গল্প:-দুই_বধূ_এক_স্বামী পর্ব:-(০৮)

0
987

গল্প:-দুই_বধূ_এক_স্বামী পর্ব:-(০৮)
লেখা:-AL Mohammad Sourav
!!
একটা বউ থাকতে আরেকটা বিয়ে করেছো এখন ২য় বউয়ের ঘরে বাচ্চা হবে এইটা নিয়ে থাকো। মীমের কি হয়ছে না হয়ছে এত কিছু না জানলে হবে। তবে মীম তোমাকে যতটা কষ্ট দিয়েছে তার চাইতে বেশি কষ্ট তোমরা মীমকে দিয়েছো। সৌরভ তসিবাকে নিয়ে সূখে আছো দেখে আমারো খুব ভালো লাগছে দয়া করে মীমের ব্যপারে কারো কাছে কিছু জানতে চেওনা।

আমি:- মীমের ব্যপারে জানার আমার কোনো আগ্রহো বা ইচ্ছে নেই। হাসপাতালে দেখছি তাই ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করেছি! আমি তো মনে করেছি মীম আমাদের ফলো করছে কারন তসিবা মা হতে চলছে যদি মীম কোনো ক্ষতি করতে চাই তার জন্য আরো খোঁজ খবর নেওয়া। আপনার মেয়ে মীম আমাকে যতটা কষ্ট দিয়েছে তার তুলনা আমি কোনো কষ্ট দেয়নি বরং মীম এখন অনেক সূখে আছে।

শ্বশুড়:- তুমি কখনো আমার মেয়ে মীমকে ঠিক করে বুঝতে চাওনি! আমার তো মনে হয় সেদিন তোমার সাথে মীমের বিয়েটা দেওয়াটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিলো।

আমি:- কি আমি মীমকে বুঝতে পারিনা! আমার সাথে মীমকে বিয়ে দেওয়াটা আপনার জীবনের বড় ভুল ছিলো।

তসিবা:- আপনি কে আর আমার স্বামীকে কেনো এমন কথা বলছেন?

শ্বশুড়:- আমি তোমার স্বামীর শ্বশুড় হয়। আর তুমি নাকী আমার মেয়েকে অনেক কথা শুনাও। তোমার ভাগ্যটা খুব ভালো আর আজকে যাকে এত স্বামী স্বামী করো তার সাথে বিয়েটা তখনি মীম রাজু দুজনে এসেছে।

মীম:- আব্বু আপনি এখানে দাঁড়িয়ে আছেন কেনো? আসেন আমার সাথে আমি বাড়ীতে যাবো।

আমি:- আংকেল আপনি কিছু একটা বলতে চাচ্ছেন বলেন কি বলতে চাচ্ছেন?

মীম:- তোমাকে কিছু বলার নেই সৌরভ। তুমি আমাকে এখানে দেখে ভাবছো আমি এসেছি তসিবার ক্ষতি করতে তাইনা?

তসিবা:- হতেও পারে আপনাকে দিয়ে তো বিশ্বাস নেই। যে মেয়ে মা হতে চাইনা সে কি করে আমাকে মা হতে দিবে?

রাজু:- তোমার এত বড় সাহোস ম্যাডামকে এত বড় কথা বলো?

আমি:- রাজু তুমি কেনো এত লাফাচ্ছো? তসিবা তো ভুল কিছু বলেনি! তসিবা একদম সত্যটা বলছে। তানা হলে আজকে কেনো তোমরা সবাই এসেছো?

মীম:- আমি জানতাম না আজকে তোমরা এই হাসপাতালে আসবে যদি জানতাম তাহলে এখানে আসতাম না। আব্বু চলেন আমাদের সময় হয়ে গেছে যেতে হবে। আর তসিবা আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে এসেছে বাহিরে।

তসিবা:- আচ্ছা মীম আপুর আব্বা আমার আর আপনার বিয়ে নিয়ে কিছু একটা বলতে চায়ছে কিন্তু মীম আপু বলতে দেয়নি। আজকে বাড়ীতে গিয়ে মীম আপুকে জিজ্ঞেস করবেন আসল কারনটা কি?

আমি:- তোমাকে এসব বাজে চিন্তা করতে হবে না! ডাক্তার তোমাকে যা বলছে তাই করবে কেমন।

তসিবা:- আপনি আমার পাশে থাকলে হবে! এখন চলেন আমাকে বাড়ীতে দিয়ে আপনি অফিসে যাবেন।

আমি:- ঠিক আছে চলো। তসিবাকে নিয়ে বাড়ীর উদেশ্য রওনা দিলাম।

তসিবা:- আচ্ছা আমার তো দুইটা জমজ মেয়ে হবে।

আমি:- কে বলছে তোমার জমজ মেয়ে হবে?

তসিবা:- মন বলছে! যদি দুইটা মেয়ে জমজ বাচ্চা হয় তাহলে কি আপনি আমার প্রতি নারাজ হবেন?

আমি:- কেনো নারাজ হবো আমি তখন তোমাকে আরো বেশি ভালোবাসবো।

তসিবা:- তার মানে এখন কম ভালোবাসেন?

আমি:- আরে না কম কেনো ভালোবাসবো? আমি তো তোমাকে খুব ভালোবাসি।

তসিবা:- আমার জমজ মেয়ের নাম আমি রাখবো কেমন?

আমি:- ঠিক আছে! বাড়ীতে চলে এসেছি তুমি ভিতরে যাও আমি অফিসে যাচ্ছি। আর শুনো মীমকে তুমি হাসপাতালেের ব্যপারে কিছু বলোনা কেমন?

তসিবা:- ঠিক আছে উম্মা!

আমি:- এই তো আমার লক্ষী বউ উম্মা! তসিবার কপালে চুমু দিয়ে আমি অফিসে যাওয়ার জন্য রওনা দিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে অফিসে চলে গেছি। গাড়ীটা পার্কিং করে অফিসের ভিতরে গেলাম। সবার সাথে হাই হ্যালো করে কাজে মন দিলাম। দুপুরে তসিবাকে ফোন করে খোঁজ খবর নিলাম।

তসিবা:- আসার সময় আঁচার নিয়ে আসবেন কেমন?

আমি:- ঠিক আছে! কাজ গুলি করেছি নিজের মত করে এমনি আব্বা এসেছে।

আব্বা:- সৌরভ বাসায় যাবার সময় আমাকে সাথে নিয়ে যাস। আমার গাড়ীটা গ্যারেজে দেওয়া হয়ছে।

আমি:- ঠিক আছে! আব্বা চলে গেছে রাত ৮টার দিকে কাজ শেষ করে আব্বাকে সাথে নিয়ে বাড়ীতে যাওয়ার জন্য বেরুলাম। রাস্তায় গাড়ী থামিয়ে কিছু আচাঁর নিয়ে নিলাম।

আব্বা:- তসিবার দিকে খেয়াল রাখিস আর শুন মীমের সাথে এখন আর খারাপ আচরন করার দরকার নেই।

আমি:- কিন্তু।

আব্বা:- কোনো কিন্তু নয়! মীম যতদিন থাকবে থাকুক আমি চাইনা বাড়ীতে রোজ রোজ ঝগড়া হোক। এমনিতেই আমার ঝগড়া পছন্দ না তুই তো জানিস।

আমি:- ঠিক আছে! তাহলে আপনি মীম আর তসিবাকে বলে দিয়েন তাহলে সবচেয়ে বেটার হবে।

আব্বা:- আচ্ছা আমি বলে দিবো। (বাড়ীতে এসেছি আব্বা নেমে ভিতরে চলে গেছে। আমি গাড়ীটা রেখে ভিতরে ঢুকে দেখি আবার ঝগড়া করছে মীম তসিবা। আম্মা আব্বা কানের ভিতর আঙুল ঢুকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

তসিবা:- আপনাকে মানা করেছি আমার সংসারের দিকে না তাকাতে তাও তাকান কেনো?

মীম:- বারে বারে এক কথা বলো কেনো সংসারটা তোমার একার নয়। আমারো সংসার এই বাড়ীতে তোমার যতটা অধিকার ঠিক ততটা অধিকার আমারো আছে।

আমি:- নাহ মীম তোমার সেই অধিকার নেই! তুমি তো মাত্র কিছু দিনের অতীথী মাত্র এই বাড়ীতে। যখন তোমাকে কষ্ট দিতে আর ভালো লাগবেনা বা মনে হবে তুমি আর তোমার পরিবার আমাকে আর আমার পরিবারকে যত কষ্ট দিয়েছো ঠিক তার চেয়েও বেশি কষ্ট ফিরিয়ে দিয়েছি। সেই দিন তোমাকে ঘার ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবো।

মীম:- তুমি আমাকে কি বের করবে আমি নিজেই চলে যাবো তবে সেইদিন তুমি আমার জন্য আপছুস করবে। আর সবাই বুঝবে আমি কতটা ভালোবেসেছি তোমাকে আর তোমার পরিবারকে।

আমি:- সেইটা তো দেখছি আর নতুন করে কিছুই দেখতে চাইনা। তবে তোমার জন্য আমি আপছুস করবো হি হা হা মজা পেলাম।

আব্বা:- সৌরভ তোদের ঝগড়া বন্ধ কর আমার বিরক্ত লাগছে। মীম তুমি যদি এই বাড়ীতে থাকতে চাও তাহলে কোনো রকম অশান্তি করা চলবেনা। এমন কি তসিবার সাথে ঝগড়া করাও যাবেনা। তুমি পারবে এসব মেনে থাকতে?

মীম:- হ্যা পারবো! তবে আমার কিছু কথা আছে সবাইকে সেই কথা গুলি শুনতে হবে।

তসিবা:- কারো নাটক করা গল্প আমি শুনতে পছন্দ করিনা। আমি বলতে পছন্দ করি শুনার অব্যাশ আমার নেই। আমার বলার অব্যাশ আছে যদি শুনেন তাহলে বলবো।

মীম:- আমি কিসের নাটক করে গল্প বলবো?

তসিবা:- বানিয়ে বানিয়ে হাজারটা গল্প বলা যায়। আপনার মিথ্যা গল্প শুনার সময় আমার কাছে নেই।

আমি:- মীম তুমি যা বলতে চাও তা বলার দরকার নেই! আমরা জানি তুমি কি বলতে চাও। নতুন করে আবার কোনো নাটক করতে মন চায়ছে তাই তো তুমি এসব করছো। তসিবা আসো রুমে যাবো আমার ক্লান্ত লাগছে।

তসিবা:- সিঁড়ি বেয়ে উপরে যেতে আমার কষ্ট হয়। আপনি কি আমাকে কুলে করে নিয়ে যাবেন?

আমি:- হ্যা চলো! তসিবাকে কুলে নিলাম মীম রাগি চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তসিবাকে নিয়ে রুমে এসেছি!

তসিবা:- আপনার কি কষ্ট হয় আমাকে কুলে নিলে?

আমি:- কেনো কষ্ট হবে? তোমাকে কুলে নিলে আমার অনেক ভালো লাগে। নাও তোমার আচাঁর তুমি বসে বসে আচাঁর খাও আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।

তসিবা:- একা একা খাবো? আপনি আমার সাথে খেলে ভালো লাগতো।

আমি:- আঁচারটা তোমার খেতে ইচ্ছে হয়ছে তাহলে আমি খাবো কেনো? তুমি একা একা খাও কেমন?

তসিবা:- জ্বি না আপনি আমার সাথে খাবেন! তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আসেন দুজনে গল্প করতে করতে আঁচার খাবো।

আমি:- ঠিক আছে! কিছুক্ষণ ফ্রেশ হয়ে এসেছি দেখি তসিবা আঁচার নিয়ে বসে আছে। দুজনে বসে আচাঁর খেলাম রাতে কিছুটা গল্প করে ঘুমিয়ে গেলাম সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে অফিসে চলে এসেছি। কিছুদিন ভালোই যাচ্ছে মীমের সাথে এখন আর তসিবা ঝগড়া করছে না। দেখতে দেখতে আজ তসিবার প্রেগমেন্সির ৮ মাস হয়েছে এর মাঝে ডাক্তার বলে দিয়েছে তসিবার মেয়ে জমজ বাচ্চা হবে।

তসিবা:- দেখছেন আমার জমজ বাচ্চা হবে আমি খুব খুশি। তসিবা আমাকে জড়িয়ে ধরেছে আমিও অনেক খুশি হয়েছি। আব্বা আমি তসিবা সহ নিচে বসে কথা বলছি এমনি মীম এসেছে তবে মীমকে একটু বেশি নার্ভাস লাগছে।

মীম:- সৌরভ তোমার কাছে যেই জন্য এসেছি সেইটা তো পেলাম। তুমি আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছো আমাকে তুমি কতটা ভালোবাসতে।

আমি:- মীম অতীত নিয়ে কিছু বলতে চাইনা আমি। তুমি আমি আগে কি ছিলাম সেইটা অতীত এই কিছু দিন তোমার সাথে আমার কোনো কিছুই হয়নি। আর এখন আমি তসিবাকে ছাড়া কাওকে ভালোবাসতে পারবোনা।

মীম:- হ্যা বুঝতে পারছি! এখন আমি তোমাকে জানাতে এসেছি আমি চলে যাচ্ছি তোমাকে আর তোমার বাড়ী ছেড়ে সারা জীবনের জন্য।

আমি:- যাক তাহলে আপদ বিদায় হবে।

তসিবা:- আমাদের প্লান কাজে আসছে দেখছো সৌরভ।

মীম:- হ্যা তোমাদের প্লান কাজ হয়ছে। তুমি চাইলে ডির্ভোস দিতে পারো আমি সাইন করে দিবো। আমি তোমার ডির্ভোসের অপেক্ষা থাকবো। আর সৌরভ একটা কথা বলবো রাখবে?

আমি:- কি কথা আগে শুনি?

মীম:- শেষ বারের মত আমাকে একটি বারের জন্য জড়িয়ে ধরবে? তোমাকে জড়িয়ে ধরতে খুব ইচ্ছে করছে প্লিজ সৌরভ একবার আমাকে জড়িয়ে ধরো!

আমি:- পারবোনা তোমাকে জড়িয়ে ধরতে তুমি চলে যাও আমি তোমার শেষ বারের আব্দার রাখতে পারবোনা।

মীম:- ঠিক আছে! আচ্ছা ভালো থেকো জানি আমার কথা মনে পরবেনা। তবে তোমার জন্য কিছু জিনিস এনেছি আমার রুমে রাখা যদি কোনো সময় খুব মনে পরে আমার কথা তাহলে দেখো কেমন।

তসিবা:- আমি আছি তো কোনো সময় আপনার কথা মনে পরতে দিবোনা। এবার আপনি যেতে পারেন।

মীম:- জানি তুমি সৌরভকে অনেক ভালোবাসো তবে আমার থেকে বেশি ভালোবাসোনি। আব্বাজান আর আম্মাজান আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। আমি আপনাদের অনেক কষ্ট দিয়েছি তাও নিজের মেয়ে মনে করে ক্ষমা করে দিবেন।

আব্বা:- ঠিক আছে ক্ষমা করে দিলাম।

আমি:- তসিবা আসো তোমাকে কুলে করে রুমে নিয়ে যাই। তসিবাকে কুলে নিয়েছি মীম চোখের পানি ফেলে বাহিরে দিকে রওনা দিয়েছে। তসিবাকে নিয়ে রুমে এসেছি।

তসিবা:- আজ থেকে আমি অনেক সূখে থাকবো।

আমি:- হ্যা! তসিবার কপালে চুমু দিয়েছি কিছু দিন ভালোই চলছে! দেখতে দেখতে আরো মাস খানেক চলে গেছে। আমি অফিসে বসে কাজ করতেছি এমন সময় আম্মু ফোন করেছে।

আম্মু:- সৌরভ তুই হাসপাতালে চলে আয় তসিবাকে নিয়ে তোর আব্বা আমি হাসপাতালে আছি আজকে তসিবার ডেলীবারি করাতে হবে।

আমি:- কিন্তু তসিবার ডেলীবারি সময় তো আরো কিছুদিন পর হবার কথা? আম্মু কিছু বলেনি আমি তাড়াতাড়ি হাসপাতালে গেলাম। দেখি আব্বা আম্মা বাহিরে বসে আছে।

আব্বা:- অল্প কিছুক্ষনের মধ্যে অপেরেশন করাবে। তখনি একজন নার্ছ এসেছে।

নার্ছ:- এখানে মিস্টার সৌরভ কে?

আমি:- জ্বি আমি।

নার্ছ:- এখানে একটা সাইন করে দিন।

আমি:- হ্যা দেন! সাইনটা করেছি নার্ছ চলে গেছে। কিছুক্ষণ পর আবার একজন নার্ছ এসেছে।

নার্ছ:- পেশেন্ট তসিবা ইসলামের গার্জিয়ান কে?

আমি:- জ্বি আমি।

নার্ছ:- তাহলে এখানে একটা সাইন করে দিন আপনার স্ত্রীর অপেরেশন হবে।

আমি:- একটু আগে তো সাইন করেছি তাহলে ঐটা কি ভুল ছিলো?

আব্বা:- ভুল না সঠিক ছিলো আগে তুই সাইনটা কর তারপর বলছি। কি হলো সাইনটা কর আমি সাইনটা করে দিয়েছি তখনি আব্বা বলে,,,
To be continue,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here