গল্পের নামঃ প্রয়োজন পর্বঃ ০৪

0
525

#গল্প-পোকা_ধারাবাহিক_গল্প_প্রতিযোগিতা
গল্পের নামঃ প্রয়োজন পর্বঃ ০৪
লেখায়ঃ তানিয়া তানু

বাস্তবে তৃপ্তিদের বিয়ে হবার পর এরা এসে খোঁজ নেয় না। পর মনে করে বাপের বাড়ির লোকদের। যদি সংসারে অভাব-অনটন থাকে। তারা শুধু তাদের সংসার নিয়েই ব্যস্ত থাকে। তাইলে বাবা আমার কোনো বিয়ের ফুল দরকার নেই। যেমন আছি, তেমনই ভালো।

~কিরে দীপ্তি কী ভাবছিস?
~কই কিছু না তো।
~সন্ধ্যা হয়ে আসছে। আমি যাই। দেরী হলে মা বকবে। ভালো থাকিস। আর হ্যাঁ, বিকেল ৪ টায় টিউশনিতে চলে যাস।
~আচ্ছা। দাঁড়া, আমি তোকে এগিয়ে দিয়ে আসবো।

এই বলেই নিলাকে বিছানা থেকে উঠে নিলাকে একটু এগিয়ে দিয়ে এলাম। ঘরে ফিরেই হাতে থাকা চিরকুটে বাসার ঠিকানার দিকে এক ধ্যানে থাকিয়ে থাকলাম। আমার নতুন টিউশনি ভেবেই মনে আনন্দ পাহাড়সম হয়েছে। আমার কাছে এইটাই দুর্মূল্য বিষয়। ইন্টার মিডিয়েট পাশ করলাম ভালোভাবেই। কিন্তু সমস্যা হলো যেখানেই যাই সেখানেই যোগ্যতার সাথে টাকাকে মূল্য দেওয়া হয়। ভেবেছিলাম ব্যাংকার হবো। কিন্তু যোগ্যতা কম। অনেক এনজিওতে আবেদন করতে চাইলেও একটা মেয়ের জন্য সাপ্তাহিক কিস্তি বাড়ি বাড়ি গিয়ে তুলায় আমার বাবা-মা সায় দিলেন না। এর জন্যই টিউশনির এত পাগল। কিন্তু আফসোস! স্টুডেন্টদের মা-বাবা ক্লাস ওয়ানের পড়ুয়া ছাত্র/ছাত্রীর জন্যও ডিগ্রিধারী টিউটর খোঁজে। অনেক কষ্টে শিমুকে ছাত্রী হিসেবে পেয়েছিলাম। তাও হাতের লেখা, মুখের ভাষা, আদব-কায়দা পরীক্ষা করে নিয়েছিলেন।

ইন্টার পড়ুয়া স্টুডেন্টদের প্র‍্যাক্টিক্যাল খাতায় আর্ট করে দিয়েও আমি কিছু টাকা আয় করি। এখন হাতের কাছে ১২ টা খাতা থাকলেও করা হয়েছে ৩ টা। বাকিগুলো করতে করতে রাত কাবার।

“কুকুরকু, কুকুরকু, কুকুরকু”
নিত্যদিনের মতোই মুরগের ডাকে ঘুম ভাঙে আমার। তাই মুরগ আমার প্রিয় এক বন্ধু। তবে ঘুম প্রিয় মানুষের কাছে এই মুরগের ডাক অসহনীয়। সে যাইহোক, প্রতিদিনের মতো আমার রুটিনের তালিকায় সেই একই কাজ। তবে আজ রুটিনে যোগ হলো বিকেল চারটায় নতুন টিউশনি। কিন্তু পুরোনো টিউশনি করতে করতেই চারটা বেজে গেল। দুশ্চিন্তা নিয়ে নিলার দেওয়া ঠিকানায় এলাম। বাসাটা দুতলার। ডিজাইনটা চমৎকার। তবে অদ্ভুদ ব্যাপার হলো! এত বড় বাসা অথচ কোনো দারোয়ান নেই। তবুও ত্রস্ত পায়ে বাসার ভেতর ঢুকলাম। বাসার ডিজাইন থেকে বাসাটার আশপাশ অনেক বেশি সুন্দর। গাড়ির যাওয়ায় জন্য সরু করে রাস্তা তৈরী করা। আবার গেইটে লাগানো আছে শিউলি ফুলের গাছ। ঝড়ে যাওয়া সামান্য কিছু ফুল পড়ে আছে চারপাশে। বাসাটার পাশেই আছে ছোট এক পুকুর। সেই পুকুরের দিকে এগিয়ে গেলাম। কী শান্ত নিবিড় পরিবেশ! মাছের খেলার দেখার সাথে সাথে উপভোগ করতে লাগলাম মনোরম এই পরিবেশকে। তবে এই নীরব পরিবেশে কিছুটা ভয় আমার মনে এসে ভীড় জমাচ্ছে। এত বড় বাড়ি অথচ এখনো মানুষের দেখা মিললো না। আজব তো!

~কে আপনি? ঐখানে কী করছেন?
কারো চিকন সুরের কন্ঠ শুনে পিছনে তাকিয়ে দেখি, অল্প বয়সী এক দারোয়ান আমার দিকে ভ্রু কুচকে তাকিয়ে আছে। মানুষ দেখায় প্রাণে যে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেলাম। তাই নির্ভয়ে বললাম,
~টিউটর আমি। আমাকে এখানে আসতে বলা হয়ছে।
মনে হলো লোকটা আমার কথায় বিশ্বাস করলো। কারণ কপালে ভাবনার ভাঁজ নেই।
~পুকুরে কাকে পড়াচ্ছিলেন? স্টুডেন্ট তো বাসার ভিতরে।
দারোয়ানের এমন কথা শুনে আমি হতবাক! তাও বললাম,
~কাউকে বাসার আশেপাশে পেলাম না তো। তাই ভাবলাম কারোর দেখা পেলেই বাসার ভিতর ঢুকবো।
~অহ, তাহলে এখন যান।
~হুম যাচ্ছি। বলেই ঢুকে পড়লাম।
বাড়িতেও তেমন মানুষ পাচ্ছি না। হঠাৎ শব্দ শুনে পিছনে তাকিয়ে দেখলাম এক বৃদ্ধ লোক বাইরে থেকে এসেছে। আমাকে দেখেই বললেন,
~ তুমি কী নতুন টিউটর।
আমি মাথা নেড়ে হ্যাঁ বললাম। তিনি আবারও বললেন,
~তুমি তাহলে আমার সাথে এসো মা। আমি তোমায় তোমার ছাত্রের রুমে দিয়ে আসছি।
উনাকে অনুসরণ করলাম। অনুসরণ করার ফলে সিড়ি বেয়ে দুতলার এক রুমে নিয়ে গেলাম। রুমটা অনেক বড়। খুব সুন্দর করে গুছানো।
~তোমার ছাত্র বোধহয় বাইরে গেছে। তুমি বসো। আমি নিয়ে আসছি। এই বলেই তিনি এই রুম ত্যাগ করলেন।
রুমের মধ্যে মোনালিসার ছবিটা খুব সুন্দর করে ঝুলানো। লিওনার্দো ভিঞ্চির সৃষ্টি মোনালিসাকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ের ছবি বলা হয়। কিন্তু মোনালিসার ছবিতে টর্চলাইট দিয়ে খুজেও সৌন্দর্য খুজে পাওয়াটা কঠিন! কিন্তু মোনালিসার ছবির সৌন্দর্য ঠিক মোনালিসাতে নয়। সৌন্দর্যটা এই ছবির রহস্যে! রং তুলিতে এই ছবি আকতে গিয়ে ভিঞ্চি জন্ম দিয়ে গেছেন অসংখ্য রহস্যের।
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share


১৫০৩ সালে ভিঞ্চি মোনালিসা আঁকা শুরু করেন। ১৫১৫ সালে মোনালিসা আঁকার সময় তিনি রহস্যজনক ভাবে মৃত্যুবরণ করেন। ১২ বছর সময় নিয়ে আঁকা মোনালিসার ছবি সম্পূর্ণ না করেই তিনি মারা যান! অর্থাৎ আমরা মোনালিসার যে ছবিটি এখন দেখি সেটিতে আরো কিছু আঁকার বাকি ছিল। ভিঞ্চি মোনালিসাকে কোন কাগজ বা কাপড়ে নয়, এঁকেছিলেন পাতলা কাঠের উপর। অবাক করার বিষয় হলো মোনালিসার ছবিটিকে যদি বিভিন্ন এঙ্গেল থেকে দেখা হয় তবে মোনালিসা তার হাসি পরিবর্তন করে! এ যেন এক রহস্যময়ী মোনালিসা! ১৭৭৪ সালে সর্বপ্রথম প্যারিসের লুভর মিউজিয়ামে মোনালিসার ছবিটির দেখা মিলে। কিন্তু ছবিটা মিউজিয়ামে কিভাবে এল কিংবা কে আনল এমন প্রশ্নের উত্তর মিউজিয়ামের কর্মীরাই জানতোনা! কারণ তারা কাউকে ছবিটি নিয়ে আসতে দেখিনি! রহস্যময়ভাবে লুভর মিউজিয়ামে পৌছানো এই ছবি ১৯১১ সালে চুরি হয়ে যায়। লুভর মিউজিয়ামে পৌছানো এই ছবি ১৯১১ সালে চুরি হয়ে যায়! রাতের আধারে চোরকে দেখে মিউজিয়ামের এক কর্মী পরদিনই চাকড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে সে বলেছিল সে চোরকে দেখেছে। সেই চোর আর কেউ নয়। প্রায় ৩৫০ বছর আগে মারা যাওয়া ভিঞ্চি! ১০ বছর পর এই ছবিটি আবার ওই মিউজিয়ামে পাওয়া যায়। লুভর মিউজিয়াম কতৃপক্ষ ছবিটি সংরক্ষনের জন্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা খরচ করে একটি নিরাপদ কক্ষ তৈরী করে। হয়ত ভাবছেন একটা ছবির জন্য এতো টাকা খরচ! এই ছবির বর্তমান মূল্যের তুলনায় ৫০ কোটি টাকা কিছুই নয়। মোনালিসা ছবির বর্তমান অর্থমূল্য ৭৯০ মিলিয়ন ডলার। টাকায় পরিমানটা ৫৩৮০ কোটি টাকা!মোনালিসা কে? প্রশ্নটির উত্তর ভিঞ্চি নিজেও দিয়ে যাননি। ২০০৫ সালে খোঁজে পাওয়া এক চিঠিতে অনেকে মোনালিসার পরিচয় খোঁজে পেয়েছেন বলে দাবি করেন। ১৫০৩ সালে লেখা এই চিঠিতে ভিঞ্চির বন্ধু ফ্রান্সিস জিয়াকন্ড তার স্ত্রী লিসা জিয়াকন্ডের একটি ছবি আঁকতে ভিঞ্চিকে অনুরোধ করেন। আর ওই সময় ভিঞ্চি মোনালিসার ছবি আঁকা শুরু করেন।,,,,,,,,, (বাকি রহস্য গল্পে এড না করে জানার জন্য কমেন্ট বক্সে দিয়েছি)

কারোর পায়ের শব্দ শুনে আমি তাড়াতাড়ি চেয়ারে গিয়ে বসলাম। মাথা নিচু করে বসেও রইলাম। তারপর দেখলাম একটা পা এসে ঢুকলো এ রুমে। তবে সে পা ছোটদের নয়। একজন যুবকের পায়ের মতো দেখালো। আমি মাথা উঁচু করে,,,,,,,

চলবে„„„„„

গত পর্বের লিংকঃ https://www.facebook.com/groups/golpopoka/permalink/945496229214430/?app=fbl