গঙ্গাফড়িং

0
25

ইনার সাথে ঝগড়া করার মোটেও ইচ্ছা নেই। আমি চুপ করে থাকার পরও সে আমাকে বললো “তুই স্বামী নামের কলঙ্ক। খুন করে তোর রক্ত দিয়ে আমার ভিতরের যন্ত্রনা মুছতে ইচ্ছা করছে। তুই কেন এমনটা করলি কেন?”
.
আমি চুপ করে থাকি। এই কাজটা করা মোটেও ঠিক হয়নি। আসলেই কি ঠিক হয়নি। আমার দোষ ছিল? আমার এখন কি বলা উচিৎ আমি ভেবে কিছু পাইনা। শুধু এইটুকু উপলব্দি করছি ইনা আমাকে যে বকা গুলো করছে বা চিৎকার চেচামেচি করছে এসব কিছু করার ওর অধিকার আছে। আমি ওর দিকে তাকাই। তারপর ইতস্তত হয়ে বললাম “তুমি কি কখনো আমাকে ভালোবাসতে পেরেছো বলো ইনা? তোমার সাথে আমার বিয়ে হয়েছে দুমাস। আমাদের এই বৈবাহিক জীবনে ভালোবাসা ছিল না। সংসার করা একটা নাম মাত্র ছিল।আমি তো এমনটা চাইনি।তুমি কখনো তোমার হাতটাও ছুয়ে দিতে দাওনি। তুমি আমাকে ভালোবাসতে পারতে না। আমি যতবার তোমার মাঝে নিজেকে সমর্পন করতে চেয়েছি, একটু ভালোবাসতে চেয়েছি ততবার তোমার মুখে একটা বিষন্নতার কালো ছায়া দেখেছি। এই ছায়াটা আমার একদম ভালো লাগতো না।তুমি তোমার পুরোনো প্রেমিকের সাথে দিনের পর দিন কথা বলোনি বলো? ভেবোছো আমি তা দেখেনি বা বুঝতে পারিনি? আমি কি তোমাকে এই ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করেছি? আমার কি তোমাকে জিজ্ঞেস করার উচিৎ ছিল না?” ইনা আমার কথা শুনে একটা কান্নার গোঙরানী দিয়ে কান্না করতে থাকে। এই কান্নার দিকে আমি তাকিয়ে থাকি। মানুষের চোখে যখন জল গড়িয়ে পড়ে আমার কেমন যেন লাগে। একদম ভালো লাগে না। কিছুক্ষন পর ইনা চোখ মুছে আমার দিকে তাকিয়ে বললো “সব কিছু যখন জানতে তখন এই তামশা কেন করলে? তোমাকে বলেছিলাম না তোমার সাথে সংসার করতে ইচ্ছে নেই। বাবা মায়ের কারনে তোমাকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছি। বিয়ের আগে তোমাকে ফোন করে বলিনি যে আমি একজনকে ভালোবাসি? তাহলে আমাকে বিয়ে কেন করলে?” আমি ওর দিকে তাকিয়ে থাকি। আসলে দোষটা আমার। বিয়ের আগে ও সব কিছু আমাকে খুলে বলেছিল। তখন আমি কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। বিয়ে হওয়ার ঠিক একদিন আগে আমাকে কথা গুলো বলেছিল। আমি বিশ্বাস করিনি ওর কথা গুলো। এসব হলে তো আমাকে আরও আগে বলতো। একদিন আগে কেন বললো? আমি বিষয়টা মজা হিসেবে নিয়েছিলাম। যেদিন বিয়ে হয়েছিল তার চোখে আমি অনেক পানি দেখেছি। যখন ওকে নিয়ে চলে আসছিলাম আমাকে ও বলেছিল “আপনাকে আমি ছাড়বো না আদনান সাহেব। আপনার কারণে সব কিছু শেষ হলো আজকে। আপনি চাইলে এই বিয়েটা বন্ধ করতে পারতেন। আমি আপনাকে অনেক কষ্ট দিব অনেক।”
..
আজ অফিস ছুটি শেষে তিন্নির সাথে ক্যাফেতে গিয়েছিলাম। কফি খাওয়ার পর আমার ঠোটের কোনায় কফি লেগে ছিল। তিন্নি এটা মুছে দিয়েছিল। তিন্নির সাথে আমার সম্পর্কটা এতো দ্রুত এগিয়ে যাবে আমি ভাবতেও পারিনি। সে আমাকে তার ভালোবাসার কথা জানিয়েছে। এই বিষয়টায় আমি একটু অস্বস্থিবোধ করেছিলাম অবশ্য। আর আমার ঠোটের কোনায় কফি মুছে দেওয়ার এই দৃশ্যটা ইনা দেখতে পেয়েছে। ওখানে ও কেন গিয়েছিল কার সাথেই বা দেখা করতে চেয়েছিল আমি জানি না। সে শুধু এই দৃশ্যটা দেখে আমার সামনে এসে চুপ করে দাঁড়িয়েছিল কেমন একটা রাগ রাগ মুখ নিয়ে।ওকে দেখেই আমার ভিতরটা কেমন করে যেন উঠেছিল।সে কারনেই ইনা আমার সাথে এমন চেচামেচি করছে। আমার চুপ থাকা দেখে ইনা আবার বললো “হ্যাঁ আমি আমার পুরোনো প্রেমিকের সাথে কথা বলেছি।সে আমাকে ফোন করতো। আমাদের ভালোবাসায় নোংরামি ছিল না বিশ্বাস করো। ও যতবার আমাকে ফোন করেছে আমি ঠিক ততবার ওকে বুঝিয়েছি তোমার সাথে আল্লাহ আমার মিল রাখেনি।আমি এখন অন্যজনের স্ত্রী।বুঝার চেষ্টা করো। মিরাজ কাঁদতো আমার জন্য, খুব কাঁদতো। হাউ মাউ করে কাঁদতো। আমি একটু সময় নিচ্ছিলাম। একা থাকতে চেয়েছিলাম। বিয়েটা আমি মেনে নিতে পারিনি। আজকে ওর সাথে আমি শেষবারে মত দেখা করতে গিয়েছিলাম।গিয়ে কি দেখলাম? আর তুমি কি করলে?” আমি ইনার কাছে ক্ষমা চাই। ইনা আমার দিকে তাকিয়ে একটু সময় নিয়ে বললো “তোমার সাথে একি ঘরে থাকতেই ইচ্ছে করছে না। ইচ্ছেটা মরে গেছে। আশা করি তুমি আমাকে আটকাবে না। আর হ্যাঁ ক্ষিধে লাগলে খেয়ে নিও।” আমার ভিতরটা কেমন করে উঠে। আমার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়তে চায় ওর কথা শুনে। ওকে চলে যেতে বাধা দেওয়ার এই মুখটা কি আমার আছে? তারপরও আমি বললাম “ইনা আমি খুব দুঃখিত।” ইনা আমার দিকে আর একটা বারও তাকালো না।
.
দুইটা দিন আমার দিন গুলো কেমন কেটেছে শুধু আমিই জানি। আমি ওকে যতবার ফোন করেছি ততবার ফোনটা কেটে দিয়েছে। এই দুইটা দিন আমার একটুও ঘুম হয়নি। অফিসেও যাওয়া হয়নি। এর দুদিন পর ওদের বাসায় যখন গেলাম ওকে নিয়ে আসতে। ওর পরিবারের সবাই আমার দিকে কেমন করে তাকিয়ে ছিল। মনে হয়েছে আমাকে আর কোন দিন দেখেনি। ওদের প্রত্যেকের চোখে আমার প্রতি একটা ঘৃনা দেখেছি। আমি কি খুব ঘৃনিত একটা লোক? ইনার রুমে যখন গেলাম ইনা জানালার পাশে বসে ছিল। আমাকে দেখে বললো “কেন আসছো তুমি?” আমি অনেক অনুশোচনায় বললাম “ভুল হয়েছে। বাসায় চলো।” ইনা খানিকটা সময় নিয়ে বললো “যাওয়ার ইচ্ছা নেই আদনান। তুমি চলে যাও।” আমি দরজার ওপাশ থেকে শুনছিলাম ওর বাবা কাকে যেন বলছে “এই হারামজাদাটা কেন আসছে? লম্পট। বউ থাকতেও অন্য মেয়ের সাথে নষ্টামি করে বেড়ায়।” আমি চুপ করে থাকি। ইনা কি ব্যাপারটা সবার কাছে বলেছে তাহলে? আমি আবার বললাম “তুমি কি আরও কয়েকটা দিন এখানে থাকতে চাও?” ইনা বললো “তোমার সাথে যাওয়ার ইচ্ছাটাই আমার নেই। আমার এতো কিছু হওয়ার পরও তোমার সাথে থাকতে মানিয়ে নিচ্ছিলাম তখন তুমি কি করলে?” আমি বললাম “দেখো আমাদের দুজনের মধ্যে একটা ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। তবে তিন্নি মেয়েটার চেহারায় একটা মায়া মায়া ভাব আছো জানো? আমার ভিতরের কষ্ট গুলোকে ও কেমন করে বুঝে ফেলতো। যতবার ওর চোখের দিকে তাকিয়েছি ঠিক ততবার আমার প্রতি তার চোখে একটা ভালো লাগার রং দেখতে পেয়েছি। মনে হয়েছে এই রংটা আর কারো হতে পারে না।কিন্তু আমি ওকে তেমন করে ভাবিও নি। এই ভাবার সাহস ছিল না আমার।”ও একটু হেসে তারপর একটা রাগ রাগ ভাব নিয়ে বললো “দুজনের ভুল মানে? ভুলটা আমার না, ভুলটা তোমার। আর লজ্জা করে না ঐ মাগিটার কথা আমাকে বলতে? সে কেন তোমার সাথে ভাব জমায়? সে জানে না তুমি বিবাহিত? তোমার বউ আছে?” আমি ইনার কাছে আবার ক্ষমা চাই। বললাম “আচ্ছা আমারি বুঝতে ভুল হয়েছে। এমনটা করা আমার একদম উচিৎ হয়নি। আমাকে কি আর একটা বার সুযোগ দেওয়া যায় না?” ইনা আমার দিকে তাকিয়ে একটু সময় নিয়ে একটা ঘৃনার চোখে বললো “তোমাকে আমার সহ্য হচ্ছে না। প্লিজ চলে যাও। আল্লাহ আমার আর কত পরীক্ষা নিবে? আমার এই জীবনটা যে আর ভালো লাগে না। একদম ভালো লাগে না। বের হয়ে যাও আমার বাসা থেকে।” আমি চুপ করে থাকি। আর অনুধাবন করে মনে মনে বলি “আমি কি খুব বেশি অন্যায় করে ফেলেছি? খুব বেশি ভুল? এটা অন্যায় নাকি ভুল? আর এই ভুলের ক্ষমা পাওয়ার যোগ্যতা কি আমার নেই? আমি মানুষটা এতই খারাপ?
.
দুই
.
প্যারিসের সিন নদীর ব্রীজের উপর দাঁড়িয়ে আমি একবার শহরটার দিকে তাকাই। কি অপূর্ব একটা শহর। এই জায়গাটায় যতবার এসেছি ততবার আমার বুকটা কেমন করে উঠেছে। এই শহরের দৃশ্যটা দেখে প্রেমে পড়েনি এমন মানুষ নেই। আমি বার বার এই শহরটার প্রেমে পড়তে চেয়েছি। যখনি প্রেমে পড়তে চেয়েছি তখনি আমার দেশের কথা মনে পড়ে। দেশের মানুষের কথা মনে পড়ে। আর দেশের মানুষের কথা ভাবতেই হঠাৎ করে আমার ইনার কথা মনে পড়ে। আমার তখন খুব খারাপ লাগে। ভাবি এই দেশটার থেকে আমার দেশটা কম কিসের? ছয় বছর হলো আমার প্রিয় দেশটা ছেড়ে আমি অন্য একটা শহরে পড়ে আছি। আমার মাথার উপর বিশাল আকাশ। আর নিচে নদীর ঢেউ এর খেলা। আকাশটার দিকে তাকিয়ে এসব যখন ভাবছি তখন তিয়ানা বললো “এই জায়গাটায় আসলে আমার কেমন যেন মনে হয় জানো।”
.
আমি ওর দিকে তাকাই তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বললাম “এই জায়গাটা তোমার অনেক পছন্দের তাই না?” তিয়ানা আমার দিকে তাকিয়ে হাসে। প্যারিসে পা রাখার ঠিক এক বছর পর তিয়ানার সাথে আমার পরিচয় হয়। আমার যখন ভালো লাগতো না বা আমার ভিতরটার মাঝে বিষন্নতা ছুয়ে দিত তখন আমি এই শহরের পথ ধরে হাটতাম। আর ক্যাফেতে বসে কফি খেতাম। Strada Cafe ছিল আমার পছন্দের ক্যাফে। আমি যখনি এই ক্যাফের সামনের রাস্তা ধরে হাটতাম তখন তিয়ানাকে প্রায় দেখতাম দাঁড়িয়ে থাকতে। পায়চারি করতে। ওর চেহারায় একটা অস্তিরতা দেখতাম। কাউকে খোঁজার অস্তিরতা। আমি প্রতিনিয়ত দেখতাম। একটা নির্দিষ্ট সময়ে ও দাঁড়িয়ে থাকার পর একটা হতাশার মুখ নিয়ে চলে যেত। দুদিন ও আসলো না। তৃতীয় দিন যখন আসলো আমি ওর সামনে গিয়ে বলেছিলাম “কাল আসেন নি কেন?” ও আমার কথা শুনে একটু অবাক হয়েছিল। এইভাবে একটা অপরিচিত মানুষ আরেকটা মানুষকে এই রকম প্রশ্ন করলে অবাক হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমি আবার বললাম “আমি যেদিন এখানে আসি ঠিক সেদিন আপনাকে দেখি। কাউকে খুঁজেন। একটা সময় আমি প্রতিদিন আসা শুরু করলাম। মনে কৌতুহল জাগলো আপনি কাকে খুঁজেন আর প্রতিবার যাকে খুঁজেন তাকে না পেয়ে একটা মন খারাপের মত চেহারা করে চলে যান।” সেদিন তিয়ানা আমার সাথে একটা কথাও বলেনি। তারপরের দিনও তিয়ানাকে আমি দেখি। আমার সাথে যখন তার চোখাচোখি হলো এর একটু পর সে নিজেই আমার কাছে এসে দাঁড়িয়ে থাকলো। আমি বললাম “চলেন ক্যাফেতে গিয়ে বসি। আমি মনে করেছিলাম ও আপত্তি করবে কিন্তু ঠিকি আমার সাথে ক্যাফেতে গিয়ে বসে। কিছুক্ষন সময় নিয়ে বললো “আমি আমার বাবা মাকে খুঁজি। ছোট বেলায় এই ক্যাফের সামনের জায়গাটায় আমি আমার বাবা মাকে হারিয়ে ফেলেছি। ছোট বেলায় আমি বাবা আর মা এখানকার ক্যাফেতে প্রায় আসতাম। আমার বাবা একজন বাঙ্গালি ছিলেন। সেদিন খুব ঝড় হচ্ছিল খুব। মা আমাকে শক্ত করে ধরে রাখেন। মুহুর্তের মধ্যে কি যেন একটা হয়ে গিয়েছিল জানেন। আমি কিচ্ছু দেখতে পেলাম না। চোখের সামনেই সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেলো। আমি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম। যখন আমার জ্ঞান ফিরলো তখন দেখলাম চারপাশটা কেমন যেন হয়ে গেছে। আমার মাথা ফেটে রক্ত পড়ছিল। আমি অনেক কাঁদি। আমার বাবা মাকে খুঁজে পাই না। এতোগুলো বছর কেটে গেছে জানেন আমি তারপরও এখানে প্রতিদিন আসি। আমার বাবা মায়ের জন্য আসি। আমি ওর চোখের কোনায় জল দেখলাম। এখানে ওর সাথে আমার যত কথা হয়েছে ইংরেজীতে হয়েছে। যদিও আমি ইংরেজীতে তেমন একটা ভালো ছাত্র না। যখন জানলাম ওর বাবা বাঙ্গালি ছিল। নিশ্চয় ও বাংলা জানে। আমি একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলেছিলাম “আমিও একজন বাঙ্গালি।” আপনার বাবা মায়ের কথা শুনে আমার মায়ের কথা মনে পড়েছে। যদিও আমি আমার মায়ের সাথে থাকি না। আমি তখন অনেক ছোট। আমার বাবার ব্লাড ক্যানসার হয়েছিল। বাবার মৃত্যুর পর আমার মা আরেকটা বিয়ে করে। এতে আমি তার কোন দোষ দেখি না। সব মানুষের বাঁচার অধিকার আছে।” সেদিনের পর থেকে তিয়ানার সাথে রোজ কথা হতো। ওর দুঃখ গুলো, ভালো লাগা, মন্দ লাগা সব আমাকে বলতো। আমি ওর এতোটা ভালো বন্ধু হয়ে গিয়েছিলাম যে এই মেয়েটা আমাকে হাত ছাড়া করতে চায় না। এতোগুলো বছর কোন দিক দিয়ে পার হয়ে গেলো এই গুলা ভাবতেই মাথা ঘুরিয়ে যায়। ও খুব সুন্দর করে কথা বলে। মাঝে মাঝে ও আমার হাত ধরে বসে থাকে। আমার চোখে ওর স্বপ্ন আঁকে। আজকে ওকে নিয়ে আবার এই শহরটাকে দেখতে এসেছি। কিছুক্ষন পর আমরা প্যারিসের লুভ্যর মিউজিয়ামে যাবো। আমি ওকে বলি চলো যাওয়া যাক।
.
লুভ্যর মিউজিয়ামের সামনে আসতেই আমি মিউজিয়ামটার দিকে ভালো করে একবার তাকালাম। প্রতি মাসের প্রথম রবিবার প্যারিসের সমস্থ মিউজিয়ামগুলো সবার জন্য ফ্রি থাকে। এই দিনটায় শত শত মানুষের আনাগোনা হয়। এই লুভ্যর মিউজিয়ামের একটা রহস্য আছে। পরাজিত দেশ গুলো থেকে নেপোলিয়ন বিভিন্ন সম্পদ লুট করে এই মিউজিয়ামে সংরক্ষন করে রাখতেন। একটা সময় নেপোলিয়নের যখন পতন হলো তখন ঐ সম্পদ গুলো পরাজিত দেশগুলোর মাঝে আবার ফিরিয়ে দেয়। পরে এই মিউজিয়াম রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে গন্য করা হয়। তারপর এই মিউজিয়ামে বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তিদের শিল্প, ভাস্কর্য, ইত্যাদি সংরক্ষন করা আছে। মজার ব্যাপার হলো এই মিউজিয়ামেই লিওনার্দো দা ভিঞ্চির “মোনালিসা” শিল্পকর্ম আছে। মিউজিয়ামে প্রবেশ করে এই শিল্প ভাস্কর্য গুলো দেখতে থাকি। যতবার এই অপূর্ব কাজগুলো বা এক একটা শিল্প, ভাস্কর্য দেখি আমার ভিতরটা কেমন যেন হয়ে যায়। মনে হয় আমি কোথায় যেন হারিয়ে গেছি।
.
আমার বাবাও ছবি আঁকতেন। বাবা যখন ছবি আঁকতেন আমি বাবার পাশে বসে থাকতাম। বাবা আমার গালে রং লাগিয়ে দিত। বলতো “যারা প্রকৃতির সৌন্দর্য, মানুষের রুপ এই কাগজে বন্ধি করতে পারে তাদের মনের ভিতর অন্য আরেকটা ছায়া বাস করে। এই ছায়াটারও অনেক কষ্ট থাকে। এই কষ্ট গুলো তারা কাউকে বলে না। তারা তাদের কষ্ট গুলো এই ছবির মাঝে এঁকে রুপ দেয়।” আমি কিছু বলতে পারতাম না। শুধু বাবার দিকে তাকিয়ে থাকতাম। বাবা চলে যাওয়ার পর আমার বাকি দিন গুলো হোস্টেলে কেটেছে। একটা সময় নিজেই যখন আকাশটার রং চিনতে পারলাম পরে আমি আর মায়ের কাছে যাইনি। বাবা আমার মনের ভিতরও একটা ছায়া বাস করে। কিন্তু আমি কখনো এই ছায়ার কষ্টটা কোথাও রুপ দিতে পারি না। তোমার মত আঁকতে পারি না। মোনালিসার আঁকা ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকতেই তিয়ানা বললো “ছবিটা যতবার দেখি ততবার আমার খুব খারাপ লাগে আদনান। মনে হয় এই মোনালিসার মেয়েটার ভিতর অনেক কষ্ট। মোনালিসার উদাস করা চোখ ও ঠোটের কোনে মৃদু হাসিটাই বলে দেয় জানো?” আমি কিছু বলিনা তিয়ানাকে। চুপ করে থাকি।
.
কিছুটা সময় চারপাশ ঘুরে দেখার পর হঠাৎ করেই আমার সাথে তিন্নির দেখা। আমাদের দুজনেরই চোখাচোখি হয়। ওকে দেখে আমি একটু অবাক হয়ছিও বটে। ইনা সেদিন চলে যাওয়ার পর আমার সাথে আর আসেনি। এর দুমাস পর আমার কাছে এসেছে শুধু একটা ডিভোর্স পেপার। এই বিষয়টা যে এতোদুর চলে যাবে আমি কখনো ভাবিনি। ইনার সাথে বিয়ে হওয়ার দশকি বারো দিনের মাথায় তিন্নির সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল। সে নিজে এসেই আমার সাথে কথা বলে। সেদিন আমি অফিস থেকে ফিরছিলাম বাসে করে। হঠাৎ আমাকে বললো “আপনার মোবাইলটা দিতে পারবেন প্লিজ, একটা কল করবো। আমার ব্যালেন্স শেষ হয়ে গিয়েছে। আর্জেন্ট কল ছিল।” আমি একটু ভেবে ফোনটা দিয়েছিলাম।এই সূত্র ধরেই ও নিজে থেকেই আমার সাথে অনেক কথা বলেছিল।পরিচয় হলো।তারপর দিন গুলো কিভাবে যেন পার হয়ে গেলো। ইনা যেদিন আমার সাথে ওকে দেখলো তারপর থেকেই আমি ওর সাথে যোগাযোগ রাখিনি। এমনকি সেও রাখেনি। বিষয়টা নিয়ে আমি তেমন মাথাও ঘামাইনি। আমি ওর দিকে ভালো করে খেয়াল করলাম ওর সাথে আরেকটা ছেলে আছে। কিছুক্ষন তাকানোর পর ও ইশারা দিল আড়ালে গিয়ে ওর সাথে কথা বলার জন্য। আমি তিয়ানাকে মিশরীয় ভাস্কর্যটাকে দেখতে বলে উত্তর দিকে গিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম। তিন্নি আমার কাছে এসে কিছুক্ষন এদিক ওদিক তাকিয়ে তারপর জানায় সে হানিমুনে এসেছে। তাদের বিয়ে হয়েছে গত মাসে। তারপর আমাকে একটা ক্যাফের ঠিকানা দেয় আর বলে আগামীকাল দেখা করতে। এটা দিয়েই সে চলে যায়। আমি কিছুক্ষন চুপ করে থেকে আবার তিয়ানার কাছে চলে যাই। আর ভাবতে লাগলাম কি জন্যে সে আমার সাথে দেখা করতে চেয়েছে?
.
পরদিন তিন্নির সাথে যখন দেখা হলো তার চোখে মুখে আমি একটা অস্তিরতা দেখি। একটা পর্যায়ে সে আমাকে অনেক কিছু জানায় এবং আমার থেকে ক্ষমা চায়। ওর কথা গুলো শুনে আমি অনেকটা বোবার মত হয়ে গেলাম। এও জানায় এই ব্যাপারটা নিয়ে সে অনেক অনুতপ্ত। আমাকে অনেক খুঁজেছে। আর আমার সাথে যে আবার দেখা হয়ে যাবে সে আশা করেনি। আমি কি করবো বুঝতে পারি না। কিছুক্ষন সময় নিয়ে চু*মারানি বলে একটা গালি দিয়ে গালে কষে একটা থাপ্পড় মেরে ওর সামনে থেকে চলে আসলাম। ইচ্ছে করছিল ওর শরীরটা থেকে মাথাটা আলাদা করে ফেলতে। আমার ভিতরের ছায়াটা কেমন যেন করতে লাগলো। আমি থাকতে পারছিলাম না। চারপাশ যেন অন্ধকারের মত লাগতে লাগলো।যে অন্ধকারের মধ্যে আমি এতোদিন ছিলাম।আমার ভিতরের অনিকেত প্রান্তরটা আবার জেগে উঠতে চায়। হুংকার দিয়ে বের হয়ে আসতে চায়। আমি প্যারিসের রাস্তা ধরে দৌড়াতে থাকি। আমার ভিতরটা ছটফট করতে থাকে। দৌড়াতে দৌড়াতে যখন ক্লান্ত হয়ে গেলাম আমি হাটু গেড়ে বসে আকাশটার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে জোরে কয়েকটা নিশ্বাস নিয়ে একটা চিৎকার দিয়ে বললাম “আমি আসছি প্রিয় দেশ তোমার বুকে রক্ত ছড়াতে।”
.
তিন
.
ছয় বছর পর দেশের মাটিতে পা রাখতেই আমার ভিতরটা কেপে উঠেছিল। ভেবেছিলাম এই দেশটাতে আমি আর আসবো না। যে অপমানিত আমি হয়েছি এই অপমানিত হওয়ার কোন দোষই আমার ছিল না। আমি শহরটাকে ভালো করে দেখি। শহরের মানুষ গুলোকে দেখি।চারদিকে দালান আর মানুষের গিজগিজ।শহরের আনাচে কানাচে কত রহস্য লুকিয়ে আছে। প্রত্যেকটা মানুষের ভিতরেই একটা রহস্য থাকে। তিন্নি কি ভুল করেছে আমার সাথে আলাদা ভাবে দেখা করে? হয়তোবা। আমি সত্যিই ওর মাথাটা আলাদা করে ফেলতাম তবে নতুন বিয়ে করেছে বলে আমার আর ইচ্ছে জাগেনি। এই খুন করা কাজটা আমি বহু আগেই ছেড়ে দিয়েছি। ইনাকে বিয়ে করার চার বছর আগেই আমি সব কিছুই ছেড়ে দিয়েছিলাম। একজন কর্মজীবি মানুষের মত বাঁচতে চেয়েছিলাম। হ্যাঁ আমি ঠিকি একজন কর্মজীবি মানুষের মত চলতে শিখেছি।কিভাবে এতোগুলো বছর কাটিয়ে দিলাম তা ভেবে পাই না। ভার্সিটিতে থাকাকালীন সময়ে মায়ের সাথে একবার দেখা করতে গিয়েছিলাম। আমার সৎ বাবা আমাকে পছন্দ করতেন না। উনি চাইতেন না আমি মায়ের সাথে দেখা করি। সেদিন মায়ের সাথে দেখা করার জন্য সোফায় বসে অপক্ষো করছিলাম। মা ছাদে গিয়েছিল। আমার মায়ের দ্বিতীয় স্বামী আমাকে দেখে একটা বিরক্তিকর চেহারা নিয়ে ভিতরে গিয়ে “বেওয়ারিশ কুলাংঙ্গারটা কেন এসেছে আমার বাসায়? এটা বলে গালি দিয়েছিল।কার কাছে এটা বলেছিল আমি জানি না। কথাটা শুনেই মেজাজ খারাপ করে চলে গিয়েছিলাম। এর ঠিক তিনদিন পর রাতের বেলায় উনার বাসায় গিয়ে মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম “আপনার স্বামীর জিবটা কাটতে আসছি আমি। তিনটা দিন আমি ঘুমাতে পারিনি।যখনি চোখ লেগে যেত প্রতিবার বাবার মুখটা আমার চোখে ভাসতো। বাবা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলে “আদনান তুই বেওয়ারিশ না বাবা, ঘুমানা একটু, ঘুমাস না কেন?” আমি আমার বাবার চোখে পানি দেখেছি।আপনার স্বামী কোন সাহসে আমাকে বেওয়ারিশ বলে?” মা অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়েছিল। পরে উনার স্বামীর দিকে তাকিয়ে গালে একটা চড় মেরেছিল উনার। মা যদি এমন না করতো আমি সত্যি উনার জিবটা কেটে নিয়ে আসতাম।
.
মিরাজের যখন জ্ঞান ফিরলো সাদিক আমাকে বললো “ভাই কুত্তার বাচ্চাটার হুশ আসছে।” আমি বললাম “মুখের টেপটা খুলে দে।” মিরাজের টেপ খুলে দেওয়ার পর আমি বললাম “ঐ শুয়রনির মুখে পানি মার। জাগা হারামজাদিরে।” সাদিক ইনার মুখে গ্লাসের পানি ছিটিয়ে মারে। পানির ছিটা মারতেই ইনা মাথাটা নাড়িয়ে আস্তে আস্তে যখন চোখটা খুললো আমি একটু পর বললাম “শুভ সকাল ম্যাডাম। যদিও এখন সন্ধ্যা। ঘুম থেকে উঠেছেন তো তাই শুভ সকাল বললাম।ঘুম ভালো হয়েছে?” ইনা শুধু আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলো। হয়তো আশা করেনি ওর সামনে আমি এইভাবে দাঁড়াবো। মিরাজ নিজেকে ছাড়ানোর কয়েকবার চেষ্টা করলো তারপর বললো “এইভাবে বেধে রাখার মানে কি? কি চান আপনি? কি করেছি আমি?” আমি একটা হাসি দিয়ে বললাম “কি করস নাই তোরা সেটা বল? শুয়রের বাচ্চা এখনো চিনোস নাই? চুপ একদম চুপ।একজন এর সাথে কথা বলতেছি দেখোস না? কথা বলার সময় কথা বলবি না, না হয় মাথা ঠিক থাকে না।” আমি ইনার দিকে আবার তাকাই। ওর চুল গুলো এলোমেলো হয়ে আছে। চুল গুলো কানের ওপাশে গুজে দিতেই ও একটা বিরক্তির আওয়াজ করলো। আমি বললাম “শালীর দেমাগ আগের মতই আছে।” ইনা বললো “কি বললে?” আমি হাসি দেই। তারপর চোখ গুলো বড় বড় করে একটু জোড়ে বললাম “কি বলছি শুনিস নাই? এই পিস্তলটা দেখছিস? কানের এই ছেদা দিয়ে টুস কইরা মারমু ঐ ছেদা দিয়ে টুস কইরা বের হইবো চু*মারানি। একদম ক্লিয়ার হয়ে যাবে কান।” মিরাজ ইনাকে দেখে অবাক হয়। আমি একটু সময় নিয়ে আবার বললাম “আমি না হয় একটু ভুল করেছিলাম।আসলে আমার কোন ভুলই তো ছিল না। সব তোদের নাটক ছিল। আমার একটাই ভুল ছিল বিয়ের আগের দিন তোমার কথাটা বিশ্বাস করিনি যে তোমার ভালোবাসার মানুষ আছে। এটাই তো একমাত্র ভুল। এইজন্যই বিয়ের পর বলেছিলে আমাকে অনেক কষ্ট দিবে? তিন্নিকে আমার পিছনে লেলিয়ে দিয়েছিলে। ওর সাথে চুক্তি করেছিলে এক লাখ টাকা দিবে কাজটা করতে পারলে।আমার সাথে প্রেমের অভিনয় করার জন্য। আমার সাথে মিশার জন্য।কিন্তু ওকে তো আমি ওভাবে চাইওনি। তারপর একটা নাটক সাজিয়ে আমাকে সবার কাছে অপমানিত করে কত সুন্দর করে ডিভোর্স করিয়ে নিলে। কি দরকার ছিল এতো কিছু করার? বিষয়টা সুন্দরভাবে করা যেত না? তুই মেয়ে অনেক সেয়ানা। তিন্নিরে তো এক লাখ টাকা দেস নাই। বিশ হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়েছিলি।এসব কাজে বাকি রাখতে নেই জানিস না?” আমি আবার একটু থেমে বললাম ‘আচ্ছা আসলেই কি আমার ভুল ছিল বলো তো? তোমরা ভালোবাসতে পারলা। কিন্তু ভালোবাসার কথা বাসায় জানাতে তোমাদের প্রবলেম কোথায় ছিল? এতো কিছু করার পরও তো মিরাজকে নিজের করতে পারোনি। সে তোমাকে ব্যবহার করে ছেড়ে দিয়েছে। আহা ভালোবাসা।” ইনা আমার কথা শুনে কান্না করতে থাকে। তারপর বললো “এই কুত্তার বাচ্চাটার জন্য আমি এতোকিছু করলাম। আমার সমস্থ কিছু ভোগ করে আমার সাথে প্রতারনা করেছে। হারামির বাচ্চা।” আমি চুপ করে থাকি। মিরাজ মাথা নিচু করে ফেলে। তারপর বললো “তুমি উনার সাথে এমন করতে পেরেছো। আমার সাথে করতে পারতে না এর কোন নিশ্চয়তা ছিল?” আমি ওর কথা শুনে হাসি। ভয়ংকর ভাবে হাসি। এর একটু পর লাবিব এসে বললো “ভাই বাচ্চাটা অনেকক্ষন ধরে কাঁদতেছে। রাখতে পারছি না।” ইনা কান্নার গোঙরানি দিয়ে বললো “আমার বাচ্চাটা কোথায়? প্লিজ আমার বাচ্চাটাকে আমার কাছে এনে দাও।দোহাই লাগে আদনান।” আমি সাদিক আর লাবিবের দিকে তাকাই।ইনা বিয়ে করেছে অন্য আরেকজনকে। একটা ফুটফুটে বাচ্চা আছে ওর। আজকে বিকেলের দিকে যখন মার্কেটে গিয়েছিল ইনা, তখনি আমার ছেলরা কিডন্যাপ করে ওকে আর ওর বাচ্চাটাকে। আর মিরাজকে তো অফিসের নিচ থেকে তুলে এনেছিল। ওর বাচ্চাটার চেহারা খুব মায়া মায়া। আমি সাদিককে বললাম “মাঝে মাঝে মনে হয় শ্বাস আটকে যায়।একজনকে কথা দিয়েছি তাকে সমস্থ কিছু দিয়ে আমি ভালোবাসবো।এই ভালোবাসার মাঝে কোন দাগ লাগতে দিব না। খুন খারাপি করতে আর ভালো লাগে নারে। সত্যি ইচ্ছে ছিল এই দুইটারে মাইরা ফেলবো। বাচ্চাটার জন্য মায়া লাগছে। কিন্তু আমি তো কখনো অহেতুক বা টাকার জন্য কাউকে মারিনি।অনেক আগেই এই পথটা থেকে চলে আসছি। ওদের ছেড়ে দিস। যতদিন ওরা বাঁচবে, যে কাজটা করেছে এটা ওদের ঠিক মত বাঁচতে দিবে না বিশ্বাস কর। আবার চলে যাবো বাহিরে। যাবার আগে মাকে একবার দেখে যাবোরে।
.
পরিশিষ্ট
.
হঠাৎ করেই বৃষ্টি শুরু হলো। প্যারিসের রাতের শহরে যখন বৃষ্টি হয় তখন চমৎকার একটা স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে যায়।তিয়ানা আমার কাধে মাথা রেখে বৃষ্টি দেখে।আর আমি এই চমৎকার মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থাকি।আকাশে তখন গুড়ুমগুড়ুম ডাক আর ঝরঝর বৃষ্টির আওয়াজ।আমাদের প্রত্যেক মানুষের ভিতরে একটা অনিকেত প্রান্তর বাস করে।দেয়ালের চৌকাঠে এই অনিকেত প্রান্তরটা কখন বেরিয়ে আসে আমাদের কারও ধারনা নেই।আমি চাইনা আমার এই অনিকেত প্রান্তরটা এইভাবে বের হয়ে বিরাজ করুক। আমি তিয়ানার হাত ধরে বসে থাকি। তিয়ানা বৃষ্টির দিকে তাকিয়েই বললো “আমার কাছ থেকে হারিয়ে যেও না কখনো কেমন? আমার খুব কষ্ট লাগে যখন খুব আপন মানুষ গুলো হারিয়ে যায়।” আমি কি প্রত্যুত্তর দিব বুঝি না। আমি তিয়ানার চুল কানে গুজে দেই। তিয়ানা আমাকে আরও শক্ত করে ধরে। এই সুন্দর পৃথিবীটাকে ভালোবাসার গভীরতায় অনুভব করতে হয়।গঙ্গাফড়িং হয়ে ভালোবাসার মানুষটার সাথে থাকতে হয়। ঘনঘোর আর আঁধারে প্রদীপ জ্বালিয়ে ভালোবাসাটাকে নিজের মাঝে হলেও আকঁতে হয়। প্রিয় তিয়ানা কথা দিচ্ছি আমি তোমাকে ঠিক সেই ভাবে আঁকবো যেমন করে তোমায় অনুভব করি…
.
গল্প: গঙ্গাফড়িং
.
লেখা: Jahedul Hoque Shovon

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here