গল্পের নাম- শক্তিরূপেণ সংস্থিতা পর্ব- চার

0
478

#গল্পপোকা_ধারাবাহিক_গল্প_প্রতিযোগিতা_২০২০
গল্পের নাম- শক্তিরূপেণ সংস্থিতা পর্ব- চার

লেখায়-সমন্বিতা ঘোষ

পরেরদিন ভোরবেলা …..
সকলে চন্ডীমন্ডপের বাইরে দেবীর চক্ষুদান দেখার জন্য ভিড় জমিয়েছে।একটু পরেই কোড়া শাড়ির আচ্ছাদন সরিয়ে দেওয়া হবে আর সকলে প্রতিমা দর্শন করবে।
ইমরান বলে উঠল,”এই আকাশলীনা , বুনুকে দেখছি না কেন ?, কোথায় ও?”
আকাশলীনা কিছু বলার আগেই নীলাশা বলে উঠল, “আরে ঐ তো ঐতিহাসিক ম্যাডাম আসছে।” নীলাশা একটু জোড়েই বলে ফেলেছিল কথাটা। সকলে আরাধ্যার দিকে কথাটা শুনে তাকিয়ে রইল।

হালকা কমলা রঙের কাঁথাস্টিচ শাড়িতে অপরূপা লাগছে আজ তাকে। ভেজা চুল হাওয়ায় উড়ছে। হাতে ঘড়ি আর চোখে চশমা আর ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক।
আহিতাগ্নি বিড়বিড় করে বলে উঠল, “বিনা আভূষণে কাউকে এতটা সুন্দর লাগতে পারে?কিছু তো স্পেশাল আছে ওর মধ্যে। ”

সকলে একভাবে তাকিয়ে আছে দেখে আরাধ্যা বলে উঠল,”সরি,আসলে লেট হয়ে গেল।কিন্তু আপনারা সবাই আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?আমার মুখে কি কিছু লেগে আছে?”
সকলে ওর বলার ভঙ্গিতে হেসে উঠল। শুধু আহিতাগ্নি মৃদুকন্ঠে বলল,”হৃদয়কাড়া চাহনি ঐ দুই চোখে আর মুখে আলগা এক শ্রী ” আরাধ্যা, আহিতাগ্নির দিকে চেয়ে বলল,”আপনি কিছু বললেন?”আহিতাগ্নি নিজেকে সামলে বলল,”ক-কোথায়? না তো…” আরাধ্যা সন্দিগ্ধ স্বরে বলল,”তাহলে হয়তো আমি ভুল শুনেছি।” আহিতাগ্নি এবারে কিছুটা কপট রাগ দেখিয়ে বলল,” কম শুনে একটু বেশি দ্যাখার চেষ্টা করো। আজ আবার এই শাড়িতে পা আটকে পদ্মপুকুরে পড়ে যেও না যেন। সাঁতার জানো না এমনিতে।”
আরাধ্যা চোখ বড় বড় করে বলল,” আপনি যেন সবজান্তা ”
“নারে, আমার দাদাভাইকে সব কিছুই শিখতে হয়েছে। ও তো প..” আকাশলীনাকে কথাটি শেষ করতে না দিয়েই আহিতাগ্নি বলে উঠল,” স্পোর্টস টিচার। সব না জানলেও কিছু কিছু জানি। এই বোন এদিকে তো চক্ষুদান শেষে পঞ্চমীর পূজো শুরু হবে তুই একটু চল আমার সাথে। মাকে ফল কাটতে সাহায্য করবি আর ইমরান তুমিও এসো। মা তোমাকে ডাকছে।”
আরাধ্যা ভ্রূ কুঁচকে দাঁড়িয়ে থাকে। মনে মনে ভাবে-‘আমার থেকে কিছু কি আড়াল করল?’
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share

এমনসময় আরাধ্যার পায়ের সামনে একটা কাগজের বল কেউ যেন ছুঁড়ে মারে;খেয়াল না কলে এগোতে গেলেই ও পড়ে যেত।ব্যাপারটাতে অবাক হয়ে কাগজের বলটা পায়ে লেগে যাতে কেউ পড়ে না যায় তাই ওটা হাতে তুলে ফেলে দিতে গেলে তা বেশ ভারি লাগে। কৌতূহলী হয়ে কাগজের বলটা খুলতেই লাল কালির লেখাগুলোতে ওর চোখ আটকে গেল—
” অতি বার বেড়ো না ঝরে পড়ে যাবে।
অতি চালাকির গলায় দড়ি।
মেয়েমানুষের এত সাহস ভালো না।
অতি কৌতুহল দেখালে কি হতে পারে সে বিষয়ে ধারণা নেই।
সাবধানের মার শেষ রাতে।
গতকাল না হয় আহিতাগ্নি এসে বাঁচাল।রোজ কি ও থাকবে?
–এত রাতে ঘুমোলে কোনোদিন হয়তো সকালে উঠে দেখলে এখানে নয় অন্যকোথাও পড়ে মৃত্যুযন্ত্রণায় কুঁকড়াচ্ছ।”

আরাধ্যা কাগজটা শাড়ির আঁচলের কোণে বেঁধে রেখে চুপচাপ চক্ষুদান দেখতে থাকে। মনে মনে ভাবে-
‘তাহলে আমার ধারণাই ঠিক। আর আমার উপরও নজর রাখা হচ্ছে। ওরা ভয় পেয়েছে যদি কোনো সত্যি বেড়িয়ে পড়ে।তাই থ্রেট দিচ্ছে। আর এটা আমার জন্যই লেখা।একমিনিট কাল কি তবে শ্যাওলাতে আমার পা পিছলায় নি? ঐ জন্যই কি তেলা তেলা লাগছিল পা। তারমানে যে এগুলো লিখেছে সে জানত আমি সাঁতার জানি না। আর ঐ হিমাদ্রি সেন ওকেও এত অদ্ভুত আর চেনা লাগছে কেন? আসলে কে উনি?তারপর দেয়ালচিত্রে ঐ…’

ততক্ষণে আচ্ছাদন সরিয়ে দেওয়া হয়েছে;
চক্ষুদানও শেষ। পঞ্চমীর পূজো শুরু হবে। আহিতাগ্নি ইমরান আর আকাশলীনাকে যেদিকে নিয়ে গিয়েছিল আরাধ্যাও সেদিকে যেতে থাকে। অনেকক্ষণ হয়ে গেলেও আসছে না দেখে। নীলাশাকেও এদিকে আসতে দেখেছে আরাধ্যা।
একটা বড় ঘরের সামনে গিয়ে দেখে নানা রকমের বাসনে সুন্দর করে ফল ,মিষ্টি, সব সাজানো চলছে। আকাশলীনা একটা বেদানা কাটার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছেনা।নীলাশা মিষ্টি সাজাচ্ছে। আর শ্রীময়ীদেবী ,আহিতাগ্নি আর ইমরানকে কিছু বুঝিয়ে বলছেন।
আরাধ্যা ঘরের ভেতর ঢুকে আকাশলীনাকে বলল,”তুই সর । আমি কেটে দিচ্ছি।” আকাশলীনা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। হাসিমুখে বলে উঠল,”অনেক ধন্যবাদ। আমি না বুঝতেই পারছিলাম না কিভাবে কাটব। ”
আরাধ্যা পাশে ফোনটা রেখে বেদানা কাটতে লাগল।
এমনসময় ঘরে আরাধ্যার ঠাকুমা এসে বললেন,”ও তোমরাই আমার দিদিভাইয়ের বন্ধু? খুব ভালো। তা পড়াশোনা তো ভালোই করো শুনি। তবে বাড়ন্ত মেয়ে ; বিয়ে -থা র কি হবে?”
কথাটা শুনতেই আরাধ্যা ফলের জায়গায় ভুল করে নিজের আঙুলে চাকু চালিয়ে দিল।
“আ:!” আরাধ্যার যন্ত্রণাময় কন্ঠস্বর শুনতেই আহিতাগ্নি ছুটে ওর কাছে গিয়ে আরাধ্যার রক্তাক্ত আঙুলটা ধরে পকেট থেকে রুমাল বের করে চাপা দিয়ে বলে উঠল,’একটু সাবধানে কি কাজ করা যায় না?এত কি ভাবো বলোতো তুমি? দ্যাখো তো কতটা কেটে গেল। ‘
আরাধ্যার কানে যেন আহিতাগ্নির কোনো কথাই ঢুকছে না। একটা কথাই কানে ঘুরছে- “বিয়ে – থার কি হবে?”থমথমে মুখে চেয়ে রয়েছে সে।
আর অন্যদিকে শ্রীময়ীদেবী আর আকাশলীনার ঠাম্মা আকাশলীনাকে বকা দিচ্ছেন যে ও কেন আরাধ্যাকে ফল কাটতে দিল।
ইমরান ততক্ষণে ফার্স্ট এইড বক্স নিয়ে এসে আরাধ্যার পাশে হাঁটু গেড়ে বসেছে।

এমনসময় আরাধ্যার মোবাইল বেজে উঠতেই আরাধ্যা বলল,” ভাইয়া একটু দেখবে কার ফোন? ”
ইমরান মোবাইলটা হাতে নিয়ে
বলল,”আহির।”কথাটা শুনেই আরাধ্যা বাঁহাত দিয়ে ফোনটা রিসিভ করতে গেলে আহিতাগ্নি বলে উঠল,”এই অবস্থাতে ফোনও রিসিভ করতে হবে? কে এমন ফোন করেছে?”আরাধ্যা গম্ভীর স্বরে বলল, “আমার জীবনের একমাত্র ব্যক্তি যার জন্য হারিয়ে যেতে গিয়েও হারাতে পারিনা।”
এরপর ফোনটা রিসিভ করে বলে উঠল-
–হ্যাঁ রে তুই আমার কত বড় সাহায্য করেছিস তোর কোনো আইডিয়া নেই।ইউ আর জিনিয়াস আর…
–আরে দিভাই ওসব পড়ে হবে। একটা কেলেঙ্কারি হয়ে গেছে।
–কি হয়েছে?
–সুহাসদা জেল ছেড়ে পালিয়েছে।
–হোয়াট? (আহিতাগ্নির হাত ছাড়িয়ে উঠে দাঁড়িয়ে অন্যদিকে সরে বলে উঠল।)
–আজ প্রায় ছয়মাস পর জানা যাচ্ছে ও পালাতে গিয়ে এনকাউন্টারে মারা যায়নি বরং পুলিশের সাহায্যে পালিয়েছে।
— জানতাম! আমার এই সন্দেহটা হয়েছিল। ঐ শয়তানটা না জানি কত মা-বাবার কোল খালি করবে।কত মেয়ের জীবন নষ্ট করবে। আর কিছু কিছু পুলিশের জন্য গোটা ডিপার্টমেন্টের ঘুষ খায় বলে বদনাম হয়। কি করে পারে ওরা এমন করতে? ঐ উর্দিটার প্রতি, আমাদের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই? কোন আইনরক্ষককে নিজেদের সমস্যা বলবে সমাধানের আশায় সাধারণ মানুষ তবে?
–তুই জানিস না। ওরা শুধু অমন বহুবিবাহের মতো নোংরা গেমই খেলেনি ওরা বিয়ের নামে পাচার করে দিত। আর এই কথাটি স্বীকার করেছে কাকিন।আর হ্যাঁ সুহাসদার হয়তো তোর সামনে গিয়ে দাঁড়ানোর সাহস হবে না তবে যদি তোকে সামনে পায় তবে তোর ক্ষতি করে দেবে রে। তুই সাবধানে থাক প্লিজ।
— কি ক্ষতি করবে? খুব বেশি হলে পাচার, অ্যাসিড অ্যাটাক, ধর্ষণ,মৃত্যু। আর কি করতে পারে ওরা? আর আহির আমি নিজের খেয়াল রাখতে জানি। আর আমি সৎ পথে চলছি। আমার কোনো ক্ষতি ঐ নরপিশাচটা করতে পারবে না। তবে ওকে আমি ছাড়ব না।রাখলাম।

আরাধ্যা আর ওখানে দাঁড়ালনা।ছুটে ঘরে চলে গেল। ওর ভেতরের ছাইচাপা আগুনটা যেন ধিকিধিকি করে জ্বলতে শুরু করেছে আবার। বহু দিনের যন্ত্রণায় যেন আজ আরো আঘাত লাগল।
“বুনু, অন্তত ফার্স্ট এইড টা করতে দে। অনেকটা রক্ত বেড়চ্ছে।বুনু দাঁড়া। কি হয়েছে একবার বল ” পেছন থেকে ভেসে আসা ইমরানের ডাকেও আরাধ্যা সাড়া দিল না।

—এই আহিরটা কে? কি এমন বলল যে ও এমন রিয়্যাক্ট করল?আর ও এসব কি বলল ফোনে? পুলিশ ডিপার্টমেন্টের উপর এত ঘৃণা?
— জানিনারে দাদাভাই। তবে এটুকু বুঝতে পারছি। ওর বাইরে যতটা না রক্তপাত হচ্ছে তার থেকেও অন্তরে হচ্ছে।আর এই আহির ওর কাছের কেউ।
——————————————————————–
ঘরে দোর দিয়ে তার সামনেই বসে পড়েছে আরাধ্যা। অবাধ্য চোখের জল আজ বাঁধ ভেঙে তার মুখমণ্ডল সিক্ত করছে। রক্ত গড়িয়ে পড়ছে আঙুল দিয়ে তার শাড়িতে।
আরাধ্যা স্মৃতির পাতা উল্টে চলে গেছে ফার্স্ট ইয়ারের পরীক্ষার পর এক রোদেলা বৈশাখের গোধূলিলগ্নে।
–যদি তুই আমাকে নিজের মা বলে মনে করে থাকিস তবে চুপচাপ বিয়ের পিড়িতে বসবি। তোকে আমার দিব্যি।একটা ছেলের সাথে যেখানে-সেখানে ঘুরে বেড়িয়েছিস না জানিয়ে এখন বিয়ে না হলে সমাজে মুখ দেখাব কিভাবে? ভাগ্যিস কাকলি ছবিগুলো দেখিয়েছিল আর ছেলেটা ওর দিদির।নইলে কি যে হত।
— মা বিশ্বাস করো আমি কিছু করিনি। আর ঐ ছেলেটা ভালো না। আমি পড়তে চাই। আমাকে বিয়ে দিও না এভাবে। ঐ ছবিগুলো ফেক। আর ও বিবাহিত।আর এগুলো কাকিন ইচ্ছে করে করছে টাকার জন্য।
— চুপ আর একটা মিথ্যা কথা যদি বলিস তবে আমার মরা মুখ দেখবি (আরাধ্যার গালে থাপ্পড় মেরে চলে গেলেন অনুশীলাদেবী)

“মা! ” বলে গালে হাত দিয়ে বসে ডুকরে কেঁদে উঠলো আরাধ্যা। মনে মনে বলল,”এই নোংরা খেলায় কেন আমাকে জড়ালে তোমরা? মা তুমিও আমাকে ভুল বুঝলে?ভাই তুই কখন আসবি সব নিয়ে। নইলে যে আজ আমি বেঁচে থেকেও মরে যাব। আর নয়তো সত্যিই গঙ্গাতেই আশ্রয় নিতে হবে আমায়।”

আরাধ্যা উঠে দাঁড়িয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,”না:! সেদিনও সমাজের ভয়ে তুমি আমার পাশে এসে দাঁড়াওনি মা। আজ ও দাঁড়ালে না। তবে আমি নিজেই লড়ব। জীবন যখন আমার তখন লড়াইটাও আমার। তবে তোমার কথা রাখব। বিয়ের পিড়িতে আমি বসব। ”

কিছুক্ষণের মধ্যেই বিবাহমঞ্চে নিয়ে যাওয়া হল।
পুরোহিতমশাই বললেন,”এবারে শুভদৃষ্টি হোক।”
আরাধ্যা পানপাতা ছুঁড়ে ফেলে উঠে দাঁড়াল পিড়ি থেকে নেমে।
এরপর গলার ফুলের মালা টেনে খুলে ছুঁড়ে দিল সামনের ঘটে। ঘট উল্টে পড়ে গেল। এরপর মুকুট খুলে ফেলে দিয়ে বলল,”আমি বিয়ে করব না। অন্তত কোনো প্রবঞ্চক,ঠক, বহুরূপী মানুষের সাথে তো নয়ই। ”
অমরবাবু মানে আরাধ্যার বাবা এসে বললেন, “এসব কি নাটক শুরু করেছ তুমি? চুপচাপ বসে বিয়ে করো।”
–চুপ অনেক থেকেছি কিন্তু আর না।মা দিব্বি দিয়েছিল বিয়ের পিঁড়িতে বসার সেটা করেছি ব্যাস।
— তবে কি লগ্নভ্রষ্টা হয়ে দাদাদের ঘার ভেঙে শেষদিন পর্যন্ত খাবে?এর চাইতে গঙ্গায় দড়িকলশি নিয়ে ডোবা ভালো।
–ভেবেছিলাম তাই করব।তবে সেটা পালিয়ে যাওয়া হবে। আমি লড়তে এসেছি; পালাতে না।

ততক্ষণে আমন্ত্রিতদের মধ্যে আরাধ্যার চরিত্র নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়ে গিয়েছে।
বরবেশে থাকা সুহাস আরাধ্যার হাতটা শক্ত করে ধরে বলল,”এসব নাটকের মানে কি?আমার ফেসলস করার চেষ্টা করছ?শুনে রাখো তুলে নিয়ে গিয়ে হলেও আমি তোমাকেই বিয়ে করব। ” আরাধ্যা ঠাঁটিয়ে এক চড় মেরে সুহাসকে বলল,” বাড়িতে বৌ -বাচ্চা রেখে আবার বিয়ে করতে আসার সময়ে ফেসলস হয়নি ?আর আমার হাত ধরার জন্যে মিনিমাম সত্যি কথা বলর সাহস রাখতে হয় মি: সুহাস দাস।”
মুনমুনদেবী বলে উঠলেন,” চরিত্রহীন মেয়েমানুষ কথাকার!”
আরাধ্যা ব্যঙ্গের হাসি হেসে বলল,”অন্তত ভাসুরের সম্পত্তি পাওয়ার জন্যে নিজের দিদির ক্রিমিনাল ছেলের সাথে নিজের কন্যাসম কাউকে ফাঁসিয়ে তাকে বিয়ে তো দিইনি।”
মুনমুন দেবী ফুঁসে উঠে বললেন,”কি প্রমান আছে যে আমি তোর ফেক ছবি বের করে অমন করেছি?”
এমনসময় পেছন থেকে একটা স্বর ভেসে এল,”এটা কেমন বলো তো কাকিন? ঠাকুরঘরে কে আমি তো কলা খাইনি।আর প্রমাণ আছে । সেটা ঐ স্ক্রিনে দ্যাখা যাবে। পুলিশকাকু এসো। তোমরাই দেখিয়ে দাও।”

আরাধ্যা এগিয়ে গিয়ে বলল,”দাঁড়া আহির।আমি একজনকে ভরসা করে সবটা বলেছিলাম। হে মানেনি আমার কথা। বোঝেনি আমার যন্ত্রণা। আমি চাইনা ওগুলো দেখার পর সে আমায় বিশ্বাস করুক। কারণ সন্তানের চোখ দেখে নাকি সব বুঝতে পারে মায়েরা।সেখানে উনি প্রমান দেখার পর আমায় বিশ্বাস করবেন তা আমি মানতে পারব না।আমি চলে যাই তারপর দেখাস। আর কি বলত কাদাটা সবসময় মেয়েদের দিকেই ছেঁটে।”

–কত রঙ্গ দেখব। যাওয়ার জায়গা আছে কোনো?নাকি ইজ্জত বিকিয়ে জীবন কাটাবি?আর এতগুলো টাকা যে জলে গেল বিয়েতে তার কি হবে শুনি?

–মিহিরদা আজ আমার কাছে কুড়ি হাজার টাকা আছে। এটা রাখো। তবে কথা দিচ্ছি ইনস্টলমেন্টে সব দেনা শোধ করে দেব।

আহির বলে উঠল,”আর আমার দিভাই স্কলারশিপের টাকাতে নিজে পড়ার ক্ষমতা রাখে।আর দিভাই তুই চিন্তা করিস না এই চিঠিটা লেখাদির। তোকে কলেছে স্পেশাল অ্যাডমিশন দিয়ে দেবে। আমি জানি তুই অ্যাডমিশন টেস্টে পাশ করবিই।আর এই যে তোর লাগেজ। এগুলো আমি নিজে কিনেছি অন্য কারো পয়সায় নয়। আর তোর নিছের কেনা বইগুলো ও আছে। আর তোর ট্রেনের টিকিট।”

আরাধ্যা যত গয়না পড়েছিল সব খুলে মিহিরের হাতে ধরিয়ে দিল। আর সালোয়ারের উপর জড়ানো বেনারসিটাও খুলে রেখে দিল।এরপর শাখাপলা জোড়া সুহাসের হাতে ধরিয়ে, আহিরের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে জিনিসগুলো নিয়ে ওর কপালে একটা স্নেহচুম্বন দিয়ে বলল,”আজ যদি তুই না থাকতিস তবে হয়তো সত্যিই আমাকে ঐ গঙ্গায় ডুবে মরতে হত। ভালো থাকিস।”

আরাধ্যা বাড়ির চৌকাঠ ডিঙিয়ে বেড়বে এমনসময় অমরবাবু বলে উঠলেন,” যে মেয়ে চরিত্রহীন হয়ে মা-বাবার মুকে চুনকালি লাগিয়ে যেচে লগ্নভ্রষ্টা হয়ে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার জন্যে স্বার্থপরের মতো চলে যেতে পারে একটা নির্দোষ ছেলেকে মিথ্যা দোষ দিয়ে সেই মেয়েকে আমি সন্তান বলে মানিনা। আজ থেকে তুই আমাদের কাছে মৃত। সারা জীবন তোকে লড়ে যেতে হবে। আর লগ্নভ্রষ্টা মেয়েকে কেউ বিয়েও করবে না। এটা এক আহত বাবার অভিশাপ!”
বাইরে বিদ্যুৎ গর্জে উঠল;প্রবল বেগে যেন ঝড় সব ওলটপালট করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরাধ্যা চৌকাঠের বাইরে পা রেখে বলে উঠল,”বাবার অভিশাপও সন্তানের কাছে আশীর্বাদ। ” এরপর সেই ঝড়ের পথে মিলিয়ে গেল। সেই ভীতু সকলের কথা মেনে চলা আরাধ্যা যেন বদলে গেল। তার একটিই পরিচয় সে যোদ্ধা।

অন্যদিকে,
আরাধ্যা বেড়িয়ে যেতেই আহির বলে উঠল,” বাবা এটা তুমি করতে পারলে?”
–আমি এ বিষয়ে কোনো কথা শুনতে চাইনা।
–চাই না বললে তো হবে না শুনতে হবে।পুলিশকাকু ফুটেজটা অন করো।

বিবাহমঞ্চের সামনে বড় স্ক্রিনে ফুটে উঠল —
কিভাবে মুনমুন দেবী প্ল্যান করে ,অমরবাবুর সম্পত্তি পাওয়ার জন্যে আরাধ্যা আর সুহাসের ফেক ছবি বানিয়েছেন তা স্বীকার করছেন নিজের দিদির কাছে। তারপর বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছেন।

এরপর একজন মহিলা আর বাচ্চা এগিয়ে আসতেই সুহাস চমকে উঠে বলল,”জয়া তুমি?”
–হ্যাঁ আমি।
–তুমি কিভাবে পারলে বলোতো আরেকটা মেয়ের জীবন এভাবে নষ্ট করতে?তোমার এই ছোট্ট মেয়েটাও তো একদিন বড় হবে। ওর সাথে যদি কেউ অমন করে?

সুহাস মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে থাকে কিছু বলতে পারেনা।
পুলিশ হাতকড়া পরিয়ে ওকে টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে মুনমুন দেবী আর সুহাসকে। সুহাস আহত বাঘের মতো ফুঁসে উঠে বলে,”বেড়ানোর পর এই বাঘের সামনে শিকার হবে আরাধ্যা আর আহির।ঐ মেয়ের গুমোর আমি ভেঙেই ছাড়ব।”
অমরবাবু হতাশ হয়ে বসে পড়ে বলে ওঠেন,”এ আমি কি করলাম? ”

———– আরাধ্যা, আরাধ্যা দরজা খোলো। কি হয়েছে? আরাধ্যা…
একনাগাড়ে উদ্বিগ্ন কন্ঠস্বর আরাধ্যার স্মৃতির পাতা ওল্টানো বন্ধ করে দিল।তাড়াতাড়ি চোখ মুছে দরজা খুলে দিয়ে একটু দূরে সরে পেছন দিকে ঘুরে দাঁড়াল সে।
আহিতাগ্নি, আরাধ্যার হাত টেনে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বলে উঠল,”কখন থেকে ডাকছি খেয়াল আছে? কি করছিলে কি এতক্ষণ ধরে? বোঝো না কতটা টেনশন হচ্ছিল? ইমরানের তো চোখমুখ শুকিয়ে গিয়েছিল তার বোনের চিন্তায়।অনেক বুঝিয়ে বাড়ি পাঠালাম। কেন এভাবে চলে এলে? এখনো যে রক্ত বেড়িয়ে যাচ্ছে কোনো খেয়াল আছে তোমার সেদিকে?”

এরপর ওর মুখের দিকে চেয়ে গলা নরম করে আবার বলে উঠল, “তুমি কাঁদছিলে? কি হয়েছে আরাধ্যা?”
–কোন অধিকারে জানতে চাইছেন?
–মানুষ হিসেবে আরেকজন মানুষকে জানতে চাইছি।
–আমি উত্তর দিতে বাধ্য নই।
–তবে হাতটা দিতে বাধ্য হতে হবে।
–মানে?
–মানে এই যে এত রক্ত বেড়চ্ছে ড্রেসিং না করলে ইনফেকশন হলে তখন তোমার আহির বলবে বন্ধুর বাড়িতে বন্ধু খেয়ালটুকু রাখেনি।আর আমি আমার বুনুর কোনো নিন্দা শুনতে বাধ্য নই।
—ভাই অমন বলবে না।
–ও তোমার ভাই?
–হ্যাঁ (ইশ!আগে বলবে তো বেকার বেকার কষ্ট পাচ্ছিলাম –মনে মনে ভাবল)
এবারে আহিতাগ্নি, আরাধ্যার হাত ধরে ওকে বিছানায় বসিয়ে আঙুলের কেটে যাওয়া জায়গাটাতে ওষুধ লাগাতে থাকল।
–“আহ!”
–একটু ব্যথা তো লাগবেই।বিকেলে টেডব্যাক দিয়ে আনব।
–ইঞ্জেকশন? না,না। আমি দেব না ।
–না দিলে ইনফেকশন হতে পারে।
–ও হলে হবে।
–তুমি ভয় পাও?
–না,আসলে আমার কেমন জানি লাগে গো অগ্নি।
–কি?
–সরি। ভুল করে আপনাকে…
–ভুল যখন করেছ তখন শাস্তি তো পেতেই হবে। আর সেটা হল যে আমাকে আপনি নয় তুমি করে বলতে হবে আর অগ্নি বলেই ডেকো। খুব মিষ্টি লাগে শুনতে।
–আচ্ছা(ইশ!মনে মনে যে নামে ডাকি তা মুখে কিভাবে বলে ফেললাম)

আহিতাগ্নি ফার্স্ট এইড বক্সটা নিয়ে ঘর থেকে বেড়িয়ে যাওয়ার সময় বলল,” মনে মনে ডাকতে বাঁধা নেই আর মুখে ডাকতে এত লজ্জা? ”
আরাধ্যা অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে ভাবে,”মানুষটা মনের কথাও পড়তে জানে? আর ওর সাথে কথা বললে সব মনখারাপ দূরে চলে যায় কিভাবে? ও কি ম্যাজিকও জানে?”

(ক্রমশ)
[????আমার নিজস্ব মোবাইল না থাকাতে মায়ের মোবাইল থেকেই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছি। তাই অ্যাকাউন্ট একজনের নামে আর লেখা আরেকজনের নামে।
????আমার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দেবেন। ]

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share