13.1 C
New York
Tuesday, December 10, 2019
Home ছোট গল্প ভাই বোনের মধুর ভালোবাসার গল্প

ভাই বোনের মধুর ভালোবাসার গল্প

বড়ো ভাই এর ভালবাসা

jannatul ferdous mim

বাড়িতে সকলের দৌরাদৌরি চলছে।সকলেই ব্যস্ত। ব্যস্ত হবে নাহ কেন?আজ যে নোভার বিয়ে।আসসালামুআলাইকুম,আমি নাফিসা নাফসিন নোভা। নিজের বিয়ের কথা লিখতে লজ্জাই পাচ্ছি তবুও অধিক সাহস নিয়ে লিখতে শুরু করছি।একখন ও রাফির দেখা পেলাম নাহ। মনে হয় বিয়ের আয়োজন নিয়েই ব্যস্ত।ওহ আপনাদের তো বলাই হয় নি মোঃরাফি ইসলাম আমার বর ভাই।আমাদের পরিবারে সুধু আমার বর ভাই আর আমি ই আছি।যখন আমি ছোট ছিলাম তখন আমার মা-বাবা আক গাড়ি accident এ মারা যান।কিন্তু ভাইয়ের ভালবাসায় কখন আম্নু আব্বুর কমতি মনে হয় নি।ভাইয়াই আমার সকল দায়িত্ত নেন।সেই ছোট  থেকে ভাইয়া আমার সকল শখের আবদার পুরন করেছেন। যখন বলতাম ভাইয়া ঘরায় চড়ব তখনি ভাইয়া ঘোড়া হত র আমি ভাইয়ার উপর বসে তটকবক টকবক বলে ঘোড়া চালাতাম।সংসারে খুব অভাব ছিল কিন্তু ভাইয়া কখন আমকে অভাব নুভব করতে দেয় নি। সবসময় আমাকে হাসিয়ে রাখত।আমাকে নতুন নতুন খেলনা কিনে দিত নিজের না খাওয়া টাকা জমিয়ে। ভাইয়া ছোট খাটো অনেক কাজ করত। রাতে অনেক কস্ত করে খাবার জগার করে আনতো।নিজে না খেয়ে আমাকে খাওয়াত।যখন বলতাম, “ভাইয়া তুমি খেয়েছ?” তখন ভাইয়া বলত, “হুম রে পাগলি আমি খেয়ে এসেছি,নে এবার তুই ঝটপট খেয়ে নে।” আমার ভাই অনেক কস্ত করে আমাকে শহরের সবচেয়ে বর স্কুল এ পরিয়েছে।আমাকে স্কুল এ সবাই টীটকারী মারত। অরা বলত, “অই দেখ দেখ গরিব এর মেয়ে, গরিব এর মেয়ের আবার পরালেখা করার সখ জেগেছে।” এমনকি স্কুল এর Teacher রাও আমাকে তুচ্ছ করত।কোনো খেলায় বা প্রতিজগিতায় অংসগ্রহন করতে দিত নাহ।বারিতে এসে আমি অনক কান্না করতাম।ভাইয়া দেখে আমাকে কলে তুলে নিয়ে নিজের ঘার এর উপর বসিয়ে এলাকার একটা চক্কর লাগিয়ে নিয়ে আসে।তারপর এসে ভাত খাইয়ে দেয়। ভাইয়ার হাত এ ভাত খেলে আমি সব দুঃখ কষ্ট ভুলে যাই। ভাইয়ার হাতে মাখানো ভাত এ যাদু আছে।ভাইয়া আমার পড়ালেখার জন্য অনেক কস্ত করেছেন কিন্তু নিজের পরালেখাটাই সম্পুর্ন করে উঠতে পারে নি। কিন্তু আমার ভাই যে একদমি মুরখ তা নয়। SSC দিয়েছে। বড় হয়ে কলেজ এ উঠি।তখন রাস্তার কিছু বখাটে ছেলেরা Disturb করত।তখন ভাই আমাকে নানান কৌশলে বাঁচাত একবার আমার প্রচন্ড জ্বর হয়।তখন আমার ভাই সারাদিন,সারারাত আমার পাশে থেকে আমার খেয়াল রেখেছেন।জ্বর শরীরে সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ভাই আমার হাত ধরে নিছে বসে খাটে হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছে।বুঝতে পারলাম সারারাত ঘুমায় নি।তখন নিজের অজান্তেই ছখ থেক্কে অস্রু ঝরা শুরু করল।হঠাংকরেয়ামার ভাইয়ের ঘুম ভেঙে যায়। আমি তারাতারি করে আম্র চখের জল মুছে ফেললাম।ভাইয়া বলে,”উথে গেছিস?দারা আমি তর জন্য সুপ বানিয়ে নিয়ে আসছি।আমি ভাইয়ার হাত তা ধরলাম। বললাম তুই সারারাত ঘুমাস নি? ভাইয়া আমতা আমতা করে বলেল, “ঘুমাইসি তো, তর আগে ঘুমাইসি”। ভাইয়া মিথ্যা কথা বলসে কারন আমি জদি জানতে পারি ভাইয়া রাতে ঘুমায় নাই আমার জন্য চিন্তা করসে তাহলে আমি রাগ করব। তাই মিথ্যা বলেছে।আমি বললাম,” মিথ্যা বলার জায়গা পাস নাহ। তুই যে ঘুমাস নি আমি তা জানি।ভাইয়া আবার ও আমতা আমতা করে বলল,”হুম অনেক বর হয়ে গিয়েছিস ত তুই”।আমি তখন নিজের অজান্তে ববা কান্নায় ফেটে পরি। হুম অনক কল্পনা করলাম, এবার বাস্তব এ ফিরে আসি। সত্যি সেই দিন গুলার কথা ভাবলে এখন কান্না চলে আসে।দেখি ভাইয়া আসছে। তারাতারি করে চখের পানি মুছে নিলাম। বুঝতে পারলাম আমার জাওয়ার সময় চলে এসেছে।
আমিঃ-ওয়ে তোকে তো Hero Hero লাগছে।
ভাইয়াঃ-হয়েছে, আমি জানি।বেসি কথা নাহ বলে এখন চল দেরি হয়ে জাচ্ছে।
আমিঃ-আমাকে তারিয়ে দেয়ার জন্য তো দেখছি পাগল হয়ে গেছিস।
ভাইয়াঃ-হুম, তুই বাড়ি থেকে বিদায় হলে আমি এক্টু ব্যবসার কাজে মন দিতে পারব।
আমিঃ-আমাকে কখন Miss করবি নাহ?
ভাইয়া কিছু নাহ বলেই পিছন দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিল।বুঝতে পারলাম সে বোবা কান্নায় জজ্জরিত।তারাতারি চোখ মুছে আমার দিকে তাকিয়ে নিজের হাত তা বারিয়ে দিল।ভাইয়ার হাত টা ধরে নিছে নামছি।সকলেই আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল।সকলেই আমাদের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিল। নিচে এসে নিশান এর হাত এ ভাইয়া আমার হাতটা তুলে দিল।
ভাইয়াঃ-আমার বোনের খেয়াল রেখ। যদি কোনো সমস্য হয়েছে শুনেছি তাহলে কিন্তু তোমাকেই জবাবদিহি করতে হবে।এই দুনিয়ায় ছুটকি ছাড়া আর কেউ নেই।ওর কিছু হয়ে গেলে আমি আমাকে ক্ষমা করতে পারব নাহ।(কান্না করতে করতে)
ভাইয়ার কান্না দেখে আমিও কান্না করে দিলাম।ভাইয়া আমার চখের জল মুছে দিয়ে বলল
ভাইয়াঃ-একদমি কান্না করবি নাহ।এই নে।
আমার হাতে এক্টা Dairy Milk chocolate ধরিয়ে দিয়ে বলল,
ভাইয়াঃ-এটা খেতে খেতে শশুড় বাড়ি যা।তুই তো Chocolate খেতে খুব ভালোবাসিস। দেখতো Chocolate দেখে তির মুখ দিয়ে কিভাবে লাল টপকাচ্ছ।
আমিঃ-এক্টা কিল মেরে ভাইয়াকে জরিয়ে ধরলাম শেষবার এর মত।
আমিঃ-(কানে কানে বলছি)তুই কবে বিয়ে করছিস রে?নে তহ বুড়ো হয়ে জাচ্ছিস। নিশান এর এক্টা বোন আছে, বললে লাইন করায় দিতে পারি।
ভাইয়া আমকে আলতো করে এক্টা চর মেরে বলল
ভাইয়াঃ-আমার জন্য তোর বৌ খোজা লাগবে নাহ।মেয়েরা আমার পিছনে এমনি এমনি এ ঘোরে।আর তোর ফাজলামো এখন ও কমলো নাহ।
আমিঃ-আজই তো শেষ রে ভাই।আজকে মন ভোরে জ্বালাতে চেয়ে ছিলাম কিন্তু আজ তো তুই সারাদিন ই ব্যস্ত ছিলি। যাইহোক যততুকু পেরেছি।
যখন “শেষ” কথাটি বলেছি তখনি ভাইয়া মুখ তা কাল হয়ে গেল।
আমিঃ-বিদায় এর সময় তোর গোমরা মুখ টা দেখতে চাই না।যলদি একটা হাসি দে।
ভাইয়া একটা ভেটকি দিল।
দুজনেই একসাথে হেসে দিলাম।
এবার গাড়িতে ওঠার পালা। শেষবারের মতো Bye বোলে বিদায় নেয়ার পালা।
গাড়িতে উঠলাম
আমিঃ-নিজের খেয়াল রাখিস। ধেত, এখন যদি একটা ভাবি থাকতো তাহলে তর চিন্তা করা লাগত নাহ। কেন যে একটা ভাবি নাই?আফসস!
ভাইয়াঃ-জাওয়ার সময় কি তুই মার খেতে চাস?
আমিঃ-নাহ নাহ sorry. এই যে আমি কান ধরছি।
ভাইয়াঃ-হুম এবার হয়েছে।
হাসিমুখে বিদায় নিলাম।নিজের মাথা গাড়ির জানালা দিয়ে বের করে দেখি ভাইয়া চখে হাত দিয়ে আছে।বুঝলাম ছখের পা ই মুছতেছে। আমার মনেও কষ্ট।বোবা কান্না আমার সঙ্গী হয়ে গিয়েছে। ভাইয়া তোকে খুব ভালবাসিরে, খুব ভালবাসি। তোর ঋণ আমি কখনই শোধ করতে পারব নাহ।

Jannatul ferdous Mim
Jannatul ferdous Mim
assalamualikum,ami mim,muslim, golpo likhte pochondo kori tai apnder jonno niye asbo sundor sundor golpo, dhonnobad

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Lists of writers

Sultana Toma
200 POSTS0 COMMENTS
Maria Kabir
159 POSTS1 COMMENTS
Jubaida Sobti
126 POSTS0 COMMENTS
Rabeya Sultana Nipa
117 POSTS0 COMMENTS
Jannatul Ferdaus
64 POSTS0 COMMENTS
Jannatul Ferdous
48 POSTS1 COMMENTS
মিম
42 POSTS0 COMMENTS
AL Mohammad Sourav
39 POSTS0 COMMENTS
Tabassum Riana
21 POSTS0 COMMENTS
Shahazadi Humasha
12 POSTS0 COMMENTS
Abdullah Al Ador Mamun
12 POSTS0 COMMENTS
Tamanna
10 POSTS0 COMMENTS
Farzana Akter
8 POSTS0 COMMENTS
Sadiya Afrin
7 POSTS0 COMMENTS
Umme Nipa
7 POSTS0 COMMENTS
Nilufar_Nijhum Nijhum
4 POSTS0 COMMENTS
Tamanna Khan
4 POSTS0 COMMENTS
Shahriar Shuvro Sabbir
3 POSTS0 COMMENTS
Maruf Sabbir
3 POSTS0 COMMENTS
Joy Khan
2 POSTS0 COMMENTS

Most Popular

গল্প:-নব দম্পতি পর্ব:-(১৭-শেষ)

গল্প:-নব দম্পতি পর্ব:-(১৭-শেষ) লেখা:- AL Mohammad Sourav !! আম্মা কিছু বলতে চায়ছে ঠিক তখনি আমি আম্মাকে থামিয়ে দিয়ে বলছি। আম্মা আপনি কি বলবেন তা আমি জানি। আম্মা:- নাহ...

গল্প:- নব_দম্পতি পর্ব:-(১৬)

গল্প:- নব_দম্পতি পর্ব:-(১৬) লেখা:- AL Mohammad Sourav !! তসিবার ব্যাপারে আব্বা কি কথা বলবে তা ভাবতে ভাবতে অফিসে এসেছি। অফিসের কাজ গুলি করতেছি তখনি আব্বা ফোন করেছে।...

গল্প:-নব_দম্পতি পর্ব:-(১৫)

গল্প:-নব_দম্পতি পর্ব:-(১৫) লেখা_AL Mohammad Sourav !! সৌরভ তোর আম্মাকে এখন কিছু জিজ্ঞেস করে লাভ হবেনা কারন তোর মা এখন তসিবার ভক্ত হয়ে গেছে। এখন শুধু তসিবার কথা...

গল্প:-নব_দম্পতি পর্ব:-(১৪)

গল্প:-নব_দম্পতি পর্ব:-(১৪) লেখা:- AL Mohammad Sourav !! তসিবা কোনো দিন মা হতে পারবেনা এই কথাটা শুধু তুই ছাড়া আমরা সবাই জানি। আর এই কথাটা বলছে তোর বাবা।...

Latest Posts

More