পরিনতি

0
612

পরিনতি
© আবির খান

ঠিক এই মুহূর্তে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড নিলয় তার ১২ নং জিএফকে নিয়ে আমার রুমে যাচ্ছে। আর আমি বাইরে বসে বসে টিভি দেখছি। আমাদের বাকি বন্ধুরা যেখানে নিলয়কে দেখে হিংসা করে সেখানে আমার শুধু খারাপ লাগে। অনেক বেশিই খারাপ লাগে। নিজের জন্য না এই মেয়েগুলোর জন্য।

আমার বেস্ট ফ্রেন্ড নিলয় দেখতে বেশ হ্যান্ডসাম। গায়ের রং অনেক ফর্সা। ওকে দেখলে মনে হয় ও বিদেশি। ওর গায়ের রংটা যতটা ফর্সা ঠিক ওর মনটা ততটা কালো। ওর এই বাইরের সৌন্দর্য্য দেখিয়ে আজ ১২ নং মেয়েটিকে পটিয়ে নষ্ট করছে। এটা এখন রীতিমতো ওর নেশা হয়ে গিয়েছে। সুন্দর সুন্দর মেয়েদের ওর প্রেমের ফাঁদে ফালিয়ে তাদের ইমোশনাল ব্লাকমেইল করে বিছানা অবধি নিয়ে আসে এই নিলয়৷ আমি বুঝিনা ভালোবাসাটা কি দিন দিন এতোই সস্তা হয়ে যাচ্ছে!! মানে ইচ্ছে হলেই শারীরিক সম্পর্কে যাওয়া যায়?? কারো বিবেক কি বাঁধা দিচ্ছে না?? প্রেম ভালোবাসা মানেই কি শারীরিক সম্পর্ক!! আমাদের বাবা-মারাও তো প্রেম ভালোবাসা করেছেন। কই তাদের সময়তো এসব ছিলো না। তখন প্রেমিক তার প্রেমিকার কাছে একটা চিরকুট পৌঁছাবে বলে তার ৩/৪ দিন লেগে যেতো। আবার সেই চিরকুটের উত্তর আসতে লেগে যেতো আরো ৩/৪ দিন। এভাবেই তাদের অধীর অপেক্ষার মাঝে ভালোবাসার আদান প্রদান হতো। হঠাৎ করে কলেজ শেষে যখন প্রেমিকা তার প্রেমিককে বাইরে সাইকেল হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতো তখন যে সে হাসিটা দিতো সেটাই তাদের নিষ্পাপ ভালোবাসা।

কিন্তু বর্তমানে প্রেম-ভালোবাসার নামে কি হচ্ছে তার জলজ্যান্ত উদাহরণ আমার বেস্ট ফ্রেন্ড নিলয়। ১২ টা মেয়ের জীবন সে শেষ করেছে। তাদের কুমারিত্ব নষ্ট করেছে। সে একদিন আমাকে বলেছে তার নাকি এই কুমারিত্ব নষ্ট করার মুহূর্তটা খুব ভালো লাগে। আমি ঠিক তখন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। তবে পরক্ষণেই ওর হাত দুটো ধরে গভীর ভাবে মিনতি করেছিলাম। যে ভাই এসব করিস না। আল্লাহকে ভয় পা। এর পরিনতি খুব খারাপ হবে৷ কিন্তু ও আমার কথা শুনেনি। বরং অট্টহাসি দিয়ে আমার কথাকে তুচ্ছ করে এই খেলায় মেতে উঠে। ওকে আমি ১ বার না হাজার বার বুঝিয়েছি। কিন্তু এটা এখন ওর নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো ভাবেই এই নেশা কাঁটাতে পারছিনা।

আচ্ছা মেয়েদের ছাড়াতো ও এই কাজ করতে পারবে না তাই না। তার মানে সব দোষ মেয়েদের। মেয়েরাই বা কেনো এই কাজে আসলো। ছেলেদের কোনো দোষ নেই। তাইনা?? জ্বি না। সর্বপ্রথম দোষ হলো ছেলেটার। কারণ মহান আল্লাহ তায়ালা মেয়েদের মনকে নরম করে বানিয়েছেন। আর ছেলের মনকে শক্ত। তাই একটা ছেলের পক্ষে মেয়ের মনে ঢুকে পরা কোনো বিষয় না। কিন্তু সে যদি খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে এই কাজ করে তখন সেটাই তার দোষ। কারণ সেই প্রথম এই পথে পা বাড়িয়েছে। একটা মেয়ে কখনো এই খারাপ উদ্দেশ্যে একটা ছেলেকে তার মনে ঢুকতে দিবেনা। কারণ সে এই ভেবে তাকে প্রশ্রয় দিয়েছে যে ছেলেটা হয়তো তাকে অনেক ভালোবাসে। তাহলে মেয়েটার দোষ কোথায়?? মেয়েটার দোষ সেখানে, যে সে কেনো এই জঘন্য আবদারে রাজি হলো। এবং তাকে এতোটা প্রশ্রয় দিলো। ভালোবাসা কোনো ঠুনকো জিনিস না যে প্রেম করা অবস্থায় শারীরিক সম্পর্ক না করলে তাকে ধরে রাখা যাবে না। ভালোবাসা দুটি মনের মিলন দেহের না। কিন্তু মেয়েটা বয়ফ্রেন্ডের কথায় আবেগি হয়ে এই জঘন্য কাজে রাজি হয়ে সে তার সব হারায়। সে কিন্তু মূলত তার ভালোবাসাকে বাচিঁয়ে রাখতে রাজি হয়েছিলো। কিন্তু একসময় এই ছেলে ওই মেয়েকে এই বলে ছ্যাঁকা দিবে যে, তুমি আজ বিয়ের আগে আমার সাথে এক বিছানায় এসেছো। তারমানে আগে যে যাওনি তার প্রমাণ কি!! ব্যাস ব্রেক আপ। এরপর ছেলেটি কিন্তু নিস্পাপ একটা মেয়েকেই বিয়ে করবে। মাঝখানে কি হলো?? মেয়েটা তার সবকিছু হারালো। তাই মেয়েদের দোষ এখানেই যে রাজি হওয়া। যে আপনাকে সত্যিকারের ভালোবাসে সে কখনো বিয়ের আগে এসব করতে চাবে না। আর যে চাবে বুঝতে হবে সে কখনোই আপনার না। যাক সে চলে। দরকার নেই এমন ছেলের। ভালোবাসা রক্ষার জন্য নিজের কুমারিত্ব বিসর্জন দেওয়ার মধ্যে কোনো ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটে না। এটা আসলে ভালোবাসাই না।

যাক অনেক কথা বললাম। এইযে নিলয় ক্লান্ত হয়ে বিজয়ী হাসিমাখা মুখ নিয়ে আসছে। এসে আমার পাশে বসলো আর বলল,

— দোস্ত মা*টা সেই ছিলো। হেব্বি মজা পেলাম। তুইও চাইলে ভিতরে যেতে পারিস।

নিলয় এর কথা শুনে আমার গায় আগুন লেগে গেলো। ঠাস করে দাঁড়িয়ে গেলাম। আর ওর কলার ধরে বললাম,

— দেখ, প্রথমত মেয়েটাকে মা* বলবি না। ও একটা মেয়ে। ওর কোনো দোষ নেই। দ্বিতীয়ত আমি এসব পাপাচারে কোনো দিন যাওয়াতো দূরের কথা মাথায় ও আনিনা। আজ তুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড না হলে তোকে এখানেই মেরে ফেলতাম। রাগী ভাবে বললাম।

নিলয় আমাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে বলে,

— ছোটলোকের বাচ্চা, আমার টাকায় এখানে থেকে আমার সাথে ঘাড় তেরামি করস না। আর একটা টাকাও তোরে দিমু না। শুয়া*****

— মুখ সামলে কথা বল নিলয়। তোর ভার্সিটির এসাইনমেন্ট করে দিতাম আমি। আমার খাতা দেখেই তুই পরীক্ষায় পাশ করতি। তবে হ্যাঁ কাল আমি এখান থেকে অবশ্যই চলে যাচ্ছি। তোর পরিনতি আল্লাহ যেন আমাকে না দেখায়।

— আরে যা যা। আর কোনোদিন আমার কাছে আসবি না সাহায্যের জন্য। ছোটলোক।

সেদিনের পর থেকে সত্যি আর কোনো দিন আমি নিলয়ের সাথে দেখা বা কথা বলিনি। আজ ১০ বছর পর আমার এক ফ্রেন্ডের সাথে অফিসে দেখা হয়।

— আরে আবির ভালো আছিস??(সুমন)

— আরে সুমন যে। কি খবর ভাই??(আমি)

— ভালো দোস্ত। বাহ তুইতো খুব বড় পদেই আছিস দেখছি।

— আরে সব আল্লাহর ইচ্ছা।

— তা বিয়ে করেছিস??

— হ্যাঁ দোস্ত। আল্লাহর ইচ্ছায় পরহেজগার স্ত্রী আর দুটো সন্তানের অধিকারী আমি। শুকরিয়া আল্লাহর কাছে। তুই??

— আমারও দোস্ত বউ বাচ্চা নিয়ে ভালোই আছি। দোস্ত নিলয়ের কি হয়েছে জানিস??

— কেনো কি হয়েছে?? অবাক হয়ে।

— জানিস ওর বিয়ে হয়েছিলো। কিন্তু ও বাবা হবার ক্ষমতা আজীবনের জন্য হারিয়ে ফেলে। ফলে ওর বউ ওকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যায়। এলাকায়, পরিবারে আর ফ্রেন্ড সার্কেলের মধ্যে ওর মান ইজ্জত সম্মান সব শেষ হয়ে গিয়েছে।

— মানে!! কি বলিস?? এখন কি করে???

— সবাই ওকে এখন তুচ্ছ করে। তাই একা একা জীবন যাপন করছে।

— ওকে একদিন অনেক বলেছি, ভালো হয়ে যা ভাই ভালো হয়ে যা। নাহলে #পরিনতি অনেক খারাপ হবে।

প্রতিটি খারাপ কাজেরই একটা ফিডব্যাক আছে। তাই মেয়েদেরকে খেলনা না মনে করে তাদেরকে সম্মানের সাথে আগলে রাখুন। নিজেকে সামলে রেখে নিষ্পাপ ভালোবাসার বন্ধন গড়ে তুলুন। যেখানে শুধু মনের মিলন আছে দেহের নয়।

– সমাপ্ত।

© আবির খান।

– কোনো ভুল হলে মাফ করবেন।