শীতের বিয়ে

0
48

রাতে ঘুমানোর আগে আব্বার রুমের দরজায় উঁকি দিয়ে সিউর হলাম যে, নাহ আব্বা এখনো সজাগ ই আছেন। তা আর কোনো কিছু চিন্তা বাদ দিয়েই বন্ধু রাকিব কে কল দিয়ে- জোরে জোরে বলতে লাগলাম ;-

– কিরে বন্দু, মুমুই কেমন আছে?

– কেডা মুমু, হালা কার কতা কইতাছস।

– হ হ, গত শীতেই তো তোর বিয়ে হইছিলো আমার মনে আছে!

– কিরে হালা কিসব কইতাছস? গান্জা খাইছস নাকি?

– ওহ, আচ্ছা! তোর বউরে নিয়া এইবার মালোশিয়া ট্যুরে যাবি। যা যা আমগো আর হেই কপাল নাই।

– রে চুপ কর, হেই কখন থেকে কি শুরু করলি। আমি কিন্তু এহন তোর কথাডি রেকর্ড কইরা রাখুম।

– হ বন্ধু. ভালো থাকিস। আর ঔ দেশে গিয়া ভাবি আর তোর একসাথে ছবি দিস।

– টু. টু. টু.

এই বলেই লাইন কেটে দিলাম। বন্ধুর প্রতি বিশ্বাস সেই কবে থেকেই উঠে গেছে। কলেজ লাইফে তা নিয়ে যা ইতিহাস।
দরজার দিকে পাশ ফিরে দেখি আব্বা পা নামিয়ে হাত দিয়ে বিছানায় ভর দিয়ে বসে আছেন।

না তাইলে, আব্বা আমার কথা এতক্ষণ মনোযোগ দিয়ে ঠিকিই শুনছে। যাই ভাগি এহান থেকে…
তাড়াতাড়ি নিজের রুমে এসে কম্বল ছড়িয়ে ঠান্ডা বিছানায় শুয়ে পরলাম। আর মনে মনে ভাবতে লাগলাম, না এইবার আব্বা – কনকনে শীতের মধ্যে আমার একা থাকার দূঃখ মনে অয় বুঝবার পারছে। এই ভেবে দিলাম একখানা ঘুম।

সকালে ঘুম থেকে উঠে দেহি আব্বা আম্মার সাথে রাতে আমার ফোনের আলাপ নিয়া কথা বলতাছে, তা দেখে তো, আমার মনমে লাড্ডু ফুটা হে..
পারি না আব্বার পায়ে ধরে সালাম করি। কিন্তু সরমে আর আব্বার সামনে যাচ্ছি না।

কিছুক্ষণ পর আম্মার ডাক কিরে কাল রাতে নাকি কারে ফোন দিয়া কিসব বকছস,

আম্মা আমি কিতা করছি রাকিব্বা আমারে ফোন দিয়া তার বৌয়ের কথা কইছে। শুনো না আম্মা, বন্ধু তার বউরে নিয়া মালোশিয়া ট্যুরে যাবে.. (আমি)

হইছে চুপ কর ফাজিল- হেয় ভাল চাকরি করে, ভাল টাকা কামায়, হেয় বউ নিয়া যেখানে মন চায় সেখানে যাবে। তা নিজের বাপ মারে শুনাস শরম লাগে না তোর হ্যে! (আম্মা)

খালি একবার বিয়া করাই দেন তারপর দেইখ্খেন মুই কিতা করি। মিনমিনে বললাম।

৬দিন পর..
এখন আর আমি শীতে কষ্ট পাই না, আমি এখন কয়লা ফেক্টরী তে চাকরিরত আছি। আব্বা বলে গেছে, যেইদিন সুন্দরী পাত্রি পাবে সেইদিনই বাসায় নিয়ে যাবে।
..
..
..
..
তাইলে কি আব্বা হাছাই মোরে বিয়া করাইবো?

© সামিউল ভূঁইয়া

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here