খেলাঘর পর্ব-২৯
লেখা-সুলতানা ইতি
মিথিলা এখন ও বাসায় এসে পৌছয়নি
নির্ঝরিণী কখন বোনের কাছে কথা গুলো বলবে সে জন্য ছটফট করছিলো
এর মাঝে আয়ান এসে নির্ঝরিণী কে পোচাতে শুরু করলো
আয়ান- এই নির কোথাও তোর গান আয়াপ খানের অপছন্দ হয়নি তো,তাই তোকে বকা দেয়ার জন্য তার ঠিকানা দিয়ে গেছে
নির্ঝরিণী – ভাই ভালো হচ্ছে না,উনি কিন্তু আমায় কোকিলা কন্ঠি ও বলেছেন
আয়ান- কি বলিস তো, তুই তো অনেক মানুষের সামনে তোর বেসুরা বাঁশি বাজিয়েছিস তাই তিনি তোর মান রক্ষার্তে তোর একটু প্রশংসা করলো আর কি
নির্ঝরিণী কিছু বলতে যাবে তখন ই দরজায় নক হয়
নির্ঝরিণী দরজা খুলে দিলো
মিথিলা ঘরে পা দিতেই নির্ঝরিণী বল্লো
জানো আপু আজ কি হয়েছে
মিথিলার ক্লান্তিতে শরির ভেঙে আসছিলো,বোনের এই হাসি মুখ দেখে ক্লান্তি কে প্রশ্রয় না দিয়ে বল্লো
– না বললে জানবো কি করে
আয়ান- আপি আমি বলছি,আজ আমাদের বাঁশি ওয়ালী তার বেসুরা সুরে বাঁশি বাজিয়েছে শিল্পি আয়াপ খানের মঞ্চে
মিথিলা অবাক হয়ে বল্লো
নির্ঝর কবে থেকে বাঁশি বাজানো শিখলো
নির্ঝরিণী – আপি তুমি ভাইয়ের কথা শুনো না তো
আয়ান- আরেহ আপু শুন না,মানে গান গেয়েছিলো আর কি,তো আয়াপ খনা ওর সম্মান বাছানোরর জন্য একটু প্রশংসা করেছিলো এই আর কি
নির্ঝরিণী – এবার আমার কিছু বলি আপু,আজ আমাদের লাজুক রোমিও…..
আয়ান – নির প্লিজ আপু কে কিছু বলিস না তোকে ক্যাটবেরি দিবো,অনেক গুলো আইসক্রিম দিবো
নির্ঝরিণী – আপু দেখো আমাকে ঘুষ দিতে চাচ্ছে কিন্তু আমি তো ঘুষ নিবো না,আমি আজ বলবো ই
মিথিলা- আসল কথা বল
নির্ঝরিণী – আজ আমদের রোমিও প্রথম বারের মতো তার জুলিয়েটের সাথে কথা বলেছে তা ও কি লজ্জা ই না পাচ্ছিলো, অবশ্যইই জুলিয়েট ও লজ্জা পেয়েছিলো,কিন্তু আমাদের রোমিও ভেবেছে আমি কিছুই দেখিনি তাই সে এতোক্ষন আমাকে পচাইতেছিলো নিশ্চিন্তে
আয়ান- মাথা নিচু করে আছে
মিথিলা- আর তুই কি বলতে ছেয়ে ছিলি
নির্ঝরিণী আয়াপ খানের সব কথা বলে
মিথিলা সব কথা শুনে শান্ত আর কঠোর কন্ঠে বললে
নির্ঝর, আয়ান,তোদের দুজনকে ই বলছি
এই সময় টা পড়াশুনায় ফোকাস করার সময়,সামনে এস. এস.সি এক্সাম সেদিকে যেন খেয়াল থাকে
আর নির্ঝর তোকে বলছি এই সব সেলিব্রেটিদের কথায় এতো নাচার কিছু নেই, এদের টাকা আছে এরা সব করতে পারে, আমরা খুব ই সাধারণ পরিবারে মানুষ হয়েছি সেটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে, মনে থাকবে?
নির্ঝরিণী আর আয়ান দুজনেই মাথা নাড়িয়ে শায় জানালো
মিথিলা ফ্রেশ হতে চলে গেলো,,
– নায়া কোথায় তুমি? তাড়াতাড়ি বাসায় এসো,হুমম আমি এসেছি অনেক্ষন হলো
কথা শেষ করে ইভান কল অফ করে দিলো অফিস শেষ করে ইভান বাসায় এসে দেখলো নায়া নেই তাই ওকে কল করে আসতে বল্লো
উফফ খিধে পেয়েছে খুব, দেখিতো রান্না করা আছে কি না, একি কিছু ই তো রান্না করা নেই, ইভানের মেজাজ গরম হয়ে যায়
সন্ধ্যা লগ্নে নায়া বাসায় এলো
ইভান- কোথায় গিয়েছিলে?
নায়া- এক বন্ধুর সাথে দেখা করতে গেছি
ইভান – ইদানীং তোমার বন্ধু বান্ধবের অভাব নেই দেখছি,হোয়াটএবার রান্না করে যাওনি কেনো
নায়া- আমি কি কাজের বুয়া নাকি যে রান্না করবো,তোমার খিদা ফেলে বাইরে থেকে খাবার আনিয়ে খাইতা
ইভান- বাইরের খাবার খেতে খেতে আমার অবস্থা শেষ নায়া,,আমি আর খেতে পারছি না,কতো দিন বাড়ির রান্না খাই না
নায়া- তো আমি কি করবো? আমি রাঁধতে পারি না,
ইভান- তুমি পারো টা কি? এটা পারো না ওটা পারো না,বাসায় বুয়া রাখতে দিচ্ছো না,বুয়ার পাশে দিয়ে হাটতে তোমার ঘেন্না লাগে, তুমি পারো টা কি
নায়া- হোয়াট, তুমি আমার সাথে এভাবে কথা বলছো কেনো,,
ইভান- নায়া আমি তোমার হাজবেন্ড আমার কিসে ভালো কিসে মন্দ তোমার তা দেখতে হবে
নায়া- উফফ থার্ড ক্লাস হাজবেন্ড দের মতো কথা বলো না তো
এমন সময় নায়ার কল আসে
– হ্যালো বেবী, এই তো বাসায়, ওয়াও আমি আসছি
কল অফ করে নায়া বেরিয়ে যাচ্ছিলো
ইভান নায়ার পথ আটকে দাঁড়ায় কোথায় যাচ্ছো?কে ফোন করেছে
নায়া- রোমি ফোন করেছে
ইভান- এতো রাতে তুমি রোমির বাসায় যাচ্ছো? ইদানীং খুব বেশি রোমির সাথে সময় কাটাচ্ছো মনে হচ্ছে
নায়া- আমি কার সাথে সময় কাটাবো,কার সাথে কাটাবো না সেটা আমার ব্যাপার তুমি এতে ইন্টারফেয়ার করতে এসো না
ইভান- আমি তোমার হাজবেন্ড নায়া তোমার ব্যাপারে ইন্টারফেয়ার করার অধিকার আছে আমার
নায়া- উফফ,আমি তোমাকে সে অধিকার কখনো দিই নি ইভান,শরো তো,রাত নটা বাজে বলছে অনেক রাত, থার্ড ক্লাস মেন্টালিটি
ইভান- বাহ এখন আমার মেন্টালিটি থার্ড ক্লাস হয়ে গেলো,বিয়ের আগে পর্যন্ত তো আমি তোমার চোখে পৃথিবীর সেরা প্রেমিক ছিলাম,আর এখন?
নায়া- তখন তুমি এমন ছিলে না……
ইভান- নায়া তুমি আমার সাথে এমন করতে পারো না,তোমার জন্য আমি আমার ফ্যামেলী ছেড়েছি
নায়া- ওহ আর আমি কিছু ছাড়িনি তাই না,তোমার জন্য আমার ড্যাড মোমের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে আমার একমাত্র ভাই আমায় বোন বলে দাবি করে না
ইভান- কারন তুমি অন্যের স্বামি কে কেড়ে নিয়েছো তাই
নায়া তাচ্ছিল্য হাসি দিয়ে বল্লো
– ভূতের মুখে রাম নাম,তোমার বউ থাকতে তুমি আমার ডাকে সাড়া দিয়েছিলে কেনো,,তোমার চরিত্রে যে দোষ আছে সেটা দেখছো না
ইভান আর কিছু বলতে পারলো না এই ফাকে নায়া বেরিয়ে গেলো, ইভান কিছুই বল্লো না কিই বা বলবো আমি
সব অপরাধ তো আমার ই,মিথিলার মতো একটা মেয়েকে আমি কষ্ট দিয়েছি, আমার পছন্দের খাবার রান্না করে কতো রাত আমার জন্য অপেক্ষা করেছিলো, আর আমি কি না ছিঃ
ইভান সোফায় গা এলিয়ে দিলো বড্ড ক্লান্ত লাগছে মোবাইল টা নিয়ে মায়ের নাম্বার ডায়েল করলো
ওপাশ থেকে মিসেস আয়মন কল রিসিভ করে বল্লো
– কে বলছেন?
ইভান- আম্মু আমি….
কথা শেষ করতে দিলো না ইভান কে
– স্যরি আমাদের কোন সন্তান নেই রঙ নাম্বার
মিসেস আয়মন অপাশ থেকে কল অফ করে দিলো
এটা ই আমার শাস্তি আজ আমি বড্ড একা হয়ে গেছি আম্মু বড্ড একা,
চলবে
ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন