Home "ধারাবাহিক গল্প" পূর্ব-রোদ পর্ব-১৫+১৬

পূর্ব-রোদ পর্ব-১৫+১৬

পর্ব ১৫+১৬
@পূর্ব-রোদ🌿
#পর্ব_১৫
#লেখিকা_আমিশা_নূর

“গার্ল অর্থ মেয়ে ফ্রেন্ড-বন্ধু তাহলে তো মেয়ে বন্ধুই না?”
“ওহ।”

সুযোগ বুঝে রোদ পূর্বের পায়ে পায়ের চাপা দিয়ে সে স্থান থেকে পালালো।পূর্বের মাথায় রোদের বলা কথাগুলা ঘুরতে থাকলো।


রোদ নিজের রুমে বারান্দায় দাঁড়িয়ে টবের দিকে তাকিয়ে আছে।দু’মাস আগে রোদ টবে করে “অপরাজিতা” ফুলের গাছ লাগিয়েছে।অপরাজিতা ফুল লতা বেয়ে এদিক-ওদিক ছড়িয়েছে।রোদের যখনই মন খারাপ হয় সে এসে নীল রংয়ের অপরাজিতা দিকে তাকিয়ে থাকে।এটি নীল রংয়ের ফুল বলে একে নীলকন্ঠ নাম দেওয়া হয়।তবে এর রং সাদা বা হালকা গোলাপিও হয়।যখন কোনো নারী’কে অপরাজিতা’ নামে ডাকা হয় তখন সেটা শুনতে ভালো লাগলেও মানতে নয়।মনে প্রশ্ন জাগে তাহলে কর মেয়েরা সবসময় পরাজিত?অপরাজিতা নামটা নারীর সাথে তুলনা করেই রাখা।রোদের এই ফুল গাছটা ভিষন ভালো লাগে।

রোদ মন দিয়ে গাছে ফুটা নীলকন্ঠ’ ফুলের দিকে তাকিয়ে আছে।তার চোখের সামনে বার বার পূর্বকে নাবিলা’র জড়িয়ে ধরার দৃশ্য ভেসে উঠছিলো।কেনো জানে না রোদের একটুও ভালো লাগছে না।এখন সন্ধ্যা নেমে এসেছে।বাড়ির নিচ তলায় সবাই আড্ডা দিচ্ছে।রোদ অযুহাত দেখিয়ে রুমে চলে এলো।তখনি বারান্দা থেকে দরজা খুলার আওয়াজ পেলো।রোদ ভাবলো হয়তো পূর্ব এসেছে।কিন্তু তাকে ভূল প্রমানিত করে মেয়েলী কন্ঠ শুনা গেলো।

“কী রে কখন থেকে উপরে এসেছিস?নিচে চল।”
“হু।”
“মন খারাপ তোর?”
“নাহ।”
“পূর্বের সাথে ঝগড়া করেছিস নাকি?”

রাফিয়া’র কথা শুনে রোদ ভাবনায় ডুব দিলো।পূর্বের সাথে লাস্ট ঝগড়া দিছিলো ঘর ঝাড়ু দেওয়া নিয়ে।তিন দিন হয়ে গেলো ঝগড়া দে না।রোদের মনে হলো পূর্ব’কে শিক্ষা দেওয়া দরকার।

“ভালো কথা মনে করে দিলি।চল আজকে হরিচন্দনের ব্যবস্থা করবো।”
“মানে?”
“চল না।”

রোদ রাফিয়া’কে টেলে টুলে নিচে নিয়ে আসলো।নিচে নেমে দেখলো নাবিলা হাসতে হাসতে একবার পূর্বের গায়ের উপর পড়ছে আরেকবার তিহানের গায়ের উপর।কেনো জানে না দৃশ্যটা রোদের ভালো লাগছে না।রোদের দৃষ্টি গেলো তার পাশে থাকা রাফিয়া’র দিকে।রাফিয়া দিব্যি হাসছে দেখে রোদ অবাক হলো।তিহানের সাথে অন্য মেয়েকে দেখলে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে।আর আজকে কি’না হাসছে?

“রাফিয়া তুই হাসছিস?”
“হুম।ক্যান?”
“তিহানের সাথে নাবিলা আপু…”
“আমি বুঝছি তুই কী বলতে চাইছিস।তিহানের একজন ভালো বন্ধু নাবিলা আপু।অন্য কেউ হলে এতোক্ষনে মেরে হালুয়া বানাতাম।তবে নাবিলাপু ওদের ফ্রেন্ড আর একজন বন্ধু কোনোদিনও গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ডের মাঝে আসে না।তাই আমার কিছু যায় আসে না।”

“ওহ।”
“আরে তোমরা ওখানে দাঁড়িয়ে কী করছো?এখানে আসো।”

নাবিলা’র ডাক শুনে রোদ একটু অসস্তিতে পরে গেলো।চোখের সামনে আবারো সেই দৃশ্য ফুটে উঠলো।বুক’টা ধক করে উঠলো।কেনো যেনো পূর্বে’র পাশে নাবিলা’কে এক্সপেক্ট করতে পারছে না।তবুও ভদ্রাতা রক্ষার্থে নাবিলা’র ডাকে সাড়া দিয়ে তাদের পাশে বসলো।রোদ যথা সম্ভব নিজেকে স্বাভাবিক রাখছে।

“ইশ!ঝালমুড়ি খেতে ইচ্ছে করছে।”(নাবিলা)
“ইন্না-লিল্লাহ!এখন ঝালমুড়ি কই পাবো?”
“রাফিয়া,বস আমাকে একটু বলবে এই ইন্না-লিল্লাহ ম্যান’কে কী কারণে ভালোবাসলে?এরকম আকাম মার্কা!”
“হাহাহাহা!’ভালোবাসা’ কে কেমন সেটা কী দেখে আপু?”
“তবুও।একে ইন্না-লিল্লাহ বলাটা বন্ধ করতে বলো।”
“তিহান’কে যখন ওর সব আচরণের সাথে ভালোবেসেছি তাহলে আবার পাল্টাবে কেনো?থাক আমার জন্য ওর কিছু পাল্টাতে হবে না।”
“আরে বাহ!কেয়া লাভ হে!” (নাবিলা)
“পাবলিক প্লেসে ভালোবাসা’র রচনা না দিলে হয়না?”(তিহান)
” কেনো?ভালোবাসি সেটা লুকিয়ে কেনো ভাসবো?”
“আচ্ছা?যাও তাহলে গিয়ে তোমার বাবা-মা আর আমার বাবা-মা’কে বুঝাও।যাও!”
“এই রে অতো টিচার তো আমি নই যে বাবা-মা’র সামনে প্রেমের রচনা বলবো।”

রাফিয়া’র কথা শুনে সবাই হেসে দিলো।পরক্ষণে আগের কথা মাথায় আসতে রোদ বললো,

“আমি বানিয়ে নিয়ে আসি ঝালমুড়ি?”
“কেউ বানিয়ে আনলে আমি খেতে পারি।”

নাবিলা’র কথায় রোদ মুচকি হেসে রান্না ঘরে গেলো।রান্না ঘরে রোদ পেয়াজ কাটছিলো।আর বিনা বাঁধায় চোখের জল পরছে।অবশ্য পেয়াজ কাটার কারণে জল পরছিলো।তখনি কানে পূর্বের আওয়াজ ভেসে এলো,

“কাঁদছো কেনো?”
“কাঁদছি না কাটছি।আই মিন পেয়াজ কাটছি।চুইংগাম পাইনি ব্যাগে তাই চিবোতে পারছি না।”

কথা শেষ হতেই রোদ নাক টানলো।কাঁদতে কাঁদতে সার্দি টাইপ হয়ে গেছে।পূর্ব ফিক করে হেসে দিলো।এমনিতে রোদ আগে থেকে রেগে ছিলো তারওপর পূর্বের হাসি দেখে প্রচন্ড রেগে গেলো।রেগে গিয়ে বাটিতে থাকা পেয়াজের সাথে মরিচ কুচি পূর্বের মুখে ছুঁড়ে মারলো।সাথে সাথে পূর্ব চোখে মুখে হাত দিয়ে হালকা চিৎকার দিলো।পূর্বের চিৎকার শুনে রোদের বুক কেঁপে উঠলো।বসা থেকে উঠে তাড়াতাড়ি পূর্বের মুখে হাত দিয়ে বললো,

“পূ..পূর্ব সরি সরি।আমি দেখি…”
“আহহ!”
“আ’ম সো স..পূর্ব দেখি।”

রোদের গলা ভেঙ্গে আসছে।রোদ বুঝতে পারলো তার কান্না আসছে।সে বারবার পূর্বের মুখে হাত দিচ্ছে।কিন্তু পূর্ব হাত সরিয়ে দিচ্ছে।রোদ নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরলো।বিনা বাঁধায় তার চোখের জল গড়িয়ে পড়ছে।রোদ তাড়াতাড়ি পানি এনে পূর্বের চোখে ছিটালো।পানি দেওয়ার পূর্বের চোখের জ্বালা কিছুটা কমলো।একহাত দিয়ে চোখ চেপে ধরে রোদের দিকে তাকিয়ে রোদ কাঁদছে।রোদের কান্নায় পূর্ব অবাক হলো।পূর্ব কিছু বলার আগে রোদ বলে উঠলো,

“আ’ম সরি পূর্ব।আ’ম র‍্যলি সরি।আমি রাগের মাথা…”

রোদ নিজের ঠোঁট কামড়ে কান্না থামানোর চেষ্টা করছে কিন্তু ব্যার্থ হয়ে সে জল ঠিকই গড়িয়ে পড়ছে।পূর্ব সে চোখের জলে হাত দিতে যাবে তখনি রোদ রুমের দিকে দৌড়ে পালালো।পেছন থেকে পূর্ব বুঝলো রোদ নিজের হাতের পিট দিয়ে চোখের জল মুছচে।রোদের এমন ব্যবহারে পূর্ব হতবাক।

রুমে ঢুকেই রোদ দরজা বন্ধ করে দিলো।আজকের অনুভূতি’টা সেদিনের মতো যেদিন পূর্বকে সে ঝাল খাইয়ে ছিলো।বার বার নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে।মনের ভিতর খচখচ করছে।রোদের ইচ্ছে করছে নিজের গালে চড় দিতে।পূর্বকে অমন অবস্থায় রেখে সে রুমে চলে এসেছে।না জানি অবস্থা।রোদ তাড়াহুড়ো করে রুম থেকে বেরুতে যাবে তখন ফোন বেজে উঠলো।রোদ মোবাইলে তাকিয়ে দেখলো “মেঘ” নামটা ভাসছে।রোদ চোখের জল মুছে কল রিসিভ করলো।

“হ্যালো।”
“হাই রোদ।তোমাকে একটা কথা বলার ছিলো।”
“হুম।বলো”
“কাল ক্লাসে আসছো?”
“হ্যা।কেনো?”
“কাল সারপ্রাইজ আছে তোমার জন্য।”
“সারপ্রাইজ?”
“হুম।কী সারপ্রাইজ তা কিন্তু জিজ্ঞেস করবে না।”
“ওকে।কী কথা বলবে বলছো?”
“থাক!কাল বলবো।”
“ওকে।”

মেঘের কথা শুনে রোদ ভাবতে লাগলো মেঘ কী করবে?কারণ রোদ বেশ ক’দিন খেয়াল করেছে মেঘের আচরণ অন্য।সবকিছু’তে অধিকার দেখায়।রোদের ইচ্ছে করে মেঘকে কিছু কথা শুনিয়ে দিতে কিন্তু বন্ধু মনে করে এড়িয়ে যায়।কল কেটে দিয়ে রোদ রুম থেকে বেরুতে যাবে তখনি মনে হলো তার চোখ ভেজা দেখে সবাই বুঝবে কান্না করেছে।তাই সে ওয়াশরুমে ঢুকলো।

এতক্ষণ ধরে দরজা’র বাইরে দাড়িয়ে পূর্ব রোদের কথা শুনছিলো।রোদের এপাশের কথা শুনে পূর্ব এতোটুকু বুঝলো কাল মেঘ রোদকে সারপ্রাইজ দিবে।এটা ভাবতেই পূর্ব হাত মুষ্টি করে নিলো।ইচ্ছে করছে মেঘের বারোটা বাজাতে।সাথে রোদের ও।রোদের চোখে জল দেখে পূর্ব রুমে আসছিলো কিন্তু এখানে এসে দেখছে দিব্যি মেঘের সাথে কথা বলছে।পূর্ব পাশের দেওয়া ঘুষি দিয়ে নিচে নেমে গেলো।

রোদ নিচে নেমে দেখলো সবাই ঝালমুড়ি খাচ্ছে।কিন্তু সে তো ঝালমুড়ি বানায় নি।তাহলে বানালো কে?রোদ পূর্বের দিকে তাকিয়ে দেখলো বা’পাশের চোখটা লাল হয়ে আছে।রোদ তাদের সামনে না গিয়ে রান্না ঘর থেকে আইস ব্যাগ নিয়ে এলো।রোদ তাকিয়ে দেখলো পূর্বের হাতের বাহু নাবিলা নিজের দুহাতে আবদ্ধ করেছে।রোদ নিজের হাতে থাকা আইস ব্যাগ শক্ত করে ধরলো।এই মুহুর্তে নাবিলা একা থাকলে নিশ্চিত এই আইস ব্যাগ তার মাথায় মারতো।পরক্ষণে পূর্বের চোখের দিকে দৃষ্টি যেতে রাগ কমে এলো।পূর্বের সামনে গিয়ে বললো,

“দেখি।এদিকে ফির চোখে আইস লাগিয়ে দিই।”
“লাগবে না।”
“আমি বুঝবো সেটা।”
“ঠিক আছি আমি।”
“তোর থেকে জিজ্ঞেস করেছি আমি?”

রোদের রাগি কন্ঠ শুনে পূর্ব আরো রেগে গেলো।পূর্ব জেদ ধরেছে কিছুতেই বরফ লাগাতে দিবে না।রোদও জেদ ধরেছে সে লাগাবে।ওদের দু’জনের কথাবার্তা শুনে বাকি তিন মূর্তি অবাক হয়ে এলো।এতোক্ষণে তারা পূর্বের চোখ খেয়াল করে দেখলো হাকলা লাল হয়ে আছে।নাবিলা পূর্বকে ধমক দিয়ে বললো,

“কী করেছিস চোখ এমন কেনো?আইস লাগিয়ে নে।”
“নাবিলা…”
“যা বলছি তা কর।”
“আচ্ছা।রোদ দাও..”

নাবিলা’র এক কথায় পূর্ব রাজী হয়েছে দেখে রোদ রেগে জোরে আইস ব্যাগ চোখে লাগিয়ে দিলো।পূর্ব ব্যাথা পেয়ে “আহহ” শব্দ করলো।মুহুর্তে রোদের হুশ এলো।আস্তেধীরে চোখে ঠান্ডা ভাব দিলো।তখনি রাফিয়া বললো,

“কী করেছিস তোরা রান্না ঘরে?আমি গিয়ে দেখলাম পেয়াজ,মরিচ সব নিয়ে পরে আছে আর বাকি সব রেডি ছিলো তাই নিজে বানিয়ে আনি ঝালমুড়ি।কিন্তু পূর্বের এই অবস্থা কেনো?”

রাফিয়া’র কথা শুনে রোদ-পূর্ব কোনো উত্তর দিলো না।বরং দু’জন দুজনের দিকে তাকিয়ে রইলো।দুটো দৃষ্টিতে একই অনুভূতি।বিপরীত জনের জন্য কষ্ট আর রাগ!

#পূর্ব_১৬
#লেখিকা_আমিশা_নূর

রাফিয়া’র কথা শুনে রোদ-পূর্ব কোনো উত্তর দিলো না।বরং দু’জন দুজনের দিকে তাকিয়ে রইলো।দুটো দৃষ্টিতে একই অনুভূতি।বিপরীত জনের জন্য কষ্ট আর রাগ!


“পূর্ব আমার কিন্তু একবারের জন্যও তোদের আচরণে কাজিন মনে হয়নি।”
“মা..মানে?”
“মানেটা তুই ভালো জানিস।সত্যি করে বল রোদ তোর কে হয়?”
“বললাম তো কাজিন।”
“সত্যিটা বলবি নাকি আমি নিজে বের করবো?”

পূর্ব আড়চোখে নাবিলা’র দিকে তাকালো।নাবিলার একবার যখন সন্দেহ হয়েছে রোদ তার কাজিন না তখন যেভবেই হোক সে তাদের সম্পর্ক বের করবে।তিহান থাকলে এখন বিষয়টা সামলে নিতো কিন্তু তিহান আর রাফিয়া রাতে অন্ধকারে হাঁটতে গেছে।আর রোদ রুমে ঘুমাচ্ছে।পূর্ব শান্ত হয়ে রোদ আর তার বিয়ে কীভাবে হলো সবটা বললো।সব শুনে নাবিলা বললো,

“এতোকিছু?আমি তো ভাবছিলাম যাস্ট তোরা বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড।কিন্তু তোদের বিয়ে যখন হয়ে গেলো তখন মেনে নেয়।”
“মানার ট্রাই করছি বাট হচ্ছে না।রোদের মনে কী চলছে সেটা সেই জানে।”
“তাহলে তোরা ডিভোর্স নিয়ে নে!”

রোদের কানে “ডিভোর্স” শব্দটি আসতেই সে হাঁটা থামিয়ে দিলো।বুক’টা ধক করে উঠলো।রোদ যেনো নিশ্বাস নিতে ভূলে গেছে।রুমে একা একা ঘুম আসছিলো না দেখে পূর্বের সাথে কথা বলতে আসছিলো কিন্তু এখানে এসে যে এই কথা শুনতে হবে সেটা রোদ ভাবেনি।আর একপা’ও সামনে না এগিয়ে রোদ রুমে চলে আসলো।


“কী বলছিস তুই?ডিভোর্স?”
“হ্যা!ডিভোর্স।”

নাবিলা’র কথা শুনে পূর্ব ভাবনায় ডুব দিলো।এতোদিন ধরে তাদের দুজনের মধ্যে কোনো মিল না থাকা সত্ত্বেও কোনো ডিভোর্সের কথা মাথায় আসেনি।কিন্তু কেনো?পূর্ব চাইলেই তো রোদকে ডিভোর্স দিতে পারতো।কিন্তু কখনো সেটা কেনো মাথায় এলোনা?আজ যদি তাদের ডিভোর্স হয়ে যেতো তাহলে তার মাও আর শর্ত দিতে পারতো না।নাবিলা’র মতো করে কেনো ভাবেনি এতোদিন?

“পূর্ব?”
“হুম।”
“তোদের মধ্যে ডিভোর্স কেনো হয় নি তা বোধহয় আমি বুঝতে পারছি।”
“কেনো হয়নি?আই মিন এতোদিন এই কথাটা আমার মাথায় কেনো আসেনি?”
“সেটা নাহয় তুই নিজে বের কর।”
“তুই বল।আমি তোর হেল্প করছি তুইও কর।”
“একটা কথা বলি।তোরা দুজন হাজার চেয়েও দুজন দুজনকে ছাড়তে পারবি না।”
“কেনো?”
“নিজের ম্যাথ নিজে সমাধান কর বস।”

পূর্বকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে নাবিলা উঠে দাঁড়ালো।পূর্ব নাবিলা’র বলা কথায় গুলোই ভাবছে।সত্যিই তো রোদকে সে ছাড়তে কেনো পারবে না?


চেয়েও রোদ চোখের জল থামাতে পারছে না।ওয়াশরুমের কল ছেড়ে দিয়ে পানির নিচে বসে কেঁদে যাচ্ছে।তার এতো কান্না কেনো আসছে নিজেই বুঝতে পারছে না।চোখের সামনে পূর্ব আর নাবিলা’র একসাথে জড়িয়ে ধরার দৃশ্য ভেসে উঠলো।দুজনে কীভাবে ক্লোজ হয়ে বসেছিলে তা ভেসে উঠলো।সবশেষে কানে বাজলো “ডিভোর্স” শব্দটি।এতোদিন ধরে রোদ পায়ের উপর পা লাগিয়ে ঝগড়া করেছে।কিন্তু একবারও মাথায় আসেনি তাদের ডিভোর্স হওয়া দরকার।কিন্তু এখন ডিভোর্স শব্দটা শুনে তার এতো কান্না কেনো পাচ্ছে?তাদের কী আগেই আলাদা হয়ে যাওয়া উচিত ছিলো?তখন কী এভাবে কান্না করতো?রোদ ঘুরেফিরে সে একই জায়গায় আটকে রয়েছে।রোদ এভাবে কাঁদতে কাঁদতে একসময় জ্ঞান হারালো।

পূর্ব রুমে এসে দেখে রোদ রুমে নেই।পূর্বের ভালোভাবে মনে আছে রোদ ঘুমানোর জন্য রুমে আসছিলো।বারান্দায় গিয়ে দেখলো রোদ সেখানেও নেই।শেষে ওয়াশরুমে ভেবে ওয়াশরুম ধাক্কালো।কিন্তু ওপাশ থেকে জলের শব্দ ছাড়া আর কিছুই শুনা গেলো না।পূর্ব ভয় পেয়ে অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করলো।পূর্বের আওয়াজ শুনে তিহান,রাফিয়া আর নাবিলা রুমে এলো।একটু আগে তিহান আর রাফিয়া বাড়ি এসেছে আর এসেই পূর্বের চিৎকার শুনে।পূর্বের অবস্থা দেখে নাবিলা বললো,
“পূর্ব, কী হয়েছে?”

নাবিলা’র প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে পূর্ব দরজায় জোরে ধাক্কা দিলো।যার ফলে দরজা ভেঙে গেলো।ওয়াশরুমের দরজা ভাঙ্গতেই ভিতরে রোদের নিস্পাপ চেহেরা দেখা দিলো।রোদকে দেখে পূর্বের বুকের অস্থিরতা বেড়ে গেলো।তাড়াতাড়ি রোদকে কোলে নিয়ে বিছানায় শুয়ে দিলো।তখন জ্বরে রোদের গা পুড়ে যাচ্ছিলো।রোদকে বিছানায় শুয়ে রেখে পূর্ব হাতে-পায়ে ঘষামাজা করছিলো।রাফিয়া রোদের গায়ে হাত দিয়ে বললো,

“রোদের গা তো জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে।তিহান তুমি ডাক্তার’কে কল করো।”

রোদের অবস্থায় পূর্ব সম্পূর্ণ দিশেহারা।তিহান ডাক্তার’কে কল দিবে তখন নাবিলা বললো,

“এতোরাতে এখানে ডাক্তার কোথায় পাবে?তার চেয়ে বরং পূর্ব তুই আগে ওর জামা কাপড় পাল্টে দে।”

নাবিলার কথা শুনে বাকি তিহান রাফিয়া অবাক হলো।রাফিয়া ভূল শুনেছে মনে করে নিজে কাপড় নিতে যাবে তখন নাবিলা বললো,”রাফিয়া তোমাকে বলিনি।পূর্ব তুই এখনো বসে আছিস।প্লিজ ইয়ার আগে ওর ভেজা কাপড় পাল্টে দে।”

নাবিলা’র কথায় পূর্ব কোনো রিয়াকশন না দিয়ে কার্বাড থেকে কাপড় নিতে গেলো।যেনো পূর্বের এখন একটাই লক্ষ্য রোদের সুস্থ হওয়া।রুম থেকে তিহান আর রাফিয়া বের হয়ে গেলে নাবিলা অসস্তিভাবে বলে,

“আই থিং পূর্ব তোদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী’র সম্পর্ক হওয়া উচিত।কারণ রোদের জ্বর অনেক বেশি।আই হোপ তুই বুঝবি আমি কী বলছি।”

নাবিলা অভয় দৃষ্টি দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।নাবিলার কথায় পূর্ব যেনো কিছু বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে।রোদের কপালে হাত দিয়ে দেখলো জ্বর অনেক বেশি।এই সময় পূর্বের কাছে রোদের সুস্থ হওয়াটা যেনো বড় বিষয়।তাই তার কাছে নাবিলা’র বলা কথাটা ঠিক মনে হলো।পরে যা হবে তা নাহয় দেখা যাবে।রোদের অবস্থা দেখে পূর্বের জান টাই বের হয়ে যাচ্ছে।


নাবিলা ড্রয়িংরুমে চেয়ারে বসে কিউব মিলাচ্ছে।নাবিলা’ও স্বপ্ন দেখতো বিয়ের।সেও ভালোবাসতো অন্য কাউকে।কিন্তু সব মানুষ তো আর ভালোবাসা পাইনা।তাই ভাগ্যকে মেনে নিয়ে নাবিলা চুপ আছে।হঠাৎ রাফিয়া’র কন্ঠস্বর শুনে নাবিলা পুরাতন ডায়েরি’র পাতা থেকে বেরিয়ে এলো।

“নাবিলা আপু তুমি ওদের দুজনের ব্যাপারে সব জানো?”
“হুম।আর এটাও জানি যে ওদের মধ্যে এখন ভালোবাসা নামক ফুলের গাছ রুপন হয়েছে।”
“কীহ?তুমি কীভাবে বুঝলে?”
“তুমি ছোটবেলা থেকে ওদের দুজন’কে ঝগড়া করতে দেখছো তাই ওদের অন্যরকম স্বভাবটা খেয়াল করোনি।”
“যদি ওদের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যায় তাহলে সবচেয়ে বেশি ওদের ফ্যামেলি খুশি হবে।”

তিহানের কথা শুনে রাফিয়া আর নাবিলা দুজনে নড়ে উঠলো।তিহান আবারো বললো,

“ওদের দুজনের মধ্যে সব ঠিক হওয়ার জন্যে আন্টি ওদের এখানে পাঠিয়েছে।”
“আই উয়িশ ওদের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যেতো।” (রাফিয়া)
“উয়িশ না বলো হোপ!” (নাবিলা)
“হোপ!”

ওরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।এই হাসির পেছনে তাদের একটাই লক্ষ্য তা হলো পূর্ব-রোদের মিলন!


সকালের কড়া সূর্যের রশ্মি পর্দা ভেদ করে চোখের পাতায় পড়তেই রোদের ঘুম ভেঙ্গে গেলো।’হাই’ দিয়ে পাশে থাকিয়ে দেখলো পূর্ব নেই।রোদের মনে হলো পূর্ব নাবিলা’র সাথে ঘুমিয়েছে।এই কথা মাথায় আসতেই রোদ দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো।সব চিন্তা ভাবনা ফেলে বিছানা থেকে নামতে যাবে তখনি খেয়াল করবো তার শরীরে কাপড় নেই।শুধুমাত্র গায়ের উপর ছাদর ছাড়া।রোদ নিজের দেহে হাত দিয়ে চমকে উঠলো।তার মনে পরে গেলো কাল রাতে সে বাথরুমে পানিতে ভিজে কাঁদছিলো।তাহলে তাকে রুমে কে আনলো?আর তার এই অবস্থা কেনো?কী হচ্ছে এসব?রোদ নিজের কপালে হাত দিয়ে দেখলো হালকা জ্বর আছে।তারমানে কী পূর্ব করেছে এসব?ভয়ে রোদের শরীর কাটা দিয়ে উঠলো।তার নিজের মধ্যে কী চলছে সে নিজেও জানে না।আবার মনের মধ্যে এটাও আসছে যে পূর্ব এমন কেনো করবে?সে তো ডিভোর্সের কথা তুলছিলো।রোদ এসব ভাবতে ভাবতে গোসল করে নিলো।


“পূর্ব,আর ইউ ওকে?”

এতোক্ষণ ধরে পূর্ব এক ধ্যানে বানিয়ে রাখা স্যুপের দিকে তাকিয়ে ছিলো।নাবিলা’র হাতের ছোঁয়া পেয়ে তার ঘোর ভাঙ্গলো।ছোট বাচ্চাদের মতো চেহেরা করে পূর্ব নাবিলা’র দিকে তাকালো।পূর্বের অবস্থা বুঝে নাবিলা বললো,

“পূর্ব তুই এভাবে কী ভাবছিস?যা হবে তা দেখা যাবে তো।”
“নাবিলা,কাল রাতে আমার মাথা কাজ করছিলো না।শুধু একটা জিনিসই ঘুরছিলো তা হলো রোদের সুস্থতা।”
“পূর্ব আমি বুঝছি।যা উপরে রোদ উঠছে কি’না দেখ।স্যুপটা খাওয়া।”
“আমাকে দেখে কেমন না কেমন রিয়েক্ট করে…”
“এভাবে দূরে থাকলে হবে পূর্ব?তোরা কোনো বাচ্চা নই।তোরা হাসবেন্ড-ওয়াইফ।”

উপর থেকে পূর্বের সাথে নাবিলা’র কথা না শুনলেও রোদ এটুকু বুঝছিলো যে নাবিলা তাকে কিছু একটা বুঝাচ্ছে।কিন্তু কী?কাল রাতের ব্যাপারে কী নাবিলা সব জানে?রোদ নিচে না নেমে রুমে চলে গেলো।কাল রাতে রাফিয়া’র সাথে হাত লাগিয়ে পাশের একটা রুম পরিষ্কার করেছিলো।রোদ চাইছিলো ঐ রুমেই যেতে কিন্তু কিছু একটা মনে করে আর গেলো না।নিজের রুমেই চলে গেলো।
নিজের রুমের বিছানায় বসে রোদ নিজের ভাবনায় ডুবে গেলো।পূর্ব তার সাথে এমনটা কেনো করলো?কাল’কে সে নিজের কানে শুনেছে নাবিলা পূর্বকে “লাভ ইউ” বলেছে।তারপর ডিভোর্সের কথা বললো।তাহলে আবার…।খুব কান্না পেলো রোদের।পূর্ব কী তাকে নিয়ে খেলছে?না-কি অন্যকিছু?আবার রাগও হচ্ছে।পূর্ব কী করে তার দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে এমনটা করতে পারলো?

“আসবো?”
কন্ঠস্বর শুনে রোদ ভালোভাবেই বুঝলো এইটা পূর্ব।তবুও কোনো কথা বললো না।মাথা তুলে পরে তাকালো না।বরং রেগে গেলো।পূর্ব তার পারমিশন না নিয়ে কী করে এমনটা করতে পারলো?

পূর্ব রোদের সাড়া না পাওয়ায় হেঁটে বিছানায় রোদের পাশে বসলো।তারপর মৃদুস্বরে বললো,

“রোদ,স্যুপটা খেয়ে নাও।তোমার জ্বর আসছে।”
“খাবো না আমি।খিদে নেই।”
“আচ্ছা,তোমার খেতে হবে না।হা করো।”

পূর্বের কথা শুনে রোদ প্রচন্ড রেগে গেলো।রাগের চোটে বললো,
“খেলনা পাইছিস আমাকে?যখন যা ইচ্ছে যা খুশি করবি?কালকে নাবিলা’র সামনে বললি আমি তোর কাজিন।কারণ আমরা তো এই বিয়ে মানি না।তারপর নাবিলা তোকে এই রুমে আমার রুমে জড়িয়ে ধরে বললো ” লাভ ইউ!”তাও মানলাম।আমরা যেহেতু এই বিয়ে মানি না তাহলে থার্ড পার্সন’কে তোর ভালো লাগবেই।কারণ আমি তো সুন্দর না আর না আছি স্মার্ট।এরপর তুই নাবিলা’কে আমাদের বিয়ের ব্যাপারে সবটা বলে দিলি কারণ তোরা তো রিলেশনে আছিস আর তারজন্য কিছু লুকানো ঠিক না।তারপর নাবিলা বললো আমাকে ডিভোর্স দিতে।ডিভোর্স!যে শব্দ টা তিন অক্ষরের যাস্ট তিন অক্ষরের ওয়ার্ড’টা আমাদের মাথায় আসেনি।যাক তুই আমার থেকে ডিভোর্স খুঁজলে তাও দিয়ে দিলাম।কিন্তু আমার সাথে রাতে এমনটা কেনো করলি?ডিভোর্স তো দিবি আমাকে তাই না?তাহলে?”

রোদ এতোটা রেগে আছে যে যা মাথায় আসছে তাই বলে যাচ্ছে।রোদ রাগের মাথায় সব সত্যি বলে দে সবসময়।কিন্তু পূর্বের সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগছে “ডিভোর্স দিয়ে দিবো” এই কথাটা শুনে।পূর্ব ডিভোর্স চাইলেই রোদ দিয়ে দিবে?আর নাবিলা’কে নিয়ে এতো গুলা ভূল-ভাবনা জমে আছে?পূর্ব রোদের কথায় কোনো উত্তর দিলো না।রোদের কথায় তার একটুও রাগ উঠলো বরং খারাপ লাগলো এইটা ভেবে যে রোদ কতো ভুল-ভ্রান্তি নিয়ে বসে আছে।রোদ আরেকবার মুখ খুলতেই পূর্ব মুখে স্যুপ ভর্তি চামচ মুখে ভরে দিতে চাইলে রোদ সেটা ফেলে দে।পূর্ব শান্তভাবে বললো,

“প্রথমত,নাবিলা’কে নিয়ে যতো ভাবনা আছে তোমার সব ভূল।দ্বিতীয়ত,আমরা হাসবেন্ড-ওয়াইফ আছি।আর তৃতীয়ত,কাল রাতে তুমি ওয়াশরুমে ঢুকে ভিজতে ভিজতে অজ্ঞান হয়ে যাও যার ফলে জ্বর আসে।আর আমি একজন হাসবেন্ড হয়ে আমার ওয়াইফের এমন অবস্থা দেখতে পারি না।”
“হুয়াট রাবিশ?আমরা হাসবেন্ড-ওয়াইফ একে অপরকে মানি না।”
“আমি মানি!”

পূর্বের বলা শেষ কথাটা রোদের কানে বার বার বাজতে লাগলো।”আমি মানি!”তারমানে পূর্ব তাকে ওয়াইফ মানে?

“তুই মানিস বলে যা ইচ্ছে করবি?”
“আমার বউ তাই আমার ইচ্ছে।”
রোদের মুহুর্তে পূর্বের বলা প্রথম কথাটা মাথায় আসতেই বললো,

“নাবিলা’কে নিয়ে কী ভূল বুঝছি আমি?”
“যা যা ভেবেছো সবটা ভূল।নাবিলা আমার বান্ধবী তাই সেই কারণে ‘লাভ ইউ’।আর তার একটা কারণও আছে।যেটা এখন আমি বললে তুমি বিশ্বাস করবে না।”
“কেনো বিশ্বাস করবো না?”
“কারণ কথাটা মেঘ’কে নিয়ে।”
“হুয়াট?তুই মেঘ ছাড়া আর কাউকে চোখে দেখিস না?”
“না দেখি না।আর আজকে তুই কম্পিউটার ক্লাসে যাচ্ছিস না।”
“না আমি যাবো।”
“তোমার শরীর ভালো না।আমিও বাসায় আছি।আর বাড়াবারি করলে মা’কে ফোন করে সব বলে দিবো।”
“আমাকে নিয়ে তোর ভাবতে হবে না।”

রোদের মধ্যে রাগের উদয় হলো।সে কিছুতেই মানতে পারছে না পূর্ব এমনটা করতে পারে।রোদ পূর্ব’কে ভালো করেই চিনে।কিন্তু তাহলে কালকে এমন কেনো করলো?রোদ ভেবেছিলো কাল রাতের ঘটনার পর পূর্ব হয়তো তার সামনেই আসবে না কিন্তু এখন দিব্যি স্বামীর অধিকার কাটাচ্ছে।স্বামী!রোদোর ভিষণ রাগ হচ্ছে।রাগ হচ্ছে নিজের উপর আবার পূর্বের উপর।

[চলবে]

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

অবাধ্য অনুভূতি পর্ব-১০ এবং সমাপ্তি পর্ব | বাংলা রোমান্টিক গল্প

@অবাধ্য অনুভূতি #পর্ব_১০ #লেখিকা_আমিশা_নূর "উফফ,বাবা।আজকে মিটিংটা ভালো ভাবে মিটে গেলো।" সমুদ্র ব্লেজার খুলে পানি খেলো।তারপর ওয়াশরুম থেকে গোসল করে বের হয়ে দেখলো ভূমিকা দাঁড়িয়ে আছে।গতদিন ভূমিকা সমুদ্রকে...

অবাধ্য অনুভূতি পর্ব- ০৯

@অবাধ্য অনুভূতি #পর্ব_০৯ #লেখিকা_আমিশা_নূর "সূচি,আমিও চাকরি করবো।তখন টাকা শোধ করতে সুবিধে হবে।" "কীহ?" "হ্যাঁ।তুই একটা কাজ করিস।তোর বসের সাথে আমার কথা বলিয়ে দিস।" "কে..কেনো?" "কেনো কী আবার?মাসে কতো করে শোধ...

অবাধ্য অনুভূতি পর্ব-০৮ | Bangla Emotional love story

@অবাধ্য অনুভূতি #পর্ব_০৮ #লেখিকা_আমিশা_নূর "প্রেম,মামা আসবে।তখন মামা'র সাথে খেলতে পারবে।"(রাফিয়া) "হুয়াট?মাহির আসছে?" মিহুর চিৎকার শুনে রাফিয়া কানে আঙ্গুল দিয়ে কচলাতে কচলাতে বললো,"ইশ রে!কান গেলো।আমার ভাই আসছে এতে তোর কী?" "ছোট...

অবাধ্য অনুভূতি পর্ব-০৭

@অবাধ্য অনুভূতি #পর্ব_০৭ #লেখিকা_আমিশা_নূর "মামুনি কেমন আছে এখন?" "আলহামদুলিল্লাহ যথেষ্ট ভালো,ভূমিকা তোমাকে সত্যি অনেক ধন্যবাদ।" "সুক্ষ্ম,আমাকে কতো ধন্যবাদ দিবে আর?দেখো তুমি এমন করলে কিন্তু আমি রেগে যাবো।" "হাহাহাহা।" সুক্ষ্ম'র হাসি...
error: ©গল্পপোকা ডট কম