বুড়োর বিয়ে

0
34

“বুড়োর বিয়ে”

৫৫ বছরের বয়সে হটাৎ করে রজব আলীর যখন বিয়ে করার ইচ্ছা জাগলো তখন পরিবারে যেন বিনা মেঘে বজ্রপাতের সৃষ্টি হলো । রজব আলীর তিন ছেলে দুই মেয়ে । তিন বছর আগে বৌ মরেছে , ছেলেমেয়ে সবাইকে বিয়ে দিয়ে কয়েকবছর আগে সেটেল করা হয়েছে । বড় নাতনীরই বিয়ের জন্য লোক আসতেছে । সেখানে রজব আলীর বিয়ের খায়েশ খুব শুভচিন্তা নয় ।

রজব আলীর পাঁচ ছেলেমেয়ে এই ঘোষনা শোনামাত্র বাড়ীতে চলে আসলো । প্রথমে নরম হয়ে বোঝাবার চেষ্টা করলো । পরে হুমকি দিয়ে ঘরে বন্দী করা হলো । দরজার বাইরে পাহাড়াদার নিযুক্তও করা হলো যাতে বুড়ো বাপ ভেগে যেতে না পারে । কিন্তু সবার আশংকা সত্য প্রমানিত করে রজব আলী রাতের বেলা কাজের বুয়াকে ১০০ টাকা ঘুষ দিয়ে পলায়ন করলো । যাবার আগে চিরকুটে লিখে গেলো

“ওরে পামড়ের দলেরা , অকৃতজ্ঞ , বেঈমানরা । আমি পলাইয়া গেলাম । বিয়ে করে বাড়ী ফিরবো । তারপর তোদের ঠ্যাং ভেঙ্গে গাছে লটকাইয়া দিবো । আমার বিয়ে আমি করবো । তোদের বাপের কি ?
— ইতি , তোদের বাপ রজব আলী”

বড় মেয়ে চিরকুট পড়ে অজ্ঞান হলো । সাথে সাথে এলাকায় মাইকিং করা হলো….”আধা পাগলা রজব আলী নিখোঁজ । সঠিক সন্ধানদাতাকে ১০ হাজার টাকা পুরষ্কার প্রদান করা হইবে ।” রজব আলী তখন এলাকার বাঁশ বাগানে মাইকিং শুনে মুচকি হাসতেছিল । বিকেলবেলা রজব আলীর সন্তানদের অজ্ঞান হবার পালা । কারন রজব আলী পাল্টা মাইকিং করার ব্যবস্থা করেছে….”রজব আলীর পাঁচ ছেলেমেয়ে পাগল হইয়া গেছে । তাদের বাঁশডলা দিতে হবে । কেহ যদি তাহাদের বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে ঠ্যাং ভেঙ্গে দিতে পারে তবে রজব আলী তার বিয়েতে সেই মহামানবকে দাওয়াত দেবে ।”

কিছুদিনের জন্য রজব আলী আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেলো , মানে তার বোনের বাড়ীতে আশ্রয় নিলো । ঘটক দিয়ে পাত্রী দেখা চলতেছিল । ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটা মেয়েও রজব আলী পছন্দ করে ফেললো । কিন্তু কয়েকটা বিয়ে করা তো পসিবল না । তাই রজব আলী লটারির ব্যবস্থা করলো । লটারীতে অবশেষে ১৬ বছর বয়স্ক ফুলবানু নামের এক ইছড়েপাকা কিশোরির নাম উঠলো ।

ফুলবানুর বাড়ীতে গিয়ে পাত্রী দেখা হলো । আধুনিক যুগ তো , তাই ফুলবানু জানালো সে রজব আলীর সাথে একা কথা বলতে চায় । ঘামতে ঘামতে রজব আলী সম্মতি দিলো । ফুলবানু একলা ঘরে রজব আলীকে জানালো সে বিয়ে করতে রাজি । কিন্তু তাকে অনেক শাড়ী গহনা দিতে হবে । সে নিজে পছন্দ করে কিনবে সবকিছু । কিপটা মা বাবার হাতে টাকা দিলে ওরা সস্তায় জিনিস কিনে বাকি টাকা মেরে দেবে । রজব আলী আনন্দের সাথে জানালো সে বিয়ের বাজারের টাকা চুপিচুপি ফুলবানুর হাতেই তুলে দেবে । বিয়ের সাতদিন আগে বিকাশ করে পঞ্চাশ হাজার টাকা রজব ফুলবানুর নাম্বারে পাঠিয়ে দিলো ।

“প্রিয় হারামিরা কুলাঙ্গার পুত্র ও কন্যারা ,
আজ আমি বিয়া করতাছি । তোদের দাওয়াত দিতে পারলাম না বলে দুঃখিত । খুব জলদী বৌ নিয়া বাড়ী ফিরবো
—- ইতি , তোদের বাপ রজব অালী”

বিয়ের দিন এই চিরকুটখানা ছেলেমেয়েকে পাঠিয়ে বেশ শান্তি বোধ করতেছিল রজব । শেরোয়ানি পরে বাদ্য বাজিয়ে বিয়ে বাড়ীতে গিয়ে রজব দেখলো তার হবু শশুড় শাশুড়ি বিলাপ করতেছে । রজবের হবু বৌ ফুলমতি পাশের বাড়ির লজিং মাস্টারের সাথে আজ সকালে ভেগে গেছে । সব শোনার পর রজবের ইচ্ছা হলো নিজের পায়ের নাগরা জুতা খুলে নিজেকে পেটায় । ঘটক সাহেব একটা চিরকুট রজবের দিকে বাড়িয়ে দিলো । ফুলমতি রজবকে লিখেছে ।

“ঐ বুইড়া নানা । আমি গেলাম । আপনার দেয়া পঞ্চার হাজার টাকার জন্য অনেক মোবারকবাদ । আপনার টাকায় আজকেই আমি আর আমার ময়না মাস্টারকে বিবাহ করবো । ভালো থাকবেন । সালাম নানাজান
—- ইতি , ফুলবানু”

চিরকুট হাতে নিয়ে রজব হু হু করে কেঁদে দিলো । কান্নাটা কি বৌ ভেগেছ সেজন্য , নাকি পঞ্চাশ হাজার টাকা ফুলবানু মেরে দিয়েছে সেজন্য । সেটা কেউ জানলোনা ।

️©️সাইমুম অয়ন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here