মন পবনের নাও

0
847
#মন_পবনের_নাও তিতলী বানরের বাঁশ বেয়ে ওঠানামার হিসেবে ব্যস্ততার মধ্যেও আঁড়চোখে বারবার স্যারকে দেখছিল । হাসিহাসি মুখে চা খাচ্ছেন , এরই মাঝে অলরেডি দুকাপ হয়ে গেছে । ইতিমধ্যে সমাধানও করে ফেলেছে অংকের , তবুও স্যার বসে আছেন ! আরে বাবা বাসায় যেয়ে এই শীতে লেপের নিচে ঢুকলেই তো পারে । শুধু শুধু ………… বিড়বিড় করে তিতলী । নতুন বছরের প্রথম দিন । বাইরে সবাই কত্ত মজা করছে ! আর ওকে কি-না পড়তে হচ্ছে ! মাসখানেক পরেই তিতলীর এস এস সি পরীক্ষা । স্যার কন্যা সমতুল্য তিতলীকে খুব আদর করেন । এতো ভালোবাসা তিতলী নিতে পারে না । স্যার ওকে বলেছেন ঃ একটু কষ্ট কর মা , তারপরই লম্বা ছুটি। এরপর তো বাঁধাহীন জীবন । কিন্তু তিতলীর এখনই মুক্ত পাখির মতো উড়তে ইচ্ছা করে …….. অসহ্য লাগে সবকিছু । এরই মাঝে দুবার বারান্দায় যেয়ে উঁকি দিয়ে এসেছে । শুভ বিপুলদের দুই গ্রুপ আজ ইংরেজি বছরের প্রথম দিনকে স্বাগত জানাতে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করেছে । পাড়ার সব ছেলেমেয়েরা মাঠে কিংবা ছাদে । আর ওকে কি-না ……. কান্না আসছে তিতলীর । স্যার আসার আগে কয়েকবার ছাদে গিয়েছে কাপড় ওল্টানোর নাম করে , বিকেলের দিকে রোদের তেজ কমে যাওয়াতে শীতের দিনে সহজে কাপড় শুকোতে চায় না ।
ওরা থাকে দোতলায় । সিঁড়ি ভেঙে পাঁচ তলার ছাদে ওঠা নামার কারণে পা ব্যথা করতে পারে বলে মা বারণ করে দিয়েছেন । পরীক্ষার আগে যেন কোন অঘটন না ঘটে …… মায়ের কড়া হুকুম । ভীষণ হৈচৈ হচ্ছে বাইরে । ঘরে থাকা দায় । স্যার তিতলীর অস্থিরতা দেখে হেসেই ফেললেন ঃ যা আজ ছুটি । তবে ফাঁকি দিস না । ট্যালেন্টপুলে দুটো বৃত্তি আছে , এবারও ঈর্ষণীয় রেজাল্ট চাই…… …… বুঝলি । মাঠ থেকে হাই ভলিউমে ভেসে আসছে …… I’m a barbie girl in a barbie world life in plastic Its fantastic…….. Come on barbie , let’s go party ! Ah- ah- ah-yeah দারুণ সব কালেকশন বিপুলের । প্রায় রোজই ৪৫ টাকা খরচ করে লেটেস্ট ক্যাসেটগুলো বিপুলের পক্ষেই কেনা সম্ভব । বাসায় সনির বিশাল ডেক সেট । শুধু এ কারনেই সদ্য দশম শ্রেণিতে প্রমোশন পাওয়া শুভ বিপুলকে সহ্য করে । দুজনের মধ্যে মানসিক দ্বন্দ্ব । সারাক্ষণ তিতলী আপুর পেছনে ঘোরা বিপুলকে একদমই পছন্দ করে না শুভ । তিতলী আপুর অধিকার কেবল একই পাড়ার শুভরই । আর বিপুল তিতলীর ক্লাসমেট । দিনের একটা বড় অংশ তারা এক সাথে কাটায় । সহপাঠী হবার কারণে তিতলীর অধিকার কেবলমাত্র তার ওপরই বর্তায় !
স্কুলের বাইরেও কারনে অকারণে বিপুলকে বহুবার এপাড়ায় দেখেছে তিতলী । ওদের বাসার সামনে এলেই ওর সাইকেলের চেইন পড়ে যায়…….. তো পড়েই থাকে । সহজে তাকে আর ওঠানো হয় না । ওকে একবার দেখতে পেলেই যেন বিপুলের মানব জনম স্বার্থক । তিতলী হাসে । ওর ভালো লাগে । কিশোরী বেলা……..প্রজাপতির ন্যায় সদ্য রঙ্গিন পাখনা গজানোর সময় ওর । সুন্দরী তিতলীর জীবনে নিত্য নতুন প্রেমের স্বাদ । ছেট বড় সবার মনের গহীনে তিতলী । খুব নরম আর উদার মনের তিতলী কাওকে না করতে পারে না !!! একটা মেরুন রঙের শাল জড়িয়ে তিতলী দৌড়ে ছাদে চলে যায় । মিষ্টি একটা হিমেল বাতাস এসে কপালের উপরে ওর মৌসুমি কাটের চুলগুলোকে উড়িয়ে , মাঠে দণ্ডায়মান দুই কিশোরের মনে উষ্ণতার পরশ বুলিয়ে দেয় । পুরুষের সাফল্য বা জয়ের পিছনে সবসময়ই শক্তি হিসেবে থাকে কোন না কোন নারী । ওদের মধ্যে তাই তিতলীকে দেখে আগডুম বাগডুম অবস্থা ! দুজনেরই জয়ের নেশা । এক বল বাকী আছে । উইকেট শিকারী শুভ লাস্ট উইকেটটি নিতে পারলেই তিতলী ওর ! অলরাউন্ডার বিপুল শেষ বলে বাউন্ডারি হাঁকালেই তিতলী তার ! লাস্ট বলটিই নির্ধারণ করবে মানসকন্যা তিতলী কার হৃদয় খাঁচায় বন্দী হবে ??? বল করছে শুভ ; গভীর মনযোগে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ব্যাট হাতে বিপুল… ……. #Husne Ara Benuৃন