অজানা_অনুভূতি পার্ট:৭

0
660

অজানা_অনুভূতি

পার্ট:৭

#Rabeya Sultana Nipa

 

আজ নীরার বিয়ে। সেই মৃদুলের সাথেই। অনেক ঝড়ঝাপটা ফিরিয়ে আজ তাদের বিয়ে।মেয়ের জেদের কাছে তার বাবাকে হারতেই হলো।কারণ নীরা সবাইকে বলেছে এই বিয়ে না হলে পালিয়ে যাবে নয়তো মরে যাবে।৭ দিন সময় দেওয়ার পর ও যখন মেয়ের মুখে মৃদুলকে ভুলতে না পারার কথা তখন বিয়ে ছাড়াতো আর কোনো উপায় নেই।
এইদিকে প্রাপ্তি ২ দিন ধরে কারো সাথে তেমন কথা বলছে না।ভালো করে খাচ্ছেও না।মনে হচ্ছে নীরাকে সে সারাজীবনের জন্য হারিয়ে ফেলছে।নীরা আর সে বসে বসে কান্না করছে। সবাই বুজানোর চেষ্টা করছে তাদেরকে। নীরাকে বিদায় দিয়ে সবার মন খারাপ।প্রাপ্তি দরজা আটকিয়ে বসে আছে।নিজেকে নিজেই বুজানোর চেষ্টা করছে।তাকেও একদিন এই বাড়ী ছেড়ে যেতে হবে।কথা গুলো ভাবতে ভাবতেই কখন প্রাপ্তি ঘুমিয়ে পড়লো তার মনে নাই।

নীরার বাবা চুপ করে বসে আছে ড্রইংরুমে। এমন ভাবে বসে আছে মনে হচ্ছে দুনিয়ার সব চিন্তা তার মাথার উপর।প্রাপ্তি মা এসে বললো

প্রাপ্তির মা -কি এতো চিন্তা করছেন? ভাইয়া!

নীরার বাবা -নীরা বিয়েটা শেষমেশ হয়েই গেলো।ভেবে ছিলাম আগে প্রাপ্তি বিয়ে দিবো তারপর নীরাকে।কিন্তু নীরা এমন কাজ করবে আমি ভাবতেই পারি নাই।

প্রাপ্তির মা -এইসব নিয়ে একদম চিন্তা করার দরকার নাই।প্রাপ্তির বিয়ে তো ঠিক করাই আছে শুধু ওর বাবা আসুক বিয়েটা সবাই মিলে তারিখ টা ঠিক করলেই হবে।

নীরার বাবা -তা ঠিক বলছেন।আচ্ছা নীরার বিয়েতে ফারহানের ফ্যামিলি আসেনাই কেন?এতো করে বলেছি ফারহানকে,বললো কি যেন কাজ পড়ে গেছে তাই আসতে পারবেনা।

প্রাপ্তির মা -হ্যা আমিও বলেছিলাম ওর মাকে, বলেছে প্রাপ্তির বাবা এলে নাকি একসাথে আসবে।এখন ফারহানের কাজ আছে তাই আসতে পারবেনা।

নীরার বাবা -প্রাপ্তির কি অবস্থা? এইভাবে থাকলে তো শরীর খারাপ করবে।

প্রাপ্তির মা -ঘুমিয়েছে মনে হয়।একটু আগে ডেকেছি উঠে নাই।২ দিন থেকে তো ঘুমায়নি তাই হয়তো তাড়াতাড়ি ঘুমিয়েছে।

পরেরদিন নীরার শশুর বাড়ীতে সবাই যাবার জন্য রেডি হচ্ছে।প্রাপ্তিও রেডি হয়ে নিচে নেমে এসে দেখে ফারহান দাঁড়িয়ে তার
সেজো কাকার সাথে কথা বলছে।প্রাপ্তি ফারহান কে দেখেই দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলো।ফারহান অবাক হয়ে সেজো কাকার দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কি করবে সে বুজতে পারছেনা।সবাই ও অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে।অনেকক্ষণ পর ফারহান নিজেকে ছাড়িয়ে

ফারহান -কি হয়েছে প্রাপ্তি তোমার?এইভাবে জড়িয়ে ধরলে কেন?

প্রাপ্তি কি বলবে বুজতে পারছেনা।সত্যি তো সেই ফারহানকে এইভাবে জড়িয়ে ধরাটা ঠিক হয়নি।

প্রাপ্তি চুপ করে আছে দেখে প্রাপ্তির ছোটা কাকা ইমরান বললো আসলে ফারহান নীরা কাল চলে যাওয়ার পর থেকে আমার মনে হচ্ছে প্রাপ্তি কেমন যেন হয়ে গেছে।তুই আর নীরাই তো ওর ভালো ফ্রেন্ড। কাল আবার তুই নীরার বিয়েতেও আসলিনা।হয়তো ও ভেবেছে তুই ওকে ভালোবুজিস।

প্রাপ্তি -কাকা তুমি চুপ করো।আসলে ফারহান তুমি কিছু মনে করো না।নীরার কথা ভাবতে ভাবতে হয়তো আমি নিজেই পাগল হয়েগেছি।তোহ,,, তুমি কখন এলে?

ফারহান -(মনে মনে,,, আমি তো চাই সারাজীবন তুমি আমায় এইভাবেই জড়িয়ে ধরবে)একটু আগেই।সবাই এতো করে বলছে তাই না এসে পারলামনা।নীরাতো বলেছে আজ আমাকে ওই বাড়ীতে না দেখলে নাকি আমার খবর আছে।তাই চলে আসলাম।তবে আমাকে কাল আবার চলে যেতে হবে।

এমন সময় প্রাপ্তির মেজো কাকা বাহিরে থেকে এসে বললো গাড়ী এসে গেছে সবাই চলো।

ফারহান -প্রাপ্তি! আমি গাড়ী নিয়ে আসছি তুমি আমার সাথে চলো।

সেজো কাকী -(ফারহানের কানে কানে এসে বললো)ফারহান! তুমি কি ভেবেছো আমরা কিছুই বুজিনা।

ফারহান -কাকী আমি জানি আপনারা সবাই বুজেন।কিন্তু যাকে বুজাতে চাচ্ছি সেই তো বুজেনা।কাকী জানেন আমার জীবনে প্রাপ্তির মতো মেয়ে কমে দেখেছি।অন্য সবার থেকে কেন যেন তাকে আলাদা লাগে।তার দিকে তাকালেই মনে হচ্ছে এক অদ্ভুত মায়া কাজ করে।মনে হয়ে সারাজীবন ওকেই ভালোবেসে কাটিয়ে দিতে পারবো।

প্রাপ্তি -ফারহান! চলো দেরি হয়ে যাচ্ছেতো।আর কাকীর সাথে এতো ফিসফিস করার কি আছে।এখন চলো বাসায় এসে না হয় ফিসফিস করবা।

ফারহান প্রাপ্তির কথা শুনে হাসি দিয়ে বললো আমি ফিসফিস করছিনা।জাস্ট কাকীকে বুজাচ্ছি আমি কি রকম মেয়েকে ভালোবাসি।
প্রাপ্তি আর কিছু না বলে গাড়ীতে গিয়ে বসে আছে।ফারহানও ফাঁসে গিয়ে বসেছে।

ফারহান -রাগ করেছো?

প্রাপ্তি -রাগ করবো কেন?আর তোমার সাথে তো রাগ করার প্রশ্নই আসে না।রাগ আমি তার সাথেই করি যাকে আমি ভালোবাসি।

প্রাপ্তির কথা শুনে ফারহান মন খারাপ করে বসে আছে।

প্রাপ্তি -তোমার আবার কি হলো? কথা বলছোনা কেন?

ফারহান প্রাপ্তির দিকে তাকিয়ে তুমি সত্যি অদ্ভুত একটা মেয়ে।কখন কি করো নিজেও জানো না।
দুজনেই কথা বলতে বলতে নীরার বাড়ীতে চলে এসেছে।

প্রাপ্তিতো গাড়ী থেকে নেমেই নীরাকে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো।তাদেরকে দেখে মনে হচ্ছে কতো বছর পর দেখা।সবাই তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। সবার এইভাবে তাকানো দেখে ফারহান তাদের কাছে এসে বললো এইভার তো ছাড়ো। নীরা! এখানে শুধু প্রাপ্তি আসে নাই সবাই এসেছে।কিন্তু তোমাদের দেখে মনে হচ্ছে এই পৃথিবীতে তোমরাই আছো।আর আমরা সবাই এলিয়েন।
ফারহানের কথা শুনে

প্রাপ্তি -আবার শুরু করছো?

নীরা -তোরা এখানে ঝগড়া করার কনো দরকার নাই।ভাইয়া চলেন আপনাকে মৃদুলের সাথে পরিচয় করিয়েদি।
এইদিকে সবাই সবার সাথে পরিচয় করানো হচ্ছে।নীরার শাশুড়ি ফারহান কে দেখে প্রাপ্তির মাকে বললো

নীরার শাশুড়ি -বেয়ান! এই ছেলেটা আপনাদের কি হয়? এতোদিন আপনাদের আর আমাদের মধ্য এতো কিছু হলো ওকে তো দেখলাম না।

প্রাপ্তির মা-ওর সাথে আমার মেয়ের প্রাপ্তির বিয়ে ঠিক করেছি।আমাদের বড় জামাই।প্রাপ্তির বাবা আসলেই বিয়েটা হবে।

পাশে থেকে নীরা কথাটা শুনে অবেক হয়ে তার বড় মাকে দেখছে।নীরা বড় মায়ের কাছে এসে বললো
নীরা -বড় মা এইদিকে আসো তোমার সাথে আমার কথা আছে।

প্রাপ্তির মা -আচ্ছা চল।

একটু ধুরে গিয়ে

নীরা -প্রাপ্তির বিয়ে কথা বলছিলে তখন।আমি যা শুনেছি তা কি সত্যি?

প্রাপ্তির মা -হ্যা।এইটা তো সবাই জানে শুধু তোরা ছোটোরা ছাড়া।

নীরা -বড় মা! প্রাপ্তি কি এই বিয়ে মেনে নিবে?সে তো,,,,,,,,,

প্রাপ্তির মা -সে তো কি নীরা?

নীরা কিছু বলার আগেই নীরাকে তার শাশুড়ি ডেকে নিয়ে গেলো নতুন গেস্ট আসছে তার সাথে দেখা করানোর জন্য।

চলবে,,,,,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here