক্ষন কই ছিলি।তোর মা এসেছে সবার আগে তুই আসার কথা তা না তুই শেষে আসলি।আসলি যখন মায়ের পাশে না গিয়ে দরজা দাঁড়িয়ে আছিস?
ফারহান মেজো কাকীর কথা শুনে প্রাপ্তির দিকে তাকিয়ে দেখে প্রাপ্তি নিচের দিকে তাকিয়ে আছে।
ফারহান কথা ঘুরানোর জন্য বললো
ফারহান -কাকী ও আসার দরকার নেই।আন্টির পাশে এসে কান্নাকাটি করবে পরে আন্টির শরীর আরো খারাপ করবে।ওর চোখমুখের অবস্থা দেখছেন? হয়তো আন্টির জন্য কান্নাকাটি করে চেহারার কি অবস্থা করেছে দেখছেন?

ফারহানের কথা শুনে প্রাপ্তির বাবা বললো।ফারহান ঠিকি বলেছে।মেজো বউ এই দুইদিন ফারহান হাসপাতালে কিভাবে সবকিছু সামলিয়েছে তুমিতো নিজের চোখেই দেখেলে।ছেলেটা এই দুইদিন একটুও ঘুমায়নি।ওর রুমটা ঠিক করে দিয়ে আসো।ফারহান তুমিও যাও এখন একটু ঘুমাও।নাহলে তোমার নিজের শরীরই খারাপ করবে। প্রাপ্তি বাবার কথা শুনে ফারহানের দিকে তাকালো।ফারহান এতো কিছু করেছে আম্মুর জন্য।এখন আবার মেজো মায়ের কথা শুনানোর হাত থেকেও আমাকে বাঁচালো।ও এতো কিছু কেন করছে আমাদের জন্য।প্রাপ্তির এইভাবে তাকানো দেখে ফারহান কিছু না বলে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।প্রাপ্তি এগিয়ে এসে তার মায়ের কাছে এসে বসলো।প্রাপ্তির মেজো কাকা চোখ দিয়ে সবাইকে ইশারা করলো রুম থেকে বেরিয়ে যেতে।তাই সবাই আস্তে আস্তে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।
প্রাপ্তি চুপ করে তার মায়ের পাশে বসে আছে।অনেকক্ষন পর তার মাকে জড়িয়ে ধরে
প্রাপ্তি -আম্মু আমি জানি তুমি আমার উপর এখনো রেগে আছো।প্লিজ আম্মু আমাকে মাপ করে দাও। আমি সেই দিন তোমাকে এই ভাবে কষ্ট দিতে চাইনি।

প্রাপ্তির মা-রাগ করবো কেন? কয়েক দিন পর আমার মেয়ের বিয়ে।এখন কি রাগ করার সময়।মানুষ তো ভুল করতেই পারে হয়তো তুইও একটা ভুল করেছিস। আর আমি তোকে ক্ষমা করেও দিয়েছি।সেই দিনের কথা গুলো আমি চাইনা আর কেউ জানোক।

প্রাপ্তি -আম্মু আমি বেশী কিছু বলবোনা শুধু এইটুকু জানতে চাই ছেলেটা কে?

প্রাপ্তির মা-ফারহান! আমি চাই ফারহান কেই তুই বিয়ে করবি।আমি বুজেছি ফারহান তোর ভালো ফ্রেন্ড মনে করিস।কিন্তু প্রাপ্তি একজন ভালো ফ্রেন্ডই পারে একজন ভালো স্বামী হতে।আর যাকে তুই কখনোই দেখেসনি শুধু তার কথা মাথায় রেখে লাভ কি বল?আমাদের এতো দিনের ভালোবাসার ছেয়ে দুইদিনের ভালোবাসা তোর কাছে বেশী হতে পারেনা।

প্রাপ্তি কথা গুলো চুপ করেই শুনতে হচ্ছে কিছু বলতে পারছে না।কারণ এখন কিছু বললে হয়তো তার মা আবার অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।

প্রাপ্তির মা-বিয়েটা হয়ে যাক দেখবে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।আমি অসুস্থ হওয়ার পর থেকে মনে হয় ঘুমাওনি খাওয়াও খাচ্ছো না।এখন যাও আমি সুস্থ আছি চিন্তা করার কোনো কারণ নাই।
মীনু! মীনু! (সেজো কাকী) কই তুমি?এইদিকে আসো।

সেজো কাকী -ভাবী আমাকে ডেকেছেন?

প্রাপ্তির মা -হ্যাঁ!আমি যাওয়ার পর থেকে প্রাপ্তি কিছু খায়নি তাই না? ওকে নিয়ে গিয়ে নিজের হাতে খাইয়ে দাও না হলে এখনো খাবেনা।

সেজো কাকী -আমি অনেক বার বলেছি আমার কথাতো শুনেই না।এখন চলো আমার সাথে।

প্রাপ্তিও কিছু না বলে উঠে গেলো তার কাকীর সাথে।
প্রাপ্তি খাওয়া শেষ করে রুমে গিয়ে আয়ানকে ফোন দিলো।

আয়ান -কে বলেছে আপনাকে ফোন দিতে।এই কয়েক দিন আমি আপনাকে ফোন দিয়ে যাচ্ছি আপনি রিসিভ করছেন না।এখন কেন ফোন করেছেন? বড় লোকের মেয়েরা এই রকম মন চাইলে প্রেম করবে আবার যখন মন চাইবে তখন দূরে ছুড়ে পেলে দিবে।তুমিও এখন তাদের মতো হয়ে গেছো।ভেবেছিলাম তুমি সবার থেকে আলাদা কিন্তু না তুমিও একি রকম।

চুপ করে কথা গুলো শুনছে প্রাপ্তি,কিছুই বলছে না।
প্রাপ্তি -আয়ান আমি একটু বলি?

আয়ান -কি বলবে তুমি? এখন অনেক অজুহাত দেখাবে।এই হয়েছে সেই হয়েছে।কিন্তু আমি তো জানি তুমি কি নিয়ে ব্যাস্ত ছিলে।

প্রাপ্তি -কি নিয়ে ছিলাম?

আয়ান-তোমার ফারহান কে নিয়ে।যার সাথে তোমার বিয়ে হবে। যে তোমায় অনেক ভালোবাসে।আরো কতো কি।

প্রাপ্তি-(অবাক হয়ে)কে বলেছে তোমাকে এইসব?

আয়ান -ফারহানই আমাকে ফোন দেয়েছিলো, তখন আমি বিশ্বাস করেনি।কিন্তু এখন বিশ্বাস করছি।

প্রাপ্তি-আয়ান আমি এর কিছুই জানতামনা।বিশ্বাস করো।আমি তো তোমাকেই ভালোবাসি। তুমি বলেছিলে না আমি এই কয়দিন তোমার সাথে কেন কথা বলিনি?

তারপর প্রাপ্তি আয়ান কে সব বললো তার মায়ের কথা।

আয়ান-প্রাপ্তি আমার কাছ থেকে সরার জন্য এই ভাবে মিথ্যা বলছো।আসলে কি বলোতো তুমি আমাকে ভালোবাসোনি।এতো দিন অভিনয় করেছো।

প্রাপ্তি -তুমি আমায় অবিশ্বাস করছো? আমি তোমাকে মিথ্যা বলেছি? আমি এতো দিন অভিনয় করেছি? আয়ান তুমি এইভাবে আমাকে বলবে আমি বিশ্বাস করতে পারছিনা।

আয়ান -যা সত্যি তাই বলেছি।তুমি আমাকে আর ফোন দিবেনা।
কথাটা বলেই আয়ান ফোন কেটে দিলো।কথাটা বলতে আয়ানের অনেক কষ্ট হচ্ছিলো তবুও কেন যানি প্রাপ্তির মুখের কথা গুলো ভালো লাগছেনা। প্রাপ্তিকে এইভাবে আটকিয়ে রাখার কোনো মানে হয়না।হতো আমার থেকে ফারহান ওকে ভালো রাখতে পারবে।

চলবে,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

ধর্ষক_থেকে_বর_২৫_এবং_অন্তিম_পর্ব

ধর্ষক_থেকে_বর_২৫_এবং_অন্তিম_পর্ব . আল্লাহ লামিয়ার যদি কিছু একটা হয়ে যায় তবে আমি বাঁচবো কিভাবে।আমি তো একটা মুহুত্বও লামিয়াকে ছাড়া চলতে পারবো না।লামিয়া যদি সত্যি মারা যায় তবে।না...

ধর্ষক_থেকে_বর_পর্ব__২৩+২৪

ধর্ষক_থেকে_বর_পর্ব__২৩+২৪ . লামিয়া দূত হাটতে শুরু করলো।লামিয়া সামনে আর আমি ওর পিছনে হাঁটতেছি।কিছু পথ চলার পর লামিয়া নিমিশেই মাথা ঘুরে মাটিতে পরে গেল। আমি লামিয়ার এমন অবস্থা...

ধর্ষক_থেকে_বর_পর্ব__২২

ধর্ষক_থেকে_বর_পর্ব__২২ . লামিয়া বসে আছে আর আমি ওর কোলে মাথা রেখে শুয়ে রয়েছি।লামিয়া আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর আমি তা চেয়ে চেয়ে দেখছি।এমন সময় অন্য...

ধর্ষক_থেকে_বর_পর্ব__২১

ধর্ষক_থেকে_বর_পর্ব__২১ . ওরা নিজেদের মতো করে কেনা কাটা করছে।আর আমি মেলার এক পাশে এসে ঘোরাঘুরি করছি।হঠাৎ করে আমরা চোখ পড়লো একটা সাদা রংয়ের ঝিনুকের নুপুরের উপর।নুপুরটাকে...

Recent Comments

গল্প পোকা on দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা on মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা on গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা on গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা on গল্পঃ ভয়
Samiya noor on গল্পঃ ভয়
Samia Islam on গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া on মন ফড়িং ❤ ৪০.
Siyam on বিবেক
Sudipto Guchhait on My_Mafia_Boss পর্ব-৯
মায়া on মন ফড়িং ৩০.
মায়া on মন ফড়িং ৩০.
মায়া on মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta on  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas on  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya on অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি on নষ্ট গলি পর্ব-৩০
সুরিয়া মিম on খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা on মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা on নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা on Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা on Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা on খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া on মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা on মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা on খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা on খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা on মন ফড়িং ❤ ১৬. 
Foujia Khanom Parsha on মা… ?
SH Shihab Shakil on তুমিহীনা
Ibna Al Wadud Shovon on স্বার্থ