2.8 C
New York
Monday, November 18, 2019
Home অজানা অনুভূতি অজানা_অনুভূতি পার্ট: ২৪

অজানা_অনুভূতি পার্ট: ২৪

অজানা_অনুভূতি

পার্ট: ২৪

#Rabeya Sultana Nipa

 

_নীরা -আসলে আব্বু ওরা সবাই প্লান এইটাই ছিলো কিভাবে ভাইয়ার টাকা বেশী খরচ করা যায় এই আর কি।

মেজো কাকা -আচ্ছা ঠিক আছে সবাই রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও।

প্রাপ্তি আর ফারহান কিছু না বলে রুমে চলে গেলো ফ্রেশ হতে।

ফারহান ফ্রেশ হয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে আর ভাবছে প্রাপ্তি মনে হয় আয়ানের ব্যাপার টা নিয়ে আস্তে আস্তে ভুলতেছে।আগের থেকে এখন ভালোই হাঁসি খুশি থাকে।হয়তো আরো কয়েক দিন গেলে পুরোই ঠিক হয়ে যাবে।
কথা গুলো ভাবতে ভাবতে মনে হচ্ছে কেউ পিছনে দাঁড়িয়ে আছে।ফারহান পিছনে ফিরে তাকাতেই দেখে প্রাপ্তি গোসল করে এসে চুল গুলো ছেড়ে দিয়ে মুচকি একটা হাঁসি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।ফারহানের
ইচ্ছে করছে ওর এই হাঁসির মাঝেই নিজেকে হারিয়ে ফেলতে।বাহিরে অনেক বাতাস বইছে, সেই বাতাসে অনেক গুলো চুল প্রাপ্তির মুখের সামনে এসে পড়াতেই ফারহান নিজের অজান্তেই নিজের হাতটা চুলো গুলো সরানোর জন্য প্রাপ্তির মুখের সামনে নিয়ে যাওয়ার আগেই ফারহানের হাত ধরে পেললো প্রাপ্তি।
প্রাপ্তি হাত ধরাতেই ফারহানের হুশ ফিরে এলো।
ফারহান -সরি! আসলে তোমার চুল গুলো মুখের সামনে এসে পড়ে আছে তাই সরিয়ে দিচ্ছিলাম।

প্রাপ্তি -(ফারহানের হাত ছেড়ে দিয়ে) হুম বুজতে পারছি।(বলতে বলতে পাশে এসে দাঁড়িয়ে) ফারহান! তোমাকে অনেক অনেক thanks। অবশ্য এইটা বললে তোমাকে কম বলা হবে।

ফারহান-কিসের জন্য? আমি আবার কি করছি?

প্রাপ্তি -আজকের ব্যাপারটা নিয়ে।তুমি আমার সব ফ্রেন্ডের সাথে এমন ভাবে কথা বলেছো,ওদেরকে রেস্টুরেন্টে নিয়ে খাওয়াইছো।তুমি ওদের বুজতেই দাও নাই আমাদের সম্পর্কটা কি।সবাই যা জানে আসলে তো আমাদের মাঝে কিছুই নেই।তাই সব মিলেয়ে তোমাকে অনেক অনেক thanks।
কথাটা শুনেই ফারহানের মনে অনেক কষ্ট লেগেছে। মনে হচ্ছে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।চোখে পানি টলমল করছে।কি বলবে বুজতে পারছেনা।

প্রাপ্তি -ফারহান! কি হয়েছে তুমি কিছু বলছোনা কেন?
ফারহান প্রাপ্তিকে কিছু না বলে রুমে চলে গেলো।
ফারহান চলে গেলো দেখে প্রাপ্তি ভাবছে এর আবার কি হলো একটু আগেও তো ভালো ছিলো।
রুমে এসে দেখে ফারহান রেডি হচ্ছে।

প্রাপ্তি -আরে এখন আবার কোথায় যাচ্ছো?

ফারহান- আমাদের বাসায়।আমি আজ আর আসবো না কাল তুমি রেডি হয়ে ফোন দিও আমি এসে নিয়ে যাবো।

প্রাপ- হঠাৎ কি হয়েছে তোমার? বাসায় যাবে মানে টা কি? তুমি এইভাবে চলে গেলে সবাই কি ভাববে?
ফারহান প্রাপ্তির দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাঁসি দিয়ে ভাবছে তুমি এখনো সবাইকে নিয়েই পড়ে আছো। সবাই কিভাববে সেইটাই ভাবছো।আর আমি তোমার মনে ভাবনাহীন মাত্র।

প্রাপ্তি -ফারহান কি হলো কিছু বলবে না?

ফারহান -এইটুকুই বলবো কাল রেডি হয়ে থেকো আমি এসে নিয়ে যাবো।আর সবার কথা ভাবছোতো, সমস্যা নেই আমি বুজিয়ে নিবো।
কথাটা বলেই ফারহান রুম থেকে বের হয়ে গেলো।

ড্রইংরুমে এসে সবাইকে বললো তার জরুরী কাজ আছে তাকে যেতে হবে।

মেজো কাকা- হঠাৎ কি এমন জরুরী কাজ পড়েছে যে তোমাকে এখনি যেতে হবে।

ফারহান -জ্বী হঠাৎ করেই ফোন আসলো।কাকাই সমস্যা নেই কাল এসে আমি প্রাপ্তিকে নিয়ে যাবো।

সবার কাছ থেকে বলে ফারহান চলে গেলো। প্রাপ্তি রুমেই বসে আছে। ওর খুব খারাপ লাগছে, ফারহান হয়তো তার কথায় কষ্ট পেয়েছে। ও চলে গেছে তাতে কি হয়েছে আমার কাছে এই রকম লাগছে কেন? ফারহানের প্রতি আমি দুর্বল হয়ে পড়ছি না তো? আচ্ছা আমি কার জন্য ফারহানকে এইভাবে কষ্ট দিচ্ছি? নাহ ওকে আমি আর কষ্ট দিবোনা।কথা গুলো ভাবতে ভাবতেই ফারহানকে ফোন করলো।

কয়েকবার বেজে যাওয়ার পর ফারহান ফোন রিসিভ করলো।

ফারহান -হুম,বলো?

প্রাপ্তি-বাতাসে বড় হয়েছো? কেউ এই শিক্ষা দেয়নি বউ ফোন করলে সালাম দিতে হয়।(কথাটা বলে প্রাপ্তি নিজে নিজেই হাঁসছে। ফারহানকে বুজতে দিচ্ছেনা।)

প্রাপ্তির কথা শুনে ফারহানের নিমিষেই রাগ উধাও হয়ে গেলো। (প্রাপ্তিকে বুজতে না দিয়ে)
ফারহান- কোথায় পাইছো এই কথা?
আর ফোন করছো কেন?

প্রাপ্তি -আমি আমার হ্যাজবেন্ডের কাছে ফোন দিছি তাতে আপনার কি? আপনার জ্বলতেছে কেন?
যাই হোক আমার হ্যাজবেন্ড কোথায় আছে সেটা বলুন?

ফারহান -কেন ওনার কাছে কি?

প্রাপ্তি -আর কি বলবো বলেন ও তো আমার সাথে রাগ করেছে। কিন্তু আমার যতোটুকো জানা ও আমার সাথে রাগ করতেই পারেনা।

ফারহান -মাঝে মঝে করতে হয়। না হলে বউয়ে ভালোবাসা পাওয়া যায়না।

প্রাপ্তি -(আস্তে করে)প্লি,,,,,,জ তাহলে বাসায় আসো।সত্যি বলছি তোমাকে আর রাগাবো না।

ফারহান ভাবছে হঠাৎ করে কি হলো?এতো ভালোবাসা দেখাচ্ছে কেন?

ফারহান- আচ্ছা হিটলারে মনে এতো ভালোবাসা আসলো কোথায় থেকে?

প্রাপ্তি- আবার হিটলার বললে? আচ্ছা আজ এই নিয়ে কিছু বলবোনা।এখন বাসায় এসো।

ফারহান -না প্রাপ্তি এখন আর যাবোনা। আমি অলরেডি বাসায় চলে আসছি। তুমি রাগ করোনা আমি কাল গিয়েই তোমায় নিয়ে আসবো।

প্রাপ্তি -আচ্ছা তাহলে এখন রাখছি।

ফারহান প্রাপ্তির সাথে কথা শেষ করে বাসায় ঢুকলো।ফারহানকে দেখে সবাই অবাক হয়ে আছে।

বড় ভাবী -কি ব্যাপার ফারহান তোমাদের না কাল আসার কথা।তুমি আসলে প্রাপ্তিকে তো দেখছিনা।

ফারহান -ভাবী, ওকে কাল নিয়ে আসবো। আমার এইখানে একটা কাজ আছে তাই চলে আসলাম।

মেজো ভাবী -তাই ফারহান! বউ ছাড়া থাকতে পারবা?

ফারহান -আসতে না আসতেই শুরু করে দিছো?তোমাকে নিয়ে আর পারলামনা।কথাটা বলতে বলতে ফারহান তার মায়ের রুমে গেলো।

ফারহানের বাবা চায়ের কাপ টা তুলে হাতে নিতেই দেখে ফারহান এসে তার মায়ের পাশে বসেছে।
ফারহানের বাবা -ফারহান তুমি কখন এলে? প্রাপ্তিও কি চলে আসছে নাকি?

ফারহান -না বাবা প্রাপ্তিকে নিয়ে আসিনি।তবে কাল নিয়ে আসবো।

ফারহানের মা- প্রাপ্তিকে রেখে তুই চলে এলি কেন?

ফারহান -মা! কাজ আছে তাই চলে এলাম।
সবাইকে বার বার একি কথা বলতে ফারহানের অসহ্য লেগেগেছে। বউ থাকলেও জ্বালা না থাকলেও জ্বালা।

বাবা,মাকে আর কিছু না বলে রুমে চলে আসলো। রুমে এসে আজ নিজেকে খুব একা লাগছে।এই কয়দিনে প্রাপ্তি যে তার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে এইটা সে ভালো করেই বুজেছে।বার বার প্রাপ্তির ফোনে বলা কথা গুলো মনে পড়ছে।
এইদিকে ফারহান চলে যাওয়াই প্রাপ্তিরও ভালো লাগছেনা।একা একা রুমে শুয়ে আছে।নীরা প্রাপ্তিকে ড্রইংরুমে না দেখে রুমে এসে দেখে শুয়ে আছে।

নীরা- কিরে প্রাপ্তি, ভাইয়ার জন্য মন খারাপ লাগছে?

প্রাপ্তি নীরার কথা শুনে উঠে বসতে বসতে বললো মনে হয় তাই।কেন জানি ওকে খুব মিস করছি।কিছুই ভালো লাগছে না।

নীরা -তার মানে তুই ভাইয়াকে ভালোবেসে ফেলেছিস। আচ্ছা ভাইয়া কি এইকথা জানে?

প্রাপ্তি -তুইও না।

নীরা -যাইহোক শুন,কাল আমি চলে যাচ্ছি।এইবার সহজে আসা হবে না।অবশ্য কলেজে তোর সাথে তো দেখা হবে।কিন্তু তখন তো সব কথা বলা যাবেনা। নীরা প্রাপ্তিকে জড়িয়ে ধরে প্লিজ ভাইয়াকে কষ্ট দিস না।ভাইয়া তোকে অনেক ভালোবাসে।

প্রাপ্তি -(প্রাপ্তি ভেজা গলায়)হুম। আমি ও কাল চলে যাবো। আমি তোদেরকে অনেক মিস করবো।তবে ওই বাড়ীতে গেলে তোকে ফোন করবো।

প্রাপ্তির মা আর মেজো মা এসে দেখে একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে বসে আছে।

মেজো মা- ভাবী জানেন আমরা মনে হয় বড় ভুল করছি।এঁদের দুজনকে এক ঘরে বিয়ে দেওয়া উচিত ছিলো।

প্রাপ্তি -হ্যাঁ,ঠিক বলছিস। কাল দুজনে চলে যাবে, কিন্তু আমাদের জন্য মন খারাপ না করে ওরা একজন আরেকজনকে নিয়ে পড়ে আছে।
মা দের কথা শুনে নীরা বললো আচ্ছা তোমাদের কি হিংসে হচ্ছে?

মেজো মা -হবেনা!!! তোরা কাল চলে যাবি ভালো কথা।আমাদেরকে সময় না দিয়ে তোরা দুজন একরুমে বসে আছিস।

প্রাপ্তি -মেজো মা, এখনি উঠে তোমাদের কাছে যেতাম।

প্রাপ্তির মা -তাহলে আমরাই ভুল বুজেছি।আচ্ছা তাহলে ড্রইংরুমে চল।ওইখানেই বসে আড্ডা দিই।

সবাই উঠে গিয়ে ড্রইংরুমে বসে আড্ডা দিচ্ছে।প্রাপ্তিকে সবাই বুজাচ্ছে ফারহানদের সবার সাথে ভালো ভাবে মিশবার জন্য।

প্রাপ্তির মা- প্রাপ্তি তুই যেই ফ্যামিলিতে গেছিস ওই ফ্যামিলি ও আমাদের মতো বড় ফ্যামিলি তাই সবাইকে নিজের করেই ভাববি। যখন একসাথে সবাই থাকে তখন সবাইকে ভালোবাসতে হয়।এইটা কখনো ভাবিস না শুধু ফারহান তোর জীবনে থাকলেই হবে।যদি এইটা ভেবে বসে থাকিস জীবনে বড় ভুল করবি।জীবনে সবাইকেই একি ভাবে ভালোবাসতে হবে।ওদের ফ্যামিলিকে কখনো পর ভাববি না সব সময় তোর নিজের করে ভাববি। তুই যেই ভাবে তোর বাবা,মা, মেজো কাকাই, নীরা সবাইকে ভালোবাসিস সেইভাবে ফারহানের বাবা, মাকেও ভালোবাসবি।সুমিকে সবসময় নিজের বোনের মতোই দেখবি।
অবশ্য ফারহান থাকতে আমাদের এতো চিন্তা নেই ওই তোকে ওর ফ্যামিলির মতো করে তুলতে পারবে।ও আছে বলেই আমরা নিচিন্তায় থাকতে পারি।

চলবে,,,,,,,,,

Comments are closed.

- Advertisment -

Most Popular

Eminem – Stronger Than I Was

We woke reasonably late following the feast and free flowing wine the night before. After gathering ourselves and our packs, we...

Dj Dark – Chill Vibes

We woke reasonably late following the feast and free flowing wine the night before. After gathering ourselves and our packs, we...

Leona Lewis – Bleeding Love (Dj Dark & Adrian Funk Remix)

We woke reasonably late following the feast and free flowing wine the night before. After gathering ourselves and our packs, we...

Silicon Valley Guru Affected by the Fulminant Slashed Investments

We woke reasonably late following the feast and free flowing wine the night before. After gathering ourselves and our packs, we...

Recent Comments

গল্প পোকা on দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা on মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা on গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা on গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা on গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া on মন ফড়িং ❤ ৪০.
Siyam on বিবেক
Sudipto Guchhait on My_Mafia_Boss পর্ব-৯
Shreyashi Dutta on  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas on  বিয়ে part 1
জামিয়া পারভীন তানি on নষ্ট গলি পর্ব-৩০
সুরিয়া মিম on খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা on মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা on নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা on Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা on Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা on খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা on মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা on খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা on খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা on মন ফড়িং ❤ ১৬. 
Foujia Khanom Parsha on মা… ?
SH Shihab Shakil on তুমিহীনা
Ibna Al Wadud Shovon on স্বার্থ