বাড়ি প্রচ্ছদ পৃষ্ঠা 1691



রোমান্টিক_অত্যাচারঃ_২ পর্ব_২

রোমান্টিক_অত্যাচারঃ_২
পর্ব_২
লেখিকাঃ #Israt_Jahan
ধারণাঃ #kashnir_Mahi
মাহিঃ তুমি কি কারণে আমার কাছে ওকে পাঠালে?আমি বলেছি আমার সমস্ত কাজ আমাকে দেখাশোনা তোমাকেই করতে হবে।কারণ আমার এই অবস্থার জন্য তুমি দায়ী।তাই তুমি ছাড়া অন্য কেউ আমাকে দেখাশোনা করতে আসলে তাকে কিন্তু আমি চাকরি থেকে বের করে দিবো।দরকার হলে সবকয়টা সার্ভেন্টকে বের করে দেবো।তখন বুঝবে মজা।
আশফিঃআচ্ছা আর এমন হবেনা।তুমি প্লিজ একটু শান্ত হও।এতো চিল্লাচিল্লি করলে তোমার প্রবলেম হতে পারে।আমি আর তোমার কাছে অন্য কাউকে পাঠাবোনা।আমি নিজে এসে তোমার যা প্রয়োজন সেটা আমি দেখবো আর আমিই করবো।
মাহিঃ তাহলে তুমি কেনো ওকে পাঠালে?নিজে কেনো আসলেনা?
আশফিঃআমি আসলে আমার কিছু ক্লাইন্টদের সাথে কথা বলছিলাম।
মাহিঃ আমি কোনো অজুহাত শুনতে চাইনা।আমি তোমার কাছে খাবোনা তুমি যাও।আমি নিজেই খেয়ে নিবো।আর এখন তুমি আমার রুম থেকে বের হও।আজ তোমার আমার বেডে কোনো জায়গা নেই।
আশফিঃএটা কি বলছো তুমি?তাহলে আমি কোথায় থাকবো? আর তোমাকে ছাড়া তো আমার ঘুম ই আসতে চাইনা।
মাহিঃ জানিনা কিছু।এক্ষণি তুমি আমার রুম থেকে বের হও।না হলে কিন্তু আগামি ১ সপ্তাহের ভেতোরেও আমার মুখ দেখতে পারবেনা।
আশফিঃনাআআআ…. তাহলে তো আমি মরেই যাবো
এমন কোরোরা ডিয়ার প্লিজ।
মাহিঃ এই এসব আলতু ফালতু কথা বলবে না কিন্তু বলে দিলাম।না হলে এর থেকেও খুব খারাপ হবে।
আশফিঃ মাহি মাই নাইট কুইন প্লিজ মাফ করো আমাকে।আমি রাতে তোমাকে ছাড়া থাকতে পারিনা।
মাহিঃ তুমি যাবে নাকি আমি চলে যাবো?
আশফিঃ না না কোনো প্রয়োজন নেই।আমিই যাচ্ছি।তার আগে তোমাকে খাইয়ে দিই?
মাহিঃ না।কোনো দরকার নেই।আমি একাই খেতে পারবো।যাও তুমি।
আশফিঃ আচ্ছা ঠিক আছে।এই শোনো না যাওয়ার আগে একটা পাপ্পি দাও আমাকে।এখানে?
-“ডান গাল দেখিয়ে বললো।তারপর মাহি মুখটা গোমড়া করে রেখে ঠাস করে একটা চুমু দিয়ে মুখটা ঘুরিয়ে অন্য পাশে তাকিয়ে থাকলো।(অভিমানে)”
আশফিঃআর একটা দাও না জাদু।এখানে?
-“ঠোঁট দেখিয়ে বললো।”তখন মাহি চোখ বড় বড় করে চিৎকার করে বললো”।
মাহিঃ যাও বলছিইইই…।
আশফিঃ যাচ্ছি।এই মেয়েটা দিন দিন খিটখিটে বুড়ি হয়ে যাচ্ছে।সবসময় চিল্লাচিল্লি করে।বাসায় থাকলে ৫ টা মিনিট ওর চোখের সামনে না থাকলে চিল্লিয়ে ফাটিয়ে পুরো বাড়ি আর বাড়ির সার্ভেন্ট গুলোকে মাথায় তুলে ফেলে।আমার জন্য ওর এই অবস্থা বলে তাই ওর সবকিছু আমাকেই করতে হবে এমনটাই ওর নির্দেশ।সেদিন ফ্লোরে বমা করে ফেলেছে সেটাও আমাকে পরিষ্কার করতে হয়েছে।কোনো সার্ভেন্টকে পরিষ্কার করতে দেইনি।কিন্তু কথা তো এটা না।কথা হচ্ছে আমার কলিজাটা যে ওখানে রেখে এসেছি তো এখানে কি করে ঘুমাবো সেটাই ভাবছি।এই তিন বছরে ওকে ছাড়া একটা রাত ও একা ঘুমাইনি।আজকে কি করে ঘুমাবো?হুম, ও ঘুমিয়ে পড়লে চুপিচুপি ওর পাশে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়বো।মেয়েটা আজকাল বড্ড পাগলামি করে
মাঝেমাঝে মনে হয় কোনো ছোটো বাচ্চা মেয়েকে আমি আদর করে তার অভিমান ভাঙ্গাচ্ছি।আমার ও খুব ভালো লাগে যখন ও বাচ্চাদের মত আহ্লাদ করে আর মুখটাও বাচ্চাদের মত করে ফুলিয়ে রাখে।আমি তো ওকে এভাবেই রাখতে চেয়েছি।ওকে আমার জীবনে পেতে যে কতোটা কষ্ট হয়েছে সেই কষ্টের বিনিময়ে ওকে আমি পেয়েছি।আর মামনি চলে যাওয়ার পর থেকে প্রমিস করেছি ওকে আমি কোনোদিনও দুঃখের ছোঁয়া পেতে দেবোনা।ওকে এতো ভালোবাসা দিবো যাতে ও ভুলে যায় ওর জীবনের কখনো কষ্টের ছায়া ছিলো।সেটা আমি কতোটা করতে পেরেছি জানিনা।ওকে যতই ভালোবাসি মনে হয় সেটা ওর জন্য কম।ও তার থেকেও অনেক বেশি ডিসার্ভ করে।তবে এতোগুলো দিনে ওকে কখনো কাঁদতে দেখিনি আমি।ওর এক ফোটা চোখের পানি যে আমার কাছে অনেক দামি।দিন শেষে ঘরে ফিরে ওবে জড়িয়ে ধরে ওর বুকে মাথা গুজে থাকার সুখটাই যে আমার কাছে পৃথিবীর সবথেকে বড় সুখ সেটা ওকে কাছে না পেলে জানতামনা। পৃথিবীর সমস্ত মায়া যে ওর মুখটার মাঝেই পাই আমি।কথাগুলো একপাশ হয়ে শুয়ে ভাবছিলাম হঠাৎ পেছন থেকে কেউ এসে জড়িয়ে ধরে আমার কাছে এসে শুয়ে পড়লো। কেউ টা আর কে ই বা হবে ওটা যে আমার খিটখিটে বুড়ি মাহি।আমি ওর স্পর্শ ওর নিঃশ্বাস নিঃশ্বাসের গন্ধ এখন চোখ বন্ধ করে থাকলেও বুঝতে পারি এটা আমার মাহি।ও ভেবেছে আমি ঘুমিয়ে পড়েছি।কিন্তু আমি বুঝতে পারছি ও আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।আমার চুলগুলোতে বিলি কাটাচ্ছে। আমার সারা মুখে চুমু দিচ্ছে। আমার মুখের সাথে ওর মুখটা লাগিয়ে ঘষছে।ও যেভাবে আমাকে আদর করছে আমার ইচ্ছে করছে ওকে জড়িয়ে ধরে আদর শুরু করে দিই।এখন তো সেটা সম্ভব না। আমাকে ধৈর্য রাখতে হবে নিজের প্রতি নিজের নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে।
মাহিঃ ধুর। মুখে শুধু খোচা খোচা দাড়ি। মুখটা লাগাতেই পারিনে ওর মুখের সাথে। মুখে খোচা লাগে শুধু। কে যে বলে ওকে খোচা দাড়ি রাখতে?
আশফিঃ কে বলে মানে? তুমিই তো বলো। আমাকে ক্লিন শেভে ভালো লাগেনা। এর জন্যই হালকাভাবে শেভ করি।
মাহিঃ বদমাইশ ছেলে তুমি এখনো ঘুমাওনি?
-“মাথা নাড়িয়ে না সূচক উত্তর দিলো।”
মাহিঃ তাহলে আমার কাছে আসোনি কেনো?তুমি তো জানো যে আমি তোমাকে ছাড়া এখন একা থাকতে পারিনা।তাহলে এখানে শুয়ে পড়লে কেনো?
আশফিঃ শুয়ে পড়েছি কিন্তু ঘুমিয়ে তো পড়িনি।আমি ভেবেছিলাম আমার নাইট কুইনটা আমার ওপর রেগে আছে তাই সে ঘুমিয়ে পড়লে চুপিচুপি গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে তার পাশে গিয়ে শুয়ে পড়বো।
মাহিঃ নাইট কুইন কে?আচ্ছা তুমি আমাকে হোয়াইট এন্জেল বলো সেটা বলার না হয় কারণ বুঝলাম কিন্তু নাইট কুইন বলো কেনো?
আশফিঃ এটার পেছনে অনেক বড় একটা গল্প আছে সেটা না হয় অন্য একদিন শোনাবো। এখন একটু এসোনা তোমাকে আদর করি।
মাহিঃ একদম না। এমনিতেই আমার ঘুম আসছে না তার ওপর তুমি আদর করলে যেটুকু আসতে চাইবে সেটাও দৌড়ে পালাবে।
আশফিঃ কিচ্ছু হবেনা। একটু করবো বেশিনা। ওকে কাছে টেনে এনে বললাম।
মাহিঃ না আমি ঘুমাবো।
কিভাবে আমার ঘুম আসবে আগে সেই ব্যবস্থা করো।
আশফিঃ হুম।তার জন্যই তো বলছি।আমার কাছে আসলে আমার আদর নিলে এমনিতেই ঘুম চলে আসবে।
মাহিঃ দুষ্টুমি করছো না তো? সত্যি বলছো?
আশফিঃ একদম।
মাহিঃ পাগল একটা।ও আমার কাছে এসে আমাকে খুব করে আদর করে দিলো।আমি চোখ বন্ধ করে অনুভব করছিলাম আমার শরীরে ওর ঠোঁটের স্পর্শ গুলো।ওর ভালোবাসাটা আমার কাছে এমনই একটা জিনিস যা সারাজীবন গ্রহণ করলেও আমার মন ভরবেনা।
আশফিঃ ডিয়ার তুমি কৈ? আমি তোমাকে খুঁজছি তো। মেয়েটা ১টা মিনিটের জন্য ও কোথাও বসে থাকতে চাইনা।সবসময় শুধু ঘুরঘুর আর ঘুরঘুর। আমি যে বাইরে যাওয়ার আগে ওর ঠোঁটের ইয়াম্মি পাপ্পিটা না নিয়ে বের হইনা সেই জিনিসটা মেয়েটা এখনো মাঝে মাঝে ভুলে যায়।মনে হচ্ছে ওর ওপর আগের সেই অত্যাচার গুলো শুরু করতে হবে।একবার ডাবল থেকে সিঙ্গেল হও তারপর নতুন করে নতুন পদ্ধতিতে শুরু করছি সবকিছু।
মাহিঃ একা একা কি বকছো?আর এখন সেজেগুজে কোথায় বের হওয়া হচ্ছে শুনি?
আশফিঃভাগ্যিস কিছু শোনোনি।
মাহিঃ কি শুনিনি?কি বলছিলে আমাকে?
আশফিঃ আরে কিছুনা। আমি তো এখন বাইরে বের হবো তাইনা?তো আমার একটা দরকারি জিনিস নেওয়ার আছে কিন্তু সেটা খুঁজে পাচ্ছিনা তাই তোমাকে স্মরন করছিলাম।
মাহিঃ কি খুঁজে পাচ্ছোনা?
আশফিঃ আমার কাছে না আসলে কিভাবে বলবো?
মাহিঃ ও তাহলে এই ব্যাপার?তো সেটা কি খুব দরকারি জিনিস?
আশফিঃহুম খুব। ওকে কাছে টেনে ওর ঠোঁটে চুমু দিলাম।আর এতো জোড়ে ওর ঠোঁটটা চেপে ধরেছি যে বেচারির ঠোঁট দুটো লাল মরিচের মত লাল হয়ে গেছে।
মাহিঃ তুমি আজকে এভাবে দিলে কেনো?আমি কত ব্যাথা পেয়েছি ঠোঁটে।
আশফিঃ তো কি করবো? তুমি রোজ ভুলে যাও কেনো এই বিষয়টা?আমার কিন্তু আগের মত আবার রাগ চেপে গেলে তোমার অবস্থা কিন্তু দেখার মত হবেনা।
মাহিঃহাআআআ?তুমি আমার এই অবস্থাতেও টর্চার করতে চাও?এতো নিষ্ঠুর তুমি?
আশফিঃ মহারাণী??
মাহিঃ বলুন সম্রাট?
আশফিঃআমি আপনাকে এখন তেমন কিছুই করছিনা। জাস্ট ওয়ার্নিং দিলাম। মনে থাকে যেনো।আমি এখন আসছি।আলিশাকে রিসিভ করতে যাবো।তুমি রেডি হয়ে থেকো।
মাহিঃ ওকে সাবধানে যেও।
“এয়ারপোর্টে আলিশাকে রিসিভ করতে এসে আশফি তো ওকে খুঁজেই মরছে। সামনে এতো সুন্দরি মেয়ে যার ভীড়ের মাঝে ওকে চোখেই পড়ছেনা ওর।হুট করেই সামনে থেকে একটা মেয়ে দৌড়ে এসে আশফির সাথে জাপ্পি শুরু করে দিলো।আশফির রিয়্যাকশান যথেষ্ট স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে।তারপর মেয়েটার জাপ্পির পালা শেষ হলে আশফি ওর মুখের দিকে তাকিয়ে ফোনে ছবির সাথে ভালো করে মিলিয়ে দেখলো।হ্যা এটাই আলিশা।”
আশফিঃতুমি এতো স্লিম হয়ে গেছো যে তোমাকে আমি চিনতেই পারিনি।আমার কাছে তোমার যে ফটোগুলো ছিলো সেগুলোতে তুমি বেশ ভালোই healthy ছিলে।
আলিশাঃ হুম ঐ ফটোগুলো তো আমার ৩ থেকে ৪ বছর আগের ছবি।এর জন্যই চিনতে পারোনি।কিন্তু আমি কি দেখতে আগের থেকে খুব খারাপ হয়ে গেছি?
আশফিঃএকদম না।আরো বেশি কিউট হয়ে গেছো।
আলিশাঃআমি কিন্তু তোমাকে একবার দেখেই চিনতে পেরেছি।কারণ তুমি সেই আগের মতই আছো।একদম dangerous handsome.
আশফিঃ Dangerous handsome?? হা হা হা।
-“গাড়িতে আসতে আসতে ওরা কথাগুলো বলছিলো।”
আলিশাঃ আরে আমি তো ভাবলাম তোমার হোয়াইট এন্জেল এর মুখটা দেখে ঘরে প্রবেশ করবো কিন্তু সে কোথায়?তাকে তো কোথাও দেখছিইনা।আমি যে তাকে দেখার জন্য ব্যাপক exited.
আশফিঃ হুম।আমার হোয়াইট এন্জেলকে দেখার জন্য তোমার যে উত্তেজনা সেটা বৃথা যাবেনা।এসো আমার রুমে এসো তাহলেই দেখতে পারবে।
“আলিশা রুমে ঢোকার পর মাহির আইডলটার দিকে চোখ পড়লো”।
আলিশাঃ এটা কি?
আশফিঃ আহহা ছুঁইয়োনা।আমি দেখাচ্ছি। আমি মাহির আইডলটার মুখের ওপর থেকে হোয়াইট নেট ক্লোথটা সরিয়ে দিলাম।
আলিশা, Just look.This is my white angel.
-“মাহির আইডলটা দেখার পর আলিশা সেটা থেকে চোখ ফেরাতে পারছেনা।অন্তত তিন মিনিটের মত নিরব দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো।”
আলিশাঃ Its really a amazing idol. যে মেয়ে এতোটা সুন্দর হতে পারে সে সত্যি একজন এন্জেলের থেকে কম কিছুনা। আমি সত্যি মুগ্ধ। এতোটা নিখুঁত সুন্দর করে ওকে কিভাবে তৈরি করেছো?
আশফিঃ অসম্ভব ভালোবাসা থাকলে সবই সম্ভব।
আলিশাঃ সত্যি।কতোটা ভালোবাসলে একজন কে এতো সুন্দর করে তৈরি করা যায়।না জানি বাস্তবে গড তাকে কতোটা সুন্দর করে তৈরি করেছে।
আশফিঃবলেছিলাম না তুমি নজর ফেরাতে পারবেনা।এর জন্যই বলেছিলাম নজর লেগে যাবে।
আলিশাঃ ওকে। তোমার বৌ কে সামনাসামনি উপস্থিত করো।তাহলে এটার দিকে আর নজর দিবোনা।
আশফিঃ মাহি? মাহি? মাহি তুমি কোথায়?আলিশা ইজ কামিং। ডিয়ার জলদি এসো।
অদ্ভুত মেয়েটা কোথায় গেলো?
এতোবার ডাকছি তবুও সাড়া দিচ্ছেনা?সার্ভেন্ট?
সার্ভেন্টঃ ইয়েস স্যার?
আশফিঃ Where is your mam?
সার্ভেন্টঃ স্যার আমি তো ম্যাম কে লাস্ট ৩০ মিনিট আগে রুমে দেখেছি তারপর আমি আমার কাজে ছিলাম।
আশফিঃ হোয়াট? তার মানে ৩০ মিনিট পর ওকে তোমরা খেয়াল করোনি????
সার্ভেন্টঃ নো স্যার।?
চলবে।

রোমান্টিক_অত্যাচারঃ_২ পর্ব-১

রোমান্টিক_অত্যাচারঃ_২
পর্ব-১
লেখিকা: #Israt_Jahan
ধারনা: #Kashnir_Mahi
মাহিঃ উহহ এতো অশান্তি আর ভালো লাগেনা।খিদে পেয়েছে অথচ কিচ্ছু খেতে পারছিনা।আশফিইইই…….তোমাকে আমি ছাড়বোনা।
অভদ্র অসভ্য শয়তান গন্ডার তোমার জন্য আমার এই অবস্থা।আমার খুব খিদে পেয়েছে।আমি কি খাবো???
-“চিৎকার করে মাহি কথাগুলো বলছে।”
সার্ভেন্টঃস্যার!! ম্যাম কিচ্ছু খাচ্ছেনা।খাবার এর গন্ধ শুকেই বমি করে দিচ্ছে।খিদে পেয়েছে খেতে চাইছে। কিন্তু খাবার মুখের সামনে নিলেই সরিয়ে দিচ্ছে।কি করবো এখন?
আশফিঃআচ্ছা ঠিক আছে আমি আসছি। তুমি ফোন রাখো।ওর কাছে যাও আর সবসময় ওকে চোখে চোখে রাখবে।এই মেয়েটাকে নিয়ে এখন আমি কি করবো?ফোন করলেও শুধু বকাবকি করে।আর বলে আমার জন্য নাকি ওর এই অবস্থা।আমি ওকে ইচ্ছে করে কষ্ট দিচ্ছি।এটা কেমন কথা।আমি কিভাবে ওকে কষ্ট দিচ্ছি সেটাই তো বুঝলাম না।একে নিয়ে আমি এখন কি করবো।৩টা মাস হলো আমাকে পুরো পাগল করে দিচ্ছে।এখানে বসে থেকে দেরি না করে বাসায় যায়।দেখি গিয়ে কিছু খাওয়াতে পারি নাকি।আজকে আর অফিস করা হলোনা।এই তিনটা বছরে মাহি আমার ওপর এমন কোনো অত্যাচার নেই যা ও করেনি।আর এখন যে অত্যাচারটা ও শুরু করেছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মত না। ২৪ ঘন্টার ২৪ ঘন্টাই ওর মুখে বকা শুনতে শুনতে আমার দিন শুরু হয় আর রাত শেষ হয়।কতগুলো দিন যে রাতে ঘুমোতে পারিনা।বাসায় পৌঁছে গেলাম।মাহি তুমি কাঁদছো কেনো জাদু।কি হয়েছে?
গেলো,এই প্রশ্নটাই আমাকে করতে হলো?কানটা বন্ধ করার ও উপায় নেই।আমার প্রশ্ন টা শুনেই ওর কান্না বন্ধ হয়ে গেলো।
মাহিঃতুমি এখনো কোন মুখে এই প্রশ্ন করছো?তুমি দেখতে পাচ্ছোনা কি হয়েছে?তুমি কি মানুষ,তুমি জানো আমার কত কষ্ট হচ্ছে?
আশফিঃআচ্ছা ঠিক আছে ঠিক আছে।আমি বুঝতে পারছি জাদু।দেখো এমন সময় তো সকলেরই একটু কষ্ট হয়।এটা সহ্য করেই তো সবাই…..
মাহিঃ সহ্য করেই তো মানে? তুমি সহ্য করতে তাহলে।
আমাকে কেনো সহ্য করতে হবে?
আশফিঃআমি?আমি কি করে সহ্য করবো??ছি ছি তুমি এসব কি বলোনা।এটা কোনোদিন সম্ভব নাকি।দেখো তুমি তো আমার থেকেও অনেক বেশি ইন্টেলিজেন্ট।
তুমি যদি না খেয়ে থাকো তাহলে ওর তো কষ্ট হবে।তাইনা?তুমি কি সেটা চাও?
মাহিঃ আমি তো খেতেই পারছিনা।
আশফিঃ ড. আঙ্কেল তো বললো কিছুদিন পর এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে।তখন তুমি সবকিছু খেতে পারবে।এখন একটু কষ্ট হবেই।তুমি এই খাবারটুকু কষ্ট করে একটু খেয়ে নাও প্লিজ সোনা।আর কোনো কথা বলোনা।এখন হা করো।
মাহিঃ আমি আর খেতে পারবোনা।না হলে কিন্তু বমি করে দিবো।
আশফিঃ ওকে ওকে আর খাওয়াচ্ছিনা।এখন ওকটু ঘুমানোর চেষ্টা করো।কারণ রাতে তুমি একদমই ঘুমাতে পারোনা।ওকে শুইয়ে দিয়ে ওর
গায়ে চাদর টা টেনে দিলাম। ঠিক চার মাস আগের কথা…….
মাহিঃ এই আশফি তুমি আর একটা বাঙ্গালি বিয়ে করো তো।
আশফিঃকি?কেনো?তুমি কি আমাকে ছেড়ে অন্য কাউকে বিয়ে করতে চাইছো না কি?
মাহিঃ আরে না।ধুর।কি সব বলোনা।আমি কেনো বিয়ে করতে চাইবো।তুমি তো আমাকে ঘরবন্দি পুতুলের মত করে রেখেছো।আমার সাথে গল্প করার মত ও একটা মানুষ নেই।সারাদিন শুয়ে বসে দিন কাটতে চাইনা।তোমার অফিসে ও আর আমাকে যেতে দাওনা।তাহলে আমি কি সারা জীবন এভাবে একা সময় কাটাবো।আর তোমাকে তো শুধু রাতটুকুই কাছে পাই।
আশফিঃ তো এর জন্য তুমি আমাকে আর একটা বিয়ে করতে বলছো।তোমার সাথে গল্প করার জন্য?
মাহিঃ হ্যা।তো কি সমস্যা?
আশফিঃতুমি সিরিয়াসলি বলছো তো।মানে তুমি আমাকে অন্য একটা মেয়েকে বিয়ে করতে বলছো তার সাথে থাকতে বলছো।
মাহিঃ তার সাথে থাকতে বলছি মানে?আমি কখন বললাম তুমি তার সাথে থাকবে।
আশফিঃতো সে কি আমাকে বিয়ের পরে তোমার কাছে রেখে দিবে রোমান্স করার জন্য?সে আমার বৌ হলে তখন তো তোমাকেই আমার কাছে আসতে দিবেনা।
মাহিঃ একদম গলা কেটে নামিয়ে দিবো সে যদি এমন কিছু করে।আর সে এসব করবেই বা কেনো?ওকে দরকার হলে প্রতি মাসে তুমি সেলারি দিয়ে দিবে।আর বলবে সারাদিন আমার সাথে সময় কাটাতে।
আশফিঃতুমি না সত্যিই একটা অদ্ভুত প্রাণী।
মাহিঃ কি বললে?
আশফিঃআমার কাছে এসো।তো তোমার একা একা আর ভালো লাগছেনা তাই তো?
মাহিঃ হুম।?
আশফিঃ ঠিক আছে তো তার জন্য বিয়ে করতে হবে কেনো। আমাদের মাঝে নতুন কাউকে নিয়ে আসলেই তো হয়।
মাহিঃ নতুন কাউকে মানে? তুমি কি দেশ থেকে কাউকে এখানে নিয়ে আসতে চাইছো?
আশফিঃ দেশ থেকে নয় আল্লাহর কাছ থেকে।বুঝতে চেষ্টা করছো?এসো আমার কাছে এসো বুঝিয়ে দিচ্ছি।ওকে কাছে টেনে আমি আদর করতে গেলাম।
মাহিঃ আশফি সবসময় এমন দুষ্টুমি ভালো লাগেনা।আমি সিরিয়াস বিষয় নিয়ে কথা বলছি।
আশফিঃআমিও তো সিরিয়াস।আচ্ছা তুমি তো একা থাকতে চাওনা?নতুন কাউকে চাও তোমার সাথে সময় কাটানোর জন্য?
মাহিঃহুম।
আশফিঃতাহলে আমি যা বলবো তাই করতে হবে।এখন আমার কাছে আসো বলছি।
তারপর মাহি আমার কাছে আসার পর ওকে খুব ভালোবাসা দিলাম।ব্যাস তার ১ মাস পর থেকেই আমাকে অত্যাচারে অত্যাচারে জর্জরিত করে ফেলছে।কেনো যে ওর একাকিত্ব দূর করতে চাইলাম তার পরিণামে আমাকে এভাবে ভুগতে হচ্ছে।নিজেও সারারাত ঘুমোইনা আর আমি চোখ বন্ধ করলে আমার অবস্থা শেষ করে ফেলে।ওর মুখটা দেখতে দেখতে কখন যে ওর পাশে বসে ঘুমিয়ে পড়েছি।বুঝতেই পারিনি।ঘুম ভাঙ্গতেই দেখলাম আমার সামনে মুখটা গোমড়া করে মুখ ফুলিয়ে বসে আছে।কি হয়েছে ডিয়ার তোমার ঘুম ভেঙ্গে গেছে খিদে পেয়েছে?
মাহিঃ না।তুমি এভাবে অফিসের পোশাকে এখানে আমার পাশে বসে ঘুমাচ্ছো কেনো?আমি কি তোমাকে আমার পাশে শুতে বারণ করেছি?
আশফিঃ না আসলে সেটা না।তোমার যদি ঘুমোতে কষ্ট হয়?তাই আর কি…..
মাহিঃ থাক এতো কথা বলতে হবেনা।এই পোশাক ছাড়ো তারপর যাও ফ্রেশ হয়ে এসো।
আশফি তো সেই কখন ফ্রেশ হতে গেছে এখনও বের হচ্ছেনা।এদিকে আমার তো অবস্থা খারাপ।মনে হচ্ছে এখনি বমি করে ফেলবো।কেমন অস্বস্তি লাগছে।উঠে গিয়ে ওয়াশরুমের দরজায় নক করছি। আশফি তাড়াতাড়ি বের হও।
আশফিঃ কেনো?আমি তো টয়লেটে আছি।
মাহিঃ এই তুমি তাড়াতাড়ি বের হও না হলে কিন্তু এখানেই করে দিবো তখন কিন্তু তোমাকেই ক্লিন করতে হবে।
আশফিঃ হ্যা??এই না না আমি এখনই বের হচ্ছি।উফ এই মেয়েটার জন্য টয়লেট ও করতে পারব না।দরজাটা খুলতেই ভর ভর করে আমার গায়ে ঢেলে দিলো।মাহিইইই…
তুমি এটা কি করলে??
মাহিঃ কি করবো?সেই কখন থেকে বলছি দরজা খুলো।তারপর আর সামলাতে না পেরে……..
আশফিঃআমার শুধু কান্না করাটাই বাকি আছে।ইচ্ছে করছে গলা ছেড়ে চিৎকার করে কান্না করি।মুখে কৃত্তিম হাসি টেনে ওকে বললাম।কোনো সমস্যা নেই এসো তোমাকে পরিষ্কার করে দিই।তারপর ওকে পরিষ্কার আমি গোসল করে নিলাম।তারপর বহু কষ্টে ওকে কিছু খাওয়ালাম।ওকে এখন খাওয়াতে যতটা কষ্ট হয় এতোটা কষ্ট হয়তো আমার পিচ্চিটাকে খাওয়ানোর সময়ও হবেনা।পরেরদিন খুব ভোরে ঘুম ভাঙ্গলো।ঘুম থেকে উঠে দেখলাম ও পাশে নেই।তাড়াতাড়ি করে উঠলাম ও কোথায় সেটা দেখার জন্য।
মাহি তুমি এতো ভোরে বাগানে কি করছো?ভোরে একটু ঠান্ডা পড়ে আর তাতে যদি তোমার ঠান্ডা লেগে যায়?
মাহিঃআমার ঠান্ডা করছেনা। ঘুম ভেঙ্গে গেছে তাই উঠে এসেছি।
আশফিঃ তো আমাকে ডাকলেনা কেনো?আচ্ছা অনেকক্ষণ হাটাহাটি করেছো এখন ঘরে এসো।
মাহিঃ সেই তখন থেকে দেখছি কার সাথে যেনো ফোনে কথা বলছে।কে ফোন করেছে?মনে হলো বাংলাদেশ থেকে কেউ?
আশফিঃআমাদের দেশের মানুষই।কিন্তু দেশে থাকেনা।ইংল্যান্ড থাকে। আমাদের এখানে বেড়াতে আসতে চাইছে।
মাহিঃ ওয়াও।শুনে খুব খুশি লাগছে।কতদিন পর নিজের দেশের কাউকে দেখবো।তো সে কে?
আশফিঃচাচ্চুর বড় মেয়ে আলিশা।ইংল্যান্ড থেকে পড়াশোনা করেছে।এ বছরেই স্টাডি শেষ হলো।তাই এখানে ঘুরতে আসতে চাইছে তারপর এখান থেকে দেশে ফিরে যাবে।
বলছে তোমার সাথে আর আমার সাথে মিট করবে।আমাদের বিয়ের সময় তো ছিলোনা।ওর সাথে আমার কখনো দেখা হয়নি। শুধু ফোন আর ভাইবারেই যতটুকু কথা হয়েছে।এই ফার্স্ট আমাদের দেখা হচ্ছে।
মাহিঃ আচ্ছা তো কবে আসছে?
আশফিঃসামনের উইকেই। যাক অন্তত ২ মাসের জন্য কাউকে কাছে পাচ্ছো।ভিষণ কথা বলতে পারে মেয়েটা।
মাহিঃআচ্ছা ও দেখতে কেমন? আমাকে ওর ছবি দেখাও।
আশফিঃসেটা সারপ্রাইজ থাক। তোমার ছবি ও দেখতে চেয়েছিলো আমি দিইনি।বলেছি ছবি দিলে যদি নজর দাও?তাই সামনে এসে দেখো।নজর দিলেও আমি সেই নজর কাটিয়ে দিবো।এই কথার উত্তরে আমাকে কি বলো জানো?আমাকে বলে তোমার বৌ কি দেখতে আমার থেকেও সুন্দর?
মাহিঃ তো তুমি কি বললে?
আশফিঃআমি বলেছি আমার কথা কতোটা সত্য সেটা সামনে এসে দেখলেই বুঝতে পারবে।ও বললো ও দেখতে চাই তুমি কতোটা সুন্দর যে কিনা আশফিকে বিয়ের বাঁধনে বেঁধে ফেলতে পেরেছে।
মাহিঃহুহহ?। আমি তো ওকে বলবো যে আমি আশফিকে বিয়ের বাঁধনে বেঁধেছি নাকি আশফি আমাকে বেঁধেছে।
আশফিঃআমি মাহির কোলের ওপর মাথা রেখে শুয়ে পড়লাম।তোমাকে বলতে হবেনা জাদু।আমি নিজেই বলেছি আমার এই মাহিকে বিয়ের বাঁধনে বাঁধতে কত কষ্ট হয়েছে।কতকিছু করে আমার মাহিকে পেতে হয়েছে তার সবকিছুই আমি ওকে বলেছি।
মাহিঃসব?
আশফিঃসব।
চলবে।

প্রতিশোধ__2পার্ট_22 (শেষ)

প্রতিশোধ__2
জামিয়া_পারভীন
#পার্ট_22 (শেষ)

__ অনুষ্ঠান এর মাঝে অভি আর অনন্যার ভাড়া করা কিছু গুন্ডা চারিদিকে ঘিরে ফেলে। অনন্যা আবিরের কাছে গিয়ে গলা জড়িয়ে ধরে বলে ” মাই ডিয়ার ডার্লিং! অনেক তো হলো লুকোচুরি, আমার ছেলের বউ তিথিকে তো নিজের ছেলের বউ করেই ফেললে, কোন আফসোস নাই এতে, তোমার মেয়েটা আরোও বেশি সুন্দর, ওকেই এখন ছেলের বউ করে চাই। নইলে তোমার কুকর্মের কথা তোমার ছেলেমেয়ের সামনে ফাঁস করে দিবো। সাথে সাথে তোমার মান সম্মান তো হারাবেই, ছেলেমেয়ের সামনে মুখ দেখাতে পর্যন্ত পারবেনা। ” বলেই জোরে জোরে হাসতে শুরু করে।

__ অনন্যার কথায় আবির বলে ” প্লিজ এমন করোনা অনু, সারাটা জীবন পাপের শাস্তি বয়ে বেড়িয়েছি। আর পাপের বোঝা মাথায় নিতে চাইনা। আমার মেয়েটা তো কোন দোষ করেনি, তাছাড়া ওর বিয়ে ঠিক করে রেখেছি আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড এর ছেলের সাথে। একজন কে ভালোবেসে আরেকজনের ঘর কিভাবে করবে বলো? ”

__ এতে অনন্যা আরোও রেগে বলে ” আমি কিভাবে একজন কে ভালোবেসে আরেকজনের ঘর করেছি। ভালোবাসা পাইনি তো কি হয়েছে, প্রতিশোধের আগুনে তো সবাইকে জ্বলিয়েছি। এখন আমার সুখ শুধু তোমার মেয়ের দিকে। ” মনে হচ্ছে অনন্যার আগুনে সব কিছু পুড়ে ছাড়খার করে দিবে।

,
,
__ মনিকা ভেবেছিলো অভি তিথিকে বিয়ে করে পথের কাঁটা সরিয়ে দিবে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি উল্টো দেখে অভির ঘাড়ে হাত দিয়ে বলে ” এই অভি! এইসব কেনো বলছো, তোমার তো তিথিকে বিয়ে করার কথা। ”

__ অভি মনিকার ঘাড় থেকে হাত নামিয়ে নিয়ে বলে ” অন্যের খাওয়া মালের উপর আমার লোভ নেই। আমার লোভ খাঁটি জিনিসের উপর। ”

__ মনিকা নুহাশকে ভালোবাসে তাই ওর ফ্যামিলির ক্ষতি চায়না তাই বলে ” আমি ও কারো সাথে প্রেম করিনি। তাহলে তো আমাকেই বিয়ে করতে পারো। ”

__ মনিকাকে সরিয়ে দেয় অভি, মনে মনে ভাবছে মনিকাও কম সুন্দরী নয়। কিন্তু নেহা তার চেয়ে বেশি সুন্দরী।

,
,
এতো বিপদের মাঝে নেহা তিথির হাত চেপে বসে আছে। আর নুহাশ বুঝতে পারছেনা কি বলবে। হটাৎ নুহাশের মাথায় বুদ্ধি আসে। নেহার সাথে যার বিয়ে ওদের বাবা ঠিক করেছে তাদের কে বাসার ঠিকানা আর পুলিশের নাম্বার দিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আসতে বলে। আবির আসলে নেহার বিয়ে ঠিক করেছে আবিরের বান্ধবী মিশির একমাত্র ছেলে মুরাদের সাথে। এটা নেহা কে সারপ্রাইজ দিতে চাইলেও নুহাশ কে আবির জানিয়ে রেখেছিলো। আর কাজের সময় নুহাশ এই বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে ভালো ই করেছে।
,
,
মুরাদ নুহাশের বিয়ে উপলক্ষে ওদের বাসার দিকেই আসছিলো।
হটাৎ মুরাদের ফোনে মেসেজ আসতেই ওর বাবা মা কে দেখায়। আর কুইক লন্ডন পুলিশে ফোন করে জানিয়ে দিয়ে ওদের বাসায় প্রবেশ করে। যেহুতু নুহাশ জানিয়ে দিয়েছে ওদের কাছে পিস্তল আছে তাই সাবধানে গেটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকে। শুধু পুলিশ আসার অপেক্ষায়।
,
,
অভি নেহার দিকে এগিয়ে গিয়ে ওকে জোর করে টেনে আনে। নুহাশ কিছু বলতে পারছেনা কারণ ওর মাথাতেও এখন পিস্তল ঠেকানো আছে। নুহাশের বিয়ে উপলক্ষে ম্যারেজ রেজিস্টার আর কাজী দুইজনেই ছিলো। তাই অভির কাজ টা সহজ হয়ে গেছে। বার বার নেহাকে রেজিস্ট্রি পেপার এ সাইন দিতে বলছে। সবাই জীবনের মায়া ত্যাগ করে নেহাকে বিয়ে করতে নিষেধ করছে।
তবুও বাবা আর ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে সাইন করতে যায়। তখন পুলিশ চলে আসে। পুলিশ কায়দা করে সবাই কে এরেস্ট করে। অভি আর অনন্যার খেলা শেষ হয়ে যায়।

,
,
মিশি, তন্ময় আর মুরাদ ভিতরে আসে। নেহা বেশ অবাক হয় মুরাদ কে দেখে। মুরাদ মুচকি হাসি দিয়ে নেহার দিকে এগিয়ে যায়।

__ ” কি ম্যাম, ভয় পেয়েছিলেন বুঝি। আমি থাকতে আপনাকে বিয়ে করবে এমন কেউ আছে নাকি? ” মুরাদ নেহার মাথায় টোকা দিয়ে বলে।

__ “হুম, খুব ভয় পেয়েছিলাম, কিন্তু এখন বিরক্ত লাগছে আপনাকে দেখে। ” মুখ বাঁকিয়ে বলে নেহা।

__ মুরাদ নেহার দুই ঘাড়ে দুই হাত রেখে বলে ” এখন বিরক্ত লাগছে তাতে কি হয়েছে, পরে বিরক্ত টাকেই ভালবাসায় রুপান্তরিত করে নিবো। ”

__ নেহা কিছুটা লজ্জায় দূরে সরে যায়।

নিরা মিশির গলা জড়িয়ে ধরে বলে
__ ” মেয়ের সাথে আপনার ছেলের বিয়ে দিতে পারি তবে শর্ত আছে। দেশে ফিরে আমাদের বাসায় বড় অনুষ্ঠান করে বিয়ে দিবো। ”

নিরার এই কথায় সবাই মত দেয়। অনেকদিন তৃণা সাইফ ও দেশে যায়নি। আবার নিরা আবিরের ও দেশের কথা মনে পড়ে। আর নুহাশ, নেহা, তিথি কেউ ই দেশ দেখেইনি। সবাই এক সাথেই রাজি হয়ে যায়, দেশের বাড়ি ফিরার আনন্দে বিভোর সবাই।

__ মনিকা নুহাশ কে বলে ” তাহলে স্যার, আমাদের বাসাতেও যেতে হবে। ”

__ নুহাশ মনিকার প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়। ” ওকে যাবো ”

সবাই মিলে সব ঠিকঠাক করে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

আবিরদের বাসায় উঠে সবাই। বাড়ি টা অযত্নে কেমন যেন হয়ে গেছে। তাও এখানেই আসে মায়ার টানে।

নিরা আর তৃণা প্রথমে নিজেদের বাড়ি যায়। মানে ওদের বাবার বাড়ি, মাসুদ বা ওর বৌ মিলি কেউ ছিলো না তখন। ওরা অপেক্ষা করতে থাকে তখন মনিকা কে দেখতে পায়। মনিকা ওদের ভাইয়ের মেয়ে কখনো বুঝতে পারেনি কেউ। এয়ারপোর্টে নেমে মনিকা বাসায় চলে আসে। আর ওরাও ওদের উদ্দেশ্যে যায়।

মনিকা এগিয়ে এসে বলে
__ ” আরে আন্টি, আপনারা এসেছেন খুব খুশি হয়েছি। কিন্তু বাসা চিনলেন কিভাবে? ”

নিরা বলে
__ ” বাসা না চিনার কি আছে এটা আমার বাবার বাড়ি। যাই হোক তুমি কি মাসুদের মেয়ে নাকি। ”

__ ” জ্বী হ্যাঁ, আমার বাবার নাম মাসুদ। ” মনিকার কথা শেষ না হতেই নিরা জড়িয়ে ধরে মনিকাকে আর বলে

__ ” তোমার জন্মের আগেই দেশ ছেড়ে চলে গেছিলাম। তাই খবর পাইনি আর।
আচ্ছা তোমার দাদা দাদী রা কোথায়? আর বাবা মা? ”

__ ” দাদা তো আমার জন্মের কিছুদিন পরই মারা গেছিলো শুনেছিলাম আর দাদী তো……. ” বলেই থেমে যায় মনিকা।

__ দুই বোনের বাবার জন্য চোখে জল আসে। সামলিয়ে নিয়ে মায়ের কথা জানতে চায় ওরা। কিন্তু মনিকা কিছু বলার আগেই মাসুদ আর মিলি একসাথে প্রবেশ করে। হয়ত কোন অনুষ্ঠান এ গিয়েছিলো, খুব গর্জিয়াস ড্রেসে মিলি আর মাসুদ কোর্ট প্যান্ট পড়ে আছে। মাসুদ দুই বোন কে দেখে একটু চমকে গেলেও বলে
__” কিরে, তোরা এই অবেলায়! তোদের বাবার সম্পত্তির ভাগ নিতে এসেছিস বুঝি। ”

__ তৃণা রেগে গিয়ে বলে ” বাবা টা আমাদের ছিলো, সম্পত্তি যদি বলিস তাহলে তোমার কোন অধিকার নেই আমাদের বাবার সম্পত্তি তে। যাই হোক সেই জন্যে আমরা আসিনি। এসেছিলাম আমাদের বাবা মায়ের খোঁজ এ। বাবা তো মারাই গেছে, আমাদের মা কোথায় সেটা বলো? তাকেও কি মেরে ফেলেছো নাকি? ”

__ ” নাহ! আছে আছে, মরেনি, বুড়ির রক্তে অনেক তেজ। কোন এক বৃদ্ধাশ্রম এ আছে হয়তো। ” হাসতে হাসতে বলে মাসুদ।

__ তৃণা রাগ করে মাসুদ কে চড় মেরে দেয়। ” আজ তুমি আমার মায়ের পেটের সৎ ভাই বলে ক্ষমা করে দিলাম। যেই মা জন্মের পর স্বামীর অত্যাচারেও তোমাকে ফেলে পালিয়ে যায়নি। সেই মাকে অবহেলা করে জাহান্নামে ও যায়গা পাবেনা। ”

__ নিরা বলে ” জীবনে অনেক কিছু হারিয়েছি, এখন যদি মা কে সুস্থ না পাই তোমাকে জেলে পাঠাবো মনে রাখিও। ”

__ মনিকা নিরাকে ডেকে বলে ” ফুপি, আমি জানি দাদী কোথায় আছে, মাঝে মাঝে দেখতে যেতাম যখন দেশে থাকতাম। ”

__ “ক্ষমা করে দে বোন, তোদের ভাবি চায়নি মা থাকুক, তাই না চাইতেও সরিয়ে দিয়েছিলাম। যাদের জন্য আমাদের এতো উন্নতি তাদের কেই আমরা সরিয়ে দিয়েছি। ” বলে কাঁদতে শুরু করে মাসুদ

নিরা, তৃণা ওই বাসাতে এক মুহুর্ত না থেকে মনিকার সাথে সেই বৃদ্ধাশ্রমে যায়। অনেক খোঁজ নিয়ে মায়ের খবর পায় নিরা আর তৃণা। অনেক দিন পর মা কে দেখে দুই বোনের ই খুব কষ্ট হচ্ছে। মায়ের বয়স অনেক হয়েছে চোখেও ভালো দেখেনা। বিনা চিকিৎসা তে অবহেলায় কংকাল সার শরীর হয়ে আছে। দুই বোন হেনাকে জড়িয়ে ধরে অনেক কাঁদে আর ক্ষমা চায়। এরপর বৃদ্ধাশ্রম থেকে মা কে মুক্ত করিয়ে আবিরের বাসায় নিয়ে আসে। ফিরে এসেই মায়ের সব চিকিৎসা ব্যবস্থা করে নিরা, কয়েকজন নার্স রাখে বাসায়।

,
,
বড় অনুষ্ঠান করে নেহা আর মুরাদের বিয়ে দেয় আবির আর নিরা। নেহা কে বিদায় জানিয়ে আবির কে জড়িয়ে ধরে নিরা। তৃণা সাইফ মেয়ে আর মেয়ে জামাইকে নিয়ে নিজেদের বাড়িতে যায়।

,
,
নেহাকে নিয়ে যাওয়া হয় ওর শ্বশুরবাড়ি। বড় একটা ঘরের মাঝখানে খাট রাখা আছে। ফুল দিয়ে সাজানো খাট সাথে পুরো ঘরেই আছে গোলাপ আর রজনী গন্ধা ফুল। ঘর টা তাকিয়ে দেখছে নেহা, যতটা সুন্দর তার চেয়েও আকর্ষণীয় চারিদিকে ফুলের টবের জন্য। ঘরের মাঝে খাট একপাশে ড্রেসিং টেবিল, পাশে আলমিরা, অন্যপাশে সোফা, সোফার পাশে টি টেবিল, আর এক পাশে একুরিয়াম। সুন্দর সুন্দর মাছ ঘুরে বেড়াচ্ছে একুরিয়াম এ। ঘরের উপরে রেখেছে ঝাড়বাতি, এতে গোটা ঘরে আলো ছড়িয়ে পড়ছে। মুরাদ রুমে প্রবেশ করে নেহার দিকে এগিয়ে যায়। নেহা চোখ নামিয়ে নিলেও মুরাদ তাকিয়ে থাকে। বৌ সেজে নেহাকে খুব সুন্দর লাগছিলো।

__” প্রথম যেদিন তোমাকে দেখি তখনই আমি ঠিক করে নিই তোমাকে বিয়ে করবো। পরে সব খোঁজ নিতেই জেনে গেলাম তোমার আব্বু আমার আমার আম্মু ফ্রেন্ডস। কাজ টা খুব সহজ হয়ে যায়, তাই আজ তোমাকে পেয়ে গেলাম। ” মুরাদ নেহাকে বলে।

__ নেহা কোন কথা বলেনা। মুরাদ নেহার গালে স্পর্শ দেয় এতে নেহার লাজুকতা আরোও বেড়ে যায়। নেহা কিছু বলার আগেই নেহাকে কোলে তুলে নেয়। বারান্দায় নিয়ে গিয়ে সোফাতে বসিয়ে দেয়। চাঁদের আলো নেহার মুখে পড়তে সৌন্দর্য আরোও বেড়ে যায়। মুরাদ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নেহার দিকে।

__ ” সরি, সেদিন ওমন করে চড় দেয়া ঠিক হয়নি। মাফ করে দিয়েন। ” নেহা আস্তে আস্তে বলে।

__ “মাফ করতে পারি এক শর্তে, যদি তুমি তোমার ঠোঁটের ছোঁয়ায় আমার জীবন রাঙিয়ে দাও। ”

__ নেহা লজ্জা পেয়ে নিচের দিকে তাকায়। কি বলবে বুঝতে পারছেনা আসলে। সব বোঝা বুঝি অতিক্রম করে মুরাদ নেহার ঘাড়ে কিস দেয়। নেহা শিহরিত হয়ে উঠে দাঁড়াতে গেলে মুরাদ হাত ধরে টান দেয়, এতে নেহা মুরাদের উপরে গিয়ে পড়ে। মুরাদ নেহার মাথার পিছনে হাত দিয়ে টেনে ধরে নিজের কাছে। বাকিটা বাকিই থাক, ওদের রোমান্স দেখে আমরা কি করবো।
?

,
,
আজ তিথি লাল শাড়ি পড়েছে

__ ” কি ব্যাপার তিথি পরি কাছে কি আসবে না। সেদিন থেকেই শুধু না না করছো? ” নুহাশ তিথিকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলে।

__ ” আসবোই তো” বলে তিথি নুহাশের ঠোঁট এ কামড় দিয়ে পালিয়ে আসে।

__ নুহাশ তিথির আঁচল ধরে টান দেয়। তিথির পিঠে আলতো ছোঁয়া দিয়ে তিথিকে পাগল করে দেয়। তিথি ঘুরে এসে নুহাশের বুকে জড়িয়ে ধরে। নুহাশ তিথির ঘাড়ের কাছে ফিতে টা টান দেয়। শিহরণ এ আরোও বেশি করে নুহাশ কে জড়িয়ে ধরে।

সমাপ্ত

প্রতিশোধ__2 পার্ট_21

প্রতিশোধ__2
পার্ট_21
জামিয়া_পারভীন

__” ওহহহহহহহহ! তাইনা, সে পছন্দ করে তুমি কিভাবে বুঝলে। ” একটু শয়তানি করে বলে নুহাশ। আর গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে তিথির দিকে।

__ “করতেই পারে! বুঝাই যাচ্ছে, কিন্তু আপনি এদিকে আসছেন কেনো? ” ভয়ার্ত কণ্ঠে বলে তিথি।

__ ” ভয় কেনো পাচ্ছো তুমি! আমি ই তো , কিন্তু তোমার ওই বাঁকা দুটি ঠোঁট শুধু আমায় কাছে টানে। ” দুষ্টুমি করতে করতে কাছে আসে নুহাশ। তিথি কে কাছে টেনে নিয়ে প্রায়ই ১০ মিনিট লিপ কিস করে নুহাশ। প্রথমে তিথি ছাড়িয়ে নিতে চাইলেও পরে আর কিছুই বলে না।

মনিকা এসে হাত তালি দেয়াতে দুইজন একে অপরের থেকে সরে আসে।

__ ” কনগ্রেচুলেশন স্যার! বিয়ের দাওয়াত নিশ্চিত পাচ্ছি। “নুহাশের দিকে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলে মনিকা।

__ ” মা মা মা নে কি? একসাথে থাকলে ই বিয়ের কথা আসছে কেনো। কেবল তো চেনাজানা হলো। প্রেম করতে হবেনা। তাছাড়া বিয়ে করেই কি লাভ, যদি আগেই মিষ্টি পাওয়া যায়। ” বলেই তিথির দিকে শয়তানি হাসি দেয় নুহাশ। আর তিথিও বাড়িময় নুহাশ কে মারার জন্য তেড়ে নিয়ে বেড়াতে শুরু করে।
,
,
পরদিন তিথি নুহাশের অফিসে জয়েন করে। সারাদিন কাজ শেষ এ একসাথেই মনিকার ফ্লাটে ফিরে আসে। এসে দু’জনে ই অবাক হয়ে যায়। তিথির বাবা, মা, ফুপি আর অভি এসে বসে আছে। ওদেরকে দেখে তিথি নুহাশকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে ভয়ে। আর নুহাশ অবাক হয় তিথির মা কে নিজের মা নিরা ভেবে। নুহাশ ভাবে নিরা অন্যের সাথে কি করছে?
তিথি কিছু বলার আগেই নুহাশ বলে
__ ” আম্মি! তুমি এখানে? ” খুব বিস্ময় নুহাশের কথাতে। বলে তৃণাকে জড়িয়ে ধরে নুহাশ।

__ বাবা! তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে? আমার তো কোন ছেলে নাই। তিথি আমার একমাত্র মেয়ে। তিথি কি তোমার ওয়াইফ নাকি। বিয়ের কথাতো আগে বলেনি তিথি। ” এক নাগাড়ে কথা গুলো বলে তৃণা।

নুহাশকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই
__ “হ্যাঁ আম্মু, বলাই হয়নি, আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে। গতকাল ই বিয়ে করেছি। ” নুহাশ কে চিমটি দিয়ে বলে প্লিজ না বলবেন না।

__তিথির কথাতে অভি চিৎকার করে বলে “এ বিয়ে আমি মানি না, পারলে ডিভোর্স করিয়ে বিয়ে করবো আমি “।

__মনিকাও সুযোগ বুঝে বলে ফেলে
” ওরা তো হাজবেন্ড ওয়াইফ নয়। জাস্ট বস আর অফিস সহকারী। ”

__ এবার তৃণা জোর গলায় বলে ” আমি নুহাশ কে বিয়ে করেছি ” আমরা একে অপরকে ভালোবাসি। আমাদের অনেক দিনের প্রেম বলেই বাসা থেকে পালিয়ে এসেছি। ” আর নুহাশের কানেকানে বলে ” প্লিজ বাঁচান আমাকে? ”

__ নুহাশ একের পর এক সারপ্রাইজ এ দিশেহারা। আর নতুন কিছু না ভেবেই তিথিকে টানতে টানতে নিজের ফ্লাটে নিয়ে তোলে। তিথির মা বাবা ও তিথির সাথে নুহাশের ফ্লাটে যায়। অভি আর অনন্যা থেকে যায় মনিকার ফ্লাটে।

__ ফ্লাটে এসে নুহাশ তিথিকে বলে ” হচ্ছে টা কি? আমার মাথা তো হ্যাং হয়ে যাচ্ছে। ” এরপর তৃণাকে বলে ” আপনি আমার মায়ের মতো দেখতে কিভাবে? দুইটা মানুষ এর এতো মিল হয় কিভাবে? বলুন প্লিজ! ”

__ তৃণা নুহাশ কে জিজ্ঞেস করে “তোমার নাম কি আগে নিশান ছিলো? ”

__ নুহাশ অবাক হয়ে জবাব দেয় ” হ্যাঁ ”

__ তৃণা নুহাশ কে এবার জড়িয়ে ধরে বলে ” তোমার মায়ের নাম কি নিরা? আর বাবা কি আবির?

__” আপনি কিভাবে জানলেন এসব ” বিস্ময় নুহাশের চোখে।

__ ” বাবা নিরা আমার জমজ বোন! আমার ভুলে আমি আমার বোন কে হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমি জানি তোমাকে তোমার মা আমাদের ব্যাপারে কিছুই বলেনি। না জানা চাপা অভিমান এ আমাদের পর করে দিয়েছে। আমাদের ই দোষ ছিলো অবশ্য। সেটা ভুল বুঝাবুঝি ই বেশি ছিলো। বোন তোমাকে আর দুলাভাই কে নিয়ে কোথায় হারিয়ে যায় জানতাম না। ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ টাও পাইনি ” কান্নায় ভেঙে পড়ে তৃণা।

__ ” আন্টি আপনি কাঁদবেন না প্লিজ। আম্মির আসার কথা আছে এখানে। আপনারা এখন খাওয়া দাওয়াকরে রেস্ট নিন। অনেক দূর থেকে এসেছেন। কাল সকালে কথা হবে। ”

__ নুহাশ সবার জন্য ডিনারের অর্ডার দেয়। সবাই মিলে একসাথে খাওয়া দাওয়া করে গল্প করে তিথির মা বাবা কে একটা ঘর দেখিয়ে দিয়ে নুহাশ নিজের ঘরে আসে।

__তিথিও পিছনে পিছনে আসে নুহাশের ঘরে। ” আমি এখন কোথায় থাকবো? ” অভিমানের সুরে বলে তিথি।

__ “কোথায় আবার থাকবে? আমার বউ আমার বেডে ই থাকবে ” মুচকি হেসে বলে নুহাশ।

__ “আমার বয়েই গেছে আপনার বউ হতে । এখন যে কোথায় যাবো? ধুর কিছুই ভালো লাগে না। ” তিথি রাগ করে বলে কথাগুলো

__ ” আরে বাবা! সবাইকে চিল্লিয়ে বললে আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে। আর এখন কেনো পালাচ্ছো? ” নুহাশের কথায় তিথি বলে ” অভির হাত থেকে বাঁচতে। আমি ওকে ঘৃণা করি কিন্তু ও আমার জীবন টা নষ্ট করে দিচ্ছে তাই পালিয়ে এসেছিলাম অস্ট্রেলিয়া থেকে লন্ডন। ”

__ ” তোমার তো দেখছি শত্রুর অভাব নেই। আচ্ছা যাই হোক তোমার ড্রেস মে বি মনিকার ফ্লাটে আছে। সেখানে যাবার আর দরকার নাই আজকের মতো আমার ড্রেস পড়েই থাকো।” ( তিথির হাতে একটা নাইট ড্রেস ধরিয়ে দেয় নুহাশ। )

__ তিথি চেঞ্জ করার জন্য ওয়াশরুমে গেলে নুহাশ বলে ” আমার সামনেই চেঞ্জ করলেও বা কি! সবিই তো দেখেছি। ” বলেই হাসি দেয় নুহাশ।

__ তিথিও রাগ করে তেড়ে আসে নুহাশের দিকে। নুহাশ পিছনের দিকে ঘুরতে গিয়ে পায়ে বাধা পেয়ে পড়ে যায় পাশে থাকা আলমিরা তে লেগে কপালে কিছুটা কেটে যায়। তিথি এবার ভয় পেয়ে যায়, এমন তো চায়নি সে তাহলে এখন কি করবে। তাড়াতাড়ি করে নুহাশের কপাল হাত দিয়ে চেপে ধরে। নুহাশের ঘরে থাকা কটন এ এন্টিসেপ্টিক লাগিয়ে নুহাশের কপালে বেধে দেয় তিথি। নুহাশ ব্যথায় উঁহু উঁহু করছে। তিথি নুহাশ কে কথা বলতে নিষেধ করে। বিছানায় শুইয়ে দেয় আর একটা পেইনকিলার খাইয়ে দেয় নুহাশ কে। তিথি ওয়াশরুমে গিয়ে চেঞ্জ করে এসে নুহাশের ঘরে থাকা সোফা তে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।

সকাল সকাল নুহাশের মা, বাবা আর বোন চলে আসে নুহাশের ফ্লাটে। নুহাশ ঘুমিয়ে আছে আর তিথিও ঘুমে তাই দরজা খুলে দেয় তৃণা। অনেকদিন পর বোন কে দেখে নিরা কে জড়িয়ে ধরে তৃণা।

__ ” প্লিজ ক্ষমা করে দে বোন ” আর কিছু বলতে পারেনা। তৃণা কেঁদেই চলেছে।

অনেকদিন পর বোন আর বোনের ফ্যামিলি এক সাথে হয়েছে। সাইফ ও আবিরের কাছে গিয়ে ক্ষমা চায়। আবির, নিরা সবাইকে ছেলে আর মেয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। তৃণাও তিথির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। সবাই মিলে সব মান অভিমান ভুলে ব্রেকফাস্ট করে গল্পের আসরে বসে। তিথি নেহা আর নুহাশ এক ঘরে আর গল্পে মেতে উঠেছে। নেহা আর তিথি প্রায়ই সমবয়সী। নেহা দুই তিন মাসের ছোট তিথির চেয়ে। তাও বুঝে ফেলেছে তিথি আর নুহাশের মাঝে কিছু চলছে দেখে কারণ তিথি নুহাশের একটা শার্ট আর জিন্স কোন রকমে পড়ে আছে। নেহাকে তিথি সব খুলে বলে তখন নেহা নিজের একটা ড্রেস তিথি কে পড়তে দেয়।
,
,
এদিকে অভি আর অনন্যা মনিকার ফ্লাট থেকে সব কিছু দেখতে পায়। আবির আর নিরা এসেছে । আর অভির এবার নজর পড়েছে আবিরের মেয়ে নেহার উপর।

__অভি ওর মা কে বলে ” দেখছো মম! কতো সুন্দরী ওই মেয়েটা। তিথি ওর তুলনায় কিছুই না। ”

__ অনন্যা বলে, হুম দেখেছি! ওকেই তোর সাথে বিয়ে দিয়ে আমার না পাওয়া অধিকার ফিরে পেতে চাই। ”

__ অভি খুশি হয়ে বলে ” কি অধিকার মম? ”

__অনন্যা রেগে বলে ” সময় হলেই বুঝতে পারবে। ”
,
,
নেহার ড্রেস সালোয়ার কামিজ তিথি এই প্রথম পড়ে। তিথি সব সময় মডার্ণ হয়ে বড় হয়েছে কিন্তু কখনো সালোয়ার কামিজ পড়েনি তাই একটু আনইজি ফিল করছে তিথি।

__ নুহাশ এসে তিথিকে এই অবস্থায় দেখে বলে ” ওয়াও! জাস্ট অসাধারণ লাগছে। তোমার মতো সুন্দরী কে তো চোখ বন্ধ করে বিয়ে করা যায়। আগে এতো সুন্দর না লাগলেও এখন তো চোখ ফিরানো দায়। ”

__ তিথি লজ্জা পেয়ে যায় ” কি যে বলেন আপনি? ”

__ তিথির লজ্জা পাবার ভঙ্গী টা নুহাশের কাছে মারাত্মক লাগে। তিথিকে কাছে টেনে নেয় নুহাশ। দুজনের নিঃশ্বাস একে অপরের উপর পড়ছে। দু’জনে চুপচাপ, একে অপরের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। এই সময় নেহা এসে সবাইকে ডেকে বলে দু’জনের বিয়ে দিয়ে দিতে। দু’জনে লজ্জা পেয়ে সরে আসে।

সবার ই তিথি আর নুহাশ কে ভালো লেগেছে আবার অভির অত্যাচার থেকে বাঁচতে নুহাশ কে তৃণা বলে ” দেখো বাবা! অনন্যা এর জন্য আমরা দুই বোন আলাদা হয়ে গেছিলাম। আজ আবার মিলিতো হয়েছি। এবার অনন্যার ছেলের হাত থেকে তুমি বাঁচাও আমার মেয়েটাকে। তিথিকে বিয়ে করো, নইলে অভি ওর ক্ষতি করে দিবে। ” কথা গুলো বলে তৃণার চোখে পানি চলে আসে।

নুহাশ বলে
__ ” দেখুন আন্টি! আমি জানিনা তিথিকে ভালোবাসি কিনা, যেদিন প্রথম দেখেছিলাম তখনই বুঝে গিয়েছি তিথিকে ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ। আপনারা রাজি থাকলে অবশ্যই বিয়ে করবো তিথিকে খুব শীঘ্রই। ”

সবার সম্মতি তে নুহাশ আর তিথির বিয়ের আয়োজন করে দুই ফ্যামিলি মিলে। খুব ছোট করে অনুষ্ঠান করে লুকিয়ে বিয়ে করে নেয় নুহাশ আর তিথি। আর এর পরই নেমে আসে দুর্যোগ।

চলবে…..

প্রতিশোধ__2 পার্ট__20

প্রতিশোধ__2
পার্ট__20
জামিয়া_পারভীন

___ নিরা বেশ চিন্তিত নুহাশের ব্যপারে, ঠিক তখনি মনে পড়লো নুহাশ চায় সবাই মিলে ছেলের কাছে লন্ডনে থাকুক আর আবির যেতে চাচ্ছেনা। এই জন্যই নুহাশ হয়তো বাবা মায়ের সাথে কথা বলছে না। এ ব্যাপারে কথা বলা লাগবে তখনি নেহা আর আবির ঘরে আসে।

__ কি নিয়ে এতো চিন্তিত, আম্মি। ( নেহা)

__ নুহাশ চাচ্ছে আমরা ওর কাছে গিয়ে থাকি। তোর বাবা চাচ্ছে এখানেই থাকতে, কি যে করি। সেই জন্যেই হয়তো ছেলে আর খোঁজ নিচ্ছে না। ( নিরা)

নেহা এই সুযোগ এ আবির কে বলে
__ চলো না আব্বু, জানোই তো আমার ওই একটাই ভাই। আমরা ওখানেই চলে যায়। ( নেহা)

__ আচ্ছা ঠিক আছে, কিন্তু নুহাশ কে না জানিয়েই যাবো, সারপ্রাইজ দিতে হবে তো । ( মুচকি হেসে আবির বলে)

এই কথা শুনে নেহা নিরা দুজনে ই প্রচুর খুশি হয়।
__ আমার লক্ষ্মী আব্বু, সোনা আব্বু, আমি যে কতো খুশি হয়েছি বলার মতো না। ( নেহা)

__ তোরা দুটো ই তো আমার সব, তোদের মুখের দিকে তাকিয়ে করতে পারি সব। ( আনন্দের অশ্রু আবিরের চোখে)

__ নিরা আবিরের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে আবিরের কাঁধে মাথা রাখে। আবির নেহা কে একপাশে আর নিরাকে একপাশে রেখে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।

,
,
,
তিথি মনিকার সাথে ফ্লাটে আসে, মনিকা রুম খুলছে আর তিথি পিছনে ঘুরেই দেখে নুহাশ। নুহাশ তিথি কে চোখ টিপ দেয়।

__ আ আ আ আ আপনি এএএখানে কেএএনো? ( তিথি)

__ এতো তোতলাচ্ছো কেনো? ( নুহাশ)

__ মা মা মা নে ভুউউ ত দেখলাম তাই। ( তিথি)

__ কোথায় ভুত, স্বয়ং আমি সামনে দাঁড়িয়ে আছি। ( নুহাশ)

দু’জন এর কীর্তি দেখে মনিকা চুপচাপ দাঁড়িয়ে গেছে।

__ কি ব্যপার মনিকা, ভিতরে কি ঢুকা নিষেধ নাকি? ( নুহাশ)

__ না না, মানে হ্যাঁ, আসুন স্যার। ( মনিকা)

___নুহাশ ভিতরে ঢুকার সময় তিথি কে আরেকবার চোখ টিপ দিয়ে গেলো। আসলে নুহাশ আর মনিকা একই ফ্লোরের পাশাপাশি দুইটা ফ্লাটে থাকে । যেহুতু নুহাশ এর আজ অফ ডে তাই মনিকা আর তিথির সাথে আড্ডা দিতে চলে এসেছে। তিথিকে মনিকা একটা রুম দেখিয়ে দেয়। তিথি রুম লাগানো ওয়াশরুমে গিয়ে আগে ফ্রেশ হয় এরপর একটা টাওয়েল পড়ে ই বের হয়ে আসে। এরপর কোন দিকে খেয়াল না করেই ফোন হাতে নিয়ে মা কে ফোন দিয়ে জানিয়ে দেয় সে সেফ আছে। মায়ের সাথে টুকিটাকি কথা শেষ হতেই খেয়াল করে সোফায় নুহাশ বসে আছে।

____এক পলকে তিথির দিকেই তাকিয়ে আছে। তিথি যে এমন পোশাক এ বের হয়ে আসবে তা নুহাশ কল্পনা করেনি। তিথিকে এতো আকর্ষণীয় লাগছে সেটা বলার মতো না। ভেজা চুল গুলো উপরে খোঁপা করে বাধা, গায়ে শুধু সাদা একটা টাওয়েল। এতে তিথিকে স্বর্গীয় পরির মতো লাগছিলো।

____আবার নুহাশ ও যে তিথির ঘরে আসবে সেটা তিথি ভাবেনি। নুহাশ কে দেখে তিথি জোরে করে চিৎকার দিতে যাবে তখনই নুহাশ তিথির মুখ চেপে ধরতে গিয়ে বেকায়দায় তিথির উপরে নুহাশ পড়ে যায়।

_____বিছানায় পড়ে যাওয়া টা কিছু মনে না করলেও এরপর যা হয়েছে তিথির জন্য মোটেও সেটা ভালো নয়। যখন নুহাশ তিথির মুখ চাপতে যায় তখন নুহাশের পায়ে বেধে তিথির টাওয়েল টা খুলে যায়। নুহাশ তিথিকে এইভাবে দেখে কিছুটা উন্মাদ হয়ে ওঠে। তিথির ঠোঁট এ কিস করে অনেক্ষণ, তিথির ধাক্কায় হুশ আসে নুহাশের। তিথি তাড়াতাড়ি করে উঠে টাওয়েল টা ঠিক করে কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে গিয়ে চেঞ্জ করে আসে।
বাইরে আসে মুখ নিচু করে, লজ্জা লাগছে খুব, কারণ এমন ফিলিংস কখনো হয়নি এর আগে।

নুহাশ তিথিকে গিয়ে বলে

__ আসলে এমন হবে, বুঝতে পারিনি। ভেবেছিলাম তুমি রুমে আছো তাই আসলাম দুষ্টুমি করতে কিন্তু তুমি নেই দেখে ওয়েট করছিলাম। তুমি এই পোশাকে বের হবে বুঝতেই পারিনি। এরপর যা হয়েছে সব অনিচ্ছাকৃত, প্লিজ মাফ করে দাও। তিথির সামনে হাটু গেড়ে বসে মাথা নিচু করে কথা গুলো বলে নুহাশ।

__ তিথির চোখে পানি চলে আসে, অতীত এর স্মৃতি ভেবে, অভি এতো বিরক্ত করেছে একসময়, কিন্তু কখনো ক্ষমা চায়নি অভি। নুহাশের প্রতি কি তাহলে দুর্বলতা তৈরি হয়েছে তার মনে, এটা কি প্রেম, এমন অস্থির লাগছে কেনো, তিথি কিছুই বুঝছে না। তিথির সম্বিত ফিরে পায়! নুহাশ ওর চোখের পানি মুছে দিচ্ছে। তিথি আর কিছুই না ভেবে নুহাশের বুকে মাথা লুকিয়ে কাঁদতে থাকে।

,
,
,
তৃণার কাছে ফোন আশায় সাইফ একটু সন্দেহ করে তৃণাকে। তাই রুমের দরজা লাগিয়ে তৃণাকে জিজ্ঞাসা করা শুরু করে।

__ দেখো তৃণা, হাজার হোক ওই একটাই তো মেয়ে আমার। ওর সমন্ধে যদি কিছু জেনে থাকো লুকিও না আমাকে। [ সাইফ]

__ তুমি এমন করে ভাবছো কেনো? তিথি কোথায় আছে জানলে কি বলবো না বলো? ( তৃণা)

__ তোমার চোখ বলছে তুমি জানো। ওই চোখের ভাষা আমি পড়তে পারি। ভয় পেয়োনা আমায় সব কিছু শেয়ার করতে পারো। ( সাইফ)

__ অনন্যা আপা হাজার হোক তোমার বোন জানি। কিন্তু আপা আমাদের সাথে কি করেছে তা হয়তো ভুলে যাওনি। ( তৃণা)

__ কি করে ভুলি বলো, সে এতো চালাকি করবে আমার সাথে আমি কি বুঝেছিলাম। অষ্ট্রেলিয়া আসার পর এক অষ্ট্রেলিয়ান মেয়েকে বিয়ে করার চাপ দেয়। তোমার উপর তখন রাগ করে বিয়েতে মত দিই। কিন্তু সেটা অনন্যার চালাকি তা কি বুঝতে পেরেছিলাম। বিয়েএ রেজিস্ট্রেশন পেপার এর নামে আমার নামের সব সম্পত্তি নিজের নামে করে নেয়। এইসব যখন জানতে পারলাম তখন আমার পাশে শুধু তুমিই ছিলে। এরপর আমার এতো দূর আশা আমার যোগ্যতার জন্য। চেম্বার থেকে যা আসে সেটা দিয়েই তোমার আমার সংসার চলেই যাচ্ছে। যে বোনের জন্য তোমার সাথে জঘন্য কাজ করেছিলাম সেই বোনের বেইমানী আমি সত্যিই মেনে নিতে পারিনি। এরপর তোমার বেবি হবার সময় তোমাকে আঘাত করে যার জন্য তোমার জীবন মরণ সংকট হয়েছিলো । ডক্টর তো বলেই দিয়েছিলেন তুমি বাঁঁচবে না। সেইসব দিন গুলি এতো করুণ ভাবে পার করেছি এখনো মনে পড়লে গায়ে কাঁটা আসে। ( সাইফ)

__ তখন দেখেছিলাম তুমি আমায় কতো টা ভালোবাসো। আমাকে OT তে ঢুকানোর সময় তুমি খুব কেঁদেছিলে। এরপর তোমার দোয়া আর আল্লাহর রহমত এ আমি, আমার মেয়ে দুজনেই সুস্থ হই কিন্তু পরবর্তী মা হবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি। তুমি তাও সব সময় আমাকে সাপোর্ট দিয়েছো। সব সময় হেল্প করেছো। আমাদের একমাত্র আশার আলো তিথি কে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছি দুইজনে। কিন্তু এতো কিছু করার পর ও তুমি তোমার বোন আর বোনের ছেলেকে রেখে দিলে। আর সেই অভি আমার স্বপ্ন আমার মেয়ে তিথিকে উত্তক্ত করেছে। মা হয়ে মেয়ের কষ্ট কিভাবে সহ্য করি বলো? মেয়েটা অভি কে চায় না, অভির খারাপ নেশা আছে। প্রতিশোধ এর আগুনে জ্বলতে জ্বলতে আমাদের দুই বোনের জীবন টা ছারখার হয়ে গেছে। বাবা, মা, বোন কোথায় আছে কিছুই জানিনা, বেঁচে কি মরে গেছে কিছু ই জানিনা। আমি চাইনি আমার মেয়ের জীবন এমন নরক করতে। তাই সে লন্ডন যাবার সব ব্যবস্থা করেছিলো। আমি ওকে পাঠিয়ে দিয়েছি। খুব ভালো আছে তিথি, ফোন দিয়ে জানালো মাত্র। ( তৃণা)

সাইফ আর তৃণা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে এমন সময় অনন্যা আর অভি এসে হাজির।

__ আরে মামু, তিথি কোথায় গেছে সব জেনে গেছি। এখুনি এয়ারপোর্ট থেকে খবর পেয়েছি, আর এখন দেখছি তোমাদের ই চাল এইসব। ( অভি)

__ মেয়েকে পাঠিয়ে দিয়েছিস ভালো কথা, আমরা কি তুলে আনতে পারিনা নাকি। ( অভিকে অনন্যা বলে)

__ কেনো নয়, টিকিট তো কেটেই এসেছি এখন শুধু ফ্লাইট এর অপেক্ষায়। ( অভি)

বলেই পিশাচ হাসি দিয়ে বের হয়ে গেলো অভি আর অনন্যা।

__ এখন কি হবে সাইফ? ( তৃণা)

__ আমরাও যাচ্ছি, এক্ষুনি টিকিট কনফার্ম করছি ওয়েট। ( সাইফ)

,
,
,
নেহা আর বৌভাত এ এটেন্ড করেনি মুরাদ নামক ওই ছেলেটা র ভয়ে। নেহা লন্ডনে যাবার খুশিতে মাতোয়ারা হয়ে আছে। মুরাদ সব খোঁজ খবর নিয়ে নেয়। নেহা কোথায় যাচ্ছে, কি করছে সব কিছুই। খোঁজ নিয়ে মুরাদ নিজের জন্যও টিকিট নিয়ে নেয় আর ওর মা বাবাকেও আসতে বলে।
,
,
,

মনিকা দরজায় টোকা দিতেই নুহাশ আর তিথি একে অপরের থেকে সরে আসে। কতোক্ষন যে এভাবে জড়িয়ে ধরে ছিলো দুজনের ই অজানা। তিথি দরজা খুলে দিতেই মনিকা বলে

__ একদিনেই এতো ভাব দুজনের, আমাকে তো ভুলেই গেলেন সবাই ( ভিতরে ভিতরে জ্বলছে)

__ আসলে গল্প করছিলাম তাই। নতুন মানুষের সাথে কথা তো হতেই পারে তাইনা ? ( তিথিকে চুপ থাকতে দেখে নুহাশ বলে)

__ ওহহহহ! তাহলে সরি, ডিস্টার্ব করে ফেললাম, মাফ করবেন। ( আর কথা বলার সুযোগ না দিয়েই বের হয়ে আসে মনিকা)

__ আরেএএএ, মনি, যাহ চলেই গেলো, আরে এতে রাগ করার কি আছে বুঝলাম না তো? ( নুহাশ)

__ ও হয়তো আপনাকে চয়েস করে কিন্তু আপনি অন্যের সাথে, তাই জেলাস ফিল করছে। ( তিথি)

চলবে………

প্রতিশোধ__2 পার্ট__19

প্রতিশোধ__2
পার্ট__19
#জামিয়া_পারভীন

__ সকালে নুহাশের আগে ঘুম ভাঙ্গে, জেগেই দেখে একটা মেয়েকে কোলবালিশের মতো জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে।

__ আ আ আ আ আ আ ( নুহাশ)

__ তিথির ঘুম ভেঙ্গে তিথিও নুহাশ কে পাশে দেখে চিৎকার দেয়।

__ আরে থামুন, আপনি আমার কামড়ায় আসলেন কিভাবে। ( নুহাশ)

__ আপনার রুম কেনো হতে যাবে এটা আমার রুম। ( তিথি)

__ আরে এটা আমার রুম, আপনি আসলেন কিভাবে? ( নুহাশ)

__ আপনি ভালো করে দেখে আসুন এটা আমার রুম, রুম নাম্বার ৭৫৬, নইলে আমি এখানে আসলাম কিভাবে? ( তিথি)

__ আরে এটা ৭৫৯ নং রুম আপনার ভুল হচ্ছে।

__ আপনি গিয়ে চেক করে আসুন..

নুহাশ তাড়াতাড়ি করে বিছানা থেকে উঠে তিথির হাত ধরে দরজা দেখাতে গেলো। দরজায় রুম নং ৭৫৬ দেখে নুহাশের মাথা গরম হয়ে গেলো। আরোও মেজাজ খারাপ হলো সামনের রুম নাম্বার ও ৭৫৬ দেখে।

__ তিথি ও দুইটা রুমের একই নাম্বার দেখে রেগে যায়। দুইজন ই হোটেল বয় কে চিল্লিয়ে ডাকতে থাকে। হোটেল বয় বলে নাম্বার প্লেট এর স্ক্রু ঢিলা ছিলো তাই ৯ টা ৬ হয়ে গেছে। দুইজনেই চোখ কটমট করে একে অপরের দিকে তাকাচ্ছে। রাত্রে কিভাবে একই রুমে এসেছে কারোর ই মনে নাই।

__ আসলে সরি, ( তিথি)

__ হুম সরি, আসলে কিভাবে যে কি হয়েছে কিছু মনে নাই। আ আ আ আপনি বাঙ্গালী নাকি? ( নুহাশ)

__ ও হ্যাঁ তাইতো , বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে দেশের মানুষ। বেশ ইন্টারেস্টিং তো। ( তিথি)

__ আমরা তো ভিতরে গিয়ে কথা বলতে পারি। ( নুহাশ)

__ আমাদের আগে উচিৎ ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট আগে করা। ( তিথি)

__ দাঁড়ান দাঁড়ান, আপনাকে যেন চিনা চিনা লাগছে, কোথায় যেন দেখেছি? ( নুহাশ)

__ মজা করছেন? আপনাকে তো ফার্স্ট টাইম দেখলাম। ( তিথি)

__ মজা করছি না, হুম দেখেছি না, মানে আপনার চোখ, মুখের আকৃতি সেম আমার আম্মুর মতো শুধু চুলগুলো আপনার কোকড়ানো, এই জন্য চিনা যাচ্ছেনা । কিভাবে সম্ভব এটা বলেন তো?

__ এটা তো সম্ভব ই না ( তিথি)

নুহাশ ফোন থেকে মায়ের ছবি দেখায় আগে।

__ এই যে দেখুন আমার আম্মু ( নুহাশ)

__ আশাকরি আপনি মজা করছেন? এটা আপনার আম্মু হতেই পারেনা। ( তিথি)

__ আমার আম্মু কে কি আপনি চিনেন নাকি যে বলছেন এটা আমার আম্মু না। ( নুহাশ)

__ আরে এটা তো

( তিথি ফোন থেকে একটা ছবি বের করে নুহাশ কে দেখাতে যাবে তখনি মনিকা চলে আসে)

__ হাই তিথি,

( নুহাশের দিকে তাকিয়ে) আরে স্যার আপনি এখানে কিভাবে?

__ তুই উনাকে চিনিস নাকি? ( তিথি মনিকা কে বলে)

__ হ্যাঁ উনি তো আমাদের অফিসের বস, যেখানে তোর কাল জয়েন করার কথা। ( মনিকা)

__ তিথি মুখ হা করে নুহাশের দিকে তাকিয়ে আছে।

__ এই আপনার মুখ বন্ধ করুন, মাছি ঢুকবে হা হা হা ( নুহাশ)
ওকে গাইস আগে ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট করতে করতে কথা বলি।

__ হুহহহহহ! ( তিথি নুহাশের দিকে তাকিয়ে মুখে ভেংচি কাটে) এরপর চলে আসে নিজের রুমে মনিকার সাথে।

__ নুহাশ ও মনে মনে হেসে নিজের রুমে চলে আসে। ফ্রেশ হতে গিয়ে শুধু মেয়েটার কথাই ভাবছে, ইসসস এতো কথা বললাম মেয়েটার নাম ই তো জানা হলোনা। হুম মনে পড়েছে কাল যে মেয়ে জয়েন করবে সে তিথি তার মানে এটাই তিথি। এলেমেলো চিন্তা তিথি কে ঘিরে আসতে থাকে নুহাশের মাথায়।

___ তিথি ও নুহাশের কথা চিন্তা করছে, কে সে, একদিনের পরিচয় এ এতো আপন মনে হয় কিভাবে?
,
,
,
__ সকালে নেহা ওর মায়ের কোলে শুয়ে শুয়ে কান্না করছে। কিন্তু কোনই কারণ বলছে না কেনো কাঁদছে।

__ আরে কি হয়েছে বলবি তো , না বললে বুঝবো কেমন করে ( নিরা)

__ কা আ আ ল বিয়ের অনুষ্ঠান এ এ এ ( কান্না করছে নেহা)

__ আরে কি হয়েছে লক্ষ্মী মেয়ে আমার বল তো ? ( নিরা)

__ কাল বরযাত্রী তে আসা একজন আমাকে নিয়ে জোর করে ডান্স করেছে। ( ভ্যা করে কান্না শুরু করে দেয়)

__ আরে বাবু এই জন্যে এতো কান্না করতে হবে না। মোনালিসার বাড়ি আর যেতে হবেনা কেমন সোনা টা। ( নিরা)

__ না আম্মু, মোনালিসা ওর বৌভাতে আমি না গেলে খুব রাগ করবে। ( নেহা)

__ তাহলে যাবি, ওকে আমার সাথে যাস , আর কান্না করে না লক্ষ্মিটি। ( নিরা)

__ নেহা বেশিক্ষণ রাগ করে থাকতে পারেনা তাই মা কে কিছুক্ষণ জড়িয়ে ধরে থাকে।
,
,
নিরা এখন দিল্লীর একটা হসপিটালে আছে। সেখানে নিরা গরীবদের ফ্রি চিকিৎসা দিয়ে থাকে। আবির ও নিরাকে সব সময় হেল্প করে ফ্রি চিকিৎসা দিতে। আবির মেডিকেল কলেজের প্রফেসর হয়েছে এখানে কিন্তু কখনো এক্সট্রা আয় করতে চায় না। খুব সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে গেছে আবির আর নিরা। একমাত্র মেয়ে নেহা কেই নিজের মনের মতো করে গড়ে তুলতে পেরেছে। কিন্তু নুহাশ এর উচ্চাকাঙ্খার জন্য নুহাশ ৮ বছর আগে স্কলারশিপ পেয়ে লন্ডনে যায়। সেখানেই সেটেল হয়ে গেছে। বিয়ে এখনো করেনি, তাই হয়তো রোজ মা বাবা আর বোনের সাথে রাত্রে বেলা একবার হলেও ভিডিওকলে কথা হয় নুহাশের।

কিন্তু গতরাত থেকে নুহাশের খোঁজ পায়নি আবির বা নিরা কেউ ই। অনেক বার ফোন করেছে কিন্তু বারংবার সুইচড অফ বলছে।
,
,
,
___ দুই দিন থেকে একমাত্র মেয়ে তিথি নিখোঁজ এটা এখনও মেনে নিতে পারছেনা সাইফ। চিল্লিয়ে বাড়ি মাতিয়ে রেখেছে।

__ আচ্ছা একটা মেয়ে তো হঠাৎ করেই হাওয়া হয়ে যাবেনা তাইনা। তাহলে গেলো টা কোথায়? ( সাইফ)

__ টেনশনে আমার মাথাটা ধরে আসছে, কোথায় যে গেলো মেয়েটা। ( তৃণা)

__ আর তোমার মাথা ধরে কাজ নেই। একটা মেয়ে জন্ম দিয়েই তো আর মা হবার সুখ পাওনি। ওই একটা মেয়েকেই তো লাই দিয়ে মাথাই তুলেছো? এখন বোঝ কি করেছো? ( অনন্যা)

__ আহহহ! অনন্যা তুই তৃণাকে খবরদার বকাবকি করবি না। আমি খুঁজে দেখছি কোথায় গেলো মেয়েটা । ( সাইফ)

__ কোথায় আর যাবে তোমার মেয়ে মামু, সেতো পালিয়েছে। বিয়েটা করবেনা তাইইইইই, এখন যদি না পাই তিথি কে তাহলে গোটা বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দিবো বলে দিলাম ( অভি, অনন্যার ছেলে)

___ [ একটা সাইকো অভি , যখন যা চায় সব আদায় করে নেয়, সাইফের অমতে তিথি কে বিয়ে করতে চেয়েছিলো কিন্তু তৃণা সুযোগ বুঝে মেয়েকে সরিয়ে দিয়েছে। কারণ তৃণা জানে এই বাজে ছেলেটার ঘরে তিথি কখনো সুখে থাকবে না ]

____ তৃণা সাইফ কে এই কথাটা বলতে ভয় পাচ্ছে কারণ অনন্যা কোন ভাবে যদি জানে তিথি লন্ডন গেছে তাহলে তিথিকে তুলে আনিয়ে অভির সাথে বিয়ে দিবে অনন্যা।

___ নুহাশ ব্রেকফাস্ট করতে এসে তিথি আর মনিকা কে একসাথে পেয়ে তাদের সাথেই বসে পড়ে একদম তিথির কাছ ঘিষে ।

__ হাইইইই, চলে আসলাম, ডোন্ট মাইন্ড। ( নুহাশ)

__ কি যে বলেন স্যার, আপনি আমাদের বস। ( মনিকার মুখের কথা কেড়ে নেয়ে নুহাশ বলে)

__ তুমি খুশি হলেও আরেকজন তো মোটেও খুশি হয়নি। ( নুহাশ)

__ আরে আমি কখন বললাম যে আমি খুশি হইনি??? ( মন চাচ্ছে একটা ঘুষি দিয়ে নাকটা ফাটিয়ে দিতে।) ( তিথি)

__ এইতো মনে মনে বলছো, এই আপদ টা কোথা থেকে আসলো? ( নুহাশ)

__ মোটেও না, মনে মনে আপনার নাকে ঘুষি দিতে ইচ্ছে করছে, দিবো কি? ( তিথি)

__ এইইই নানা, নিজের নাক এক হাত দিয়ে প্রটেক্ট করে। বিশ্বাস নেই তোমার, দিয়েও দিতে পারোওওওও। ( নুহাশ)

একসাথে সবাই হেসে উঠলো ।

_ বাই দ্যা ওয়ে আপনার নাম টা যেনো কি? ( তিথি)

_ সর্বনাশ, আপনি আমার নাম জানেন না?
( হাই, আই অ্যাম নুহাশ এন্ড ইউ? হ্যান্ডসেক করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়ে)

__ আই অ্যাম তিথি, ফ্রম অস্ট্রেলিয়া, নাও ইন লন্ডন, নাইস টু মিট ইউ, থ্যাংক ইউ। ( হ্যান্ডসেক করে নুহাশের সাথে)

নুহাশের মনে দুষ্টু বুদ্ধি আসে

__ জানো মনিকা আজ আমি আর তিথি একসাথে রাত্রি যাপন করেছি। ( নুহাশ)

__ এইই একদম মিথ্যে বলবেন না। রা রা রাত্রি যাপন করেছি মানে টা কি? ( তিথি)

__ এই যে! আমি কি মিথ্যে বলছি নাকি? সকালে আমায় জড়িয়ে ঘুমিয়ে ছিলে আর মাত্র এক ঘন্টা তে ভুলে গেলে? ( দুষ্টু হাসি হেসে)

[ এদিকে মনিকা জ্বলে যাচ্ছে, কিন্তু কিছু বলতে পারছে না। মনে মনে নুহাশ কে পছন্দ করে কিন্তু বস বলে কখনো সেইরকম কিছুই বলেনি। ]

__ মোটেও নয়, এমন কিছুই হয়নি আমাদের মাঝে। ( তিথি)

__ রাত্রে কি হয়েছে দু’জনের ই মনে নাই, হলে হতেও পারে। ( নুহাশ) ( বলেই বাম হাত দিয়ে তিথির হাতে চিমটি কাটে। )

__ উঁউউউউউ, কখনো এমন হয়নি। ( মনে মনে খুব রাগ উঠে)

__ আরেএ হয়েছে তো ( নুহাশ)
( এবার তিথির রাগ উঠে নুহাশে দুই কান মলে দেয়। )

__ এইটা হইছে। ( হিহিহি, বেশ হইছে)

__ নুহাশ সবার সামনে বেশ লজ্জায় পড়ে যায়। এই সিচুয়েশান কাটানোর জন্য তিথির চুল ধরে টান দেয়।
বেশ হইছে এবার ( নুহাশ)

__ মনিকা চল তো এখানে আর ভালো লাগছে না ( তিথি)

__ তুই বাইরে যা আমি আসছি। ( মনেমনে খুব রাগান্বিত হয়ে আছে? )

____ তিথি মনে মনে নুহাশের সাথে একা কিভাবে কথা বলবে সেটা ভাবছে কিন্তু মনিকার জন্য কিছুই পারছে না। নিজের মায়ের ছবি নুহাশের কাছে কিভাবে গেলো? থাক পরে একসময় বলবো ভেবে নুহাশের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসে।

চলবে………

প্রতিশোধ__2 পর্ব_18

প্রতিশোধ__2 পর্ব_18
#লিখাঃ জামিয়া_পারভীন

___ আজ তিথি প্রথম লন্ডনের মাটিতে পা রাখে। লন্ডন একটি চমৎকার শহর। একজন ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভ্রমণের তালিকায় লন্ডন শহরের নাম অবশ্যই থাকবে। টেমস নদীর তীরে অবস্থিত লন্ডন ২০০০ বছর পুরাতন একটি শহর। এটি মাইনোরিটি মেজোরিটি শহর নামে পরিচিত। অর্থাৎ এই শহরের বেশিরভাগ মানুষ মাইনোরিটি অর্থাৎ সংখ্যালঘু অবস্থা থেকে উঠে এসেছে। এখন লন্ডন বিশ্বের নেতৃত্বদানকারী অর্থনৈতিক দেশ। চার চারটি বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান এখানে অবস্থিত। এছাড়াও রয়েছে অনেক আকর্ষণীয় স্থাপনা যার টানে প্রতি বছর হাজারো মানুষ লন্ডন ভ্রমণে আসেন।

__ তিথি এখানে ভ্রমণ করতে আসেনি। তিথির জব হয়েছে লন্ডন এ। তিথি সবসময় মুক্ত বিহঙ্গ এর মতো আকাশে উড়তে চেয়েছে। চেয়েছে ডানা মেলে উড়তে, পৃথিবীর কোথায় একটু সুখের ছোঁয়া পাবে সেটা খুঁজে বেড়িয়েছে। আজ সময় এসেছে তিথির, খুব বড় হতে না পারুক স্বাধীন ভাবে বাঁচাতে তো পারবে ।

____ তিথি একটা লজে উঠে, কারণ প্রথম দিন তো আর কোন ফ্লাট পাবেনা থাকার জন্য। রুম নাম্বার ৭৫৬, ষষ্ঠ ফ্লোরে উঠে ফ্রেশ হয়ে বিকেলে ঘুরতে বের হয়। আশেপাশের সৌন্দর্য উপভোগ করছে, এই হোটেল টা অনেক সুন্দর করে সাজানো। সামনে বড় লেক আর মাঝে ফোয়ারা। মনের মাঝে আফসোস হচ্ছে, নিজের বাড়িতে ফোয়ারা থাকলেও এর সৌন্দর্য্য কখনোই উপভোগ করতে পারেনি। ফোয়ারা থেকে ঝিরিঝিরি পানি তিথির শরীরে পড়ছে আর সে শিহরিত হতে থাকে।

___ এই যাহহ! ফ্লাট তো খুঁজতে যাওয়া হলো না। এটা ভেবে নিজের মাথায় হালকা বাড়ি মেরে খুশি মনে বের হয়ে যায়। ফোন টা বের করে এক ফ্রেন্ড মণিকা কে কল দেয়। ফোন রিসিভ করে অপর পাশ থেকে শুনতে পায়

__ হ্যালো, মিস তিথি, হাও আর ইউ।

__ আই এম ফাইন এন্ড ইউ।

__ আই এম ফাইন অলসো। তা কখন এসেছিস তুই সেটা বল। সরি! আমি তোকে রিসিভ করতে যেতে পারিনি। ক্ষমা করে দিস রে। ( মণিকা) [ মণিকা তিথির ফেসবুকে পরিচয় হওয়া ফ্রেন্ড, ওর হেল্প এর জন্যই এই জব টা পেয়েছে তিথি। তিথির দুইটা কারণ এ মণিকা কে ফ্রেন্ড বানিয়েছে, এক. মণিকা বাংলাদেশী, দুই. সে এখন লন্ডনে থাকে। তিথির বরাবর ই লন্ডনে যাওয়ার শখ ছিলো তাই সে পূরন করেছে। ]

__ আরে তুই টেনশন নিস না, আমি এখন ফ্লাট খুঁজতে বের হয়েছি। মে বি পেয়ে যাবো।

__ তুই এতো সেল্ফিস কেনো বলতো?

__ কেনো কি করলাম?

__ তুই লন্ডনে এসে ফ্লাটে থাকবি? আরে শোন আমি একা থাকি, তুই আমার সাথেই থাকবি বুঝলি। আজকের দিন তুই লজেই থাক, কাল গিয়ে তোকে নিয়ে আদবো।

__ কিন্তু…

__ কোন কথা হবে না! তোকে যা বলছি তুই তাই শুনবি।

__ ওকে! থ্যাংকস দোস্ত।

__ আর একবার শুধু বন্ধুত্ব তে থ্যাংকস বলেছিস তো নাক টা ভোতা করে দিবো।

__ ওরেওরে! হয়েছে, এবার তো থাম। আমি তোর সাথেই থাকবো। খুশি এবার তুই।

__ খুশি না হয়ে পারি বল?

আরোও কিছু কথা বলে তিথি ফোন টা রেখে দেয়।

___ নুহাশ গ্রাজুয়েশন কম্পলিট করে, পিএইচডি ডিগ্রি নেয় ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন থেকে। এখন একটা মাল্টিন্যাশনাল অফিসের বস। নুহাশ এখন লন্ডনে থাকে কিন্তু অফিসের কাজে একটা লজে আসে। সবার সাথে মিটিং শেষ করতে রাত ১০ টা বেজে যায়। এক কলিগের অনুরোধ এ লজের বারে যায়। বারে একসাথে সবাই এনজয় শুরু করে আর বিয়ার খেতে শুরু করে। নুহাশের নেশা করার তেমন অভ্যাস নাই তাই অল্পতেই নেশা উঠে যায়। মাথা টা ঝিম ধরেছে নুহাশের। আজ আর ফ্লাটে না ফিরে লজে রুম বুকিং করে, রুম নং ৭৫৯। ড্রিংকস করে একে তো মাথা হ্যাং এর উপরে আবার ডোর লক হচ্ছিলো না তখন ডোরে কয়েকটা বাড়ি দেয়, ৭৫৯ এর স্ক্রু ঢিলা ছিলো বিধায় এখন নুহাশের রুম নাম্বার ৭৫৬ হয়ে যায়।

____ তিথির ড্রিংকস করার অভ্যাস আছে, সে একা একাই বেশ এনজয় করে। সব দুঃখ যন্ত্রণা দূর হয় ড্রিংকস করলে। কিন্তু নতুন পরিবেশ এ এসে খাওয়া টা একটু বেশি ই হয়ে গেছে। মাথা টা খুব যন্ত্রণা করছে তিথির, ফ্লোরে এসে রুম নাম্বার দেখে রুমে ঢুকে পড়ে। উফফ্ রুম খোলা কেনো? ধ্যাত ভালো লাগেনা বলে বিছানায় গিয়ে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। ( রুম টা অন্ধকার ছিলো তাই কেউ আছে কিনা সেটা না দেখেই শুয়ে গিয়েছিলো তিথি)

____ নেহা! তার একমাত্র বান্ধবী মোনালিসার বিয়েতে এসেছে। মোনালিসা হিন্দু এতে নেহার কোন মাথাব্যথা নাই। সব সময় দুটিতে পাড়া মাতিয়ে রাখতো। আজ মনু টা নেহা কে ছেড়ে আলাদা হয়ে যাচ্ছে। হিন্দুদের বিয়ে সাধারণত রাতে হয় কিন্তু মনুর বিয়ের লগ্ন একেবারেই রাত্রে। খুব রাগ হচ্ছে নেহার, একমাত্র বান্ধবী তাও বিয়ে কিনা রাত্রে।

__ বান্ধবীর বিয়ে রাত্রে এটা প্রব্লেম না, প্রব্লেম হচ্ছে বরযাত্রী তে আসা একটা ছেলে। শুধুশুধু নেহার পিছু পিছু ঘুরছে। বার বার নেহার গাঁ ঘিষে দাড়াচ্ছে, দুষ্টামী করতে চাচ্ছে। কিন্তু নেহার কোন ছেলেকে ই পছন্দ না তাই এই ছেলেকেও বিরক্ত লাগা শুরু করে।

__ মনু যখন ওর বরের সাথে সাত পাক দেওয়ার জন্য হাটছিলো তখন ছেলেটা নেহা কে বলছে….

__ দেখছেন মেয়েরা ছেলের পিছুপিছু ঘুরছে অথচ আমি সারাদিন আপনার পিছু ঘুরেও আপনার মন পেলাম না। ব্যাপার টা কেমন যেন লাগছে তাই না বলুন। একটা সম্পর্ক আসে দুইজনের দিক থেকে যদি একজন চায় আরেকজন মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে কেমন হলো বলুন তো?

__ আপনার প্রব্লেম টা কি? আমার পিছু নিয়েছেন কেনো? আর কিসের সম্পর্কের কথা বলছেন? ( নেহা)

__ আমি মুরাদ, বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। গ্রাজুয়েশন কম্পলিট করে বাবার অফিসেই জয়েন করেছি।

__ তা দিয়ে আমি কি করতে পারি?

__ আপনার কাজল কালো চোখ,
করেছে আমায় পাগল,
হতে চাই খুব আপন।

__ থাক আর ন্যাকামি করতে হবেনা, ডিসগাস্টিং ( নেহা রাগ করে চলে যায়)

___ বিয়ে শেষ এ বাসর জাগে সবাই, মোনালিসার ইচ্ছে তেই নেহা কে মনুর সাথেই থাকতে হচ্ছে। আর বর‍যাত্রী থেকে আসা মুরাদ নামের ছেলেটা তো আছেই। বাসর ঘরে সবাই আনন্দ করতে করতে মুরাদ বলে উঠে একটা খেলা শুরু করা যাক। সবার নাম চিরকুট এ লিখা হোক। দুইটা করে চিরকুট একসাথে তোলা হবে, চিরকুট এ যা লিখা থাকবে সেটাই অভিনয় বা করে দেখাতে হবে।

___ নেহা কিছুতেই নাম দিতে চায় না কিন্তু সবার চাপে পড়ে নাম দিয়ে দেয়। চিরকুট তুলে তুলে দুইজন এর কবিতা আবৃত্তি হয়, গান হয়, অভিনয় হয় এরপর চিরকুট এ উঠে নেহার নাম লিখা আছে ড্যান্স, আর মুরাদ কারচুপি করে নিজের নাম দিয়ে দেয়।

__ নেহা এসব দেখে রাগী গলায় বলে সে খেলবেনা। তখন মুরাদ একটা গান গাইতে শুরু করে আর নেহাকে হাত ধরে টেনে ইচ্ছেমতো নাচায়। নেহা মুরাদের গান শেষ এ মুরাদ কে একটা চড় দিয়ে বলে

__ এ কেমন অসভ্যতা, সেই দুপুর থেকে বিরক্ত করছেন আর এখন?

বলে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।

রুমে একটা গুমট পরিবেশ সৃষ্টি হয়, সবাই মুরাদের দিকে তাকিয়ে মুখ চেপে হাসছিলো। মুরাদের মাথা রাগে গজগজ করছে।

মুরাদ সবার সামনে অপমানিত হয়ে মনেমনে বলে এর প্রতিশোধ আমি নিয়েই ছাড়বো।

মুরাদ লোক লাগিয়ে নেহার সব তথ্য নেয়।

( জানিনা আপনাদের কেমন লাগছে নতুন অধ্যায়, নতুন কাহনী, জানাবেন আশা করি, খুব জোর ১০ পর্ব করেই প্রতিশোধ দ্যা এন্ড করার চেষ্টা করবো। অনেক ভেবে লিখতে হয় তাই সুন্দর করে লিখার চেষ্টায় গল্প যদি ছোট হয় তাহলে কিছু করার নাই আমার ?)

চলবে…..

প্রতিশোধ পার্ট17 & শেষপার্ট

প্রতিশোধ
পার্ট17 & শেষপার্ট
#জামিয়া_পারভীন

তৃণা কে সাইফ পার্কে দেখা করতে ডাকে, তখন সুযোগ বুঝে তৃণার ফোন অফ করে দেয়। এরপর ওরা অনেক ঘুরাঘুরি শেষ এ সাইফ বলে..

__ আজ আম্মি বলেছে তোমাকে খুব দেখার ইচ্ছা হচ্ছে তার। ( সাইফ)

__ ওহহ তাই তাহলে আজি দেখা করি চলুন ( তৃণা)

__ তুমি সত্যি যাবে? কি বলে যে তোমায় ধন্যবাদ জানাবো? ( মনে মনে শয়তানি হাসি হাসছে সাইফ )

__ আমার হবু শাশুড়ি মা দেখতে চেয়েছে আর আমি যাবোনা? ( তৃণা)

__ হুম, যাবেই তো, আমার লক্ষ্মী বউ বলে কথা। ( শুধু চলোই একবার, মনে মনে) (সাইফ)

__ এভাবে বলিয়েন না, লজ্জা লাগে। ( মুচকি হাসি দিয়ে তৃণা)

তৃণাকে সাইফ বিলাশবহুল একটা বাড়িতে এনে বসিয়ে রাখে। চারিদিকে বাগান করা, আশেপাশে তেমন বাড়িঘর নাই। বিশাল এলাকা জুড়ে বাড়িটা। তৃণা চারিদিকে দেখছে আধুনিকতার ছোঁয়া কোন অংশেই কম নয়। ড্রইং রুমের চারিদিকে দামী দামী সো পিচ আর ফুলদানি তে ভর্তি সব ই তাজা ফুল। ফুলের সুবাসে ঘর টা তে তৃণার থেকে যেতে ইচ্ছা করছে। তখন ই সাইফ এসে বলে সাইফের আম্মি উপরে আছে, পায়ে লেগেছে তাই হাটতে পারছে না। তোমাকে উপরে ডেকেছে। তৃণাকে একটা ঘরে নিয়ে যায় সাইফ সেখানে কেউ নেই দেখে তৃণা অবাক হয়ে সাইফের দিকে তাকায় ততোক্ষণে সাইফ ঘরের দরজা টা বন্ধ করে দেয়।

__ কি ব্যাপার দরজা লাগাচ্ছেন কেনো? ( তৃণা)

__ বুঝতে ই তো পারছো? কি চাইছি ? ( সাইফ)
সাইফ তৃণাকে জড়িয়ে ধরে কিস করতে থাকে তখন তৃণা সাইফের হাতে কাঁমড় দেয়। কিন্তু তাও কোন লাভ হয়না, সাইফ তৃণাকে বেডে ফেলে দেয়। এরপর সাইফ তৃণার উপর ঝাপিয়ে পড়ে, একটা মেয়ের শক্তি পরাজিত হয়, তৃণা কে রেপ করে বিছানায় ফেলে রেখে বাইরে গিয়ে বসে থাকে সাইফ।

তৃণা কোন রকম উঠে বসে কাপড় ঠিক করে কাঁদতে থাকে। সাইফ রুমে এসে বলে
__ একদম ন্যাকামি করবে না, এবার পাশে ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসো। ( সাইফ রাগী গলায় )

__ তৃণা সাইফের দিকে থুতু দিয়ে বলে তুই একটা জানুয়ার, ছিঃ।

__ একদম ছিঃ ছিঃ করবা না জান ( তৃণার মুখ চেপে ধরে)

এখন থেকে আমি যা বলবো সেটাই অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে নইলে ( ফোনে রেকর্ড করা ভিডিও দেখালো তৃণা কে)

এসব দেখে তৃণা নিরবে কাঁদতে থাকে। তখন সাইফ আবার বলে শাওয়ার নিয়ে আসতে। তৃণা সাইফের কথা মানতে বাধ্য হয়। তৃণার মরে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে খুব কিন্তু সে মরতে পারেনি বাবার কথা ভেবে।

বের হতেই সাইফ একটা লেহেঙ্গা আর গয়না দিয়ে রেডি হতে বলে।

__ এসব এর কি দরকার?

__ দরকার আছে ডার্লিং, আজ তো আমাদের বিয়ে।

__ যদি বিয়েই করার হয় তাহলে এমন করলেন কেনো? ( তৃণা)

__ প্রতিশোধ

__ আমি কি করেছি আপনার সাথে? কেন করলেন এমন?

__ আবির আমার বন্ধু এটা কি জানো?

__ না

__ আবিরের নামে রেপ কেস দিয়েছিলে মনে আছে?

__ ভুল করে ফেলেছিলাম, আবেগের বশে ( ক্ষমা ও চেয়েছি উনার কাছে)

__ এর জন্য কি কি ক্ষতি হয়েছে জানো?

__ ( শুধুই কান্না করছে)

__ এর জন্য তোমার বোন কে আবির রেপ করে, পরে ভুল বুঝে বিয়ে করে। আর এর জন্য আর কি ক্ষতি হয়েছে জানো? জানো না। আমার একমাত্র বোন অনন্যা এর বিয়ে হবার কথা ছিলো আবিরের সাথে, আবির বিয়েটা না করায় অনন্যার বিয়ে ভাঙ্গে। এতে অনন্যার বিয়ে হয় একটা মাতালের সাথে, আমার বোন এর চোখে এতো জলের মূলে ছিলে তুমি। তুমি কি ভেবেছিলে? তোমায় ভালোবাসি। ভালোবাসা মাই ফুট! আমার বোনের চোখের জলের শোধ নিতে প্রথমে সব সত্যি ঘটনা খোঁজ নিই। এই মহান ঘটনার সাক্ষী মিশির হাজবেন্ড কে বন্দী করে সব তথ্য কালেকশন করি এরপর শুরু হয় আসল খেলা । তোমার বাবা কে মারার উদ্দেশ্য সব প্লান সাজানো হয় কিন্তু লক্ষ্যে আসার আগেই তোমার বাবার এক্সিডেন্ট হয় কিভাবে তা বুঝতে পারিনি আজও নইলে পরপারে থাকতো এতোদিন।

__এরপর তুমি পাগল হয়ে গেলে আর নামকরা সাইকোলজিস্টের কাছে আসলে। আমার কাজ গুলি ক্লিয়ার, এখন তুমি আমার হাতের পুতুল। আমার বোন টা যেভাবে কষ্ট পাচ্ছে এখন বিয়ে করে সারাটা জীবন সেইই কষ্ট তুমি পাবে। আর নাটক না করে রেডি হয়ে এসো।

সাইফ জোর করে তৃণা কে বিয়ে করে প্রথমে নিয়ে যায় আবিরের কাছে। প্লান মাফিক আবিরের রেপ করে বিয়ের ঘটনা তৃণা ফাঁস করে সবার সামনে। ( সাইফের ভয়ে এসব করতে বাধ্য হয় তৃণা) এতে আবিরের সম্মান হানি হয় প্রচুর। লোকসমাজে আবিরের নামে ছিঃ ছিঃ পড়ে যায়। সব কিছু তেই অনন্যা খুব খুশি হয়। একটা শাস্তি সে আবির কে দিতে পেরেছে।

আবির বা নিরা কেউই সবার সামনে মুখ দেখাতে পারবেনা বলে চলে যায় বিদেশে কিন্তু কোন দেশে তা কেউ জানেনা আর। সেখানে গিয়েই নিরার সাথে আবির নতুন পরিচয়ে বাঁচতে শুরু করে। আবির সেখানে গিয়ে জব পেয়ে যায়
নিরাও সেইখানে তার পড়াশোনা কমপ্লিট করে জব শুরু করে। আবির আর নিরার কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে এক মেয়ে ।

সাইফ আর তৃণা অষ্ট্রেলিয়া চলে যায়, সেখানে গিয়ে সাইফ আরেকটা বিয়ে করে আর তৃণার কপালে জোটে সাইফের ঘৃণা। তৃণার এক মেয়ে হয়। বেচে থাকার একমাত্র সম্বল। তৃণার আর পড়াশোনা করা হয়ে উঠেনি, সাইফ তা চায় না কখনো তাই।

আর তুষার হুইলচেয়ার এ থাকতে থাকতে আদরের দুই মেয়ে কে হারিয়ে পাড়ি জমায় পরপারে। মৃত্যুর আগে কি মনে করে তুষার তৃণার সম্পত্তি ওর মেয়ের নামে লিখে দিয়ে যায়। তবে তৃণা বা নিরা কেউই এসব খোঁজ নেয়নি আর।
সব কিছুই এখন মাসুদের কাছে, সেইই সব দেখাশোনা করে। হেনা এখন ও মাঝরাতে কেঁদে উঠে নিরা আর তৃণার জন্য। মাসুদ ও আজকাল কেমন জানি হয়ে গেছে। মাকে একদম সহ্য ই করতে পারেনা। তাই মা কে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দিয়েছে সেই কবেই। একমাত্র আদরের নাতির কাছ থেকে অনেক দূরে আজ হেনা। বাস্তবতা বড়ই নিষ্ঠুর, আমরা মেনে নিতে পারিনা তাও মেনে নিতে হয়।

শেষ

(আপনারা চাইলে সিজন ২ দিতে পারি আবিরের ছেলে কে নায়ক করে। তখন হয়তো বা হ্যাপি এন্ডিং আসবে। কিন্তু এই সিজনে হ্যাপি এন্ডিং দিতে পারলাম না বলে দুঃখিত )

প্রতিশোধ পার্ট_16

প্রতিশোধ
পার্ট_16
#জামিয়া_পারভীন

নিরা আর তৃণার বার্থডে তে তুষার এর বাড়িতে বড় অনুষ্ঠান এর আয়োজন করা হয়। সাইফ তৃণাকে কথা দেয় অনুষ্ঠানে তৃণার জন্য গিফট থাকছে। তবে গিফট টা হচ্ছে সারপ্রাইজ। নিরা আর তৃণা একই রকম টপস ড্রেস পড়ে আজ। এতে দুই বোন কে চিনাই যাচ্ছেনা। কে নিরা কে তৃণা এটা পার্থক্য করবে প্রেমিক রা। তৃণা মনে মনে প্লান করে সাইফ যদি তাকে না চিনতে পারে তাহলে সাইফের সাথে সম্পর্ক রাখবে না। আর নিরাও সেইম কথা ভাবে। ভালোবাসার পরীক্ষা নিবে আজ নিরা আর তৃণা। দুই বোন কে চিনার কোন পার্থক্য নাই কারণ দুইজনের গলার ভয়েস আকৃতি, সব সেইম।

এক মাত্র অনেকদিন থেকে যারা দেখেছে তারাই বুঝবে কে নিরা কে তৃণা। প্রথম দেখাতে কেউ বুঝবেনা কোন টা কে। আর এই জন্যই অল্প পরিচয় এর তৃণাকে চিনতে না পেরে আবির নিরাকে শাস্তি দিয়ে ফেলেছিলো। কিন্তু আবির যে ভালো ছেলে এটা তার সাথে থাকতে থাকতে নিরা বুঝেছে, এতো অবহেলা করার পরও আবির ওকে ছেড়ে যায়নি। শত অপমান সহ্য করেও আবির নিরার সাথে নত দৃষ্টি তে কথা বলেছে। এই বা কম কিসের নিরার কাছে।
আজ চুড়ান্ত পরীক্ষা করবে নিরা, দেখবে কেমন চিনতে পারে আবির।

,
,
,
সন্ধ্যায় বিশাল পার্টির আয়োজন করা হয়, সেখানে আবিরের কলিগ সহ নিরা তৃণার ক্লাস ফ্রেন্ড এন্ড সাইফের ফ্যামিলি সবাই আমন্ত্রিত ছিলো। সাইফের ফ্যামিলি কে ডাকা হয়েছে এটা আবির জানতো না। আবিরের ফ্যামিলির সবাই এসেছে, আবিরের ছেলে রোমানার কাছে আছে , আবির ওর বাবা মায়ের কাছে দাঁড়িয়ে আছে। এরই মাঝে সাইফের ফ্যামিলি চলে আসে। আবির বেশ অবাক হয় সাইফ কে দেখে।

সাইফের ফ্যামিলি কে দেখে আবিরের পরিবার বেশ ইতস্তত বোধ করে। সাইফ ই আগে আবিরের সাথে কথা বলে

__ হাই ( সাইফ)

__ হ্যালো ( ভয় মিশ্রিত কণ্ঠে আবির)

__ তারপর কি অবস্থা, একদম আশা করিস নি তাই না। ( সাইফ)

__ কিছুটা হলে ও জানি আমার শ্যালিকা তোকে ভালোবাসে। হয়তো সেই জন্যেই তোর আগমন। যা হয়েছে ভুলে যা, নতুন করে শুরু কর, অভিনন্দন তোকে। ( আবির)

__ তাইইইই, এতো ই সহজ, আমি তো আর আগে জানতাম না তুই তৃণার বোনের হাজবেন্ড, তৃণার বোন আমার বোনের সুখ কেড়ে নিয়েছে তুই ভাবলি কিভাবে তৃণাকে আমি সুখে রাখবো। ( সাইফ)

__ তার মানে তুই রিভেঞ্জ নিতে এসেছিস। ( আবির)

__ হা হা হা ( তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে চলে যায় সাইফ)

,
,
যথাসময়ে নিরা আর তৃণা হাজির হয় টপ্স আর জিন্স পড়ে, দুই জন ই মডার্ণ সাজে সজ্জিত। দুই জনের বাম হাতে ব্রেসলেট, গলায় মুক্তোর মালা, কানে দুল, চুল গুলো ছাড়া আছে, ডান হাতে দুইটা আংটি পড়েছে, উঁচু হিল তাও সেইম সব কিছু। এভাবে দুই জন কে দেখতে পাবে তা কেউ কল্পনা করেনি।

এরই মাঝে এনাউন্স করা হয় আবির আর সাইফ যদি ওদের চিনতে না পারে তাহলে নিরা আর তৃণা কেউইই ওদের সাথে থাকবেনা। সাইফ মনে মনে ভাবছে যে করেই হোক চিনতেই হবে নইলে সব প্লান বৃথা যাবে।

আবির সাইফ দুইজন ই নিরা আর তৃণা কে চিনার চেষ্টা করে, আবির এক টা মেয়ের হাত ধরে একই সাথে সাইফ অন্য মেয়ের হাত ধরে নেয়। দুই জন একিই সাথে প্রেমিকা দের বাম হাত ধরে।

নিরা আবির কে জড়িয়ে ধরে বলে
__ কিভাবে চিনলে

__ এনগেজমেন্ট রিং তোমার বাম হাতে আর তৃণার নাই। এটাই পার্থক্য দুইজনের, তুমি এনগেজ তাই ( আবির)

আর সেইম প্রশ্ন তৃণা সাইফ কে বলে সাইফ ও বলে
__ তোমার রিং ফিংগারে রিং নাই তাই। বলে সাইফ একটা রিং বোনের হাত থেকে নিয়ে সবার সামনে পড়িয়ে দেয় তৃণাকে।

__ এই সময় আবির নিরা কে বলে
I just wanna hold you tight in my arm and wisher in your ear ” I Love U ” আবির নিরা কে জড়িয়ে ধরে সবার সামনে। নিরাও লজ্জা পেয়ে যায়।

__ সাইফও তৃণাকে বলে
পথিবীর কিছুই চাই না শুধু তোমার ভালোবাসা ছাড়া…. তৃনাও সাইফের বুকে নিজেকে সঁপে দেয়।

সবার হাত তালি তে মুখরিত হয়ে উঠে পরিবেশ। নিরা আর তৃণা এক সাথে কেক কাটে প্রথমবার, সবাইকে কেক খাওয়ায় দুই বোন। নিরা এতোক্ষণে সাইফের বোনের দিকে খেয়াল করে মুখ বিষন্ন হয়ে গেলো। এতো অনন্যা, মানে আবিরের যার সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছিলো।
,
,
,
রাত্রে আবির নিরা বাসায় আসার পর আবির কে নিরা জিজ্ঞেস করে…

__ তুমি কি মেয়েটাকে ভালোবাসতে?

__ ভালোবাসা কিনা জানিনা, বিয়ে টা শুধু ঠিক হয়েছিলো। হয়তো মায়া জন্মে গেছিলো, জানো! ওর জন্য প্রথম গিফট কিনি দুইটা শাড়ি। ওকে দিবো ভেবেছিলাম কিন্তু তার আগেই এক্সিডেন্ট এ তোমাকে দিয়ে দিই। তোমার কি মনে আছে তোমাকে প্রথম যে শাড়ি পড়িয়েছিলাম সেটা অনু কে উদ্দেশ্যে কেনা ছিলো।

__ হুম বুঝেছি, এর প্রতিশোধ নিতে চাই সাইফ তাইনা। এজন্যই তুমি আমাকে বলেছিলে, সাইফ তৃণাকে ভালোবাসে না।

__ সাইফ আর আমি এক সাথে পড়েছিলাম, এই সুবাদে অনু আমাকে পছন্দ করে আমার বাবা মায়ের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। সাইফের চেয়ে ভালো সাইকোলজিস্ট ছিলো না বিধায় ওর কাছে পাঠিয়েছিলাম কিন্তু আমি নিজে দেখা করিনি৷ কারণ চিনে ফেললে শত্রুতা করতো। ( আবির)

__ এখন কি হবে? ( নিরা)

__ একমাত্র অনু ই পারবে এই বিয়ে ঠিক করতে। অনুর সাথে কথা বলতে হবে। ( আবির)

__ ওকে তাইই বলো। ( নিরা)

,
,
,
অনন্যা কে দেখা করার জন্য অনেক কষ্ট করে রাজি করায় আবির। অনন্যা আসতে রাজি হয়, অনেক বার রিকুয়েস্ট করার পর অনন্যা রাজি হয়। একটা রেস্টুরেন্ট এ দেখা করে আবির আর অনন্যা।

__ হ্যাঁ কি সমস্যা, বলে ফেলো ( রাগী কণ্ঠে অনন্যা)

__ আমি নিরা কে ভালোবেসে বিয়ে করিনি, এটা করতে আমি বাধ্য হয়েছিলাম। আমার তোমাকে ব্যাপার টা জানানো উচিৎ ছিলো, কিন্তু আমি না জানিয়ে তোমাকে এড়িয়ে গিয়েছিলাম। আই এম সরি।, প্লিজ ফরগেভ মি। ( আবির)

__ এতদিন পর এইসব বলার জন্য ডাকোনি নিশ্চয়ই। কি বলতে চাও ক্লিয়ারলি বলো। ( অনন্যা)

__ নিরা মেয়েটা নির্দোষ ছিলো, একটা এক্সিডেন্ট হয় নিরার সাথে। যাতে সে কনসিভ করে, সব দোষ আমার ছিলো। আমার রাগের জন্য একটা মেয়েকে ভুল বুঝে খারাপ করে দিই। এরপর নিরা সুইসাইড করতে গিয়েছিলো। নিজের অপরাধ বোধের জন্য আমি বিয়ে করতে বাধ্য হই। আমি নিরুপায় ছিলাম অনু। ( আবির)

__ তার মানে তুমি একজন জঘন্য ব্যক্তি, ছিঃ মানুষ এতো নিচে নামে। বাই দ্যা ওয়ে, তোমার মতো নিচ মানুষের সাথে কথা বাড়িয়ে ই বা কি লাভ। তৃণার জন্য তুমি দোষী হয়েছো। আবার নিজেকে ছোট করছো, লজ্জা করেনা। যাই হোক তোমার জন্য আমার এতো ক্ষতি হয়েছে সেটার কি হবে শুনি। তোমার সাথে বিয়ে ভাঙার পর ড্যাড মান সম্মান এর কথা ভেবে ওই বিয়ের ডেট এ একটা মাতালের সাথে বিয়ে দিয়ে দেয়। মাতাল এর অত্যাচার এ আমি দিন রাত কেঁদেছি আর তোমাকে অভিশাপ দিয়েছি। গত ২ মাস আগে মদ খেয়ে মাতলামি করে এক মেয়েকে রেপ করে এখন সে জেলে। আর আমাকে দিয়ে গেছে যন্ত্রণা ময় একটা স্মৃতি ( আমার ছেলে)। পারবে এইসব কষ্ট মুছে দিতে। জানি পারবেনা, তাই আমার রিভেঞ্জ আমি নিয়েই নিয়েছি অলরেডি। ( অনন্যা)

__ মানে? ( আবির)

__ তোমার শ্যালিকার ভুল অপবাদ এ তুমি নিরাকে শাস্তি দিয়েছিলে তাইনা। তোমার শ্যালিকার তো শাস্তি পাওয়া উচিৎ তাইনা ( অনন্যা)

__ কি করেছো তুমি, হ্যাঁ আমি ওর প্রতি বিরক্ত থাকলেও সে তার ভুল বুঝেছে তাই ক্ষমা করে দিয়েছিলাম। ( আবির)

__ তুমি ক্ষমা করলেও আমি কিভাবে ক্ষমা করি বলো। ( অনন্যা)

__ কি করেছো তুমি ওর? ( আবির)

অনন্যা হাসতে থাকে আর আবির তৃনা কে ফোন দিতেই থাকে কিন্তু তৃনার ফোন সুইচড অফ বলছে।

( আগামীকাল লাস্ট পার্ট দিবো আর আপনারা চাইলে সিজন ২ করতে পারি, নিরার ছেলেকে নায়ক করে । আপনারা কি সিজন ২ চান? )

চলবে….

প্রতিশোধ পার্ট_15

প্রতিশোধ
পার্ট_15
জামিয়া_পারভীন

__ কেনো বিয়েটা হলে প্রব্লেম টা কি। সাইফ কে তো ভালো ই লেগেছে। তৃণা খুব হ্যাপি হবে বিয়েটা হলে। ( নিরা)

__ তুমি ভাবছো তৃণা হ্যাপি হবে কিন্তু আসলে সেটা হবার নয়। বাদ দাও এসব, তোমার এক্সাম খুব শীঘ্রই, কিছুদিন পড়াশোনা অন্তত করতে হবে, প্রেগন্যান্সির জন্য, বাবার জন্য, আরো অনেক কারণ এ তুমি একেবারে ভেঙে পড়েছো। এখন আবার সব কিছু ঠিক করতে হবে। আমি আছি তোমার পাশে সব সময়, সব ঠিক হয়ে যাবে।
( আবির)

__ দেখো আবির, আমি আমার কথা শুনতে চাচ্ছি না। আগে বলো সাইফের কি প্রব্লেম? ( নিরা)

__ হ্যাঁ বলবো, তার আগে তোমার এক্সাম টা শেষ হোক সব বলবো। এখন বলে তোমার পরীক্ষার খারাপ করতে চাইনা আমি। ( আবির)

__ ওকে, আমি পরে শুনতে চাই সব কিছু। ( নিরা)

,
,
,
২ মাস ভালো ভাবে পড়ে ওরা দুই বোনের এক্সাম শেষ হয়। নিরার ইচ্ছে করে আবির কে ভালোবাসতে কিন্তু ইগোর জন্য আবির কে ইগনোর করে। আবির অনেক হেল্প করেছে নিরা কে, সব সময় গাইড দিয়ে পড়াতো, আর আবির আর নিরার ছেলের জন্য একজন নার্স ঠিক করে রাখে। নিরার পরীক্ষার যেন কোন ক্ষতি না হয় তার সব ব্যবস্থা করেছিলো আবির।
,
সাইফ ও তৃণার পরীক্ষার জন্য সব রকম হেল্প করে। তৃণার সব এক্সাম ভালো হয়, তাই সাইফ কে ফোন করে তৃণা।

__ মিঃ ডক্টর, করছেন টা কি? ( তৃণা)

__ এইতো মিসেস ডক্টর, তোমার কথা ভাবছি। ( সাইফ)

__ কি যে বলেন না আপনি? যাই হোক অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমার সব এক্সাম ভালো হয়েছে আর সব কিছুই সম্ভব আপনার জন্য। ( তৃণা)

__ তা আমার গিফট টা কোথায় ম্যাডাম ( সাইফ)

__ কিসের গিফট ( তৃণা)

__ বাহ রে, আমি এতো কষ্ট করলাম, আমার গিফট থাকবেনা, এ হয় নাকি। ( সাইফ)

__ ওকে কি চায় আপনার বলেন, আমি অবশ্যই দিবো।

__ তোমাকে

__ মানে? ( তৃণা)

__ দেখা করতে চাই একবার । ( সাইফ)

__ ওকে ডান, কোথায় আসবো বলেন।

__ মুক্তমঞ্চ এর পাশে যে রেস্টুরেন্ট সেখানে আসো। ( সাইফ)

__ ওকে ডক্টর ( তৃণা)

সাইফ এই প্রথম তৃণাকে দেখা করতে ডাকে। তৃণা মায়ের সাহায্য নিয়ে প্রথম বারের মতো শাড়ি পড়েছে। লাল শাড়ি পড়ে তৃণা কে অপ্সরীর মতো সুন্দর লাগছে। চোখে গাড় কাজল দিয়েছে, হাত ভর্তি লাল চুড়ি, ম্যাচিং গহনা পড়েছে আজ। চুল গুলি খোপা করে বেঁধেছে আর তৃণা। সাইফ একভাবে তাকিয়ে আছে তৃণার দিকে।

__ এইভাবে তাকালে তো নজর লেগে যাবে, তাহলে তো আমি কালো হয়ে যাবো, তখন কিন্তু আর তাকাবেন না আমার দিকে। ( তৃণা)

__ সসসরি ( সাইফ)

__ কেনো, ওওওও বুঝেছি যে ডক্টর সবার চিকিৎসা করে আজ বুঝি তার চিকিৎসা আমাকেই করা লাগবে। ( তৃণা)

__ সাইফ তৃণাকে চমকিয়ে দিয়ে সবার সামনে প্রপোজ করে আর একটা ডায়মন্ডের রিং তৃণার হাতে পড়িয়ে দেয় সাইফ। তৃণা এতো খুশি হয় যে আনন্দে চোখে পানি চলে আসে।

__ সাইফ তৃণার চোখের কাজল নিয়ে গলায় মাখিয়ে বলে আর কারোও নজর লাগবেনা। এখন থেকে শুধু তুমি আমার তৃণা।

__ তৃণা সাইফের বুকে শান্তি খুঁজে নেয়।

,
,
,
মাসুদ বাবা হতে চলেছে সেইই খুশির খবরে আনন্দে আছে। এরই মাঝে তুষার কে হুইলচেয়ারে করে বাসায় আনে। তুষার এখন অনেকটাই সুস্থ আগের চেয়ে। এরই মাঝে তৃণা ফিরে এসে সবাইকে খুশির সংবাদ টা জানায়। তুষার ব্রেইন ড্যামেজ হলেও মেয়েকে চিনতে পেরেছে সে তাই মেয়ের খুশির খবরে তুষার ও খুশি হয়। নিরাকে ফোন দিয়ে তৃণা সব টা জানায়, নিরাও বেশ খুশি হয় গুড নিউজ টা শুনে।

,
,
,
__ জানো আজ কি হয়েছে? ( নিরা)

__ বলো ( আবির)

__ তৃণাকে সাইফ আংটি পরিয়েছে আজ। ( নিরা)

__ কিহহহহহ ( আবির)

__ এমন করছো যেনো এটা হতেই পারেনা। ( নিরা)

__ হতে পারেনা, এটা সাইফের চাল, তোমার বোনকে শাস্তি দিতে চায় তারা। ( আবির)

__ কিসের শাস্তি ( নিরা)

__ অপমান এর, আমি সিউর সাইফের মনে প্রতিশোধ এর আগুন জ্বলছে, আর না হয় ওর বোন করাচ্ছে এইসব। এই পরিবার টাকে ওরা ধ্বংস করে দিতে চায়। ( আবির)

__ কিসের প্রতিশোধ এর কথা বলছো আবির ( নিরা)

__ আচ্ছা কাল বলবো। ( আবির)

__ এখন কি সমস্যা ( নিরা)

__ এখন একটা প্রব্লেম আছে

__ কি?

__ তোমার পিছনে একটা আরশোলা ( আবির)

_ আআআআ আ বলে দৌড়ে আসে আবিরের সাথে ধাক্কা লেগে দুইজনে বিছানায় পড়ে যায়। আবিরের উপরে নিরা কিছুক্ষণ ধ্যানের মতো পড়ে থাকে।

__ কি দেখছো ? ( আবির)

__ কিছুনা ( বলে উঠতে গিয়ে আবির আবারো টান দেয় নিরাকে)

নিরার কপালে, গালে অনেকগুলি কিস করে, এতে নিরাও পাগলের মতো হয়ে যায়। আবির এর থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলেও পরে আর করে না। আবিরের আদর উপভোগ করতে থাকে। ক্লান্ত শরীরে নিরা কখন ঘুমিয়েছে জানেনা, সকালে উঠে দেখে আবিরের সাথে জড়িয়ে শুয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর মনে পড়ে আবিরের সাথে কাটানো মুহুর্তের কথা। আবিরের কাছ থেকে উঠতে গিয়ে আবির ধরে ফেলে।

__ এখনি চলে যাবে ( ঘুমের ঘোরে আবির বলে)

__ না যাবোনা, কাজ আছেনা, নিশান কাঁদছে। ( আবিরের ছেলে নিশান, নিরার সাথে মিলিয়ে নাম রেখেছে)

__ এই একটা ই দোহাই, ও তো সব সময় কাঁদে আর আমার কান্না টা কি দেখতে পাও না। শুধু বাবুর কান্না দেখলে, আর বাবুর বাবার কান্না আর দেখলে না। ( আবির)

__ ওলেএএ ঢং ( নিরা)

নিরা শাওয়ার শেষ করে এসেও দেখছে আবির ঘুমাচ্ছে তখন ইচ্ছে করে ভেজা চুলের পানি আবিরের মুখে ছিটাই নিরা। আবির ঘুমের চোখে নিরার দুষ্টুমি দেখে নিরার হাত ধরে টান দিয়ে নিরা কে আবিরের বুকের উপর ফেলে।

__ এবার কি হবে ( আবির)

__ কি আবার হবে। ( নিরা)

__ একটু কাছে আসো।

__ আসবো ই তো বলে আবিরের গলাতে চিমটি কেটে পালিয়ে যায় নিরা।
,
,
,
সাইফ বাসায় গিয়ে বাবা মা আর আদরের বোন কে জানায় মেয়ে পছন্দ হয়েছে, সে এবার বিয়ে করতে চায়।

__ বাব্বাহ, এতো দিনে গড মুখ তুলে চাইছে আমার ভাই টা দিকে, নইলে তো কোন মেয়েই পছন্দ হতো না। আজ আবার মেয়ে জুটলো কোথা থেকে। ( সাইফের বোন)

__ তুই সব সময় আমাকে হেয় করে কথা বলিস। আচ্ছা বাদ দে, তুই দেখলে তুই ও প্রশংসা করবি এতো সুন্দর মেয়েটা। ( সাইফ)

__ তাই বুঝি, নাম কি বল।

__ তৃণা চৌধুরী, বাবা তুষার চৌধুরী, দেশের সব চেয়ে বড় কম্পানি গ্রুপ TTN গ্রুপের মালিকের মেয়ে। TTN মানে তৃণা, তুষার আর এন এ কিযে।

__ থাক ওতো বলা লাগবে না। তা মেয়েকে কবে দেখাবি সেটা বল ( সাইফের বোন)

__ তুই চাইলে এখনি দেখাতে পারি ফোনে। ( সাইফ)

সাইফ বোন কে একটা ছবি দেখালো, ছবিটা দেখে সাইফের বোন সাইফ কে এক চড় দেয়।

__ তুই বিবাহিতা মেয়েকে বিয়ে করবি তাইনা ( সাইফের বোন)

__ আরে তুই ভুল বুঝছিস, এটা তৃণার, মিসেস নিরার জমজ বোন। ( সাইফ)

__ সাথে সাথে আরক্টা চড় মেরে দেয় সাইফের বোন। তুই এই মেয়েকে ভালোবাসিস সত্যিই। ( সাইফের বোন)

__ হ্যাঁ, মেয়েটা অনেক ভালো কিন্তু তুই আমাকে মারছিস কিসের জন্য ( সাইফ)

সাইফের মম ড্যাড কে সাইফের বোন সাফ জানিয়ে দেয় যদি এই মেয়েকে সাইফ ঘরে তোলে তাহলে সে সুইসাইড করবে। এতে সাইফ ওর বোন কে বলে আচ্ছা ঠিক আছে এ বিয়ে ক্যান্সেল। আমি তোকে হারাতে পারবোনা, কিন্তু বল এই মেয়ের কি সমস্যা।
,
,
,
তৃণা সকাল সকাল বোনের বাড়ি এসে বোন কে জড়িয়ে খুশির ডান্স দিতে থাকে। আবির এসে দাঁড়াতেই তৃণা চুপসে যায়।

__ কি ব্যাপার শালিকা, এতো খুশি কিসের। ( আবির)

__ তৃণা আংটি দেখিয়ে বলে সাইফ পড়িয়ে দিয়েছে। এটা দেখে আবির একটু থেমে যায়। হয়তো সাইফ সত্যিই ভালোবাসে তৃণাকে তাই আর কথা না বাড়িয়ে বউ আর শালিকা কে নিয়ে নাস্তা করে। আবিরের ক্লাস থাকায় তাড়াতাড়ি বের হয়ে যায়।
,
,
,
আজ আবির আর নিরার বিবাহ বার্ষিকী। নিরা সেটা বেমালুম ভুলে গেছে আর আবির বিয়ের করুন স্মৃতি মনে করিয়ে দিতে চায় না তাও নিরার জন্য অনেক সুন্দর ব্যবস্থা করে। পুরো ছাদ এ ডেকোরেশন করে নিরাকে লুকিয়ে। নিরাকে ক্লাসে পাঠিয়ে লোক দিয়ে পুরো ছাদে বেলুন আর কার্ড দিয়ে ভর্তি করে। আর উপর থেকে ফুলের ব্যবস্থা করেছে নিরাকে সারপ্রাইজ দিবে তাই। এছাড়া গোটা ছাদে প্রচুর গোলাপ আর রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে ভরে ফেলে।

নিরা বাড়ি ফিরে এসে ফুলের সুবাস পায় কিন্তু এই সুবাস কোথা থেকে আসছে সেটা বুঝতে পারছে না। নিরাকে আবির একটা চিঠি লিখে বেড এ রেখেছে ফ্রেশ হয়ে আসো। নিরা চিঠির মানে না বুঝে ফ্রেশ হয়ে আসলো। নিরা ফ্রেশ হবার সময় নিরার বাবা মা বোন ভাই ভাবি সবাইকে ছাদে পাঠিয়ে দেয় আবির। আবির নিজেও নিরার সাথে আর দেখা করেনি। নিরা আবারো একটা চিঠি পেলো। নীল রঙ এর শাড়ি টা পড়বে আর সুন্দর করে সাজবে। নিরা এবার বেশ অবাক হলো তাও সুন্দর করে সাজলো আবিরের জন্য।

__ রেডি ( আবির)

__ হু, রেডি কিন্তু কেনো ( নিরা)

__ এসো বাইরে ( আবির)

আবির নিরার চোখ ধরে নিরাকে ছাদে নিয়ে গেলো। পুরো ছাদ আঁধার, নিরাকে এক জায়গায় দাঁড় করিয়ে চোখ ছেড়ে দেয়। নিরা চারিদিকে আঁধার কিন্তু অনেক সুবাস পায়। আবির কে জিজ্ঞেস করে কোথায় এনেছে তাকে।

__ আবির মুখে একটু শিস বাজাতেই চারিদিকে আলোকিত হয়ে যায় লাইটিং এ। আর একটা একটা করে মোমবাতি জ্বালিয়ে দেয় নিরার পরিবার এর লোকজন। আবির সবার সামনে এক গুচ্ছ গোলাপ হাতে উইস করে…

Life is a journey, and nothing makes that adventure more thrilling than sharing it with the person you love most in life. Make your anniversary a memorable one.

__ নিরা আবিরের হাত থেকে ফুল গুলি নিয়ে আবির কে জড়িয়ে ধরে। এরপর আবির আর নিরা কেক কাটে আর সবাইকে খাইয়ে দেয়। সবাই চলে গেলে নিরা আর আবির একা আছে। আবির নিরাকে কোলে তুলে নিয়ে নিচে আসে।

নিরা কে বিছানায় শুইয়ে দেয়, নিরা দেখে পুরো বেড ফুল দিয়ে সাজানো।

__ এতো সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য আমি সত্যিই অনেক হ্যাপি হয়েছি। ( নিরা)

__ আমার ভালোবাসার জন্য আমি সব কিছুই করতে পারি ( আবির)

__ আই লাভ ইউ আবির।

__ লাভ ইউ টু। সেদিন এর ফুলশয্যা টা তাহলে আজ ই হয়ে যাক। ( আবির)

__ সব সময় ইয়ার্কি ( নিরা)

__ ইয়ার্কি করছি বুঝি, আবির নিরার কাছে যেতে থাকে। নিরাও আবিরের মাঝে সব সুখ খুঁজে নেয়।

,
,
,
সাইফের বোনের সাথে কিছু ডিল হয় তাই সাইফ এখনো তৃণাকে কিছু বুঝতে না দিয়ে তৃণার সাথে সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছে।

সাইফ জানে আগামীকাল তৃণার বার্থডে। দুই বোনের বার্থডে এক সাথে পালিত হবে সেদিন ই সাইফ সবাইকে সারপ্রাইজ দিবে বলে প্লান করে। সাইফের বোনের জন্য সাইফের মনে ও ঘৃণা জন্মে গেছে তৃণার প্রতি। তাও সাইফ তৃণার সাথে অভিনয় করে চলেছে।

চলবে……

প্রতিশোধ পার্ট_14

প্রতিশোধ
পার্ট_14
জামিয়া_পারভীন

ডাক্তার সাইফ আহমেদ এর সামনে বসে আছে নিরা আর তৃণা। সাইফ প্রথমে দুই বোন কে দেখে নেয় কিছুক্ষণ । তৃণাকে বেশি ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে সাইফ, তৃণা হালকা গোলাপি রঙের টপস পড়েছে আর চুলগুলো পিছনে বাধা, ঠোঁট এ তেমন কিছু দেয়নি সে এমনিতেই সুন্দরী, ড্রেসের জন্য তাকে বেশি সুন্দরী লাগছে। তারপর তৃণাকে জিজ্ঞেস করে

__ এখন কেমন আছেন?

__ জ্বী কিছুটা ভালো ( কণ্ঠে হালকা ভয় মিশানো)

__ আপনি আমাকে এতো ভয় পাবেন না।

__ না না! ভয় না, কথা বললেই এমন হয়ে যাচ্ছে। ( তৃণা)

__ মানুষের জীবনে কখনো কখনো অনেক কিছু ঘটে, আর সেটাকে মেনে নেয়াটাই সবচেয়ে উত্তম। আপনাকে আজ আমি একটা জায়গায় নিয়ে যেতে চাই। দেখবেন ভালো লাগবে, কি আপনি যাবেন তো ? ( সাইফ)

__ তৃণা মাথা ঝুকিয়ে না বলতে চায় তখন নিরা তৃণার হাত ধরে থামিয়ে দিয়ে ডাক্তার কে বলে ওর একমাত্র বোনের ভালোর জন্য যেটা দরকার সেটাই যেন করেন। তৃণাও নিরার কথার সাথে একমত হয়ে গেলো। নিরাকে চেম্বার এ বসিয়ে রেখে তৃণাকে নিয়ে হাস্পাতালের ভিতরে গেলো।

তৃণাকে সাইফ সবার সাথে কথা বলতে বলে। তাদের মাঝে একেকজনএর একেক কষ্ট। তৃণা সবার সাথেই কথা বলা শুরু করে। প্রথমে এক বয়স্ক মহিলা এর সাথে কথা হয়, মহিলা বলে তার বাবা মা কেউ ছিলো না কিন্তু ভাগ্যক্রমে বড়লোক ছেলের সাথে বিয়ে হয়, সেখানে তার তিন টা ছেলে আছে। কিন্তু ছেলেরা তাকে অবহেলা করতে করতে পরে আর খোঁজ নেয়নি। তৃণা নিজের কষ্ট বলে ওই মহিলাকে, নিজের দুঃখ শেয়ার করে নিজেকে একটু হালকা লাগছে। পরে আরেকজনের কাছে যায়, মহিলার দুই পা নাই তাও সে হুইলচেয়ারে বসেই ফুটবল খেলছে। ছবি আঁকাতে পারে, সবার সাথে বেশ হাসিখুশি আছে। তৃণা উনার সাথে কথা বলে বেশ আনন্দিত হয়। মনে মনে ভাবে বাবা নাই তো কি হয়েছে আরোও তো আছে, মা আছে বোন আছে তাদের জন্য তো নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। বাবা বাবা করে মা বোন কে কতোইনা কষ্ট দিচ্ছে সে।

বেশ অনেকের কষ্ট দেখে নিজের কষ্ট খুব কম লাগছে তৃণার তখনি সাইফ এসে বললো
__ এখন কেমন লাগছে।

__ জ্বী, বাবার জন্য মা বোন কে এতো কষ্ট দেয়া উচিৎ হয়নি। ( তৃণা)

__ আপনি মেডিকেল স্টুডেন্ট, ভালো ছাত্রী, আপনার জন্য ভালো ক্যারিয়ার অপেক্ষা করছে। আপনার কি বিপদে ভেঙে পড়া সাজে। আপনি অন্যকে বুঝাবেন, কখনো নিজে ভেঙে পড়বেন না। ( সাইফ)

__ আমি এখন অনেকটাই বুঝতে পারছি, ক্লাস শুরু হবার পর তো আর মনোযোগ ই দেইনি। কিন্তু পড়াশোনা তো করতেই হবে। ( তৃণা)

সাইফ এতো বছর পড়াশোনা করেছে, বিদেশেও গেছে, তার কতো বড় বড় ডিগ্রি । কিন্তু কখনো কোন মেয়েকে তার ভালো লাগেনি অথচ এই মেয়েটাকে খুব ভালো লাগছে সাইফের। কথায় কথায় মেয়েটাকে সাইফ নিজের কার্ড দিয়ে দেয়। বলে যখনি ডিপ্রেশন এ থাকবেন ফোন করবেন। সাইফ প্রফেশনাল কার্ড না দিয়ে পারসোনাল কার্ড দিলো। সাধারণত সবাইকে এই নাম্বার দেয় না।

দুইজনে চেম্বারে ফিরে আসে, নিরা বোন কে হ্যাপি দেখে খুব আনন্দিত হয়। ডাক্তার এর কাছ থেকে বিদাই নিয়ে দুইজনে বাসায় ফিরে, তৃণাকে নামিয়ে দিয়ে মায়ের সাথে কিছু কথা বলে নিরা আবিরের বাসায় ফিরে যায়।

এতো পরিশ্রম করে নিরা খুব ক্লান্ত হয়ে গেছে, বাসায় ফিরেই নিরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। রোমানা খালা এসে নিরার সেবা করে ঠিক করে। আবির সারাদিন পর বাসায় এসে নিরাকে বেডে দেখে চমকিয়ে যায়।

__ কি হয়েছে, খুব ক্লান্ত তাই না ( আবির)

__ আসলে, ,,, ( নিরা)

__ হ্যাঁ এই কয়দিন যা যাচ্ছে তোমার উপর দিয়ে। এভাবে চলতে থাকলে তুমি আরোও অসুস্থ হয়ে পড়বে। আমি যতক্ষণ থাকি তোমার কোন ক্ষতি হতে দিবোনা।

বিকালে বান্ধবী মিশির চেম্বারে গিয়ে দেখিয়ে আনে। নিরা খুব অবাক হয়, আবির এর কাছে কিছু চাওয়ার আগেই সব কিছুই পেয়ে যাচ্ছে। আর তৃণাও প্রায়ই সময় সাইফের সাথে কথা বলছে। তৃণার খুব ভালো লাগে সাইফ কে। ওর সাথে কথা বললে সব হতাশা দূর হয়ে যায় তৃণার।

তুষারের মাথায় আঘাত লাগার জন্য ব্রেইন অনেকটা নষ্ট হয়ে গেছিলো তাও সবাই আশা নিয়ে ই চিকিৎসা চালিয়ে যায়। আরোও ৮ মাস পার হয়ে যায় আবিরের ভালোবাসায় নিরার জীবন খুব সুখের ছিলো আর তৃণাও সাইফের সাথে কথা বলেই বেশ হ্যাপি কেউ কাউকে ভালোবাসার কথা বলেনি কিন্তু ভালোবেসে ফেলেছে সেটা দুজনের মনের মাঝেই রাখে। তৃণা মানসিক ভাবে পুরোপুরি সুস্থ এখন আর মাসুদ সব দেখাশোনা করছে। হেনা মাসুদের বিয়ে দিয়ে দেয় এক মেয়ের সাথে । মাসুদ আর ওর বউ মিতুর বেশ সুখের সংসার।

নিরার ডেলিভারির ডেট হয়ে যায়, আবির তাড়াতাড়ি করে মিশির হাসপাতালে ভর্তি করে নিরাকে। সেখানে নিরার কোলজুড়ে আসে পিচ্চি এক্টা ছেলে বাবু। নিরার জ্ঞান ফিরে সন্তানের মুখ দেখে বেশ হ্যাপি হয়। চোখ দিয়ে পানিও ঝড়ে। আনন্দের পানি কি যন্ত্রণার সে টা বুঝেনা নিরা।

নিরা বাসায় ফিরে, বোনের ছেলে কে দেখতে তৃণাও আসে। বাড়িতে আবিরের মা, বাবা, তৃণা, হেনা, মাসুদ, মিতু সবাই এসেছে ছোট্ট বাবুকে দেখতে। সবার মাঝেই আনন্দ, রুম টা একটু খালি হতেই হেনা নিরাকে বলে…

__ তৃণার যে কি হয়েছে? সব সময় ফোনে কথা বলছে।

__ হু মা, প্রেম করছে মনে হয়। ( নিরা)

__ কার সাথে?

__ সাইফ ( নিরা)

__ তোকে বলেছে তৃণা ( হেনা)

__ এগুলো বলা লাগবে কেনো? আমি কয়েকদিনের মাঝেই আবিরের সাথে এই ব্যাপারে কথা বলবো। ( নিরা)

__ ওকে, তাই বলিস। ( হেনা)

আবির এর বাবা মা নাতিকে পেয়ে যেন আনন্দে আত্মহারা হয়ে আছে। সব সময় নাতির কেয়ার নেয়ার খবর নেয়, এতো দিন আবির কে যতটা সময় দেয়নি ব্যস্ততা র জন্য নাতিকে আর আবিরকে সে সময় টুকু দেয়ার চেষ্টা করছে।

রাত্রে
__ শোনো একটা কথা ছিলো ( নিরা)

__ বলে ফেলো, তোমার সব কথা শুনার জন্য বান্দা হাজির। ( আবির)

__ এভাবে বলছো কেনো? ( নিরা)

__ ভালোবেসে বলছি ( আবির)

বলেই নিরার কপালে আবির কিস করে। আবিরের বেশ ইচ্ছে করে নিরার সাথে খুনশুটি করতে কিন্তু নিরা এসব পছন্দ করেনা। এবার ও নিরা আবিরকে সরিয়ে দেয়।

__ তোমার প্রব্লেম টা কি, শুধু আমার সাথে ফাজলামি না করলে বুঝি তোমার চলেই না। ( নিরা)

__ এতো রাগ করছো কেনো? ওকে সরি আর হবেনা। কাজের কথা বলো? ( আবির)

__ কিছু না, যাও সামনে থেকে ( নিরা)

আবির কে নিরা কখনো মন থেকে মেনে নেয়নি তাই সহজে আপন করে নিতে পারেনা। প্রায়ই সময় অপমান করেছে আবিরকে শুধুমাত্র এক্টাই কারণ। আবির নিরার কথা তে অপমান বোধ করে তাও প্রকাশ করেনা কখনো। নিজের অপরাধ বোধে নিরা তাকে হেলা করে সেটা সে জানে। তাই ঘুরেঘুরে নিরার কাছে ই যায়। নিরা বাইরে সবার সাথে হ্যাপি কাপলের অভিনয় করলেও আবির যখন একা থাকে ভালো বিহেভ কখনো ই করেনা।

অনেকদিন পর তুষার চোখ খুলে দেখে, অনেক আঘাত সহ্য করে কেউ সাধারণত বাঁচতে পারেনা কিন্তু তুষার এর জ্ঞান ফিরেছে। এই খবরে সবাই হাস্পাতালে যায়।

_ আস্তে আস্তে মিঃ তুষার রিকভারি করছে ( ডাক্তার বলেন)

এই কথাতে সবাই খুব আনন্দিত হয়।

__ কিন্তু উনি সবাইকে হয়তো চিনতে পারবেন না ( ডাক্তার)

আনন্দের হাসি টা দমে গেলো। এতো দিনের আশা আর পুরণ হলোনা।

,
,
তৃণাকে সাইফ ফোন দেয়

__ এখন কি করছো ম্যাডাম, সকাল থেকে খোঁজ নাই কেনো। ( সাইফ)

__ কি ভাবে খোঁজ নিতাম, ( তৃণা)

__ বাহহ! ভুলেই গেছো ( সাইফ)

__ তা নয়, বাবার জ্ঞান ফিরেছিলো কিন্তু ডাক্তার সাহেব বলেছে কাউকে চিনতে পারবেনা। ?( তৃণা)

__ সে যে তোমাদের মাঝে আছে এটার জন্যই শুকরিয়া করা উচিৎ তাই না ( সাইফ)

__ জ্বী, আমি শুধুশুধু ওভার রিয়েক্ট করি। ( তৃণা)

__ তা ম্যাডাম সামনে তো এক্সাম পড়াশোনা তো করোনি নিশ্চয়ই। ( সাইফ)

__ এতোসব ঝামেলা তে ক্লাস ঠিকমতো করতে পারিনি। তাইই ( তৃণা)

__ আজ থেকে কথা কম শুধু পড়াশোনা হবে। ( সাইফ)

সাইফ তৃণা কে পড়াতে থাকে, এতে তৃণার জন্য বেশ ভালো হয়। সাইফ অনেক ভালো বুঝাতে পারে।

,
,
নিরা আবিরকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাইলেও আবির সব সময় নিরার পাশে থাকার চেষ্টা করে। তাই নিরার পরীক্ষার জন্য আবির নিজ থেকে অনেক হেল্প করে। এতে নিরার ভালো লাগ্লেও মনের মাঝে পুষে রাখা রাগ থেকে আবির কে দূরে রাখে।

এতো কিছু না ভেবে নিরা আবির কে বলে দেয়

__ এবার সাইফের সাথে কথা বলা উচিৎ ( নিরা)

__ কোন সাইফ ( আবির)

__ কেনো ভুলে গেলে? তৃণার ডাক্তার ( নিরা)

__ কি ব্যাপারে কথা বলবো বলো? ( আবির)

__ তৃণার সাথে সাইফের বিয়ের ব্যাপারে। ( নিরা)

__ তুমি কি পাগল হয়ে গেছো? ( আবির)

__ এখানে পাগল হবার কি হয়েছে শুনি। ( নিরা)

__ এ বিয়ে কিছুতেই সম্ভব নয়। কারণ……….. ( আবির)

চলবে…….

প্রতিশোধ পার্ট_13

প্রতিশোধ
পার্ট_13
জামিয়া_পারভীন

তুষার এর গাড়ির ব্রেক টা নষ্ট করে দেয় মাসুদ। তুষার গাড়িতে উঠার পরই ব্রেকের জন্য দুর্ঘটনা ঘটে। মাথায় প্রচুর আঘাত পায় তুষার, এছাড়া হাত এর দুইটা হাড় ফ্রাকচার, দুই পা ই ফ্রাকচার সাথে স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি হয়েছে। এতো মারাত্মক ভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তুষার মৃত্যুর সাথে লড়ছে।

নিরা বাবা থেকে দূরে থেকেছে বলে কষ্ট পেলেও তৃণার কষ্ট টাই ছিলো বেশি। বার বার জ্ঞান হারাচ্ছে আর পাগলের মতো প্রলাপ বলছে। তৃণার হাহাকার মা বোন মিলে কেউই থামাতে পারছেনা। এদিকে মাসুদ এসে লুকিয়ে লুকিয়ে সবার আহাজারি দেখছে কিন্তু সামনে আসছেনা। আসলে কি বলবে এসে, এক্সিডেন্ট টা তো হয়েছেই তার জন্য। যে বাবা তাকে আর তার মা কে অত্যাচার ছাড়া কখনো ভালোবাসেনি তার জন্য প্রতিশোধ নিতে গিয়ে যে মানুষ তাদের ভরণপোষণ চালিয়েছে তাকেই খুন করার চেষ্টা। এটা মহা অন্যায় হয়ে গেছে, নিজের মাঝে প্রচুর অনুশোচনা জন্মেছে।

নিরা মাসুদ কে দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসে ,
__ ভাই তুমি এসেছো, বাবা খুব অসুস্থ। আর রাগ করে থাকিও না প্লিজ।

__ (মাসুদ এর চোখ দিয়ে আজ পানি ঝরছে। যে বোনকে কখনো আদর দেয়নি তাকে জড়িয়ে ধরে খুব কাঁদছে আর।) কান্না মুছে বলে, ” মাফ করে দিস। ”

__ কেনো কি করেছো তুমি? কেনো মাফ চাইছো? ( নিরা)

__ খুব বড় অন্যায় করে ফেলেছি রে। বাবার মতো ওই লোকটাকে আমি মেরে ফেলতে চেয়েছিলাম। ( মাসুদ)

__ কি বলছো তুমি? আমি এগুলো বিশ্বাস করতে পারছিনা। বাবাকে তুমি? নাহ এটা হতে পারেনা। ( নিরা)

__ আমাকে পুলিশে দে তুই, আমার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে চাই। ( মাসুদ)

__ এই কথা আর কাউকে বলিও না, আমার ভাই এর ক্ষতি আমি কিভাবে চাই বলো। মা তোমাকে অনেক ভালোবাসে। এখন তোমার উচিৎ মা আর তোমার আরেক বোনের দিকে খেয়াল রাখা। তৃণা খুব ভেঙে পড়েছে। ( নিরা)

,
মাসুদ এগিয়ে যায়, সবার কাছে নিজের কষ্ট প্রকাশ করে। হেনা ও ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে খুব। আবির নিরার কাছে এসেছে, নিরা আবির কে দেখে, আবিরের কোলে গিয়ে কান্না শুরু করে।

__ এতো টেনশন করো না নিরা, দেখিও বাবা ঠিক হয়ে যাবে। ( আবির)

__ এতোদিন পর বাবাকে দেখলাম আর বাবা কিনা ( কথা বলতে পারেনা কান্নাতে) ( নিরা)

__ সব ঠিক হয়ে যাবে, চুপ করো, একটু ধৈর্য ধরো প্লিজ। ( আবির)

__ বোনের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছেনা, বার বার জ্ঞান হারাচ্ছে। আর এখন জ্ঞান গেছে ফিরছেনা, পাসের কেবিনে ভর্তি করা হয়েছে। ( নিরা)

__ আমি সবাইকে বলে দিয়েছি, স্পেশাল কেয়ার নিবে সবাই। দেখিও সবাই সুস্থ হবে, এখন ভেঙে না পড়ে দোয়া করো। এটাই সবার জন্যই মঙ্গল জনক হবে। ( আবির)

এইভাবে ১০ দিন পার হয়ে যাচ্ছে কিন্তু অবস্থার উন্নতি কারোর ই হয়নি। তুষার আই সি ইউ তে অজ্ঞান হয়ে আছে, সব রকম চিকিৎসা তার চলছে। আর তৃণার জ্ঞান ফিরলেও কথা বলা বন্ধ হয়ে গেছে, শুধু সবার দিকে তাকিয়ে থাকছে, মাঝেমাঝে একা একাই কথা বলছে। আর হেনার কথা অনুযায়ী মাসুদ ই তুষার এর সব ব্যবসা দেখছে।

__ তৃণাকে নিয়ে কি করবে এখন ( নিরা)

__ ওকে একবার সাইকোলজিস্ট এর কাছে নিয়ে গেলে ওর জন্যই ভালো হতো। ( আবির)

__ কি বলছো? বোন কি পাগল নাকি। ( নিরা)

__ পাগল হয়নি, মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছে। আর এর চিকিৎসা এখনি না করালে ওর আরোও ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। ( আবির)

__ কার কাছে নিয়ে যাবে? ( নিরা)

__ সব চেয়ে বড় সাইকোলজিস্ট তো সাইফ আহমেদ। কিন্তু…. ( আবির)

__ কেনো উনার কাছে নিলে নিবে কিন্তু কেনো বলছো। ( নিরা)

__ নাহ কিছুনা, পরে একসময় বলবো। তৃণার জন্য উনার কাছে কাল ই এপোয়েন্টমেন্ট দিয়ে রাখি তাহলে। ( আবির)

মাসুদ কে এখন অনেক কাজ সামলাতে হচ্ছে। এতো বড় বিজনেস অন্য কারো হাতে দিলে শুধু লস ই খাবে। তাই নিজেই সব চালাবে ভাবে, বোনদের অংস তার অংশ সব কিছুই এখন তাকেই ম্যানেজ করতে হচ্ছে। আর হেনা একবার তুষার এর কেবিনের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদে আবার তৃণার সামনে গিয়েও কাঁদে ?।

,
,
আবির নিরা এসেছে সাইকোলজিস্ট সাইফ আহমেদ এর কাছে। তৃণা অনেক ডিপ্রেশন আছে সেটা ডাঃ সাহেব বললেন।ভিতরে রোগীর সাথে একজন যাবে তাই আবির বাইরে বসে থাকে আর নিরা ভিতরে যায়। তৃণার হয়ে নিরাই সব কথা বলে ডাঃ কে। ডাক্তার সাহেব দুই বোনের দিকেই তাকিয়ে আছে, দুইজনে ই হুবহু দেখতে আর অসম্ভব সুন্দরী দুইজন।

ডাক্তার ১৫ দিনের ঔষধ দিয়েছে তৃণাকে। আর ১৫ দিন পর তৃণাকে আবার দেখতে চায়। আবির, নিরা,আর তৃণাকে নিয়ে তৃণাদের বাসায় যায়। ( আসলে তৃণাকে জানতে দিবেনা তাই তুষার বলেছিলো এটা ভাড়া বাসা, কিন্তু এটা তুষার এর ই বাসা। )

মাসুদ ও বিজনেস সামলানোর জন্য এই বাড়িতেই থাকছে। আর মাহমুদ কে দেখার জন্য তো নার্স থাকেই সেটা নিয়ে মাসুদের কোন মাথা ব্যথা আর নাই।

তুষারের অবস্থা ভালো হয়নি এখনো, লাইফ সাপোর্ট এ বেঁচে আছে ২৫ দিন হয়ে গেলো। তৃণা ঔষধ খেয়ে একটু কথা বলছে সবার সাথে কিন্তু কিছুক্ষণ পর পর ড্যাডি তুমি কোথায় বলে কান্না করে আবার চুপ হয়ে যায়। এখন একটু হলেও মা বোন কে চিনতে পারছে তৃণা। কিছুদিন তো নিরাকে ওর আয়না ভাবতো। নিরা সামনে গেলেই ভাবতো ওর আয়না এসেছে। তাই নিরা কে বলতো ” আয়না তুমি হাটতে পারো?” অনেকটা ছোট বাচ্চার মতো হয়ে গেছে তৃণা এখন।

নিরাও তৃণাকে নিয়ে খুব চিন্তিত, এতো দিন পর বাবা আর বোন কে পেয়ে বাবা হাসপাতালে আর বোন কিনা পাগল হয়ে যাচ্ছে।

এতো সব টেনশনে নিরা আবিরকে এতোটুকু সময় ও দিতে পারেনা। আজ আবিরের অনেক গুলি ক্লাস নিতে হবে তাই আবির নিরাকে সঙ্গ দিতে পারেনি। নিরা একাই তৃণাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যায়।
,
,
(#কাল ও ভাইবা আছে ???, আজ ভাইবা দিয়ে এসে ঘুমিয়ে গেছিলাম, আবার উঠে গল্প লিখে পোষ্ট দিলাম আপনাদের জন্য)

চলবে…..

প্রতিশোধ পার্ট_12

প্রতিশোধ
পার্ট_12
জামিয়া_পারভীন

মায়ের জীবনের গল্প শুনে দুই মেয়ের চোখে জল ছিলো। নিরা মায়ের কাছ থেকে উঠে গিয়ে বাবা বলে জড়িয়ে ধরে তুষার কে।

__ আমাকে ক্ষমা করে দিও, এতো দিন নিজের আরেক মেয়েকে আদর দিই নি তাই। ( তুষার নিরাকে বলে)

__ ড্যাডি, আমি যে আমার বাবা কে ফিরে পেয়েছি এটাই অনেক। ( নিরা)

__ আর আমার বাবা না বুঝি? ( তৃণা)

__ “তৃণা আমায় যখন তোমার কথা বলেছিলো তখনই বুঝেছিলাম তুমি জমজ বিধায় একই রকম হয়েছো। কিন্তু যখন তৃণা তোমার বর কে চায় তখন খুব কষ্ট পেয়েছিলাম যে দুইটা মেয়ের সব পছন্দ একই কেনো হলো। এরপর আর দেরি না করেই চলে আসি তৃণার কাছে। আবির সম্পর্কে সব খোঁজ নিই, আগে আবিরের মম ড্যাডের সাথে দেখা করে তাদের সব খুলে বলি। এরপর তৃণাকে খুশি করতে আবির এর কাছে তৃণাকে জেতে দিলেও সব ঘটনা আবির কে খুলে বলি বিয়ের অনুষ্ঠান এর দিন রাত্রেই । তাই আবির খুব একটা টেনশন করেনি তোমাকে নিয়ে। ” নিরাকে এই কথা গুলি বলেই তৃণাকে বলে ” আমাকে ক্ষমা করিও, আমি চাইনি তুমি তোমার বোনের স্বামী কে ভালোবাসো। যাই হোক নিজের ভুল বুঝতে পেরেছো এটাই অনেক। ”

__ সরি বাবা, মাফ করে দিও বোন। ( তৃণা দুইজনকেই বলে)

অনেক রাত হওয়াতে দুই বোন গল্প করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ে এক বেডে ই। আরেকটা বেডে তুষার আর হেনা বসে গল্প করতে করতে সকাল হয়ে আসে সেই খেয়াল নেই তাদের। পুরানো ভালোবাসা যেন ফিরে এসেছে, সব ভুল বুঝাবুঝি দূর হয়ে গেছে যেন। হেনা কথা বলতে বলতে তুষার এর কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে। আর তুষার ও পুরনো ভালোবাসার মানুষ এর মাথায় হাত রেখে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলো।৷

দরজা লক করা ছিলো না তখন ই মাসুদ এসে মা কে অন্যলোক এর কাঁধে মাথা রাখতে দেখে রাগান্বিত হয়ে যায়।

__ বাহবাহ! আহহ! কি প্রেম, আমি আগে জানতাম না আমার মা চরিত্রহীনা। ( হেনার ছেলে মাসুদ)

হেনার ঘুম ভেঙে যায়, নিরা তৃণাও এক সাথেই জেগে উঠে । সবাই শুনতে পায় মাসুদ এর জঘন্য কথা টা। এটা শুনেই হেনার চোখে পানি চলে আসে।

__ তুমি না জেনে মা কে দোষ দিতে পারোনা ভাই। ( নিরা)

মাসুদ কখনো নিরাকে সহ্য করতে পারতো না। আর আজ তো আরোই সহ্য হচ্ছেনা ।
__ তুই চুপ থাক, নিজের মাকে একটা লোকের পাশে দেখে তোর খারাপ না লাগতে পারে আমার ঘৃণা হচ্ছে। ( মাসুদ)

__ ওই লোকটাই আমার বাবা। আর আমার মা ও কোন দোষ করেনি। ( নিরা)

__ আরেহ বাহ! একটা অচেনা লোক এখন তোর বাপ হয়ে গেলো । কি ক্যারেক্টার তোদের মা মেয়ের ( মাসুদ)

__ তোমার চরিত্র দেখি তোমার বাবার মতো ই হয়েছে। না বুঝেই অন্যকে দোষারোপ করছো? ( নিরা)

__ এই চুপ করো তোমরা, এটা হাসপাতাল, এখানে এমন করতে নেই।
বাবা মাসুদ তোমার সাথে জরুরী কিছু কথা আছে। বাইরে এসো সব বুঝিয়ে বলছি। ( তুষার)

__ এই লোক আপনি চুপ থাকেন,
এরপর নিজের মা কে বলে, আর আপনার মতো মহান মা কে যেন আমাদের বাড়িতে আর না দেখি। ( মাসুদ)
এটা বলেই মাসুদ বের হয়ে চলে যায় ওদের কেবিন থেকে।

হেনা এইসব শুনে প্রচুর কান্না করে, এরপর তৃণা মাকে কে জড়িয়ে ধরে অনেক কাঁদে। তৃণা খুব জেদী ছিলো আর এইসব দেখে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছেনা। একটু অস্বাভাবিক আচরণ বেড়েই চলেছে তৃণার।

তৃণা বাবার সাথে জেদ ধরে মাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যাবে, হাসপাতালে আর থাকবেনা সে। তাই তুষার সব বিল মিটিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। আবির কেও জানিয়ে দেয় তুষার, দুই বোন আজকের দিন একসাথে থাকতে চেয়েছে। তাই আবির আর নিরাকে নিতে যায় না, শুধু ফোন করে নিরা কে।

__ হ্যালো, মাই ডিয়ার ওয়াইফ। বাবা মা আর বোন কে পেয়ে মনে হয় আমায় ভুলেই গেলে।

__ কি যে বলেন না আপনি, আপনাকে ভুলি কেমন করে। তবে ( কথা গুলি মন খারাপ করে বলে নিরা)

__ কি ব্যাপার এতো মন খারাপ কিসের জন্য? ( আবির)

__ আপনি কেনো যানি সব কিছুই আগে আগে বুঝে ফেলেন। ( নিরা)

__ তোমার মতো তো আর পঁচা নই, ভালোবাসি তোমাকে, বুঝতে হবে। যাই হোক কি হয়েছে বলো? ( আবির)

__ নিরা ভাইয়ের কথা খুলে বলে আবির কে। এরই মাঝে তৃণা এসে ফোনের কাছে মুখ নিয়ে বলে, সরি দুলাভাই, আপনার থেকে আপনার বউকে ছিনিয়ে আনা উচিৎ হয়নি। খুব মিস করছেন বুঝি বউকে?
তিন জনই হেসে উঠে এই কথাতে।

এদিকে বাসায় সবাইকে নামিয়ে দিয়েই তুষার কি যেনো কাজে গেছে। তাই হেনা দুই মেয়ে আর সাইরার সাথে গল্প করছেন। আর এদিকে মাসুদ মনে মনে খুবিই রেগে আছে। বাবার পাসে গিয়ে বলে প্রতিজ্ঞা করে, মায়ের এমন প্রতারণার প্রতিশোধ সে নিবেই।

তুষার নিজের ভুলের জন্য কিছু কাজ করে কোর্ট এ গিয়ে। বাসায় এসে একটা চিঠি লিখে মাসুদের নামে। সেটা আবার পাঠানোর ব্যবস্থা করে এসে খাওয়া শেষ এ ঘুমিয়ে পড়ে।

এক দিন নিরা মা আর বোনের কাছে থাকার পর আবির এসে নিরা কে নিয়ে যায়। তৃণা আর ওর মা থাকে আর সাইরা আছে। তিনজন বসে গল্প করছিলো এইসময় একটা খারাপ নিউজ আসে বাসায়। এতে তৃণা আর হেনা দুইজনেই কান্নায় ভেঙে পড়ে। তাড়াতাড়ি হাসপাতালে যায় দুইজন, ঐদিকে নিরা আর আবির কেও ফোন দিয়ে জানায় খারাপ সংবাদ টার কথা। নিরা এটা শুনে খুব কষ্ট পায় আর তাড়াতাড়ি হাসপাতালে ছুটে যায় আবির কে সহ।

মাসুদের কাছে চিঠি আসে, ঠিকানা নাই তাও সে সেটা খুলে পড়তে শুরু করে। তুষার মাসুদ কে সব কিছু জানিয়ে দেয় সেই চিঠি তে। এমনকি তুষার এর জন্য মাহমুদ এর যতটা সম্পত্তি লস হয়েছে সেগুলোর সম পরিমাণ সম্পত্তি মাসুদের নামে লিখে দেয় তুষার।

মাসুদ সব কিছু পড়ে নিজের ভুল বুঝতে পারে। কিন্তু ততোক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে তার, ক্ষমা চাওয়ার ও আর সুযোগ নেই মাসুদের। কি করবে বুঝতে না পেরে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ে মাসুদ।

( রহস্য টা কালকের জন্যই রেখে দিলাম, কাল আরেকটা ভাইবা পরীক্ষা আছে। কাল সন্ধ্যায় বড় করে লিখে গল্প পোষ্ট দিবো। আগামী পার্টে গল্পে নতুন কিছু আসছে, তাই ধৈর্য ধরে কাল পর্যন্ত অপেক্ষা করুন সবাই।)

চলবে…….

প্রতিশোধ পার্ট_11

প্রতিশোধ
পার্ট_11
#জামিয়া_পারভীন

হেনার সাথে তুষারের কয়েকবার দেখাদেখি হলেও কেউ কথা বলছে না কারোর সাথে। হেনা তার ছেলে মাসুদ কে বলে ঘরে তার বাবা মাহমুদ একা আছে। তাই মাসুদকে পাঠিয়ে দেয়।

হেনা আবির কেও বাড়ি পাঠিয়ে দেয়, আবির আর কিছু মনে না করে বাসায় চলে আসে। দুই মেয়ে এক কেবিনেই আছে, দুই মেয়ের মাঝে বসে আছে হেনা। আর এক পাশে বসে আছে তুষার।

__ জানিনা, দুই মেয়েকে কি এমন বলেছো? তাই তারা দুইজনে ই জ্ঞান হারিয়েছে। ( হেনা)

__ পুরো টাই তোমার উপর দোষ চাপিয়েছি হেনা। চিন্তাও করিও না তৃণা কখনো তোমার মুখ দেখতে চাইবেনা। ( তুষার)

__ আর কতো শাস্তি দিবে তুমি আমাকে? ( হেনা)

__ কখনো মন ভরবে না ( তুষার)

__ তুমি তোমার দুই মেয়েকে নিয়ে চলে যাও, আর পারছিনা সহ্য করতে আমি ( হেনা)

__ এমন করে বলতে নেই, ওরা তো তোমার ও মেয়ে। ( তুষার)

__ হ্যাঁ, আমার মেয়ে, শুধু জন্ম দিলেই মা হওয়া যায়না। যখন ওরা জানতে পারবে তখন কেউ আমার মুখ দেখতে পারবেনা। কিন্তু আর সব সহ্য করতেও পারছিনা। এবার সব বলে দিয়ে সবার জীবন থেকে চলে যাবো। ( হেনা)

__ ভুলেও এই কাজ করিও না, নিজের সাথে সাথে আমার মুখ টাও কালি করে দিতে তুমি পারোনা। ( তুষার)

নিরার জ্ঞান ফিরে আসে ওই মুহুর্তে, আর মাকে জিজ্ঞেস করে…

__ কিসের সত্য কথা মা, কি গোপন রেখেছিলে এতো দিন, আর কিছু লুকিয়ে রেখোনা, সব বলে দাও, দয়া করে। ( নিরা)

ওইদিকে তৃণার ও জ্ঞান ফিরে আসে, হেনাকে মা বলে ডেকে উঠে। দুই মেয়েকে দুইপাশে নিয়ে বসে আছে হেনা।

__ আমি জানি আমার মা খারাপ না। ( নিরা)

__ আমার ড্যাডিও খারাপ না, বিশ্বাস করিনা ( তৃণা)

__ কি হয়েছিলো সব খুলে বলোনা মা। ( তৃণা ও নিরা একসাথে বলে উঠে)

হেনা নিজের সব কষ্ট ভুলে বলতে শুরু করে দুই মেয়েকে আর পাশে তুষার মাথা নিচু করে বসে থাকে।

হেনা : আমি ক্লাস নাইন থেকে তুষার এর প্রেমে পড়ি। প্রেম এতো টাই গভীর ছিলো যে কেউ কাউকে ছেড়ে থাকার কল্পনাও করতাম না।

তুষার : দুজনে সংসার করার স্বপ্ন দেখতাম , এক সাথে ঘর বাধার স্বপ্নে সব সময় বিভোর থাকতাম। এভাবেই স্কুল শেষ করে কলেজে উঠি। সেখানে ও একসাথে ভর্তি হই। সব ক্লাস একসাথে করতাম, প্রাইভেট ও একই সাথে পড়তাম । এক সাথে ঘুরতে যেতাম , কতো রঙিন স্বপ্ন ছিলো দুইজনের চোখে।

হেনা: হ্যাঁ! ভালোবাসা এতো ই গভীর ছিলো, কখনো চিন্তা ও করিনি একে অন্যকে ছাড়া থাকতে হবে।

তুষার : এভাবেই আমরা অনার্স এ ভর্তি হই। দুইজন একসাথেই বিশ্ববিদ্যালয় এ চান্স পাই। বেশ খুশিই ছিলাম দুইজনে, কিন্তু সুখ বেশিদিন টিকলো না আর। হটাৎ ই হেনা মিসিং হয়ে যায়। আমি অনেক চেষ্টা করেও আর যোগাযোগ করতে পারিনি।

হেনা : সেদিন বাসায় জানতে পারে আমি তুষারের সাথে রিলেশন করি। সেদিন বাবা খুব মেরেছিলো, এখনকার মতো তো আর তখন ফোন ছিলো না। ঘরে দরজা লাগিয়ে বন্দী করে রাখে। অনেক কেঁদেছিলাম সেদিন, কেউ আসেনি চোখের পানি মুছে দিতে।

তুষার : এসব কথা তো আগে বলোনি।

হেনা: বলবো কিভাবে, জানতেই পারতাম না কখন সকাল আর কখন রাত হতো। সব সময় বন্দী থেকে থেকে অতিষ্ট হয়ে গেছিলাম। হটাৎ একদিন মা এসে বলে গেলেন আমার বিয়ে। আমি না দেখেছি বর না দেখেছি ঘর। তুষার কে ছাড়া আমি নিজেকে কল্পনা ও করতে পারতাম না তখন। আমার অনিচ্ছায় বিয়ে হয়ে যায় মাহমুদের সাথে। বিশাল ব্যবসায়ী সে, বাড়ি, গাড়ি , টাকা, ধন দৌলত সবিই ছিলো। কিন্তু আমি কখনো সুখী ছিলাম না। আমি শুধু তুষার কেই ভালোবাসতাম। বিয়ের রাতেই মাহমুদ এসে বলে, সে সব জেনে শুনেই বিয়ে করেছে। সে আমাদের প্রেমের কথা বাবাকে বলে দেয়৷ আর সে প্রেমের কথা সমাজে রটিয়ে দিবে এই ভয় দেখিয়ে বিয়ে করে আমাকে। বিয়ের পর থেকে শুরু হয় মানসিক, শারিরীক নির্যাতন। নির্যাতন সহ্য করতে করতেই একটা বছর পার হয়ে যায়। এক বছর পর আমি জানতে পারি আমি অন্তঃসত্ত্বা। কিন্তু নির্যাতনের মাত্রা কমেনি, কারণ আমার জীবনে অন্য ছেলে ছিলো । মাহমুদ কখনো ই বিশ্বাস করতো না আমাকে। মার খেয়ে খেয়েই মাসুদের জন্ম হয়, তাও আমাকে শুনতে হয়েছে মাসুদ নাকি আমার পাপের ফসল। মাসুদ কে কখনো মাহমুদ নিজের সন্তান হিসেবে মেনে নেয়নি। এতো ই যখন অত্যাচার করার ছিলো তাহলে আমার সুখের জীবন টা নষ্ট করার কারণ আমি আজও খুঁজে পাইনি।

তুষার : এতো কিছু আমাকে কখনো বলোনি কেনো হেনা। ( কান্না জড়িত কন্ঠে তুষার)

হেনা : অবহেলা অনাদরে মাসুদ এর বয়স তখন ৫ হয়। কখনো আমরা মা ছেলে সুখে ছিলাম না। সব সময় সংসার এর কাজ করাতো সে আর আমার একটু অসাবধানতা হলেই লাত্থি ঝাটা আমার যেন পাওনা হয়ে গিয়েছিলো। কিছুদিনের মাঝেই জানতে পারি মাহমুদ পর নারীতে আসক্ত। এই কথাটা আমাকে মোটেও অবাক করেনি কারণ যার নিজের চরিত্র খারাপ সেইই অন্যকে খারাপ ভাববে।

এভাবেই মাসুদ এর বয়স ৬ বছর হয়ে যায়, মাসুদ তখন আমার মার আর নিজে মার খেয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। একদিন সকাল বেলা জানতে পারি মাহমুদ এর গ্রামের সকল পুকুরের মাছ এক সাথে বিষ খেয়ে মারা গেছে। ৫ টা পুকুরে মাছ ছিলো, এক দিনে এতো লস খেয়ে মাহমুদ পাগলের মতো চিৎকার করতে থাকে। সেদিন জিজ্ঞেস করাতে আমাকে কুকুরের মতো পেটায়। বলে আমার জন্য তার লস হয়েছে।

মুখ বুজে মার সহ্য করে ছিলাম, এরপর সেদিন দুপুরবেলা খবর আসে মাহমুদ এর তিনটা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি তে আগুন লাগে। একদিনে শত কোটি টাকা লস খাত মাহমুদ। এতো লস খেয়ে কিছু করতে না পেরে বাড়িটা বন্ধক রেখে লোন তুলে আবার বিজনেস শুরু করবে ভেবে। কিন্তু পার্টনার এবার ধোকা দেয়। সব টাকা মেরে নিয়ে পালিয়ে যায়। সেদিন লোনের টাকা দিতে না পেরে এক মাসের মাঝে আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়। বাড়ির বাইরে আমি আর মাসুদ বসে ছিলাম তখন খবর আসে মাহমুদ অনেক ড্রিংক্স করে গাড়ি চালাতে গিয়ে এক্সিডেন্ট করে।

তুষার : এই সব ক্ষতির পিছনে আমিই ছিলাম।

হেনা : কিহহহহ! ( বেশ অবাক হয়)

তুষার : তোমার ধোকা পেয়ে নিজেকে প্রতিশোধ এর আগুনে জ্বলিয়ে নিয়েছিলাম । তাই, কিন্তু জানতাম না তুমি কতো কষ্ট পেয়েছো। শুধু নিজের কষ্ট দেখেছিলাম, আর কিছুই দেখিনি।

হেনা: এরপর একটা লোক এসে চিঠি দিয়ে যায়। চিঠি তে একটা ঠিকানা ছিলো, উপশহর এর একটি বাড়ির ঠিকানা । সেখানে স্পষ্ট লিখা ছিলো আমি যেনো একা যায়। মাসুদ কে হাসপাতালে বাবার পাশে এক নার্সের দায়িত্বে রেখে সেই ঠিকানা তে যায়। যা দেখলাম বেশ অবাক হয়ে গেছিলাম আমি। এ যে আমার তুষার , এতো বছর পর সামনে দেখে হাসবো কি কাঁদবো না বুঝে হতাশ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম।

তুষার আমায় অবাক করে দিয়ে বলে “এখন তোমার অনেক বিপদ তাইনা হেনা

আমি কিছু না বলেই কেঁদে ফেলি। সে কিছুই না বলার সুযোগ দিয়ে বলে সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে একটু ত্যাগ করলে। তুষার সেদিন মাহমুদ এর সব চিকিৎসা খরচ দিতে চায়। বিনিময়ে একটা শর্ত আছে, মাহমুদ কে ডিভোর্স দিতে হবে। কিন্তু এই ডিভোর্স এর কথা কেউ জানবে না কখনো। আমি কথা বলতে পারিনি, ডিভোর্স পেপার রেডিই ছিলো। সেখানে অনেক ভেবে সাইন করে দিই। কয়েকটা সাইন করে দিয়ে চলে আসি সেখান থেকে। তুষার মাহমুদ এর চিকিৎসা আর আমাদের মা ছেলের থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। এভাবে আমি তুষারের পাঠানো টাকাতেই চলতে থাকি।

তুষার কখনো তার ঠিকানা আমায় বলতো না। ঠিক সময় মতো টাকা চলে আসতো। এরপর এভাবেই একটা বছর কেটে যায়, ডিভোর্স দেয়া পঙ্গু স্বামী, আর ছেলে কে নিয়ে। মাহমুদ সুস্থ হবার কোন আশাই ছিলো না। তাও তার সেবা করতাম , মাহমুদ কথাও বলতে পারেনা আর, সাথে হুইল চেয়ার ছাড়া চলতে পারেনা। তাই তুষার একজন কাজের লোক পাঠায়। সেই ছেলেই মাহমুদ এর সব সেবা যত্ন করতো।

এরপর একদিন তুষার আমাকে ডেকে পাঠায় এক ঠিকানা তে। আমি যেন পুতুল হয়ে গিয়েছিলাম। তুষার যা বলত তা শুধু করতাম কিন্তু তুষার কে কিছুই বলতাম না। সেদিন তুষার একটা কাগজে সাইন করতে বলে। আমি করে দিই, এরপর চলে আসার সময় আর আসতে পারিনি। তুষার আমায় কাছে টেনে নেয়, কিন্তু সকালবেলা আমাকে বের করে দেয় । এভাবে সে প্রায়ই আমাকে ডেকে পাঠাতো সেই ফ্লাটে। আমি যেতে বাধ্য ছিলাম কারণ আমি পড়াশোনা বেশি করিনি, না করি কোন চাকরি । এভাবে চলার কিছুদিন পর আমি জানতে পারি আমি মা হতে চলেছি। আমি কখনো তুষার কে এই খবর দিই নি । সে নিজেই জেনে নেয়, সব সময় খোঁজ রাখতো সেভাবেই হয়তো।

ডেলিভারি র ডেট এগিয়ে আসে, আত্মহত্যা করতে চেয়েও পারিনা। কারণ সন্তান পেটে নিয়ে মরলে পাপ হবে তাই। জীবন্ত প্রাণ মারতে চাইনি আমি কখনো ই। প্রায় দিনিই চিঠি আসতো যেনো নিজের খেয়াল রাখি। কখনো ই যেন মাহমুদ এর ঘরে না যায়। এরপর যেদিন পেইন উঠে, মাসুদ ই আসেপাশের মানুষ ডেকে হাসপাতালে নিয়ে যায় আমাকে। মাহমুদ অসুস্থ হলেও বেশ ভালো করেই বুঝে গেছিলো আমি আর তার নাই। আমিও তার ঘরে ভুলেও যেতাম না, তাই সে জানতো না আমার মা হবার খবর। নার্স আমায় এসে বলে আমার দুইটা মেয়ে হয়েছে। আনন্দিত হতে পারিনি সেদিন কারণ যাকে একদিন ভালোবাসতাম তার পাপের ফল এই সন্তান।

তুষার: না পাপের না, ওরা দুই বোন আমার বৈধ সন্তান ।

হেনা: কিভাবে?

তুষার : লাস্ট যেদিন একটা পেপার এ সাইন করায় সেটা তোমার আমার বিয়ের পেপার ছিলো। তোমাকে কখনো জানাতে চাইনি রাগের জন্য।

হেনা: এরপর তুষার নার্স দিয়ে একটা মেয়েকে নিয়ে চলে যায়। চিঠি লিখে যায় স্মৃতি হিসেবে নিয়ে গেলাম। ভেবেছিলাম আর কখনো হয়তো খোঁজ নিবেনা। কিন্তু আজ অব্দি আমার সব খরচ ই আসে তুষারের কাছ থেকে।

চলবে……

প্রতিশোধ পার্ট_10

প্রতিশোধ
পার্ট_10
#জামিয়া_পারভীন

রাত্রে বাসায় ফিরে তৃণার হাবভাব দেখেই পুরো ই বুঝে যায় এটা তার নিরা নয়। তাও নাটক করতে থাকে আবির।

__ নিরা, তোমাকে একটা সারপ্রাইজ দিতে চাই। ( আবির)

__ জ্বী বলেন ( তৃণা)

__ আসলে কিভাবে যে বলবো বুঝছি না। ( আবির)

__ ন্যাকামি না করে বলে ফেলুন। ( তৃণা)

__ আসলে, সব দোষ ওই তৃণার, তাই ভুলবশত তোমাকে তৃণা ভেবে ওই কাজ করে ফেলি। টেস্ট এর রিপোর্ট পজিটিভ, মানে তুমি প্রেগন্যান্ট। ( আবির)

__ ( তৃণা খুব ভয় পেয়ে যায়, কি বলছে আবির এইসব, সে তো পুরাই সুস্থ, ধরা পড়ে যাবে সে, ভয়ে ভয়ে বলে) মানে কি?

__ এতো ভয় পাচ্ছো কেনো তুমি? কি হয়েছে?

__ না কিছুনা, সারাদিন অনেক ধকল গেছে এখন ঘুমাবো। ( তৃণা এতো দিন আবিরের কাছে আসার চেষ্টা করেছে আর আজ পালাচ্ছে। সে চেঞ্জ করেই শুয়ে পড়ে বিছানাতে) ( আবির তার পাশে ঘুমাতে গেলে বলে আপনি আমার কাছে আসবেন না দূরে থাকেন। )

আবির এইসব ব্যবহার এ পুরো টা ই বুঝে যায় এটা নিরা না। নিরা আর যাই হোক, নিরার রাগ করার স্টাইল টা আলাদা।
আবির কিছু না বলে পাশের রুমে গিয়ে শুয়ে পড়ে।




নিরা খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে তৃণার ড্রেস পড়ে নেয়। তৃণার বাবা নিচে আগে থেকেই উঠে বসে ছিলো।

__ হাই, ড্যাডি। [ নিরা ]

__ তৃণা তুমি! কখন এলে মামনি? আবির কে ছেড়ে আসা তোমার উচিৎ হয়নি। ( তৃণার বাবা)

__ আরে আরে কি বলছো ড্যাডি, আমি তো কাল রাত থেকেই এখানে আছি। নিজের মেয়ে কেও চিনতে পারো না। সত্যি করে বলো তো আমি কে? ( নিরা)

__ আয়ায়ায়ায়া আমি কিছু জানিনা ( তোতলিয়ে)

__ দেখো ড্যাডি, আমি আমার মা কেও সেইম কথা জিজ্ঞেস করেছি। সেও এড়িয়ে গিয়েছে, এখন তুমিও এড়িয়ে যাচ্ছো। কি সম্পর্ক আমাদের দুইজনের? আমরা একই রকম দেখতে কিভাবে?
( নিরা)

__ আ আ আ আমি সত্যিইইইই জানিইইই নায়ায়া ( তৃণার বাবা)

__ তার মানে আমি ধরে নিলাম তৃণা তোমার মেয়ে না। ( নিরা)

__ নাহহহ! তৃণা আমার ই মেয়ে।

__ তাহলে আমি কে? ( নিরা)

__ তুমি কে, আমি তা জানি। কিন্তু তুমি আমার মেয়ে নও, তৃণা…………. ।

__ তাহলে তৃণা কে? ( নিরা)

[ ঠিক এই সময় তৃণা আবিরের বাসা থেকে পালিয়ে আসে, কিন্তু নিরা আর ওর বাবার কথা শুনতে পেয়ে লুকিয়ে থাকে, কথা শুনতে থাকে লুকিয়ে লুকিয়ে ]

তৃণার বাবা বলতে শুরু করে

__ আমার ক্লাস নাইন এ থাকতে একটা মেয়ের সাথে প্রেম হয়ে যায়। কিন্তু মেয়েটা আমার সাথে ৫ বছর প্রেমের পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। জানিনা তার কি হয়েছিলো, অনেক খোঁজ করার পর জানতে পারি সে বিয়ে করেছে আমার ই বন্ধু কে। আমার প্রচুর কষ্ট হয়েছিলো সেইদিন কিন্তু সব কষ্ট মেনে নেয়ার চেষ্টা করছিলাম। কিছুদিন পর শুনতে পাই তার ছেলে হয়েছে। যে স্বপ্ন আমি দেখেছিলাম সেই স্বপ্ন আজ অন্য কারো সাথে পূরণ করেছে।

আমি আমার বন্ধুকে শত্রু হিসেবে গণ্য করি। প্রতিশোধ এর নেশা উঠে যায় আমার রক্তে। আমার পড়াশোনা শেষ করে বাবার বিজনেস এ হাত দিয়েই শুরু করি প্রতিশোধ এর খেলা। বন্ধু মাহমুদ আর প্রেমিকা হেনার সাথে ভালো ই প্রতিশোধ নিতে পেরেছিলাম আমি।

মাহমুদ এর ব্যবসায় লস করাতে শুরু করি। আস্তে আস্তে সে এতো লস খেয়ে যায় সে রাস্তার ফকির হবার দশা হয়ে যায়। তখন হেনা দ্বিতীয় বারের মতো প্রেগন্যান্ট ছিলো । হেনার জীবন মরণের রাত ছিলো সেইটা, হেনাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেদিন হেনার দুই টা মেয়ে হয়। হেনার জ্ঞান ফিরতে অনেক সময় লাগে। আর তখন ডাক্তার এর বিল যতো হয় সেটা শোধ করার ক্ষমতা ছিলো না মাহমুদ আর হেনার। সেই সুযোগ টাই কাজে লাগাই আমি।

নার্স কে টাকা দিয়ে মাহমুদ এর কাছে পাঠায়। নার্স মাহমুদ কে বলে

নার্স : মিঃ মাহমুদ , আপনার বিল তো অনেক বেশি ( ৫০০০০টাকা)। আর আপনি তা শোধ ও করতে পারবেন না। আর এদিকে একজন পেশেন্ট এর বাঁচামরা অবস্থা। সন্তানের মৃত্যু হয়েছে, আপনি যদি আপনার একটা সন্তান কে বিক্রি করে দিতেন তাহলে তারাও সন্তান পেতো আর আপনারাও টাকা পাবেন।
২ লাখ দিবে বলেছে তারা।

মাহমুদ খুব লোভী হয়ে উঠেছিল তখন তাই নার্স এর সাথে রাজি হয়ে যায়। বিক্রি করে দেয় তার এক মেয়েকে।

আসলে সেদিন আমার স্ত্রী মারা যায়নি, কারণ আমি তো বিয়েই করিনি। শুধু মাত্র প্রেমিকাকে পাপবোধে রাখবো বলেই এই সন্তান টা নিয়ে নিই। হেনা খুব কষ্ট পেয়েছিলো সেদিন। নিজ সন্তান কে মাহমুদ বিক্রি করে দেয় বলে আজও মাহমুদ কে ক্ষমা করেনি হেনা। আর তৃণা কে নিয়ে আমি চলে গিয়েছিলাম ঢাকা। কখনো এই শহরে আনতে চাইনি, কিন্তু তৃণার মেডিকেল এ পড়ার জেদের জন্য তাকে আনতে আমি বাধ্য হই।

__ আর আপনার সেই মেয়ের জন্যই আমাকে রেপ এর স্বীকার হতে হয় ( কান্নার কণ্ঠে নিরা) আপনাদের প্রতিশোধ এর আগুনে আমাদের জীবন টা জ্বলে গেলো। আজ এক বোন আরেক বোনের সংসার নষ্ট করতে গেছে। আর আপনিও তাতে সাই দিয়েছেন। আমি তো আবির স্যার কে বিয়ে করতে চাইনি। আপনার মেয়ের জন্য আবির আমার সাথে যে অন্যায় করেছে তার জন্য ক্ষমা আবির কে কখনো করবোনা। আর তৃণাকেও কখনো ক্ষমা করবোনা।

__ ( আড়াল থেকে তৃণা বের হয়ে আসে)
আমি সব শুনেছি ড্যাডি, আমি তোমার মেয়ে না। ( কান্না করে খুব)

__ নারে মা, তুমি আমার মেয়ে ছিলে থাকবে। ( তৃণার বাবা)

__ নাহ, তুমি আমার বাবা না, তাছাড়া তোমার জন্য আমি কাল নিজের মা কে অপমান করেছি। ( তৃণা)

নিরাকে তৃণা বলে

__ আমি ভেবেছিলাম জোর করে ভালোবাসা হয়। কিন্তু না, আমি জোর করে ভালোবাসা পেতে গিয়ে বুঝেছি সেটা আমার জন্য না। আবির স্যার তোমাকে খুব ভালোবাসে নিরা। আমি চলে এসেছি ওই বাসা থেকে। তোমার ভালবাসা তোমারি আছে, তুমি আর তোমার সন্তান মিলে স্যারের সাথে সুখেই থাকিও নিরা।

__ জানি আবির আমায় ভালোবাসে বোন। বলে তৃণাকে জড়িয়ে ধরে নিরা।

তৃণা এতো সত্যি কথা জানার পর পাগলের মতো আচরণ শুরু করে, এরপর অজ্ঞান হয়ে যায়। তৃণার বাবা খুব কান্নায় ভেঙে পড়ে। নিরা, তৃণার বাবা তুষার, সাইরা মিলে তৃণা কে হাসপাতালে নিয়ে যায়। নিরা আবিরকে ফোন দেয়, মা আর ভাইকেও ফোন দেয় নিরা। সবাইকেই সব খুলে বলে ফোনে।

আবির নিরার কাছে আসতেই আবির এর কাঁধে মাথা রেখে কাঁদতে শুরু করে নিরা।

__ নিরা, এতো ভেঙে পড়িও না সব ঠিক হয়ে যাবে। ( আবির)

__ এতো গুলো সত্য কথা আমি হজম করতে পারছিনা। ( নিরা)

__ আহহ সব মানলাম, তৃণার বাবা যা বলেছে তাতে তৃণা তোমার বোন। কিন্তু তোমার মায়ের কাছেও তো সব শুনা উচিৎ তাইনা। হয়তো উনি বানিয়ে বানিয়ে বলেছে। ( আবির)

__ হ্যাঁ হতে পারে আবির, আপনি ঠিক বলেছেন। আমি মায়ের কাছে এর জবাবদিহি চাইবো। ( নিরা)

__ এখন একটু চোখ টা মোছো। (আবির)

__ কাল আমি ছিলাম না আপনার পাশে ( নিরা)

__ জানতাম, সেটা তৃণা বুঝে ফেলে চলে আসে। ( আবির)

__ আমার জন্য টেনশন করেন নি, যদি বিপদ হয়ে যেতো। ( নিরা)

__ নাহ, কেনো জানি মনে হচ্ছিলো তুমি সেফ আছো। ( আবির)

__ হুম সেফ ই ছিলাম , উনি আমাকে নিজ মেয়ের মতো যত্ন করেই রেখেছিলো। ( নিরা)

__ আচ্ছা এসব বাদ দাও, তুমি কেমন আছো সেটা বলো। ( আবির)

__ আমি, আপনার সন্তান সবাই সেফ আছি। ( নিরা)

__ তুমি জানতে এই কথা ( আবির)

__ আপনি রিপোর্ট আলমারি তে লুকিয়ে রেখেছিলেন সেখানে দেখেছিলাম। কাউকে কিছুই বলিনি কারণ এটা গর্ব করার বিষয় নয়। ( নিরা)

__ ওভাবে বলিও না, এটা আমাদের ভালোবাসার সন্তান । সব ভুলে যাও নিরা, শুধু শুধু কষ্ট বাড়বে। ( আবির)

__ হু ( নিরা)

নিরা মা, ভাই আসে হাসপাতালে । নিরার কাছে সব কিছু শুনে, তৃণা তার বোন তখন নিরার মা মুখ লুকিয়ে ফেলে। নিরার মা এতো দিন পর তার পুরনো প্রেমিক কে দেখে অবাক হয়ে যায়।

__ তুমি ( হেনা)

__ চিনতে পেরেছো তাহলে ( তুষার)

__ না চিনার কি আছে ( হেনা)

__ প্রতারক তুমি, তোমার ভুলে যাওয়ার ই কথা। ( তুষার)

__ আমাকে প্রতারক বলার আগে উচিৎ ছিলো আমার সাথে কি হয়েছিলো সেটা জানা। ( হেনা)

__ আহহ মা ( নিরা) বাদ দাও তো , যা হবার হয়ে গেছে। পরে কথা বলিও, এখন এসব কিছুই ভালো লাগছেনা ।

নিরা সকাল থেকে না খেয়ে এসব টেনশন এ সেও জ্ঞান হারায়। আবির নিরাকে ভর্তি করিয়ে দেয় কেবিবে। দুই বোন দুই কেবিনে ভর্তি হয়ে আছে, আর বাইরে সবাই চিন্তিত ।

#বিঃ_দ্রঃ ( আরও অনেক গুলি পর্ব হবে গল্প টার অনেক প্রেম কাহিনী ও আছে। আমার ৫ তারিখ এক্সাম আছে । এর আগে আর লিখতে পারবোনা। ফেসবুকে ও আসবোনা এই তিন দিন। তাই বাকি পর্ব দিবো এক্সাম শেষ করে ৫ তারিখ সন্ধ্যায়। ভোট এর জন্য এক্সাম আটকিয়ে আছে। একটু ধৈর্য সবাইকে ধরতেই হবে )

চলবে……….