নিহি

0
31

বৃষ্টির দিনে কোন জায়গায় আটকে পড়া খুব বিরক্তিকর ব্যাপার। সেটি যদি হয় মাছের বাজার, তবে এর নৈসর্গিক সৌন্দর্য বর্ণনা করার খুব একটা প্রয়োজন নেই বলেই আমার ধারণা।
আজ সারাদিন আকাশের অবস্থা বেশ ভালো ছিল। বিকেলের দিকে এলাম বাজার করতে। বাজার করা শেষে যখন চলে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছি, ঠিক সেই সময়ে হনহনিয়ে মেঘ উড়ে এসে আকাশটাকে কালো করে ফেলল।
এর কিছুক্ষণ পরেই যথারীতি শুরু হলো বৃষ্টি। একেবারে রিমঝিম আওয়াজ তুলে মুষলধারে বৃষ্টি। বৃষ্টি শুরু হতে না হতেই বাতাসের আবির্ভাব হলো । অতঃপর বাতাস আর বৃষ্টির চমৎকার মেলবন্ধনে আমি সহ আরও কিছু অসহায় মানুষ মাছের বাজারে বন্দি হয়ে গেলাম।

বৃষ্টি যে একটা উপভোগ্য বিষয় সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। আমি নিজেও বৃষ্টি দেখতে ভালবাসি। তবে মাছের বাজারে দাঁড়িয়ে নিশ্চয়ই কেউ আর যাই হোক বৃষ্টি উপভোগ করতে চাইবে না।

এদিকে আমার ছাতাটা সঙ্গে আনা হয় নি।
ছাতা সঙ্গে থাকলে যে মাছের বাজারে আটকে থাকতে হতো না তা আর বলে দিতে হয় না।
কোন উপায় যেহেতু নেই তাই এই মূহুর্তে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির নৃত্য দেখা ছাড়া আর কি’বা করার আছে?
আমি বাজারের বাম দিকের এক কোনায় গিয়ে দাঁড়ালাম।
মাছের বাজারের যাচ্ছেতাই ছাউনি ভেদ করে অবলীলায় টপটপ করে পানি পড়ছে। আমার সাথে যে লোকগুলো আটকে পড়েছে তারা সবাই বৃষ্টির পানির ছোঁয়া থেকে বাঁচবার প্রাণপণ চেষ্টা করছে। কিন্তু এ চেষ্টা বৃথা চেষ্টা।

এভাবে দাঁড়িয়ে থেকে বেশ কিছুক্ষণ কেটে গেল। হঠাৎ পাশের এক ভদ্রলোক বললেন, ভাইজান ওই গাড়িটা কি আপনার?
আমি কিছুটা বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করলাম, গাড়ি মানে? কিসের গাড়ি?
ভদ্রলোক একটা প্রাইভেট কারের দিকে ইশারা করে বললেন,
সামনে দেখেন ভাইজান, অনেকক্ষণ ধরে একটা গাড়ি হর্ণ বাজিয়ে যাচ্ছে। মনে হয় আপনার জন্যই অপেক্ষা করছে।

ভদ্রলোকের কথা শুনে আমি রাস্তার দিকে লক্ষ্য করলাম। হ্যাঁ সত্যিই তো। একটা কালো রঙের প্রাইভেট কার দাঁড়িয়ে আছে, জানালার গ্লাস গুলোও কালো। ভেতরে কে বসে আছে তা বাইরে থেকে দেখে আন্দাজ করার উপায় নেই।
এই প্রাইভেট কার অনেকক্ষণ ধরে আমাকে লক্ষ্য করে হর্ণ বাজিয়ে যাচ্ছে তা বুঝতেই পারি নি।
আমার এইধরনের সমস্যা বেশ কিছুদিন ধরেই শুরু হয়েছে। মনটা মাঝেমধ্যেই বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়। তখন সবকিছু কেমন যেন তালগোল পাকিয়ে ফেলি। কোথায় যে কি হচ্ছে তা বুঝতে পারি না।
আমি গাড়ির দিকে তাকানোর পরপরই জানালার গ্লাস সরে গেল। একজন কম বয়সী মেয়ে মুখ বের করে বলে উঠল,
স্যার গাড়িতে উঠে আসুন। আমি আপনাকে বাসায় পৌঁছে দিব।

আমার ব্যাপারটা বুঝে উঠতে একটু সময় লাগলো। সত্যি বলতে আমি চিনতে পারছি না মেয়েটিকে। তাই কি বলা উচিত তাও মাথায় আসছে না। মেয়েটি হাসি হাসি মুখ করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। এই মেয়েটি যে আমার পরিচিত সেটি মেয়েটির হাবভাবে স্পষ্ট ফুটে উঠছে।
আমি বেশ কিছুক্ষণ পর মেয়েটিকে চিনতে পারলাম। মেয়েটির নাম নিহি, আমার ছাত্রী। কলেজের ফার্স্ট ইয়ারের স্টুডেন্ট। নিহি আবার আমাকে ডেকে গাড়িতে উঠে আসতে বলল। আমি কি করব বুঝতে পারছি না। দাঁড়িয়ে থাকব নাকি গাড়িতে উঠে যাব!! কি মুশকিল, আমি একজন শিক্ষক হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না।

মনে হলো থাক, গাড়িতে গিয়ে কাজ নেই। আমি বরং নিহিকে না বলে দেই।
আমি নিহির দিকে তাকিয়ে বললাম,
না ঠিক আছে, বৃষ্টি থামলে আমি নিজে চলে যাব। তাছাড়া আমার বাজার করা শেষ হয়নি এখানো।
নিহি অনেকক্ষণ একদৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে থেকে মুচকি হাসিতে মাথা নাড়লো।
এরপর গাড়ির জানালার কাঁচ তুলে দিল। গাড়ি চলে গেল।
আমি এখানে ছোট একটা মিথ্যে বলেছি। আমার বাজার করা শেষ হয়েছে অনেক আগেই। শিক্ষক মানুষের মিথ্যে বলা উচিৎ নয় তবে এই ছোট্ট মিথ্যায় কারো কোন ক্ষতি নিশ্চয়ই হবে না।
আমার বড় মামার কথা মনে পড়ে গেল। বড় মামার নাম বাবলু মিয়া। উনি খুব রসিক মানুষ ছিলেন। আবার মাঝে মাঝে গম্ভীর হয়ে উপদেশ দিতেন। যদিও ভারি উপদেশ না খুব হালকা রকমের উপদেশ। একটা ঘটনা বলা যাক।
ছোটবেলায় একদিন মামার সাথে বাজার করতে গিয়েছিলাম। মামা বাজার করছে আর আমি মামার সাথে ঘুরেফিরে দোকানপাট দেখছি। এক বিক্রেতা মামাকে বলল,
বাবলু মিয়া ভালো লাল শাক আছে, দিব নাকি?
উত্তরে মামা বলেছিলেন,
না না আকবর ভাই, লাল শাক কিনে ফেলেছি। আজকে থাক।

আসলে মামা কিন্তু লাল শাক কেনেন নি। পথিমধ্যে আমি মামাকে প্রশ্ন করলাম, মামা তুমি মিথ্যে বললে কেন?
মামা কিছুক্ষণ গম্ভীর ভাবে কি যেন ভেবে বলল, বুঝলি হাবলু মাঝে মাঝে মিথ্যে বলতে হয়। এই ধর ছোট খাটো মিথ্যে, এতে কারো ক্ষতি হয় না। তুই বড় হলে বুঝবি।
মামা আমাকে হাবলু বলে ডাকে। আমার নাম কিন্তু হাবলু না। আমার ভাল নাম হাবিব। কিন্তু মামার ভাষ্যমতে বাবলু মিয়ার ভাগ্নের নাম হবে হাবলু মিয়া। তাই উনি এই নামেই আমাকে ডেকে বেড়ান। এই নিয়ে আমার ক্ষীণ একটা অভিযোগ থাকলেও কোন লাভ হয় নি। আমাকে হাবলু মিয়া নামেই ডাকা হতো।
আজ মামা মিথ্যে বলা নিয়ে যে উপদেশটা দিয়েছিলেন তা সত্য প্রমানিত হয়েছে। মামা এখানে থাকলে নিশ্চয়ই বিজয়ের ভঙ্গিতে আমার দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিতেন।

দেখতে দেখতে সন্ধ্যা নেমে এলো। বৃষ্টি থামার কোন নাম নেই। এভাবে আর দাঁড়িয়ে থাকা ঠিক হবে না। মনে হচ্ছে এই বৃষ্টি আজ রাতে আর থামবে না। এদিকে রাস্তায় কোন রিকশাও নেই। থাকার কথাও না, এই বৃষ্টিতে রাস্তাঘাটেরই ঠিক নেই রিকশা কোত্থেকে আসবে?
আমি বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাসার দিকে হাঁটা শুরু করলাম। রাস্তায় হাটু সমান পানি জমেছে। ঢাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা যে কতটা খারাপ তা বৃষ্টি এলেই বেশ বোঝা যায়।প্রায় এক ঘন্টা হেঁটে কাক ভিজা হয়ে বাসায় ফিরে দেখলাম ইলেক্ট্রিসিটি নেই।
প্রবাদে বলা হয়, “অভাগা যেদিকে যায়, সাগর শুকিয়ে যায়”।
ইলেক্ট্রিসিটি না থাকাতে এই প্রবাদের সত্যতা আবার পাওয়া গেল।

অনেক কষ্টে হাতড়ে হাতড়ে একটা মোমবাতি পেলাম। সেই আলোতে কোনমতে কাপড় পরিবর্তন করে ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়লাম। আজ রাতটা নাহয় না খেয়েই কাটিয়ে দিব। মনে মনে ভাবলাম আমি একা মানুষ, তেমন কোন ঝামেলাও হবে না। বাবা, মা মারা গিয়েছেন দুই বছর হয়। আমার কোন ভাই, বোনও ছিল না। তাই অনেক আত্মীয় থাকা সত্ত্বেও আমি একা হয়ে গেছি।
হঠাৎ ঘরটা অন্ধকার হয়ে গেল। মোমবাতি নিভে গেছে। পৃথিবীর সব কিছুই এভাবে ধীরে ধীরে নিভে যাবে। কোন আলো চিরকালের জন্য নয়। কখনো না কখনো তাকে অন্ধকার আলিঙ্গন করে নেয়।

আমি চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছি।
চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকলে নাকি ঘুম পাড়ানী মাসি পিসি চোখে ঘুম দিয়ে যায়। এটা আমার কথা নয়। ছোট বেলায় যখন ঘুম আসতো না তখন মা একথা বলতেন। তবে কথাটা একদম ফেলে দেওয়ার মতো নয়। চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকলে সত্যিই আমার ঘুম এসে যায়। ছোটবেলার অভ্যাস থেকেই এমন হয়েছে কিনা কে জানে?

এভাবে কতোক্ষন কেটে গেল জানি না তবে আমার একটু ঘুম ঘুম ভাব এসেছে। এমতাবস্থায় বাবা মাকে নিয়ে একটি স্বপ্ন দেখলাম। স্বপ্নে আমার বাবা, মার বয়স অনেক কমে গিয়েছে। আমার মাকে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে। মা একটা আকাশী রঙের শাড়ি পড়েছে। বাবা একটা চেয়ারে বেশ বিরক্ত হয়ে বসে আছে। স্বপ্নে বাবা মাকে ডেকে বললেন, শারমিন আমাকে এক কাপ চা দিয়ে যাও তো।
মা উত্তরে বললেন,
আহ দাঁড়াও না, আসছি। এতো পাগল হয়ে যাও কেন তুমি চায়ের জন্য?
একটু পরে বাবার জন্য চা এলো। কিন্তু চা মা আনলেন না। চা নিয়ে এলো নিহি। কি অদ্ভুত ব্যাপার স্বপ্নে নিহি আসবে কেন?
আমার ঘুম ভেঙে গেল। উঠে দেখলাম ভোর হয়ে গেছে। কি অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলাম।
অবশ্য স্বপ্ন নিয়ে এতো ভেবে লাভ নেই। স্বপ্নে মানুষ অনেক কিছুই দেখতে পারে। এ জগত মুক্ত জগত। এখানে গৎবাঁধা কোন নিয়ম নেই।
মসজিদ থেকে আযানের ধ্বনি ভেসে আসছে। অস্ফুট আলোতে ঘর আলোকিত হয়েছে। আমি নামাজ পড়ে বাবা মার জন্য দুয়া করলাম।

প্রতিদিন একই কাজে একঘেয়েমি লেগে যায়। আগেও বলেছি আমি একা মানুষ। তাই নিজেরই রান্নাবান্না করতে হয়। কিন্তু আজ সকালে রান্না করতে ইচ্ছে হলো না। ভাবলাম বাইরে কোথাও থেকে খেয়ে নেওয়া যাবে। রেডি হয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরলাম।
আমার কলেজের নাম আজিমপুর বিজ্ঞান কলেজ। কলেজের সবাই বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রছাত্রী।
আমি নিজে কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক। খুব বেশিদিন হয় নি কলেজে জয়েন করেছি। ছয় মাসের মতো হবে।
বাইরে থেকে ব্রেকফাস্ট করে কলেজে যাব ভেবেছিলাম, কিন্তু সে সময় আর হলো না।
সরাসরি কলেজে এসে চেম্বারে গিয়ে বসলাম। প্রথম পিরিয়ডেই আমার ক্লাস। একটু রেস্ট নিয়ে ক্লাসের দিকে যাব।
ক্লাসে যাওয়ার জন্য যখন প্রস্তুতি নিচ্ছি ঠিক তখন টেবিলের এক কোনায় চোখ আটকে গেল। টেবিলের এক কোনায় একটি টিফিন বক্স রাখা। আমার টেবিলে তো টিফিন বক্স থাকার কথা নয়। আমি হাত বাড়িয়ে টিফিন বক্সটি হাতে নিলাম। বক্স খুলে দেখলাম দুটি রুটি আর আলু ভাজি, সাথে একটি সিদ্ধ ডিম। কি হচ্ছে বুঝতে পারছি না। টেবিলের পাশে একটা ছোট্ট কাগজে কিছু একটা লিখা। কাগজ হাতে নিয়ে দেখলাম সেখানে লিখা,
আমি জানি আপনার জ্বর এসেছে। তাই সকালে রান্না করেন নি। এজন্য আপনার জন্য এই খাবার এনেছি। খেয়ে নিবেন প্লিজ।

এরকম ঘটনায় কি করা উচিত বুঝতে পারছি না। তবে এটা ঠিক বৃষ্টিতে ভিজে সত্যি আমার জ্বর এসেছে। টিফিন বক্স টিবিলে রেখে দিলাম। ক্লাসের শুরু হতে আর দশমিনিট বাকি।
করিডোর ধরে ক্লাসে গিয়ে দেখি একজন স্টুডেন্টও ক্লাসে নেই। কি ব্যাপার! ক্লাসে কেউ উপস্থিত নেই কেন? এমনতো হওয়ার কথা নয়। আজতো বন্ধের দিন নয়।
করিডরে এসে দাঁড়িয়ে দেখলাম, আবিদ সাহেব খুব তাড়াহুড়ো করে এদিকেই আসছেন। আবিদ সাহেব গনিতের শিক্ষক। তিনি অনেকদিন ধরেই এই কলেজে শিক্ষকতা করছেন।
আমি আবিদ সাহেবকে ডেকে বললাম, আবিদ ভাই, ক্লাসে কোন ছাত্রছাত্রী নেই কেন? সবাই কোথায়?
আবিদ সাহেব উত্তরে বললেন,
আপনি দেখি কিছুই জানেন না।
আমি বললাম, কেন কি হয়েছে?
আবিদ সাহেব তাড়াহুড়ো করে বললেন, এখন বলার সময় নেই। সবাই হাসপাতালে গিয়েছে। আপনিও চলুন আমার সাথে।

আমি কথা না বাড়িয়ে আবিদ সাহেবের সাথে হাসপাতালে উপস্থিত হলাম। হাসপাতালে গিয়ে ফর্স্ট ইয়ারের সব স্টুডেন্টকে দেখতে পেলাম। সবার চেহারায় বিমর্ষ একটা ভাব। বুঝতে পারলাম কিছু একটা অঘটন হয়েছে।

খবর পেলাম প্রিন্সিপাল স্যারের কাছ থেকে। প্রিন্সিপাল স্যার আমাকে এসে বললেন, হাবিব সাহেব খুব খারাপ সংবাদ, রফিক সাহেবের মেয়ে নিহি মারা গেছে আজ সকালে। শুনলাম চার তালার করিডরে দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ করেই মাথা ঘুরে নিচে পড়ে গেছে। she is no more.

কথাগুলো শুনে ঠিক এই মুহূর্তেও আমার কি করা উচিত তা আমি জানি না । নিজের মাঝে তীব্র কষ্টের একটা বাতাস বইছে। এমন কষ্ট পাওয়া কি স্বাভাবিক কিনা তাও বুঝতে পারছি না।
আমি বাইরে চলে এলাম। চোখদুটো সবসময় কথা শুনতে চায় না। শিক্ষক মানুষের চোখের পানি কারো দেখা উচিত না। নিহির দাফন পর্যন্ত আমরা সব শিক্ষক তার পরিবারের সাথেই থাকলাম। সবাই পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আমি সারাদিন তেমন কোন কথাই বলি নি।
যখন বাসায় ফিরলাম তখন রাত হয়ে গেছে। আজকেও বৃষ্টি নেমেছে। বৃষ্টি নামতেই ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেল। একটা মোমবাতি জালালাম। কেমন যেন সবকিছু স্তব্ধতায় মুড়িয়ে আছে। বাইরে ঝড়ো হাওয়ার শব্দ ছাড়া আর কিছুই কানে আসছে না।
হঠাৎ মাকে খুব দেখতে ইচ্ছে হলো। আমার কাছে মায়ের একটি ছবি ছিল। আমি রেখে দিয়েছিলাম। আমি অনেক খুঁজে মায়ের সেই পুরাতন ছবি বের করলাম। মোমবাতির আলোয় মায়ের ছবির দিকে তাকালাম। এই আধো আলোয় স্পষ্ট দেখতে পেলাম আমার মা আর নিহির চেহারা ঠিক একই রকম। এতটা সাদৃশ্য দুটো মানুষের মাঝে কিভাবে থাকতে পারে আমি জানি না। এভাবে অনেকটা সময় কেটে গেল। হঠাৎ মনে হলো সেই টিফিন বক্সটা তো সাথে নিয়ে আসা হয় নি। কি যে হলো, কোন কাজ ঠিকমতো করা হচ্ছে না। ওই যে বললাম, ইদানীং মনটা বেশ বিক্ষিপ্ত। কোন কিছু ঠিকভাবে মনে রাখতে পারছি না।

“নিহি”।। আদিল মাহফুজ রনি
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here